০৭ আগস্ট ২০২২, রবিবার
আসসালামু অলাইকু/নমস্কার
লেখার শুরুতে আমার প্রিয় ব্লগের পাঠকের প্রতি রইল আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আজ আমি অতি আনন্দের সহিত জানাচ্ছি যে আমার বাংলা ব্লগে আমার এ পর্যন্ত ৫০ টি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি আমার জন্য অনেক আনন্দের অনেক গর্বের অনেক প্রাপ্তির। প্রিয় পাঠক লেখক ও বন্ধুগণ আপনার সকলের জানেন আমি প্রায় কবিতা লিখে থাকি। আমি আমার পরিচিতি পর্বে ও উপসংহারের সব সময় যে বিষয়টি বলে থাকি যে আমি একজন ভালো মানের লেখক হতে চাই। আমি আশাবাদী আমার এই লক্ষ্যপথে আমি হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছি। যদি সব কিছু ঠিক থাকে ইনশাআল্লাহ আমি আমার স্বপ্ন পূরণে সমর্থ্য হব এ কথা আমি বিশ্বাস করি।

কবিতা লেখার অর্ধসেঞ্চুরী :
এখন থেকে ঠিক পাঁচ মাস আগে যখন আমি আমার লেখালেখি শুরু করি তখন আমি আমার প্রথম কবিতা লিখি। আমার লেখা প্রথম কবিতার শিরোনাম হল "কবিতা হল এলোমেলো ভাবনা"। ৫ আগস্ট ২০২২ শুক্রবার আমি আমার ৫০ তম কবিতা লিখি কবিতার শিরোনাম "স্বপ্ন ছিল"। আশা করছি এবারের একুশে মেলায় একটি কবিতার বই প্রকাশ করব। ভালো হোক মন্দ হোক। আমি ধৈর্য ধরে কাজ করে যাব যতদিন আমার কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হয় ততদিন আমি আমার কাছ থেকে পিছপা হবো না। আমি জানি বিষয়টি অনেক কঠিন তারপরও লেগে থাকতে হবে। কারণ কাজটি আমি ভালোবাসি তাই সবকিছুর পরেও দিনশেষে যখন আমি লেখালেখি করি আমার মাঝে কোন ক্লান্তি আসে না।
আমার লেখা প্রথম কবিতা- কবিতা হলো এলোমেলো ভাবনা
কবিতা তো এলোমেলো ভাবনা
হৃদয়ের গভীরে রক্তক্ষরণ
পাগলের মত গগনবিদারী চিৎকার করে না সব বলা ব্যথা ।
কবিতা সে তো চোখের টলটলে জল আর
বুক ফাটা আর্তনাদ
হৃদয়ের গভীর দীর্ঘশ্বাস।
কবিতা তো মগজে ঘুরপাক করা জগতের সব ক্ষুদিত মানেুষের গল্প
তবে তারে লিখতে গেলেই যায় হারিয়ে
কি করে আটকানো যায় তারে ডাইরির পাতায়।
কবিতা তো বুকের বাম পাশে
তুষের আগুনের ন্যায় ধিক ধিক করে জ্বলা চিতার আগুন
যে নিরবে বিনিদ্র রাত কাঁদে।
কবিতা সে তো না বলা সব দুঃখের ইতিহাস
যারে প্রকাশ করা যায়না কোথাও
শুধু হৃদয়ের মাঝে কবর দেয়া হয়।
কবিতা সে তো মনের ভাবনাগুলো
রাত জেগে লেখার চেষ্টা করা
নিজ ডাইরীর পাতায়।
কিন্তু লেখা যায়না কিছুই
সব হারিয়ে যায়, তালগোল হয়ে যায়
মাথা কিলবিল করে
সে যেন অসংখ্য ছিড়া ডাইরির পাতা।
কবিতা মানে শত বিনিদ্র রাত
ঐ আকাশের সাথে কথা বলা
গভীর রাত্রে নিঃশব্দে হেঁটে চলা।
কাল মেঘের গর্জন
সাগরের কলকল ধ্বনি আর
ঝর্ণা হয়ে পাহাড়ের কান্না।
কবিতা তো পৃথিবীর না বলা যতসব কথা
যেমন ইচ্ছে লেখা আমার কবিতার খাতা।
আমার সব অর্জন আমার বাংলা ব্লগ:
চাকরির সুবাধে আমি লেখালেখির কাছ থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছিলাম। আমি একটা ব্যাংকে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পোস্টে জব করি। ব্যাংকের চাকরি হলো আনন্দ ও রসবিহীন একটি জব। তাই এখানে সৃজনশীলতার চর্চা করা অনেক কঠিন। তারপরেও নিজের যতটুকু সময় পাই নিজেকে সময় দেই পড়াশোনার কাজে সময় দিই। একতা বলতে দ্বিধা নেই যে লেখালেখিতে আমার যে স্বল্প অর্জন তার সবটুকু কৃতিত্ব আমার বাংলা ব্লগ। আমি যদি জীবনের ভালো মানের লেখক হই তার সবকিছু্র কৃতিত্বে থাকবে আমার বাংলা ব্লগ। যতদিন আমি ঠিক থাকি আমি আমার কর্মস্পৃহা বজায় থাকে ততদিন আমার বাংলা ব্লগে কাজ করে যাব।
আমার অনুপ্রেরণার স্থল বড় দাদা:
আমার বাংলা ব্লগে কাজ করতে এসে যাকে আমার অনুপ্রেরণার মূল কেন্দ্রবিন্দুস্বরূপ পেয়েছি পেয়েছি তিনি হলেন প্রিয় বড় দাদা। দাদার কথাগুলো আমার অনেক ভালো লাগে হৃদয় ছুঁয়ে যায়। দাদার প্রতিটি কথা আমার কাছে মনে হয় প্রিয় শুভাকাঙ্খীর অনুশাসন। প্রথমে আমি একেবারে লিখতে পারতামনা তাই দাদার কবিতা গুলো বেশি বেশি করে অনুসরণ করতাম। দাদার কবিতা পড়ে আমি কবিতা লেখার অনুঘটক খুঁজে পেতাম। তাই আমার এই ৫০ তম কবিতা লেখার আনন্দের মুহূর্তে দাদাকে আমার আশীর্বাদ ও সালাম। আমি খেয়াল করেছি দাদা যেই কথাটি বারবার বলেন এখানে কাজ করতে হবে ভালোবেসে টায়ার ওয়ান কিংবা টায়ার টুতে থাকা বড় কথা নয়। কাজটাকে অনেক বেশি ভালবাসতে হবে।
অনুপ্রেরণায় আরো যারা ছিলেন::
এখানে কাজ করতে এসে আমি পরোক্ষভাবে যাদের অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি তার প্রথমে থাকবে প্রিয় এডমিন হাফিজুল্লাহ ভাই। ভাই একজন অসম্ভব পরিশ্রমী মানুষ এবং ভালো মানের একজন লেখক। হাফিজ ভাইয়ের লেখা পড়তে গিয়ে আমি অনেক নতুন নতুন শব্দ শিখেছি। উনার লেখায় হাস্য ও কৌতুক এর স্থলে সমাজের অনেক সত্য বিষয় উঠে আসে। তারপর ব্ল্যাকস দাদা ও তনুজা বৌদির কবিতাও আমার অনেক ভালো লাগে। তাদের কবিতা পড়ে আমি অনেক অনুপ্রেরণা পাই। শুভ ভাইয়ের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা থেকে গদ্য আকারে লেখাগুলো আমার অনেক ভালো লাগে। তাছাড়া আমার বাংলা ব্লগের সকল এডমিন ও মডারেটরগণ আমার অনুপ্রেরণার অন্যতম কেন্দ্রস্থল। আজকের এই অনুভূতির দিনে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবিবি স্কুল এবং এর সাথে জড়িত সকল জনশক্তিতে।
লেখালেখি সহজ কাজ নয়:
চাইলেই কিন্তু লেখালেখি করা যায় না। কবিতা লেখা অনেক কঠিন কাজ এর জন্য অনেক সময় প্রয়োজন চিন্তাভাবনা প্রয়োজন । সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন সেটা হলো মনের সেটআপ। এর জন্য প্রতিদিন লেগে থাকতে হবে। প্রতিদিন কিছু না কিছু লেখার অভ্যাস করতে হবে। তাই ভালো হোক মন্দ হোক আমি প্রতিদিন যে কোন লেখা কবিতা প্রবন্ধ এই বিষয়গুলো লেখার অভ্যাস করি। আমার বাংলা ব্লগের সবগুলো কবিতা ভালো ভালো লেখাগুলো আমি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ি । আমি বিশ্বাস করি এই লেখাগুলো আমার বুনিয়াদি ভিত্তি তৈরি করবে। ভালো লাইন এবং শব্দগুলো আমি নোট করে রাখি যেন পরবর্তীতে আমার লেখায় সময় মত ব্যবহার করতে পারি।
সর্বশেষ আমার মায়ের অনুপ্রেরণা:
যে মানুষটির কথা না বললেই নয় তিনি হচ্ছেন আমার মা। আমার জীবনের সকল সফলতায় আমার মায়ের অবদান রয়েছে। তিনি সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা দেন সাহস যোগান। শুধু তাই নয় তিনি আমাকে এখনো অর্থ ও সময় দিয়ে সহযোগিতা করেন। আমি ধন্য এমন একজন মাকে পেয়ে। ছুটিতে আমি যখন বাসায় যাই তখন আমি বিশ্রামে থাকতে পারিনা। আমাকে বিছানা থেকে জাগিয়ে দেন লেখালেখি করার জন্য। কারণ আমার মা জানে আমি লেখালেখিতে ভালো কিছু করতে চাই । এখনো মা আমাকে অনেক শাসন করে। তাই আজকের আমার এই আনন্দঘন দিনে আমার মা সহ পৃথিবীর সকল মাকে আমার সালাম ও আন্তরিক দোয়া ও আশীর্বাদ রইল।
প্রিয় বন্ধুরা আজকের মত এখানেই শেষ করলাম আবার দেখা হবে অন্য কোন লেখায়।
আমার লেখা ৫০টি কবিতার লিংক

আমি মোঃ সাইদুর রহমান সরকার পেশায় একজন ব্যাংকার। হাই স্কুল জীবনে ছড়া, ছোট গল্প ও কবিতা লেখার হাতেখড়ি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করেছি, তাই লেখালেখির কাজটি অবহ্যাত রাখতে পেরেছিলাম। বই পড়া এবং বই সংগ্রহ করতে আমার ভালো লাগে । আমি জীবনে একজন ভালো মনের মানুষ এবং ভালো মানের একজন লেখক হতে চাই । আমি প্রতিদিন ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চাই। প্রতিদিন একটু একটু করে আমার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পানে এগিয়ে যেতে চাই। আমার সমস্ত কর্ম তৎপরতা আমার স্বপ্নকে ঘিরে। এটা আমার আজন্ম সাধনা। আমার জন্য দোয়া করবেন।
ভাইয়া আপনি যে ভালো কবিতা লেখেন এতে কোন সন্দেহ নেই আপনার কবিতা মাঝে মাঝেই আমি পড়ে খুবই ভালো লাগে আমার কাছে। আপনার কবিতার প্রত্যেকটা শব্দ এবং লাইন অর্থবোধক হয়ে থাকে এজন্যই আপনার কবিতাগুলো পড়তে আমার এত ভালো লাগে। আপনি ৫০ পার করে ফেলেছেন জেনে খুবই ভালো লাগলো। ভবিষ্যতে আরো ভালো ভালো কবিতা আপনার কাছ থেকে আশা করি শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
জি ভাই দোয়া করবেন যেন আরো কবিতা লিখতে পারি।
প্রথমেই আপনাকে কনগ্র্যাচুলেশন ভাইয়া । আপনার ৫০ তম কবিতা পাবলিশ হয়ে গেল । কবিতা সবাই লিখতে পারে না , এটা প্রতিদিন প্র্যাকটিসের একটা ব্যাপার থাকে । আপনার বেশ কয়টি কবিতা পড়েছি খুব ভালো লিখেন আপনি । আশা করি একদিন বইমেলায় আপনার কবিতার কোন বই পাবলিশ পাবে । আপনার জন্য শুভকামনা রইল
জি ভাই দোয়া করবেন ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করব বই মেলাতে বই প্রকাশ করার।
আপনাকে প্রথমেই অভিনন্দন জানাচ্ছি যে আপনার এখন পর্যন্ত ৫০ টি কবিতা লেখা হয়েছে। সত্যি এটা আনন্দের বিষয়। আপনার কবিতাগুলো আমি মাঝে মাঝে পড়তাম আমার খুবই ভালো লাগতো। অনেক অনেক দোয়া রইল আপনার জন্য এভাবেই সামনে এগিয়ে যেতে পারেন।
আলহামদুলিল্লাহ আপনার কমেন্টস দেখে অনেক ভালো লাগলো ইনশাল্লাহ চেষ্টা করব আরো ভালো ভালো কবিতা লেখার জন্য দোয়া করবেন ভাই।
খুবই সুন্দর একটি কবিতা লিখে আমাদের মাঝে উপহার দিয়েছেন ।যা পড়তে বেশ ভালো লাগলো ।। সামনের দিনে এরকম কবিতার আশায় থাকলাম ধন্যবাদ ভাইয়া।।
দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন ভাই। একেবারে কবিতার অর্ধ সেঞ্চুরি। আশাকরি খুব দ্রুতই আপনার সেঞ্চুরি টাও পূরণ হয়ে যাবে। কবিতা লেখা নিয়ে আপনার মন্তব্যের সাথে আমি একমত। আসলেই কবিতা লেখা সহজ না আবার সবার দ্বারা সম্ভবও না।।
ধন্যবাদ ভাই আমার লেখা পড়ে চমৎকার গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য। হ্যাঁ একথা ঠিক কবিতা লেখার সহজ না আবার সবার পক্ষে সম্ভব না।
আপনার জন্য অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা রইল আপনার লেখা কবিতা লেখার অর্ধসেঞ্চুরীর অনুভুতি প্রকাশ করার জন্য। সেই সঙ্গে একসঙ্গে এতগুলো কবিতা দেখে খুবই ভালো লাগলো। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
আসলেই ভাইয়া অনুপ্রেরনা মানুষকে অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে যায়। আপনি প্রতি ধাপে ধাপে অনুপ্রেরনা পেয়েছেন যার মাধ্যমে আপনি অর্ধশত কবিতা লিখে ফেলেছেন। সময় বের করে করে আপনার কবিতাটি পড়বো। অনেক অনেক শুভ কামনা রইল।
কবিতাগুলো পড়তে পারেন ভালো লাগবে।