আমার রেসিপি পোস্টের সংগ্রহশালা (আগস্ট পর্ব)
নমস্কার বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি ঈশ্বরের কৃপায় সকলেই সুস্থ। আপনাদের আশীর্বাদ এবং ভালোবাসায় আমি বেশ ভালো আছি। আজ আপনাদের সামনে আমি আমার করা আগস্ট মাসে সব কটা নতুন রেসিপির সংগ্রহশালা নিয়ে হাজির হলাম।
আমার চেষ্টা থাকে প্রতি মাসে আমার বানানো সব কটি নতুন রেসিপির সংগ্রহশালা বানিয়ে রাখা। আদপে রেসিপির সংগ্রহশালা বানানোর পেছনে আমি মূলত দুটো প্রয়োজন বোধ করেছি। প্রথমত, রেসিপি গুলো থেকে যা কিছু নতুন শিখলাম তার সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা ব্যক্ত করে নিজের রান্নার পুনঃমূল্যায়ন করা। আর দ্বিতীয়ত, রেসিপি গুলোর একটি নির্দিষ্ট আর্কাইভ বানানো।
আগস্ট মাসে আমি নতুন আরো ৫ টি নতুন রেসিপি আপনাদের সবার সাথে ভাগ করে নিয়েছিলাম, আজ তাদের সব কটির রিভিউ নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম।
আগস্ট মাসে আমার করা প্রথম রেসিপিটি ছিলো মিষ্টি ধুন্দলের চাপড় ঘন্ট। ধুন্দল আমার কাছে খুবই মজার একটি সবজি মনে হয়েছে। যদিও এই ধুন্দলকে আমরা অনেকে অনেক নামেই চিনি, যেমন গ্রামের দিকে ছোবড়া, আর ভালো নাম তো আগেই বলেছি, ধুন্দল। ধুন্দল মূলত দু স্বাদের হয়, মিষ্টি ও তেঁতো। তেঁতো ধুন্দল নিয়ে রান্না করার আমার সাহস হয়নি তাই আমি মিষ্টি ধুন্দল নিয়েই রান্না করেছিলাম। ধুন্দল কচি থাকলেও ভেতরে অল্প অল্প ছিবড়ে ছিলো তাই ধুন্দল কাটার সময় ভেতরটা পুরোপুরি পরিষ্কার করে নিয়ে তবেই রান্না করেছিলাম। আর চাপড় ঘন্ট নিয়ে কি বলবো, ভুল করার কোনো জায়গা নেই। তবে পরের বার থেকে ধুন্দল দিয়ে করবো না। হাঃ হাঃ।
আমিষ চচ্চড়ি নিয়ে আলাদা করে কিই বা বলি, তবুও দু কথা বলবো। আমার দ্বিতীয় রেসিপিটি ছিলো রসুন দিয়ে বেগুনের চচ্চড়ি। কদিন ধরে চচ্চড়ি খাওয়ার জন্য আমার মনটা খুব উশখুশ করছিলো। বেগুনের প্রতি ভালোবাসা কারোর অজানা নয় তাই চোখের সামনে তাজা বেগুন দেখে চচ্চড়ি খাওয়ার ইচ্ছেটা আরো বেড়ে গেলো। আসলে আমি বেগুন দেখে লোভ সামলে রাখতে পারিনা। খুব কঠিন পদ্ধতিতে না গিয়ে সহজ ভাবে রসুন দিয়ে বেগুনের চচ্চড়ি বানিয়ে ফেললাম। আহা কি সে স্বাদ। বলে বোঝাতে পারবো না।
আমার তৃতীয় রেসিপিটি ছিলো আমার বাংলা ব্লগে ২১ তম প্রতিযোগিতায় আমার অংশগ্রহণ। রেসিপিটি, পটলের পোলাও। আমাদের hafizullah দা যখন ইউনিক পটলের রেসিপি চাইলেন আমি তো বেশ ধন্ধে পড়ে গিয়েছিলাম। যা কিছু পদ মাথায় আসলো, দেখলাম তার সবই অন্যান্য প্রতিযোগীরা করে ফেলেছেন। শেষমেশ মায়ের দ্বারস্থ হলাম। মা উপায় বাতলে দিলো, পটলের পোলাও। পোলাওয়ের মতো রন্ধনপ্রণালী হলেও, আদপে পদটি ছিলো পুরোপুরি নিরামিষ। খেতেও দারুন হয়েছিলো।
আমার চতুর্থ রেসিপিটি ছিলো বাঙালি স্টাইলে দিশি খাসির মাংস। দিশি খাসির মাংস রান্না করার শখ অনেক দিন ধরে মনে পুষছিলাম। কলকাতাতে বেশ কয়েকবার রেওয়াজি খাসির মাংস রান্নাও করেছি তবে যেহেতু কলকাতায় দিশি খাসির পাওয়া যায় না তাই রান্না করার সুযোগই হয়নি। যখন দিশি মাংস হাতে পেয়ে গেলাম আর বাধা রইলো না। রান্না করে ফেললাম, আলু দিয়ে বাঙালি স্টাইলে দিশি খাসির মাংস। যদিও মনে হবে নিজের গুণগান নিজেই করছি তবুও বলবো। আহা। 😋
আমার পঞ্চম ও আগস্ট মাসের শেষ রেসিপিটি ছিলো লাউ দিয়ে রুই মাছের ঝোল। লাউ দিয়ে রুই মাছে!! নিরামিষ লাউ খেয়েছি, মাঝে মধ্যে লাউ চিংড়িও খাওয়া হয়। কিন্তু মাছ দিয়ে লাউ। অভিজ্ঞতার ভাড়ার একপ্রকার শূন্য।
অভিজ্ঞতা বাড়াতেই লাউ দিয়ে মাছের ঝোল রান্না করলাম। আর নতুন অভিজ্ঞতা হলোও বটে। ঝোলের জন্য যেটুকু জল দিতে হয় আমি তার কিছুই দিইনি। লাউয়ের জলেই পুরো রান্না হয়ে গেলো। স্বাদ টাও ভালোই হয়েছিলো। যদিও মনে হচ্ছে হলুদ বেশি হয়েছে। আদপে ঘটনা হলো, ক্যামেরার ফ্লাশে লাউয়ের রঙ বেশি হলুদ দেখা যাচ্ছে।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
দাদা এতগুলো মজার মজার খাবারের রেসিপি একসাথে দেখে খিদা লেগে গেল। বাঙালি স্টাইলে দেশি খাসির মাংস এবং পটল পোলাও রেসিপি দুটির ছবি দেখেই খেতে ইচ্ছে করছে কারন দুটোই স্পাইসি মনে হচ্ছে। আমার একটু ঝাল ঝাল খেতে বেশি ভাল লাগে। আপনার ইউনিক রেসিপিগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ দাদা।
ঠিক ধরেছেন। দুটোই ঝাল ঝাল। আমার আবার মিষ্টি বিশেষ পছন্দ না।
রান্নাগুলো প্রতিটাই ইউনিক ও লোভনীয়, কিন্তু স্বাদ কেমন ছবি দেখে তো বুঝতে পারি না। তাই স্বাদ পর্যবেক্ষক হিসেবে আমায় নিযুক্ত করা যেতেই পারে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে টেস্ট করে রিভিউ দিতাম আর কি! 😁
সত্যিই তাই। ছবি দেখে কি স্বাদ বোঝা যায়। বাজে খেতে হলেও ছবিতে তো আর বোঝা যাবে না 🤪
🥴
দাদা আপনার রেসিপি এর সংগ্রহশালা এর রিভিউ পড়ে দেখতেছি খুবই সুস্বাদু খাবারের সমৃদ্ধ। আপনার প্রতিটি রেসিপি কে আর রিভিউ পড়ে বুঝতে পারলাম প্রত্যেকটি রেসিপিই ছিল অত্যন্ত সুস্বাদ এবং মজাদার। খাসির মাংস রান্না এবং পটল পোলাও এ দুটি রেসিপির রিভিউ আমার কাছে সবচাইতে বেশি ভালো লেগেছে।
খাসির মাংস টা সেরা হয়েছিলো। নিজের ঢাক নিজেই পিটিয়ে নিলাম 😝।
দাদা, তেতো ধুন্দল রান্না করলে আর খাওয়া জুটবে না,কড়াইসহ তেতো হয়ে যাবে।বেগুন আমার খুবই প্রিয়।এছাড়া পটল দিয়ে তৈরি আপনার রেসিপিটা ইউনিক ছিল বেশ।আমার কাছে বেগুন ও পটলের রেসিপিটা বেশি ভালো লেগেছে, ধন্যবাদ দাদা।
তেঁতো ধুন্দল খেয়েছিলাম। উরি বাবা রে। কান্না কাটি হওয়ার যোগাড়।
😃😃
দাদা,একবার আমার বাবা বাজার থেকে নিয়ে এসেছিল তেঁতো ধুন্দল ।মানে দোকানদার আমাদের ঠকিয়ে দিয়েছিল আরকি,সেটা মা জিভ দিয়ে না চেক করেই এক গাদা বাড়ির পুকুরের হরিনা চিংড়ি দিয়ে রান্না করেছিল।খাওয়ার সময় দেখি বিদিকিস্তি তেতো কড়াইসহ তেতো তারপর ফেলে দিতে হয়েছিল চিংড়ি মাছসহ সবকিছু।।
আপনার রেসিপি বরাবরই লোভনীয় সুস্বাদু এবং মজাদার হয়।। আপনার রান্না করার হাত অনেক ভালো।। আপনার প্রায় প্রত্যেকটা রেসিপি আমি দেখেছি পূর্বে।। সংগ্রহশালা এনে পুনরায় দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।।
ভালো হাত বলবো না, তবে প্র্যাক্টিস করে করে এখন খেয়ে নেওয়া যায়।
দাদা আপনার রেসিপিগুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে অনেক সুস্বাদু এবং লোভনীয় ছিল। পুনরায় আপনার রেসিপিগুলো চোখের সামনে দেখতে পেয়ে আমি বেশি আনন্দিত হলাম। যখন রেসিপি গুলো দেখেই এত সুস্বাদু মনে হচ্ছে না জানি খেতে কত লোভনীয় ছিল। সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে খাসির মাংস রান্না। শুভকামনা রইল দাদা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনাই করি।
খাসির মাংস টা বেশ ভালো হয়েছিলো 😋
দাদা, রাতের বেলায় একসাথে এতগুলো খাবারের রেসিপি দেখে জিভে জল চলে আসলো।রসুন দিয়ে বেগুনের চচ্চড়ি কে আমিষ বলার কি কারণ দাদা? এইখানে তো সবকিছুই সবজি ব্যবহার করা। আমি ঠিক এই বিষয়টা জানি না তোমার জানা থাকলে আমাকে একটু বল।
বৈষ্ণব মতে (যেমন আমরা) পেঁয়াজ ও রসুন দুটোই আমিষ, তাই যখন পেঁয়াজ কিংবা রসুন দিয়ে রান্না করা হয় সেটাই আমিষ হয়ে যায়।
অসুরের রক্ত থেকে এগুলোর উৎপত্তি (পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে) হয়েছে এরকম কোন ব্যাখ্যা আছে কি দাদা ? আমি কোথায় যেন পড়েছিলাম না শুনেছিলাম সেটা ভুলে গেছি এখন।
আসলে আমিষ বলে কথা হয়না, তবে বৈষ্ণব মত হলো, পেঁয়াজ আর রসুন দুটো রাজসিক ও তামসিক খাবার। যে কারণে এদের ভগবান শ্রী কৃষ্ণকে উৎসর্গ করা হয়না। সেজন্য মিলিয়ে এদের আমিষ বলে।
আর পৌরাণিক ব্যাপার স্যাপার তো আছে। তবে বৈষ্ণব মত টাই আমার লজিক্যাল মনে হয়েছে।
আপনার রেসিপি পোষ্ট গুলো আমি দেখেছি। আজকে সবগুলো রেসিপির পোস্ট একসাথে দেখতে পেয়ে খুবই ভালো লাগলো। অনেক মজার মজার রেসিপি আপনি আমাদের সাথে শেয়ার করেছিলেন। একসাথে রেসিপি গুলো দেখে অনেক ভালো লাগলো আজকে।
ধন্যবাদ রায়হান ভাই 🤗
দাদা আমার অত্যন্ত ভোজন প্রিয় মানুষ। এবং রন্ধনশালায় অত্যন্ত পটু একজন মানুষ। আপনার রেসিপি-র সংগ্রহশালা একসঙ্গে পাঁচটি রেসিপি দেখি খুবই ভালো লাগলো। আগামী দিনে আরো মজার মজার রেসিপি দেখার অপেক্ষায় রইলাম। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
পটু হইনি তবে পটু হওয়ার চেষ্টায় আছি, ধীরে ধীরে হয়তো হয়েই যাবো।
দাদা আপনার রেসিপি গুলো আমার কাছে বেশ ভালো লাগে,কারণ আপনার রেসিপি অনেকটাই ইউনিক লাগে ,আমি সবসময় একই ভাবে রান্না করি তবে আপনাদের রান্না দেখে অনেক মসলা এখন অ্যাড করি রেগুলার রান্নার সাথে। তবে রেসিপি সংগ্রহশালা পোস্ট টি কিন্তু ভালো লাগলো
মশলা আল্প হলেও খেতেই হবে। আমাদের আবহাওয়ার জন্য মশলা খুবই ভালো।