বেথো শাকের রেসিপি
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে একটা রেসিপি পোস্ট শেয়ার করে নেবো। এই রেসিপিটা হলো একটি শাকের রেসিপি। বেথো শাক এর নাম হয়তো অনেকে শুনেছেন। এই শাকের আবার বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরণের নাম আছে, বথুয়াও বলে থাকে। এই শাকগুলো মূলত বেশিরভাগ শীতকালের দিকে পাওয়া যায়, তবে এই শাকগুলো যেহেতু আগাছার মতো মাঠে বেড়ে ওঠে, তাই এই শাক বর্তমানে এখনো কম-বেশি পাওয়া যায়। একদিন গ্রামের দিকে বাজার করতে গিয়ে এই শাকগুলো একজন বৃদ্ধ মহিলাকে বিক্রি করতে দেখলাম, আর খাওয়ার ইচ্ছা হলো তাই এক তাড়ি কিনে নিয়ে এসেছিলাম। এই শাকটা আসলে খাওয়ার থেকে অনেক ঔষধিগুন সম্পন্ন শাক হিসেবে পরিচিত। এই শাকের পাতার নির্যাস অনেক উপকারী পাওয়া যায় বেটে খাওয়ালে। তাছাড়া এর মূল বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঔষধি তৈরির কাজে লাগে। এই শাক খাওয়ার সাথে সাথেও অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়, তাই এই শাকটা আগাছার মতো হলেও এর ডিমান্ড আছে অনেক বাজারে। এছাড়া এই শাকের সাধারণ উপকারিতার বিষয়ে যদি দেখা যায়, তাহলে স্বাভাবিক ভাবে আমাদের যদি ত্বকের কোনো অংশে জ্বালা পোড়া বা মুখের ভিতরে ঘা জনিত কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে পাতার নির্যাস অনেকটা উপশমময় কার্য করে থাকে। যাইহোক, এই বেথো শাক বরাবরই আমি চিংড়ি দিয়ে করে থাকি, কারণ চিংড়ি ছাড়া এই শাক আর কোনো কিছুতেই আমার ভালো লাগে না। আর খেতেও বেশ ভালো টেস্ট হয়েছিল। এখন এই রেসিপিটার প্রস্তুতি প্রণালীর দিকে চলে যাবো।
☫প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:☫
❦এখন শাকের রেসিপিটা যেভাবে প্রস্তুত করলাম--
✠প্রস্তুত প্রণালী:✠

❖চিংড়িগুলো আগে কেটে রাখা ছিল এবং রান্নার পূর্বে চিংড়ি ফ্রিজ থেকে বের করে একবার ধুয়ে রেখেছিলাম। এরপর বেথো শাকগুলো বেছে বেছে ভালোগুলো আলাদা করে পরে ধুয়ে নিয়েছিলাম।
❖পেঁয়াজ দুটির খোসা ভালোভাবে ছালিয়ে নেওয়ার পরে কেটে রেখেছিলাম। এরপর কাঁচা লঙ্কাগুলো কেটে নিয়েছিলাম।
❖চিংড়িগুলোতে হাফ চামচ করে লবন আর হলুদ গুঁড়ো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর চিংড়ির গায়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিয়েছিলাম।
❖প্যানে হালকা তেল দিয়ে চিংড়িগুলো সব দিয়ে দিয়েছিলাম ভালো করে ভাজা হয়ে আসার জন্য। ভাজা করার পরে বাটিতে তুলে রেখেছিলাম।
❖চিংড়ি ভাজার পরে প্যানে তেল দিয়ে গোটা জিরা দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে পেঁয়াজ দিয়ে দিয়েছিলাম।
❖পেঁয়াজ জিরার সাথে কিছুক্ষন ধরে ভালোভাবে ভেজে নিয়েছিলাম।
❖ভাজা হয়ে গেলে তাতে একেবারে বেথো শাক দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে লবন আর হলুদ দিয়ে দিয়েছিলাম এবং সাথে ভাজা চিংড়ি আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে দিয়েছিলাম।
❖শাকের সাথে সব উপকরণ ভালোভাবে মিক্স করে নেওয়ার পরে তাতে অল্প করে জল দিয়ে দিয়েছিলাম।
❖এরপর কিছুক্ষন ঢেকে রেখেছিলাম শাকগুলো ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে আসার জন্য। শাক সেদ্ধ হয়ে আসলে ঢাকনা তুলে নিয়েছিলাম।
❖শাকের থেকে বেরোনো জলটা জ্বাল দিয়ে কমিয়ে নেওয়ার পরে শুকনো শুকনো হয়ে আসলে নামিয়ে নিয়েছিলাম এবং পরিবেশনের জন্য একটি পাত্রে তুলে নিয়েছিলাম।
রেসিপি বাই, @winkles
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |




দাদা এই শাকটি ছোটবেলায় কয়েক বার খেয়েছি ।তবে এই শাকটি শহরের থেকে গ্রামেই বেশি পাওয়া যায়। তবে এই শাকের যে এত উপকারিতা এটি জানা ছিল না। আমি কখনো চিংড়ি মাছ দিয়ে এই শাকটি খাইনি ।আপনি অনেকগুলো চিংড়ি দিয়ে দারুন ভাবে রান্নাটি করেছেন ।দেখেই মনে হচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে ।ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
দাদা আপনি অনেক মজাদার একটা রেসিপি তৈরি করেছেন এবং এই রেসিপিটা বেশ ইউনিক ও ছিল। যদিও বেথো শাক কখনো এভাবে রান্না করে খাওয়া হয়নি, তবে দেখতে অনেক বেশি মজাদার মনে হচ্ছে। এমনিতে আমাদের বাড়ির আশেপাশে এই শাকগুলো পাওয়া যায় তবে কখনো রান্না করিনি আমি। এই শাক অনেক বেশি উপযোগী শরীরের জন্য যা বুঝতেই পারছি দেখে। আর এই শাকের উপকারিতা আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি দাদা। এসব কিছু আপনার মাধ্যমে জানতে পেরে অনেক বেশি ভালো লাগলো। আপনি চিংড়ি মাছ দিয়ে এই রেসিপিটা তৈরি করেছেন দেখে আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। আর সম্পূর্ণ রেসিপিটা ধাপে ধাপে অনেক সুন্দর করে তুলে ধরার কারণে আরো বেশি ভালো লেগেছে। আমি তো ভাবছি এই রেসিপিটা একবার হলেও তৈরি করব। আশা করছি তৈরি করার পর অনেক বেশি সুস্বাদু হবে এবং খেতে অনেক ভালো লাগবে। অনেক অনেক ধন্যবাদ দাদা আপনাকে, এই রকম মজাদার এবং পুষ্টি সম্পূর্ণ একটা রেসিপি সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়ার জন্য।
বেথো শাককে আমাদের এইদিকে বেথুয়া শাক বলে। তবে আমি এই শাকের ২জাত দেখেছি। একটা হলো আপনি যেটা শেয়ার করেছেন এটা, আরেকটা একটু লালচে রঙের আর পাতাগুলোও বড় বড়।আমাদের ছাদের উপরে উপরে ২ধরনের শাকই ছিল।আর আমরা প্রায়ই খেতাম,কিনতে হতো না।আর এই বেথুয়াশাকের বীজগুলো ছড়িয়ে দিলে আবারো অনেক গাছ উঠে যায়।এভাবে কয়েকবার গাছ উঠেছে। আর আমরা এই শাক ভাজি করে খেয়েছিলাম,মজাই লেগেছিল বেশ।আর শিম রান্না করার সময় সাথে আলু এবং এই শাক দিয়েছিল,তখনও খেয়েছিলাম।তবে চিংড়ি দিয়ে এইশাক খাওয়া হয়নি কখনো,এইবার দেখি সময় করে চিংড়ি দিয়ে এইভাবে তৈরি করব।তবে এর এত ওষুধি গুণ আছে জানা ছিল না।
বেথো শাক অনেক দিন থেকে খাওয়া হয় না দাদা। ছোটবেলায় এই শাকগুলো অনেক খাওয়া হতো। আজকে যখন এই পোস্ট দেখছিলাম তখন ছোটবেলার অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছিল দাদা। গম খেতের মাঝে বেড়ে ওঠা এই বেথো শাক তুলে আনার অনেক আনন্দ ছিল। আমাদের গ্রাম্য ভাষায় এই শাক বথুয়া শাক নামে পরিচিত। এই শাকগুলো চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করলে খেতে অনেক ভালো লাগে। এছাড়া ভাজি করলেও খেতে বেশ ভালো লাগে। তবে দুই একবার শুটকি মাছ দিয়ে পাটায় বেটে ভর্তা করে খেয়েছিলাম। খেতে বেশ ভালো লেগেছিল। গরম ভাতের সাথে বেথো শাক ভর্তা খেতে অনেক ভালো লাগে। বেথো শাকের ঔষধি গুনাগুন সম্পর্কে জানা ছিল না দাদা। আজকে অনেক কিছুই জানতে পারলাম। মুখের ভেতরে ঘা থাকলে এই বেথো শাক খাওয়া অনেক উপকারী জেনে ভালো লাগলো। বেথো শাখের গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে পেরে ভালো লাগলো দাদা। এই বেথো শাক মাঝে মাঝেই খাওয়া উচিত তাহলে। বাজারে গিয়ে এই বেথো শাকগুলো কিনেছেন জেনে ভালো লাগলো। চিংড়ি মাছ এবং বেথোশাকের দারুন একটি রেসিপি তৈরি করে সবার মাঝে উপস্থাপন করেছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
দাদা, বেথো শাকের এত গুনাগুন তা তো আগে জানতাম না। আমাদের এদিকেও বেথো শাক কিনতে পাওয়া যায়। তবে অনেকেই কেনার চাইতে ধানের জমি কিংবা মাঠ থেকেই শাকগুলো সংগ্রহ করে। আমি এই শাক খুব বেশি একটা খাইনি। ছোটবেলায় মা খুব মজা করে রান্না করতেন। তবে বড় হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এই শাকটি আর খাওয়া হয়নি। তবে আজ আপনার তৈরি বেথো শাকের রেসিপি দেখে খাওয়ার ভীষণ ইচ্ছে হচ্ছে। বিশেষ করে চিংড়ি মাছ দিয়ে এই রেসিপি রান্না করার কারণে খেতে মনে হয় খুবই মজার হয়েছে। আর আপনার রন্ধন প্রণালী নিয়ে তো কোন কথাই হবে না। অনেক অনেক ধন্যবাদ দাদা, সুস্বাদু ও মজার এই রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য।
দাদা প্রথমেই বলবো শীতকালীন সব্জি আপনি এখন কোথায় থেকে পেলেন? তামাক কিংবা ভুট্টা এর মধ্যে এই বেথোর শাক প্রচুর পরিমাণে জন্মে থাকে। আর এই শাক খেতে খুব ভালো লাগে। আপনি আজকে চিংড়ি মাছ দিয়ে বেথোর শাক রান্না করেছেন। রান্নার ধাপ গুলি খুব চমৎকারভাবে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি সবজি রান্না আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
দাদা আপনি যদি সবসময় শুধু আনকমন জিনিসেরই রেসিপি করে যাচ্ছেন। আপনার এই বেথো শাকটা কি এটাই তো চিনলাম না। তবুও খুব সুন্দর আকর্ষণীয় একটি রেসিপি তৈরি করেছেন আজ। রেসিপি দেখেই তো খেতে মন চাচ্ছে। ধন্যবাদ দাদা এত সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলছেন দাদা একেক জিনিসের নাম এলাকা অনুযায়ী বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। তবে আমাদের এখানেও অন্য একটি নামে পরিচিত বেথো শাক। আপনার মাধ্যমে অনেক উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারলাম বেথো শাকের। এই শাক খুব সহজে পাওয়া যায় গ্রাম অঞ্চলে। মাঠে গেলেই বেথো শাক অনেক বেশি পাওয়া যায়। তবে শহরের বাজারেও পাওয়া যায়। আপনি দারুণ রেসিপি তৈরি করলেন চিংড়ি মাছ দিয়ে খেতে অনেক ভালো লাগবে। তাছাড়া এই শাক চিংড়ি মাছের সাথে যদি ডাল মিক্স করে রান্না করা হয় খেতে আরো ভালো লাগে দাদা। সাথে যদি একটু বেসন কিংবা চালের গুড়া মিক্স করা হয় হালকা ঝোল করে। আপনার রেসিপিটা আমার অনেক ভালো লেগেছে ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
আমাদের দেশে এই সাপগুলো শুধু শীতের সময় পাওয়া যায় তবে এখন আর পাওয়া যায় না। হ্যাঁ এই শাকগুলো অনেকটাই আগাছা আকারে জন্মে থাকে। এই শাকের সাথে চিংড়ি মাছ গুলো রেসিপিটার লোভনীয়তা আরো বাড়িয়ে তুলেছে।