শিম, আলু , বেগুন দিয়ে রুই মাছের সুস্বাদু রেসিপি

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

আজকে আপনাদের সাথে আমি একটা রেসিপি শেয়ার করে নেবো। এই রেসিপিটা গতকাল করেছিলাম। শিম, আলু এবং বেগুন দিয়ে রুই মাছের রেসিপি তৈরি করেছিলাম। শীতকালীন সবজির মধ্যে শিম একটা দারুন সবজি যা সব ভাবে খাওয়া যায় আর শিমে অনেক পুষ্টিগুণও আছে। শিম বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায় ভাজা, তরকারি করে। শিম ভর্তা করে খেতেও অনেক ভালো লাগে গরম ভাতের সাথে, আমার কাছে বেশ টেস্ট লাগে। তবে শিমের থেকে শিমের বিচিতে বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে কাঁচা অবস্থায়। কাঁচা অবস্থায় তরকারি রান্না করে খেতেও অনেক সুস্বাদু লাগে। আমি কিছুদিন আগে একসাথে অনেকগুলো কিনে এনেছিলাম কাঁচা বিচি যেহেতু এখন শীতকাল শেষ হয়ে গেছে তাই আস্তে আস্তে এই শিমের বিচি এখন আর তেমন পাওয়া যাবে না কিন্তু শিম ১২ মাস পাওয়া যাবে । আমাদের এখানে সব ধরণের সবজি সারাবছরই কম-বেশি পাওয়া যায় তাই সিজনের সবজির স্বাদও নন সিজনেও নেওয়া যায়। শিমের শুকনো বিচি সংগ্রহ করে রাখতে পারলে কাজে দেয় কিন্তু কাঁচা বিচি কিনে রাখলে বেশিদিন থাকে না। যাইহোক, এই রুই মাছটা মিক্স সবজিতে বেশ ভালো লেগেছিলো খেতে। এখন রেসিপিটার প্রধান পর্বের দিকে চলে যাবো।


❆প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:❆

დউপকরণ
পরিমাণდ
রুই মাছ
৫০০ গ্রাম
শিম
পরিমাণমতো
আলু
৪ টি
বেগুন
১ টি
পেঁয়াজ
২ টি
কাঁচা লঙ্কা
পরিমাণমতো
গোটা জিরা
১ চামচ
সরিষার তেল
পরিমাণমতো
লবন
৫ চামচ
হলুদ
৪ চামচ
জিরা গুঁড়ো
১ চামচ


শিম, আলু, বেগুন, পেঁয়াজ


কাঁচা লঙ্কা, সরিষার তেল, লবন, হলুদ, জিরা গুঁড়ো


✔এখন রেসিপিটা যেভাবে স্টেপ বাই স্টেপ প্রস্তুত করলাম ---


☬প্রস্তুত প্রণালী:☬


❖রুই মাছটি বাজার থেকে কাটিয়ে নিয়ে এসেছিলাম এবং বাড়িতে এনে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে রেখে দিয়েছিলাম। এরপর শিমগুলোকে কেটে নেওয়ার পরে ধুয়ে রেখে দিয়েছিলাম।

❖আলুগুলোর খোসা ভালোভাবে ছালিয়ে নিয়েছিলাম। এরপর কেটে পিচ পিচ করে নেওয়ার পরে ভালো করে ধুয়ে নিয়েছিলাম।

❖বেগুনটিকে কেটে ধুয়ে নিয়েছিলাম। এরপর পেঁয়াজ দুটির খোসা ছালিয়ে নিয়ে কেটে ধুয়ে নিয়েছিলাম। এরপর কাঁচা লঙ্কাগুলোও কেটে নেওয়ার পরে ভালো করে ধুয়ে নিয়েছিলাম।

❖কেটে রাখা রুই মাছের পিচগুলোতে ২ চামচ করে লবন আর হলুদ গুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে মিক্স করে নিয়েছিলাম মাছের সাথে।

❖প্যানে তেল দিয়ে গরম করার পরে তাতে মাছের পিচগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর সব ভালোভাবে ভাজা করে তুলে নিয়েছিলাম।

❖মাছ ভাজতে ভাজতে অন্য কড়াইতে তেল দিয়ে আলুর পিচগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। আলুটা ভালোভাবে ভাজা হয়ে গেলে তুলে নিয়েছিলাম।

❖আলু ভাজার পরে কড়াইতে সামান্য তেল দিয়ে তাতে বেগুনের পিচগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর বেগুন ভালোমতো ভাজা হয়ে গেলে তুলে রেখেছিলাম।

❖বেগুন ভাজা করে নেওয়ার পরে শিমগুলো ভালোভাবে ভেজে তুলে নিয়েছিলাম।

❖শিম ভাজা হয়ে গেলে আরেকটু তেল দিয়ে পেঁয়াজ কড়া মতো করে ভেজে তুলে নিয়েছিলাম।

❖সব ভাজা সম্পন্ন হয়ে গেলে কড়াইতে তেল দিয়ে গোটা জিরা দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর জিরা হালকা ভাজা হয়ে গেলে তাতে বেগুন ভাজাটা দিয়ে দিয়েছিলাম।

❖বেগুন ভাজার পরে তাতে ভাজা আলুর পিচগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে ভাজা শিম দিয়ে দিয়েছিলাম এবং পরে তাতে কাঁচা লঙ্কা দিয়ে দিয়েছিলাম।

❖লঙ্কা দেওয়ার পরে তাতে স্বাদ মতো লবন আর হলুদ দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর সব ভাজা সবজির সাথে ভালোভাবে মিক্স করে নিয়েছিলাম।

❖মিক্স করার পরে তাতে জল দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর সবজিগুলো খানিক্ষন ধরে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিয়েছিলাম।

❖সবজি ফুটানোর পরে সেদ্ধ আলুর পিচগুলো খানিকটা তুলে নিয়েছিলাম। এরপর ভালোভাবে গলিয়ে সফ্ট করে নিয়েছিলাম।

❖আলু গলানো হয়ে যাওয়ার পরে তরকারিতে ভেজে রাখা রুই মাছের পিচগুলো সব দিয়ে দিয়েছিলাম এবং সেই সাথে তাতে ভেজে রাখা পেঁয়াজ দিয়ে দিয়েছিলাম।

❖ভাজা পেঁয়াজ দেওয়ার পরে তরকারিতে গলানো আলুর অংশটা দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তরকারির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়েছিলাম এবং তরকারিটা ঘন হয়ে আসা পর্যন্ত দেরি করেছিলাম।

❖তরকারির ঝোলটা ঘন হয়ে আসলে পরে ঝোলটা একটু কমিয়ে নিয়ে তুলে নিয়েছিলাম এবং একটু জিরা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছিলাম । এরপর সুস্বাদু রেসিপিটা পরিবেশনের জন্য একটি পাত্রে তুলে নিয়েছিলাম।

রেসিপি বাই, @winkles

শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

Sort:  
 3 years ago 

শীতকালীন সবজির মধ্যে শিম আমার ভীষণ প্রিয়। শিম ভাজা খেতে যেমন ভালো লাগে তেমনি গরম ভাতের সাথে শিম ভর্তা খেতেও দারুন লাগে। আর বেশি করে পেয়াজ, কাঁচা মরিচ এবং সরিষার তেল দিয়ে শিম ভর্তা করলে অনায়াসেই ভাত খাওয়া যায়। যাই হোক দাদা বিভিন্ন প্রকারের সবজি একসাথে মাছের সাথে রান্না করলে খেতে বেশ ভালো লাগে। তবে শিমের বিচি সত্যিই পুষ্টিগুনে ভরপুর। শীতের সময় শিমের বিচি বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু শীত শেষ হওয়ার সাথে সাথেই এখন পরিপক্কর শিম খুব একটা পাওয়া যাবে না। আর যেগুলো পরিপক্ক হয়েছে সেগুলোর বিচি হয়তো শুকিয়ে গেছে। রুই মাছের দারুণ একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি দাদা।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

দাদা, আপনার মত আমারও শিম সবজি হিসেবে ভীষণ প্রিয়। শিম কে যেভাবে রান্না করা হোক না কেন তা খেতে দুর্দান্ত লাগে। বিশেষ করে গরম গরম ভাতের সাথে শিম ভর্তা খেতে খুবই ভালো লাগে। আর এই শিম সবজিকে আলু ও বেগুন দিয়ে রুই মাছের সমন্বয়ে আপনি যে রেসিপি তৈরি করেছেন তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে খুবই মজার হয়েছে। আর আপনার রন্ধন প্রণালী নিয়ে তো কোন কথাই হবে না। এক কথায় দুর্দান্ত রেসিপি, আর অসাধারণ রন্ধন প্রণালী দুটো মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। যার কারণে রেসিপিটি খুবই লোভনীয় দেখাচ্ছে। ধন্যবাদ দাদা, খুবই মজার একটি রেসিপি সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য।

 3 years ago 

ঠিক বলেছেন, সিম শীতকালীন সবজি হিসেবে বেশ দারুন একটি সবজি। তাছাড়া সিম ভাজি কিংবা ভর্তা, আবার রান্না করলেও আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। এ বছর আমিও অনেকবার আলু, মাছ দিয়ে সিম রান্না করে খেয়েছি। তবে হ্যাঁ এটা ঠিক বলেছেন শীতকালে চলে গেলে কিন্তু সিমের বিচি পাওয়া যায় না। এজন্য ভালই করেছেন অনেকগুলো সিমের বিচি কিনে রেখেছেন। তবে কাঁচা সিমের বিচি গুলো বেশিদিন থাকে না। এজন্য শুকনো সিমের বিচি সংরক্ষণ করতে পারলেই ভালো হয়। আপনি কিন্তু বেশ সুন্দর একটা রেসিপি তৈরি করলেন। এরকম তরকারি দিয়ে ভাত খেতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। এরকম সুন্দর একটা রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ দাদা।

 3 years ago 

আপনি শিম ও আলু ও বেগুন দিয়ে রুই মাছের অসাধারণ একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন। ঠিক বলেছেন ভাইয়া শিম বারো মাস পাওয়া যায় কিন্তু শিমের বিচি পাওয়া যায় না। আলু গুলো সফ্ট করে দেওয়াতে স্বাদ আরো বেড়ে গেছে। রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুস্বাদু রেসিপি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

আপনি সব সময় খুবই মজাদার এবং সুস্বাদু রেসিপি তৈরি করে থাকেন।আপনার রেসিপির কালার কম্বিনেশন দেখে বুঝতে পারছি খুবই সুস্বাদু এবং ইয়াম্মি হয়েছে রেসিপিটি। এরকম মজাদার রেসিপি গুলো তৈরি করতে যেমন ভালো লাগে খেতে তো আরো বেশি ভালো লাগে। আপনি দেখছি এই ডেকোরেশনটা খুবই সুন্দর ভাবে করলেন। ভাবছি একবার এই রেসিপিটি তৈরি করে দেখব। শিম, আলু, বেগুন দিয়ে এভাবে রুই মাছের রেসিপি তৈরি করে যদিও আগে অনেকবার খেয়েছি কিন্তু এখন আমার খুবই খেতে ইচ্ছে করছে। আপনার উপস্থাপনা দেখে কিন্তু যে কেউ খুবই সহজে এটি তৈরি করতে পারবে। যাইহোক এক কথায় অসাধারণ ছিল।

 3 years ago 

শীতের সবজিগুলোর মধ্যে সিম আমার খুবই পছন্দের সবজি। সিমের সাথে আলু বেগুন দিয়ে রুই মাছ রান্না করলে খেতে বেশি সুস্বাদু হয়ে থাকে। আপনার রেসিপিগুলো বরাবর আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। আপনার রেসিপি টি দেখে লোভনীয় লাগছে। ধন্যবাদ আপনাকে দাদা এত লোভনীয় ও সুস্বাদু একটি রেসিপি আমাদের শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

দাদা ভাল আছেন আশাকরি।আজকের রেসিপিটিও দারুন হয়েছে। আপনার মত আমার ও শিম খুব পছন্দ। শিম রান্না, ভাজি, ভর্তা সব রকমেরই ভাল লাগে।শিমের বিচিও আমার খুব পছন্দ। আমি লাউ শাক,শিম, শিমের বিচি, আলু দিয়ে খুব মজা করে নিরামিষ করি।খেতে বেশ মজার হয়।আপনি আজ রুই মাছ আলু,শিম আর বেগুন দিয়ে রান্না করলেন ।দারুন মজার হয় খেতে।আপনার রেসিপিটি দারুন লোভনীয় হয়েছে। আপনি সবটা সবজি ভেজে নিলেন,আর এতে এই রেসিপির স্বাদ বহুগুন বেড়ে গেল। রান্নার পর জিরা গুঁড়া এই রেসিপির টেস্ট আরো বেশি বেড়ে গেল।আপনি খুব সুন্দরভাবে রান্নার ধাপগুলো তুলে ধরেছেন। ধন্যবাদ দাদা রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

যেসব সবজিগুলো বারো মাস পাওয়া যায় সেগুলোর ক্ষেত্রে সিজনের সবজির স্বাদ, নন সিজনেও পাওয়া সম্ভব। শিম, আলু এবং বেগুন দিয়ে রুই মাছের রেসিপিটি বেশ সুন্দরভাবেই করেছেন। এই ধরনের তরকারি আমরা বিশেষ করে শীতকালে বেশি বাড়িতে রান্না করে খাই ।আমাদের বাঙ্গালীদের জন্য এটি একটি অতি পরিচিত রেসিপি।

 3 years ago 

সিমের ভর্তা আমার কাছেও খুবই ভালো লাগে।। যদি সাথে বেশি করে ধনিয়া পাতা দেওয়া যায় তাহলে তো কথাই নেই। শীতকালে সিমের রেসিপি খেতে খুব মজা লাগে। কি বলেন দাদা কাঁচা সিমের বিচি তো আমি বেশি করে কিনে রেখে সারা বছর খাই। কাঁচা বিচি কিনে পরিষ্কার করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দেই। ডিপ ফ্রিজে রাখলে নষ্ট হয় না একদম তাজাই থাকে। যাইহোক আপনার রুই মাছটা বেশ বড়ই ছিল মনে হচ্ছে। সবকিছু যেভাবে ভেজে রান্না করেছেন তাতে রেসিপি নিঃসন্দেহে সুস্বাদু হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দাদার অনেক ধৈর্য অনেক যত্ন করে রান্না করেন তা আপনার রান্নার পদ্ধতি দেখলেই বোঝা যায়। আর আপনার রেসিপি কালার তো বরাবরই লোভনীয় লাগে দেখতে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.104
BTC 64279.30
ETH 1870.28
USDT 1.00
SBD 0.36