ওয়েব সিরিজ রিভিউ: দুর্গ রহস্য ( পর্ব ২ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে 'দুর্গ রহস্য' ওয়েব সিরিজটির দ্বিতীয় পর্ব রিভিউ শেয়ার করে নেবো। এই পর্বের নাম হলো "অর্থই অনর্থ"। গত পর্বে লাস্ট দেখেছিলাম যে কিছু ইংরেজ সৈন্য একটি দুর্গে গুপ্তধনের সন্ধানে হামলা করে। আজকের পর্বের ঘটনা দেখা যাক কি হয়।
✠কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:✠
✠মূল কাহিনী:✠
তো গত পর্বে একবার জানা গিয়েছিলো যে পাহাড়ি এলাকার কোনো জঙ্গলে কিছু আদিবাসী আর বেদে গোষ্ঠী এসে তাবু পাতলে তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করার জন্য মহাজন তার কর্মচারী লোক পাঠিয়ে তাদের সেইসব আসবাবপত্র, তাবু সব ভেঙে ফেলে। এরপরে আবার বিহারের একটি জঙ্গলেও কিছু লোকজনের বাড়ি ওইরকম ভেঙে উচ্ছেদ করে দেয় একই লোকজন। তবে সেখানে তারা কেউ বেদে বা আদিবাসী গোষ্ঠী ছিল না। একটি গ্রামের কিছু লোকজন ছিল আর তাদের সেই গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল এক সময়। এখানে এসে আশ্রয় নিলেও মহাজনের লোকজন সেখান থেকেও উচ্ছেদ করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। তবে এই লোকজনগুলো একটা সময় এসে অত্যাচারের ফলে অতিষ্ঠ হয়ে বিদ্রোহ করার জন্য দল গঠন করতে লাগে। তারা একে একে বেশ কিছুজন লোকজন নিয়ে একটা বাহিনী মতো গঠন করে এবং বন্দুক চালানোর ট্রেইনিং দিয়েও নেয়।
মহাজনের লোকজন এসে ভাংচুর করতে লাগলে তারা তাদের সামনে হুঙ্কার দিয়ে ওঠে একবার, আর বন্দুক দেখে তারাও পিছিয়ে যায়, কারণ তাদের বাহিনীতে সবাই লাঠিয়াল আর এদের বাহিনীতে সবার কাছে বন্দুক আছে। তবে এই মহাজনের যে প্রধান ছিল তার উপরে এদের একটা আলাদা রাগ ছিল, কারণ যখন তখন তাদের পিছনে লাগার জন্য উঠে পড়ে লাগতো। তাদেরই টিমের একজন একে মারার জন্য ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। দুর্গের ভিতরে একা থাকা অবস্থায় একদিন গিয়ে তাকে মেরেও আসে। এখন ব্যোমকেশ আর তার বন্ধু এই খবরটা যেকোনোভাবে পায় আর বিহারের একজন পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সাথে এই খুনের সন্ধানে হাত লাগাতে চায়।
মূলত ব্যোমকেশ এইসব কাজের সাথে নিজেকে মোটামুটি নিযুক্ত রাখে। যাইহোক তারা এই খুনের বিষয়ে রাস্তায় কথোপকথন করতে করতে দুর্গের দিকে যায়। দুর্গটাও জঙ্গলের সাইটে একটা শুনশান জায়গায়, ফলে এখানে যে কেউ খুন করে গেলে আশেপাশে বোঝারও কোনো উপায় নেই, ফলে সেখানে দুর্গের পাশে কারো কাছে তারা জিজ্ঞাসা করে কোনো তথ্য পায়নি। লাশটা দেখেও তাদের একটা সন্দেহ মনে হয়, কারণ যেভাবে খুন হয়েছে, আসলে বাস্তবে খুনটা সেইরকম ঘটেনি । তারা এই দুর্গের পাশে একটা সাধুকে জিজ্ঞাসাও করে কিন্তু সেও তার ধ্যানে মগ্ন থাকে, ফলে কোনো সন্ধান আর পায়না।
✠ব্যক্তিগত মতামত:✠
মোটামুটি এই পর্বের থেকে রহস্যের খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে বলতে গেলে। এই দুর্গে যে খুনটা হয়েছিল সেটা ছিল মহাজনের একজন প্রধানের অর্থাৎ যে সবসময় জঙ্গলের কিনারায় বসবাস করা মানুষদের উপর অত্যাচার চালাতো। এর খুনটা যেটা দেখালো সেটা সাপে কাটার ফলে, কারণ তার পায়ে যে দাগ পাওয়া গিয়েছে সেটা সাপে কাটার দাগ। কিন্তু এইটা মূলত সত্য ঘটনা না বলে ব্যোমকেশ আর বিহারের পুলিশের সন্দেহ। কারণ তার যদি সাপে কেটেই মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে তার মাথায় আঘাত আসলো কি করে। আর সব থেকে মূল বিষয় হলো, দুর্গের সব জায়গায় আটকানো, তাহলে সাপটা আসলো কিভাবে। এখানে সব থেকে বড়ো রহস্য এখন এটাই। আর এটা কেউ ইচ্ছাকৃত ঘটিয়েছে সেটাও সন্দেহের তালিকায় আছে। কারণ বিষয়গুলো এখনো ধোঁয়াশা মতো আছে চোখের সামনে । তবে এটাও জানা প্রয়োজন যে কেউ দেখেছে কিনা আশেপাশে খুনের সময়। আশেপাশে শুনশান, ফলে তাদের কাছে বিষয়টা আরো জটিল পর্যায়ে আছে।
✠ব্যক্তিগত রেটিং:✠
৭.৫/১০
✠ট্রেইলার লিঙ্ক:✠



Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
দাদা আপনি দুর্গ রহস্য এই ওয়েব সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব অনেক সুন্দর করে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন আজকে। যেটা পড়তে আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আসলে এখানে পুলিশের সন্দেহ অবশ্যই হওয়ার কথা। কারণ একটা মানুষের মৃত্যু যদি সাপে কেটে হয়, তাহলে তার মাথায় আঘাত আসবে কি করে? আর এখানে তো দেখছি দুর্গের সব কয়টা জায়গা একেবারে আটকানো ছিল। এখানে কিভাবে সাপ আসবে অথবা আসলো এটাই ভাবার বিষয়। আর এরকম শুনশান জায়গায় খুনের সময় কে দেখবে। যদি কেউ দেখতো তাহলে কিছুটা হলেও সহজ হতো বিষয়টা। কিন্তু এই বিষয়টা এখন আরও বেশি জটিল হয়ে গিয়েছে। তবে সবশেষে কি হয় এটা দেখারই অপেক্ষায় রয়েছি। এই ওয়েব সিরিজটা আরো বেশি রহস্যের মধ্যে জড়ো হচ্ছে। তৃতীয় পর্বে কি হয় এটাই ভাবছি আমি। দাদা আশা করছি আপনি খুব শীঘ্রই আমাদের মাঝে তৃতীয় পর্ব শেয়ার করবেন। সেই পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকলাম দাদা।
দাদা আপনার ওয়েব সিরিজের রিভিউ পোস্ট আমি অনেক বেশি পছন্দ করি সব সময়। তাইতো প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি আপনার পোস্টগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ার। এই ওয়েব সিরিজের প্রথম পর্ব আমার পড়া হয়েছিল যার কারণে দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষায় ছিলাম। আর এই দ্বিতীয় পর্বের নাম ছিল দেখছি অর্থই অনর্থ। ওই লোকটাকে আমার মনে হয় সাপ না বরং ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষ মেরে ফেলেছে। এরকম একটা আটকানো জায়গায় সাপ কিভাবেই বা আসবে। এই বিষয়টা কিন্তু আসলেই রহস্যজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। আর এই রহস্যের বেড়াজাল ভাঙবে, নাকি আরও বেশি রহস্যের মধ্যে দিয়ে যাবে এটাই মাথায় আসছে না। লোকটাকে কে মেরেছে এবং কিভাবে লোকটা মারা গিয়েছে, এইসব রহস্য আশা করছি পরবর্তী পর্বগুলোতে স্পষ্ট হবে। ধন্যবাদ দাদা এত সুন্দর একটা ওয়েব সিরিজের রিভিউ আমাদের মাঝে ভাগ করে। আশা করছি আপনি খুব শীঘ্রই পরবর্তী পর্ব নিয়ে আমাদের মাঝে হাজির হবেন।
সৃজিত মুখার্জীপরিচালিত ওয়েব সিরিজ দুর্গ রহস্যের ২য় পর্বের রিভিউ পড়ে মনে হলো, সামনে আরো টান টান উত্তেজনা অপেক্ষা করছে। সৃজিত মুখার্জী একজন গুনী নির্মাতা, তিনি অবশ্যি দুর্গ রহস্য সিরিজ টানটান রহস্যে ঘিরে রাখবেন। আপনার বর্ণ্না মতে ২য় পর্ব থেকেই রহস্যের খেলা শুরু হয়ে গেছে। সময় সুযোগ করে হইচই প্লাটফর্মে দেখার ইচ্ছা রইলো। দুর্গ রহস্য ওয়েব সিরিজের ২য় পর্বের রিভিউ আমাদের সাথে শেয়ার করে দেখার আগ্রহ জন্মানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। শুভ কামনা আপনার জন্য।
দুর্গ রহস্য ওয়েব সিরিজটি পড়ে খুবি ভালো লেগেছে দাদা।দাদা আপনার ওয়েব সিরিজ গুলো আমি যত পড়েছি ততই ভালো লেগে, কারণ আপনি এত সুন্দর ভাবে রিভিউ করেন যার মাধ্যমে এই সিরিজ গুলো পড়লেই যেন দেখা হয়ে যায়। তাই আজকে এই ওয়েব সিরিজটি দেখে যেন পড়তে ইচ্ছা করলো। পড়ে খুবই ভালো লাগলো। তবে এই ওয়েব সিরিজটি অনেক রহস্য নিয়ে ঘেরা। কারণে এরকম একটা বন্দি করে কিভাবে সাপ এসে তাকে মেরে ফেলল। আর এটা হয়তো অন্য কেউ মেরেছে, এই রহস্যই যেন উদঘাটন করতে হবে। আর এই রহস্য জানার আগ্রহ বেড়ে গেছে আমার।তাই সেই অপেক্ষায় রইলাম। আসলে এটাই রহস্য আমরা আশা করছি আগামী পর্বের মাধ্যমে পাব। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা এই রহস্য ঘেরা একটি ওয়েব সিরিজ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
দাদা একটা কথা আছে হোঁচট খেতে খেতে মানুষের শিক্ষা হয়। এখানে পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে যে আদিবাসী আর বেদে গোষ্ঠী এসে তাবু পাতলো আর তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করার জন্য মহাজন তার কর্মচারী লোক পাঠিয়ে তাদের সেইসব আসবাবপত্র, তাবু সব ভেঙে ফেলে। এরপরে আবার বিহারের একটি জঙ্গলেও কিছু লোকজনের বাড়ি ওইরকম ভেঙে উচ্ছেদ করে দেয়। তাহলে আদি বাসিরা কি বসে থাকবে। তারা তো রক্তে মাংসে গড়া মানুষ। তাদের রাগ অভিমান আছে। সেখানে থেকেই তারা বিদ্রোহ করার জন্য দল গঠন করতে লাগে। তারা একে একে বেশ কিছুজন লোকজন নিয়ে একটা বাহিনী মতো গঠন করে এবং বন্দুক চালানোর ট্রেইনিং দিয়েও নেয়। এই দুর্গে যে খুনটা হয়েছিল সেটা ছিল মহাজনের লোক যে সবসময় জঙ্গলের কিনারায় বসবাস করা মানুষদের উপর অত্যাচার চালাতো। এর খুনটা যেটা দেখালো সেটা সাপে কাটার ফলে, কারণ তার পায়ে যে দাগ পাওয়া গিয়েছে সেটা সাপে কাটার দাগ। কিন্তু এইটা মূলত সত্য ঘটনা না যেটা ব্যোমকেশ আর বিহারের পুলিশের সন্দেহ। কারণ তার যদি সাপে কেটেই মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে তার মাথায় আঘাত আসলো কি করে। এখানে সব থেকে বড় সন্দেহ। আর সব থেকে মূল বিষয় হলো, দুর্গের সব জায়গায় আটকানো, তাহলে সাপটা আসলো কিভাবে। আর এটা কেউ ইচ্ছাকৃত ঘটিয়েছে সেটাও সন্দেহের তালিকায় আছে। কারণ আদিবাসিরা বিদ্রহ করেছে সেটা মহাজনের লোক এসে মহাজনকে বলেছে। আর যে পাপ করেছে সে তো জানা থাকার কথাই। পাপের গড়া যখন পূর্ণ হয়ে যায় তখন মৃত্যু আসবেই। এখন দেখা যাক পুলিশ কিভাবে রহস্য ভেদ করে। ধন্যবাদ।
'দুর্গ রহস্য' ওয়েব সিরিজটির দ্বিতীয় পর্ব রিভিউ পড়ে অনেক ভালো লাগলো দাদা। গত পর্বে আমরা জেনেছিলাম কিছু আদিবাসী আর বেদে গোষ্ঠী পাহাড়ে বসবাস শুরু করেছিল। আর মহাজনের একজন প্রধানের খুন হয়েছে। আর খুনের বিভিন্ন রহস্য এখানে লুকিয়ে আছে। সবাই ভাবছে তাকে সাপে কেটেছে। আর তার পায়ে সাপের কামড় ছিল। কিন্তু অন্যদিকে তার শরীরে আঘাত ছিল। আসলে তখন থেকেই রহস্যের উন্মোচন হয়। আর সাপে কামড় দেওয়ার ব্যাপারটা এখানে শুধু লোক দেখানো মনে হয়েছিল। এর পিছনে অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে বোঝাই যাচ্ছে। ব্যোমকেশ আর বিহারের পুলিশের সন্দেহ হয়েছিল। তাইতো তারা আরও নতুনভাবে অনুসন্ধান চালাতে চেয়েছিল। তবে দেখা যাক পরবর্তীতে কি হয়। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম দাদা। আপনি দারুন ভাবে এই পর্বের রিভিউ আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি দাদা।