ভালোবাসার শুরুটা কলেজ লাইফ থেকে।। পার্ট-৬
প্রিয় আমার বাংলা কমিউনিটির ভাইবোন বন্ধুরা,
গতপর্বের শেষের কিছু অংশ
কক্সবাজারে অনেক মজা করলাম সমুদ্রের সাঁতার কাটলাম সবগুলোর ছবি তুলে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম যে বাড়ি পৌঁছে শোভাকে সব ছবিগুলো দেখাবো আর কক্সবাজারের ঘোরার গল্পগুলো বলব। যাই হোক বাড়ি পৌঁছে সোজা চলে গেলাম শোভার খোঁজ নিতে। কারণ গত তিনদিন ধরে ওর সাথে আমার কথা হয়নি। তাই অনেক এক্সাইটেড ছিলাম আর ভাবছিলাম আজকে শোভার সাথে অনেক গল্প করবো। তাই আমি সবার বাড়ির নিচে গিয়ে একটু আওয়াজ করলাম। যেন ও আমার আওয়াজ শুনতে পেয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। অন্যদিন এভাবে আওয়াজ করলে বাইরে বেরিয়ে আসতো কিন্তু সেদিন আর আসলো না। আশেপাশের লোকজনদের কাছ থেকে জানতে পারলাম শোভারা নাকি এখান থেকে চলে গেছে।
পার্ট-৬
কথাটা শোনার পর আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। ভাবলাম যে এভাবেই হুট করে কেউ কিভাবে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। আর ওদের যে এখান থেকে চলে যেতে হবে এই ব্যাপারে তো শোভা আমাকে কোনদিন কিছু বলেনি। যাইহোক তারপর নিজেকে সামলাতে না পেরে সোজা বাসায় গিয়ে দরজা লক করে কাঁদতে থাকলাম। যেহেতু মা-বাবা এই বিষয় জানতো না তাই ওনাদের সামনে কাঁদতেও পাচ্ছি না,আর কিছু বলতেও পারছি না। কারণ আমি তো এখনো অনেক ছোট। তাই দরজা লক করে আড়ালে আড়ালে সারাদিন কাঁদতে থাকলাম। দুপুরে খাওয়ার জন্য মা ডাকছিল কিন্তু আমি কোনরকম নিজেকে সামলে মাকে বললাম আমার ক্ষুধা নেই পরে খাবো। যাইহোক এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে রাত হয়ে গেল। একসময় বাবার আওয়াজ শুনলাম বুঝতে পারলাম হয়তো সবে মাত্র বাবা অফিস থেকে বাসায় ফিরল। কিছুক্ষণ পরে দেখি বাবা আমাকে খেতে ডাকছে। আর বলছে তুই বাড়ি না থাকার কারণে তিন দিন আমরা একসাথে বসে খাবার খেতে পারিনি। তাড়াতাড়ি চলে আয় একসাথে বসে খাবার খাব।
আমি বাবার কথা শুনে কোনরকমে নিজেকে সামলিয়ে বাইরে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসলাম। তখন দেখি বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করছে তোর মা দুপুরে আমাকে ফোন দিয়ে বলল,তুই নাকি দুপুরে খাবার খাস নি। আর সারাদিন দরজা লক করে বসে আছিস কিছু হয়েছে নাকি তোর? আমি বললাম না বাবা তেমন কিছু হয় নাই। এই বলে খেতে শুরু করে দিলাম। খেতে খেতে হঠাৎ করে একসময় আবার কান্না করে দিলাম। তখন বাবা বলছে কি হয়েছে তোর কিছু তো একটা বল? আমি তখন খুব ভয় পাচ্ছিলাম তাই কিছু বলতে পারিনি। তাই তখন আমি বাবাকে বললাম আমার প্রিয় ঘড়িটা হারিয়ে গিয়েছে। অনেকদিন চাওয়ার পর আমার জন্মদিনে যেই ঘড়িটা তুমি আমাকে গিফট করেছিলে। তার জন্য কাঁদছি বাবা। তখন বাবা আমাকে বলল আরে এর জন্য কাঁদতে হয় নাকি,আমি পরে তোকে ওরকম দেখতে একটা ঘড়ি কিনে দিবো। তখন আমি বললাম ঠিক আছে। আসলে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে সত্যি সত্যি আমার ঘড়িটা হারিয়ে গিয়েছিল। তার জন্য বাবার কাছে ঘড়ির কথাটাই বলেছিলাম। যাই হোক খাওয়া দাওয়া করে তারপর ঘুমাতে গেলাম।
কিন্তু ঘুম তো আসছে না সারারাত শুধু শোভার কথা মনে পড়ছে আর নিজেকে সামলে রাখতে না পেরে কেঁদেই যাচ্ছি। এভাবে কান্না করতে করতে কোন রকমে সেদিন পার করলাম। এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে তিন দিন কেটে গেল। এদিন ভাবলাম একটু বাইরে যাব। বন্ধুদের সাথে ঘুরবো খেলা খেলবো যাতে একটু হলেও শান্তি পেতে পারি। আসলে শোভার কথা শুধু সবুজ জানতো আর কলেজের বন্ধুরা জানতো। যে বন্ধুদের সাথে খেলতে যাচ্ছি তারা শোভার কথা জানতো না। তাই আর কি ওদের সাথে খেলতে গিয়েছিলাম যাতে শোভাকে একটু হলেও ভুলে থাকতে পারি। বন্ধুদের সাথে যতক্ষণ ছিলাম ততক্ষণ একটু শান্তি পেয়েছিলাম। তবে যখনই বাড়ির দিকে রওনা দিলাম আবার মনটা খারাপ হয়ে গেল। শোভার কথা মনে পরে গেল। বাড়ি গিয়ে আবার কাঁদতে শুরু করে দিলাম। আসলে এই কদিন যখনই একা হচ্ছি তখনই শোভার কথা মনে পড়ছে আর কান্না চলে আসছে। এভাবে চলতে চলতে প্রায় ২০-২৫ দিন হয়ে গেল। কিন্তু শোভার স্মৃতি কোনো মতে ভুলতে পারছি না। আমায় নিজেকে সামলাতে রাখতে না পেরে ভাবলাম সুইসাইড করব।
সুইসাইড করতেই যাব সেই সময় বাবা মায়ের কথা মনে পড়ে গেল। তখন ভাবলাম শুধু শুধু বাবা মাকে কেন কষ্ট দিব। আরো ভাবলাম শোভা তো এখনো বেঁচে আছে,আমি কেন শুধু শুধু সুইসাইড করবো। তাই সুইসাইড এর চিন্তা বাদ দিয়ে ভাবলাম মা-বাবার জন্য কিছু একটা করবো। আর ভাগ্যে যদি থাকে শোভার সাথে নিশ্চয়ই একদিন দেখা হবে। এই ডিসিশন নিয়েই আমি পরের দিন আবার কলেজ যেতে শুরু করে দিলাম। আসলে কিছুদিন আগে ছুটি শেষ হয়ে গিয়েছে। এবং সেকেন্ড ইয়ার ক্লাস ও শুরু হয়ে গেছিল কিন্তু মন থেকে ভেঙে পড়েছিলাম তার জন্য আর কলেজেও যাওয়া হয়নি। অনেকদিন পরে কলেজ গেলাম কিন্তু এখন আমার আর আগের মতো চঞ্চল ভাবে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগেনা। সবার সাথে কথা বলার পরিমাণটা অনেক কমিয়ে দিলাম। এবং শুধু পড়াশোনা করতে চাইলাম। তারপর থেকেই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা শুরু করে দিলাম। যেহেতু ভালোভাবে পড়াশোনা করা শুরু করেছিলাম। তার জন্য এবার এইচএসসিতে অনেক ভালো একটা রেজাল্ট করতে পেরেছিলাম। যাই হোক এভাবেই শোভাকে না দেখে কেটে গেল পাঁচ বছর....
চলবে,,,
প্রথম পর্বের লিংক
দ্বিতীয় পর্বের লিংক
তৃতীয় পর্বের লিংক
চতুর্থ পর্বের লিংক
পঞ্চম পর্বের লিংক
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.