ভালোবাসার শুরুটা কলেজ লাইফ থেকে ।। গল্প পার্ট-৫
প্রিয় আমার বাংলা কমিউনিটির ভাইবোন বন্ধুরা,
গতপর্বের শেষের কিছু অংশ
একদিন আমি ফাতেমাকে বললাম তুই একবার শোভাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করনা যে ও কি আমাকে ভালোবাসে? ফাতেমা বলল ঠিক আছে বলতে পারি কিন্তু ট্রিট দিতে হবে। আমি রাজি হয়ে গেলাম। ফাতেমা তখন শোভার কাছে গিয়ে কথা বলতে বলতে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে শোভাকে জিজ্ঞাসা করল আচ্ছা শোভা তুই সেদিন জিহাদকে খুঁজছিলি কেন? আর পরের দিন জিহাদের সাথে ওরকম ভাবেই বা কথা বললি কেন? উত্তরে শোভা লজ্জায় পেয়ে বলল তোরা তো সব বুঝিসই।এর উত্তরে ফাতিমা শোভাকে জিজ্ঞাসা করল তুইও কি তাহলে জিহাদকে লাভ করিস? উত্তরের শোভা বলল
পার্ট-৫
যে জানতে চাই আমি তাকে লাভ করি কিনা, সেটা তাকেই এসে বলতে বল না। ফাতেমা এগুলো আমার কাছে এসে বলল। আমি তখন কিছু না বলেই কলেজ শেষ করে বাড়ি চলে আসলাম। আর রাতে ভাবলাম এবারে প্রপোজটা করে ফেলবো। কিন্তু কবে করা যায়? পরের দিন কলেজ যাওয়ার পরে শুনলাম সামনেই কলেজে একটা অনুষ্ঠান আছে আমি মনে মনে ভেবে নিলাম যে ওই অনুষ্ঠানের দিনই আমি শোভাকে প্রপোজ করব। আমি সবুজকে এই কথা বললাম সবুজ বলল ঠিক আছে তাই হবে। দেখতে দেখতেই চলে আসলে অনুষ্ঠানের দিন। আমি একটা লাল গোলাপ নিয়ে শোভার সামনে হাজির হয়ে গেলাম। দেখছি শোভা অনেক সুন্দর ভাবে সেজে এসেছে দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে। আমি আর নিজেকে সামলাতে না পেরে প্রপোজ করে দিলাম। তখন দেখি শোভা আমাকে বলল এইটুকু বলার জন্য এতদিন অপেক্ষা করালে আমাকে? তখন আমি উত্তরে বললাম আসলে আমি ভয় পাচ্ছিলাম। কিন্তু তুমিও তো বলতে পারতে তাই না? তখন শোভা বলল আরে এগুলো তো ছেলেরা বলে? আমি উত্তরে বললাম কোথায় লেখা আছে ছেলেদেরকে আগে প্রপোজ করতে হবে।
তোমরাই তো দাবি করো লেডিস ফার্স্ট কিন্তু আগে প্রপোজ করার বেলায় আর তোমাদের পাওয়া যায় না? হাহাহা তখন শোভাবে বলল আরে এখন কি শুধু এগুলোই বলবে ছাড়ো না,এগুলো নিয়ে পরে আলোচনা করা যাবে। তখন দেখি ওর কাজিন এসে আমাদেরকে বলে আমি আঙ্কেলকে বলে দেবো,যে তোরা এসব করছিস। তারপর আমি আর শোভা মিলে ওকে অনেক বোঝালাম। বললাম আরে তুইও তো আমাদের ফ্রেন্ড তুই কি তোর বন্ধুদের কষ্ট দিতে পারবি। আরে একজন বন্ধুকে আরেকজন বন্ধুর জন্য অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করে তুই না হয় এটুকুই কর। এগুলো বলাতে দেখলাম ও বলল আরে আমি তো মজা করছিলাম। আমি তো আগে থেকেই জানতাম তোরা একজন আরেকজনকে পছন্দ করিস। যাই হোক সেদিন থেকে শুরু হয়ে আমাদের প্রেম চলতে থাকলো। যেহেতু ওর কাছে কোনো ফোন নাই তাই যখন ওর সাথে দেখা হয় তখনই শুধু ওর সাথে কথা বলতে পারি। আমি একদিন শোভাকে বললাম তোমার কাজিনের ফোন দিয়ে মাঝে মাঝে আমার সাথে কথা বলতেও তো পারো। উত্তরে শোভা বলল আরে ওঁর বাবা নেই। কিন্তু ওর মা ওকে পড়াতে চাই কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে পড়াশোনার খরচ দিতে পারেনা।
তাই ও এসএসসি পাস করার পর বাবা ওকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসেছে। ওর পড়াশোনার খরচই কে দেয় আবার ফোন। ওর মায়ের সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হলে বাবার ফোন দিয়ে মাঝে মাঝে কথা বলে। আমি বললাম ও আচ্ছা এই বেপার।যাই হোক একদিন ওর সাথে গল্প করতে করতে জানতে পারলাম ওর বাবা এবং আমার বাবা একই অফিসে জব করে। যতদিন যাচ্ছে আমাদের একজন আরেকজনের প্রতি তত ভালোবাসা বেড়ে যাচ্ছে। আমি প্রতিষ্ঠিত হয়ে শোভাকে বিয়ে করতে চায়। শোভাও এটাই চাই। এভাবেই চলতে চলতে একদিন শুনলাম আর কয়েকদিন পর আমাদের এয়ার ফাইনাল পরীক্ষা। যেহেতু সামনে মাসে পরীক্ষা তাই পড়াশোনার দিকে একটু মনোযোগ দিলাম। শোভা কেও বললাম পড়াশোনার দিকে একটু মনোযোগ দিতে। কারণ সারা বছর তেমন একটা পড়াশোনা করা হয়নি। যাই হোক দেখতে দেখতে কিছুদিনের মধ্যে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। আবার দেখতে দেখতে পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল। পরীক্ষা শেষ যেহেতু কলেজ কয়েকদিনের জন্য ছুটি থাকবে, তাই বন্ধুরা মিলে একদিন প্লান করলাম কোথাও ঘুরতে যাব। সবাই বলল দূরে কোথাও একটা যাব।যেই কথা সেই কাজ।
সবাই মিলে ঠিক করে ফেললাম কক্সবাজার যাবো। আর সবাই মিলে প্ল্যান করলাম কক্সবাজারে তিন দিন থাকবো। যাইহোক কয়েকদিনের মধ্যে সবাই প্রস্তুতি নিয়ে ফেললাম কক্সবাজার যাওয়ার জন্য। আর সবাই প্লান করলাম সকাল সকাল বেরিয়ে পড়বো কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। যেহেতু সকাল সকাল বেরিয়ে পড়বো তাই আগের দিন বিকালে শোভার সাথে ভালোমতো কথা বলে নিলাম। যাইহোক তার পরের দিন সকালে বেরিয়ে পড়লাম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। দেখতে দেখতে তিন দিন হয়ে গেল আজকে বাড়ি ফেরার পালা। কক্সবাজারে অনেক মজা করলাম সমুদ্রের সাঁতার কাটলাম সবগুলোর ছবি তুলে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম যে বাড়ি পৌঁছে শোভাকে সব ছবিগুলো দেখাবো আর কক্সবাজারের ঘোরার গল্পগুলো বলব। যাই হোক বাড়ি পৌঁছে সোজা চলে গেলাম শোভার খোঁজ নিতে। কারণ গত তিনদিন ধরে ওর সাথে আমার কথা হয়নি। তাই অনেক এক্সাইটেড ছিলাম আর ভাবছিলাম আজকে শোভার সাথে অনেক গল্প করবো। তাই আমি সবার বাড়ির নিচে গিয়ে একটু আওয়াজ করলাম। যেন ও আমার আওয়াজ শুনতে পেয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। অন্যদিন এভাবে আওয়াজ করলে বাইরে বেরিয়ে আসতো কিন্তু সেদিন আর আসলো না। আশেপাশের লোকজনদের কাছ থেকে জানতে পারলাম শোভারা নাকি এখান থেকে চলে গেছে....
চলবে,,,
প্রথম পর্বের লিংক
দ্বিতীয় পর্বের লিংক
তৃতীয় পর্বের লিংক
চতুর্থ পর্বের লিংক
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
ভালোবাসার শুরুটা কলেজ লাইফ থেকে এই গল্পটি আমি যত পড়ছি ততই ভালো লাগছে কিন্তু। কিন্তু শেষের দিকে এসে একটু খারাপ লাগলো আমার কাছে। যাই হোক আমি কিন্তু এবার একটু বেশি এক্সাইটেড পরবর্তী পর্বের জন্য। আসলে গল্প পড়তে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে তাই তো আপনার গল্পটি পড়ার সময় আমি একেবারে গল্পের মাঝেই ঢুকে গিয়েছিলাম। যাইহোক আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি পরের পর্ব শেয়ার করবেন ধন্যবাদ।
মন্তব্যটি পড়ে ভালো লাগলো। ইতিমধ্যেই গল্পটির ষষ্ঠ পার্ট আপলোড করেছি চাইলে দেখে আসতে পারেন।
এই গল্পটি আমি সেই শুরু থেকে পড়ে আসছি আমার কাছে কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে গল্পটি। কিন্তু শেষের দিকে এসে দেখছি অন্য কিছু। এখন তো দেখছি শোভার পরিবার এখানে আর থাকে না। এইজন্য পরবর্তী পর্ব দেখার জন্য একটু বেশি আগ্রহ হচ্ছে।এর পরবর্তী পর্বে কি হবে তা দেখার জন্য অনেক অস্থির ভাবে বসে আছি। এরকম গল্প গুলোর মাধ্যমে কিন্তু আমরা অনেক বিষয়ের ধারণাও নিতে পারি। যাইহোক ভালো লাগলো কিন্তু। পরের পর্ব দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।
ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্যটি করার জন্য। ইতিমধ্যে গল্পটির ষষ্ঠ পার্ট আপলোড করেছি চাইলে দেখে আসতে পারেন।