মেটে আলু দিয়ে নাইলোটিকা মাছের সুস্বাদু রেসিপি
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে একটি রেসিপি শেয়ার করে নেবো। গতকাল মেটে আলু দিয়ে নাইলোটিকা মাছের রেসিপিটি তৈরি করেছিলাম। মেটে আলুগুলো খেতে অনেক ভালো লাগে, বিশেষ করে বাড়ির লাগানো আলু যদি হয়। মেটে আলুকে আবার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ভাবে ডেকে থাকে, যেমন মাচা আলু বা পেস্তা আলু ইত্যাদি। তবে মেটে আলু নামটা আমার কাছে অনেক ভালো লাগে।যাইহোক,এই আলুটা আমার মামার বাড়ির থেকে নিয়ে আসা, মামাদের বাড়িতে এই আলুগাছ ভর্তি। কিছুদিন আগে মামা এই আলু তুলছিলো আর হয়েছিলও অনেক বড়ো তাই কিছুটা আমি নিয়ে এসেছিলাম। এই আলুগুলো মাটির নিচে অনেক বড়ো হয়,এক একটা কিলো ২-৩ ছাড়িয়ে যায়। এই আলুগুলো খেতে অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে। আর তাছাড়া এই আলু গাছগুলোতে যেমন মাটির নিচে হয়ে থাকে তেমনি আবার গাছেও ছোট ছোট করে অসংখ্য আলু ধরে থাকে। এই গাছে ধরে থাকা আলুগুলোর ভিতর পারপেল কালার হয় অনেক ক্ষেত্রে আর একটু নালানালা থাকেই কাটার পরে, গরম জল দিয়ে রান্না করলে এই নালাটা আর থাকে না। তবে ছোট আলুগুলো ভাজা খেতে দারুন লাগে। আর মেটে আলুতে মোটামুটি একধরণের বিশেষ উপাদান থাকে নামটা মনে আসছে না, তবে এই উপাদানটা আমাদের স্মৃতিকে সতেজতার সাথে কার্যকরী রাখতে সাহায্য করে থাকে। এইরকম আরো নানাবিধ টুকিটাকি উপকারিতা আছে । যাইহোক, মেটে আলু দিয়ে নাইলোটিকা মাছের ঝোল ঝোল রেসিপিটা খেতে বেশ টেস্ট ছিল। এখন রেসিপিটার মূল পর্বের দিকে চলে যাবো।
☀প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:☀
❦এখন রেসিপিটি যেভাবে প্রস্তুত করলাম তার ধাপগুলো নিচের দিকে তুলে ধরবো---
✠প্রস্তুত প্রণালী:✠

➤মেটে আলুটিকে প্রথমে মাঝারি সাইজ এর কেটে নিয়ে তার থেকে খোসা ভালোভাবে ছালিয়ে নিয়েছিলাম এবং পরে পিসগুলো আরো ছোট করে ধুয়ে নিয়েছিলাম। এরপর রসুনের কোয়াগুলো থেকে খোসা ছালিয়ে নিয়েছিলাম এবং সেই সাথে লঙ্কাগুলো কেটে ধুয়ে রেখেছিলাম।
➤নাইলোটিকা মাছের পিসগুলোতে ২ চামচ করে লবন এবং হলুদ দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর পিসগুলোতে ভালোভাবে মিক্স করে নিয়েছিলাম।
➤একটি প্যানে তেল দিয়ে গরম করে নিয়েছিলাম এবং পরে মাছের পিসগুলো সাজিয়ে দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর ভালোভাবে ভাজা হয়ে গেলে তুলে রেখেছিলাম।
➤কড়াইতে তেল দিয়ে মেটে আলুর সব পিস দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর আলুগুলো ভালোভাবে ভাজা হয়ে আসলে তুলে নিয়েছিলাম।
➤মেটে আলু ভাজার পরে কড়াইতে পরিমাণমতো আরেকটু সরিষার তেল দিয়ে প্রথমে তাতে দুটি শুকনো লঙ্কা দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে পাঁচফোড়ন সহ তেজপাতা দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর রসুনের কোয়াগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম।
➤রসুন দেওয়ার পরে তাতে মেটে আলুর ভাজা পিসগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে কাঁচা লঙ্কাগুলো দেওয়ার পরে স্বাদ মতো লবন এবং হলুদ দিয়ে দিয়েছিলাম।
➤মশলাটা মিক্স করার পরে- আগে থেকে এক কেটলি গরম করে রাখা জল তাতে দিয়ে দিয়েছিলাম এবং সাথে আরো কিছু জল অ্যাড করে দিয়েছিলাম।
➤তরকারিটা ৪-৫ মিনিট এর মতো ফুল আঁচে ভালোভাবে ফুটিয়ে মেটে আলু সেদ্ধ করে নিয়েছিলাম। এরপর তরকারিতে ভেজে রাখা মাছের পিসগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম।
➤তরকারিতে মাছ দেওয়ার পরে এক সাইট থেকে কিছু সেদ্ধ মেটে আলুর পিস তুলে নিয়েছিলাম এবং ভালোভাবে চেপে গলিয়ে নিয়েছিলাম।
➤ফুটন্ত তরকারিতে পুনরায় গলিয়ে রাখা আলুটা দিয়ে দিয়েছিলাম এবং মিশিয়ে দেওয়ার পরে তাতে অল্প করে জিরা গুঁড়ো দিয়ে আরো কিছুক্ষন জ্বাল দিয়ে নিয়েছিলাম ঝোলটা গাঢ় হয়ে আসার জন্য।
➤তরকারিতে ঝোলটা বেশি রাখবো তাই ঝোল গাঢ় হয়ে আসলেই চুলা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিছুসময় বাদে তরকারিতে কিছুটা জিরা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়ে একটি পাত্রে পরিবেশনের জন্য তুলে নিয়েছিলাম।
রেসিপি বাই, @winkles
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |




মাটির নিচে আলু দিয়ে যেকোনো মাছ রান্না করে খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। আপনি লাইলনটিকা মাছ দিয়ে আলু দিয়ে রান্না করেছেন। আসলে লাইলনটিকা মাছটি খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে আমাদের পুকুরে প্রচুর পরিমাণে এই মাসের চাষ করে থাকি। আপনি খুব সুন্দর করে রান্না করেছেন আপনার রান্না দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছিল। রেসিপিটি চমৎকারভাবে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন ধন্যবাদ আপনাকে।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
দাদা আপনাদের ওখানে নাইলোটিকা মাছ আর আমাদের এখানে তেলাপিয়া মাছ বলে। তবে নাম যাইহোক মাছ গুলো কিন্তু অনেক মজার। আর এই মেটে আলু গুলো কিন্তু অনেক মজার। আপনি আলু গুলো গলিয়ে দিয়েছেন। আসলে আলু গুলো এভাবে গলিয়ে দিলে তরকারিটা অনেক ঘন হয়। ধন্যবাদ দাদা সুস্বাদু একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
মাটির নিচে আলু দিয়ে এভাবে মাছের রেসিপি তৈরি করে খেতে অনেক মজা লাগে দাদা। আমিও কিছুদিন আগে মাছ দিয়ে এই আলুর রেসিপি তৈরি করেছিলাম। আপনার রেসিপি দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুন্দরভাবে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা। আপনার জন্য শুভকামনা রইল
মেটে আলু দিয়ে নাইলোটিকা মাছের এরকম একটা সুস্বাদু রেসিপি দেখে আমার তো জিভে জল চলে এসেছে দাদা। আপনি তো দেখছি আজকেও বেশ লোভনীয় একটা রেসিপি তৈরি করেছেন। মেটে আলু গাছ আমাদের বাড়িতেও রয়েছে। আসলে মেটে আলু বিভিন্নভাবে রান্না করলে খেতে ভীষণ ভালো লাগে। আপনি যে পদ্ধতিতে এই রেসিপিটা তৈরি করেছেন ঠিক একই পদ্ধতিতে আমিও একবার রেসিপিটা তৈরি করেছিলাম। আসলেই অনেক সুস্বাদু হয়েছিল তাই বুঝতে পারছি আপনার রেসিপিটাও খেতে ভীষণ ভালো লেগেছিল। আপনি পরিবেশন টা খুবই সুন্দর ভাবে করেছেন যা দেখে ইচ্ছে করছে নিয়ে খেয়ে নিতে। সাজিয়ে গুছিয়ে সম্পূর্ণ উপস্থাপনাটা খুবই সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন আপনি। যদিও এখনো পর্যন্ত আমাদের বাড়ির মেটে আলু গুলো মাটি থেকে উঠানো হয়নি তাই এইবছর এখনো খাওয়া হচ্ছে না। ভাবছি যখন মাটি থেকে উঠানো হবে তখন এই পদ্ধতিতে আবারো রেসিপিটা তৈরি করব। খুবই ভালো ছিল আপনার সুস্বাদু রেসিপিটা।
সত্যি কথা বলতে দাদা আমাদের বাড়িতেও আমার আম্মু অনেকগুলো মেটে আলু গাছ রোপন করেছে। আর আরো কয়েক মাস আগে সেই মেটে আলু মাটি থেকে উঠেছিল সত্যি বলতে এক একটা আলু দুই থেকে তিন কেজির মতো হয়েছিল। আমার আম্মু বিভিন্নভাবে সেই মেটে আলু রান্না করেছিল যা খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছিল। আর আপনার আজকের এই রেসিপিটা দেখে তো আমার আম্মুর রান্না করা রেসিপিগুলোর কথা মনে পড়ে গেল। আপনার রেসিপিটাও দেখে বুঝতে পারছি খুবই সুস্বাদু হয়েছে এবং খুবই মজা করে খেয়েছেন। নাইলোটিকা মাছ দিয়ে এই মেটে আলু রান্না করে খেয়েছিলেন। আপনার মামাদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা এই মেটে আলু। ওনাদের বাড়িতে অনেক মেটে আলু গাছ রয়েছে তাহলে। যাইহোক সব মিলিয়ে বেশ মজাদার রেসিপি শেয়ার করেছেন দেখে ভালো লেগেছে।
মেটে আলু দিয়ে নাইলোটিকা মাছের রেসিপিটা দারুণ হয়েছে দাদা। মেটে আলু খেতে খুব সুস্বাদু লাগে। যদিও অনেক দিন আগে খেয়েছিলাম। আর নাইলোটিকা মাছ খেতেও বেশ মজা। মেটে আলু এবং নাইলোটিকা মাছের কম্বিনেশনটা এককথায় দুর্দান্ত হয়েছে দাদা। রেসিপির কালার দেখেই বুঝা যাচ্ছে খেতে খুব ইয়াম্মি লেগেছে। রেসিপিটা দেখে খুব ভালো লাগলো দাদা। শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
দাদা, মেটে আলুকে আমাদের এদিকে মাচা আলু বলে। তবে আপনার মত আমার কাছেও মেটে আলু নামটি বেশি ভালো লাগে। আর এই মেটে আলু আমার বাসাতেও অনেকগুলো হয়েছে। এইতো সেদিন যে আলুটি তুলেছিলাম তা প্রায় সাড়ে ছয় কিলোর মতো হয়েছিল। দাদা আজ আপনি মেটে আলু দিয়ে নাইলোটিকা মাছের সুস্বাদু রেসিপি তৈরি করেছেন। আর এই রেসিপি দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে দুর্দান্ত স্বাদ হয়েছে। বিশেষ করে কিছুটা মেটে আলু চেপে গলিয়ে রেসিপিতে দেয়ার কারণে, ঝোলটা একটু গার হয়েছে, তাই খেতেও একটু বেশি স্বাদ পাওয়া যাবে। অনেক অনেক ধন্যবাদ দাদা, প্রতিনিয়ত মজার মজার রেসিপি গুলো আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।
মেটে আলু আমাদের গ্রাম্য ভাষায় মাছ আলু নামে পরিচিত। আসলে মাছ দিয়ে এই আলুগুলো খেতে বেশি ভালো লাগে। তাই গ্রামের মানুষ এগুলোকে মাছ আলু বলে। তবে মাংস দিয়ে এই আলু খেতেও কিন্তু অনেক ভালো লাগে। আলু কেটে টুকরো টুকরো করে একটু ভাপিয়ে নিয়ে খাসির মাংস দিয়ে সুন্দর করে হালকা ঝোল ও ভুনা করলে খেতে বেশি মজার হয়। এই আলু মাটির নিচে অনেক বড় হয়। তবে মাটির নিচ থেকে এই আলু তোলা বেশ কষ্টের। অনেক সময় নিয়ে এই কাজ করতে হয়। যদিও নিজে কখনো করিনি তবে দেখেছি। নাইলোটিকা মাছ দিয়ে মেটে আলুর দারুন একটি রেসিপি তৈরি করেছেন দাদা। মনে হচ্ছে খেতে দারুন হয়েছিল। অনেক লোভনীয় একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনাকে।
মাছের রেসিপিটি বেশ লোভনীয় হয়েছে দেখছি।মেটে আলু নামটি সত্যি আমার কাছেও ভালো লাগে।কিন্তু কখনও খাওয়া হয়নি আমার।আপনি তো দাদা নাইলোটিকা মাছ দিয়ে আলু ভেজে নিয়ে খুব মজা করে রান্না করলেন। খেতে বেশ মজার হয়েছে। রেসিপির কালার খুবই চমৎকার আর খেতেও বেশ সুস্বাদু বেশ বুঝতে পারছি। আপনি রান্নার ধাপগুলো খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। আপনার উপস্থাপনা ও খুব সুন্দর ছিল।ধন্যবাদ দাদা মজার এই মাছের রেসিপিটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইলো আপনার জন্য।