আবোল-তাবোল জীবনের গল্প [ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ]
হ্যালো বন্ধুরা,
আশা করছি সবাই ভালো আছেন, হয়তো কেউ কেউ আমার মতো একটু ভিন্ন রকম পেরেশানিতে আছেন। আসলে জীবনটাই একটা পেরেশানির অধ্যায়, প্রতিটি পাতাই নানা রং এর পেরেশানিতে ভরা, কখন যে কোনটা সামনে আসে সেটা কেউ বলতে পারে না। আর এই না বলতে পারার কারনেই আমাদের পেরেশানিটা আরো বেড়ে যায়। দেখুন সম্মুখ শত্রুর সাথে লড়াই করাটা খুবই সহজ এবং সেখানে বিজয়ী হওয়ার দারুণ সম্ভাবনাও থাকে কিন্তু লুকানো শত্রু? আপনি যতই শক্তিশালি হোন না কেন হিডেন শত্রুর সাথে লড়াই করে বিজয়ী হতে পারবেন না, আপনার সক্ষমতা থাকলেও আপনার মনের ভয় সেখানে হারিয়ে দিবো। কারন আপনি শত্রুকে চিনেন না, তার সক্ষমতার কথাও জানেন না, সে কখন আঘাত করবে সেটাও জানেন না।
এই কারনেই বলা হয় যতই শক্তিশালী হোক না কেন সম্মুখ শত্রুর সাথে লড়াই করাটা সহজ, সেখানে সহজেই হিসেব নিকেষ করা যায়। জয় পরাজয়ের বাস্তবতা স্বীকার করা যায়। কিন্তু হিডেন শত্রুর ক্ষেত্রে সেটা অসম্ভব হয়ে উঠে। যেটা বলছিলাম জীবনের প্রতিটি পাতাই নানা ধরনের পেরেশানিতে ভরা থাকে, একেক বার একেক রং এর পাতা আমাদের সম্মুখে আসে এবং ভিন্ন ধরনের পেরেশানির স্বাদ দেয়। গতকাল রাতে সেই রকম একটা পেরেশানির কবলে পড়েছিলাম আমরা বাংলাদেশের কয়েকটি বিভাগীয় অঞ্চলের জনগন। অনেকেই সেটা একটু দেরীতে হলেও জানতে পেরেছিলেন মিডিয়ার কল্যানে, আবার অনেকেই বুঝতে পারেন নাই।
ব্লাকআউট এর বিষয়টি আমরা অনেকেই পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি বা পড়েছিলাম কিন্তু গতকাল সেটা বাস্তব উপলব্ধি করেছি। সত্যি হুট করে পরিস্থিতি কতটা পাল্টে যেতে পারে সেটা গতকাল আমরা দারুণভাবে বুঝতে পেরেছি। প্রায় দুই ঘন্টা পর আমরা জানতে পারি যে, আমরা ব্লাকআউটের স্বীকার হয়েছি জাতীয় গ্রীডের সমস্যার কারনে। তারপর আক্রান্ত হলাম বেশ কিছু গুজব সংবাদের, আগামী দুই দিন বিদ্যুৎ নাও আসতে পারে আবার কেউ কেউ আগ বাড়িয়ে বলছিলেন শুক্রবার ছাড়া বিদ্যুৎ আসার কোন সম্ভাবনা নেই কারন আগামীকাল সরকারী ছুটির দিন। এবার বুঝেন আমরা কতটা ব্লাকআউট এর স্বীকার হয়েছিলাম।
আমাদের একটা দোষ আছে আর সেটা হলো হুজুগে বাঙালি, সত্যি এটা কেউ বুঝে আবার কেউ বুঝে না কিন্তু হুজুগের বিষয়টির সঠিক ব্যবহার করতে কেউ পিছ পা হয় না। এখনতো মিডিয়ার যুগ, সব কিছু আরো বেশী সহজ হয়ে গিয়েছে। তাই মানুষও হুজুগে বাঙালির লেভেল পাওয়ার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষদের নানাভাবে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে। আমি অফিস হতে বাড়িতে আসার সময় প্রায় মানুষের মুখে শুনলাম নানা ধরনের অপ্রাসঙ্গিক কথা এবং তার সাথে বিদ্যুৎ বিভাগ নিয়ে অসংলগ্ন মন্তব্য, হ্যা মানুষ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে অনেক কিছুই বলতে পারে এবং প্রসঙ্গক্রমে অনেক প্রশ্নও উত্থাপন করতে পারে। কারন কথা বা প্রশ্ন উত্থাপন না করলে কাজের মাঝে কোন গ্যাপ আছে কিনা সেটা যাচাই করা সম্ভব হয় না।
কিন্তু তাই বলে এতো জঘন্যভাবে, যে পদ্ধতিতে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ এর সুবিধাভোগ করতে পারলাম, হোক তাতে কিছু লোডশেডিং এর সমস্যা কিন্তু সুবিধাতো ঠিকই আমরা পেয়েছি, আর অনাকাংখিত সমস্যাতো বলে আসে না, হুটা করেই চলে তাহলে আমরা কেন এতোটা বেপরোয়া হয়ে গেলাম? আমি জানি না এই প্রশ্নের উত্তর কে কিভাবে দিবে? তবে জাতীয় সমস্যার ক্ষেত্রে আমাদের সকলেরই কিছুটা হলেও ধৈয্য প্রদর্শন করা উচিত এবং উপরের মানুষদের উপর ভরসা রাখা উচিত। যদিও উপরের মানুষগুলোর ব্যাপারে আমরা সর্বদা সন্দিহান থাকি, তবুও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এবং দেশের স্বার্থে ভরসা করা ছাড়া আমাদের বিকল্প কোন উপায় নেই।
বিদ্যুৎ দেরীতে হলেও ফিরে এসেছে। তবে বাড়িতে আসার সময় একটা বিষয় খুব ভালো লেগেছিলো আমার কাছে আর সেটা ছিলো সাভারের গার্মেন্টস মানে গুটি কয়েক গার্মেন্সের কর্তাদের ব্যবহার, তারা নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে সাধারণ মানুষদের জন্য পানির ব্যবস্থা করেছিলেন। আমার বাড়ির সম্মুখে একটা টেক্সটাইল মিল আছে বেশ বড় আকারের সেটা। আসার সময় দেখলাম বাহিরে একটা পাইপ দিয়ে পানির ব্যবস্থা করেছেন, কারন অনেকের বাড়িতে খারাপ বা ব্যবহারের পানি মজুদ ছিলো না। জাতীয় সমস্যায় আমাদের সকলেরই উচিত যার যার অবস্থান হতে ধৈয্য ধারণ করা এবং সাধারণ মানুষদের পাশে দাড়ানো। আর তার সাথে সাথে সমস্যাকেও মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরী করা।
আর একটা কথা বিদ্যুৎ সমস্যার কারনে রাতে আমাদের এলাকার মোবাইল নেটওয়ার্কও ভেঙ্গে পড়েছিলো, ভেঙ্গে পড়েছিলো মানে নেটওয়ার্ক অকেজো হয়ে গিয়েছিলো, আমার দুইটা কোম্পানীর সীম ছিলো কিন্তু কোনটাই কাজ করতেছিলো না, শেষে দেখলাম একমাত্র সরকারী টেলিটক কাজ করছে। জাতীয় সমস্যা যখন তৈরী হয় তখন কিন্তু সমস্যাটা একটা জায়গায় আটকে থাকে না বরং সেটা খুব দ্রুত প্রসস্ত হয়ে যায়। তাই আমাদের উচিত সব কিছু মেনে নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে কিছুটা সময় দেয়ার যাতে তারা ঠিক মতো কাজ করার সুযোগ পায়। আর আমাদের চারপাশে যারা আছেন গুজব নিয়ে গবেষণা করেন তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা। সেবার সাথে অসুবিধাও থাকবে সেটা মেনে নিতে হবে, না হলে সেবার প্রতি আমাদের চাহিদা ঠিক থাকবে না। আবোল তাবোল জীবনের গল্পের আজকের জন্য এখানেই ইতি টানলাম।
Image Taken from Pixabay 1 and 2
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আসলেই ভাই আমাদের ধৈর্য শক্তি একেবারে কম, আর আমরা যা চাই তাৎক্ষনিকভাবেই চাই। সমস্যা হতে পারে সেটা অন্যের ক্ষেত্রে মানি কিন্তু নিজের ক্ষেত্রে মানি না, ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য।
Hello friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
চির বাস্তব কিছু কথা বলে গিয়েছেন। ভাইয়া আমি আমার জীবনের এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, আর এতটাই ভেঙ্গে পড়েছি যা আমি কখনো কল্পনা করিনি। আপনাদের সাথে কথা বলার পর কিছুটা হালকা হলেও আবারো সেই হেডেক শত্রুতা আক্রমণ করছে বারবার। আপনি ঠিকই বলেছেন আমরা যত শক্তিশালী এই হই না কেন এবং যতই মজবুত হই না কেন চোখের অশ্রুর এবং হেডেক, এদের পরাশক্তির কাছে মানুষের মন যতই শক্তিশালী হোক সেটা কিছুই না। যখন আক্রমণ করে তখন মানুষ তার অস্তিত্ব খুঁজে পায় না। আর আমরা হুজুরকে বাঙালি, অল্পতেই অস্থির হয়ে পড়ি। বিদ্যুৎ না থাকায় নানান ধরনের কথাবার্তা অবাঞ্ছিত কথাবার্তা অধৈর্য হওয়া ধৈর্য হারিয়ে ফেলা এগুলো না হয়ে যে যেখানে যেভাবে আছে যার যতটুকু সাধ্য আছে সবাইকে সহযোগিতা করাটাই যদি আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হয় তাহলে আমরা যেকোনো সমস্যার মোকাবেলা ও খুব সহজেই করতে পারি। আপনার এই পোস্ট থেকে নূন্যতম জ্ঞান হলেও অর্জন করতে পেরেছি। আপনার প্রতি রইল ভালোবাসা অবিরাম।
নিজের অবস্থান শুধু বড় করে দেখলেই হবে না, আমাদের পারপাশের মানুষগুলোর প্রতিও একটু তাকাতে হবে, তাহলেই হয়তো বুঝতে পারবো তাদের তুলনায় আমরা কতটা ভালো আছি। ধৈর্য্য সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে দেয়।
ভাইয়া আপনার লেখা প্রথম অংশ পড়েই বুঝতে পেরেছি কোন শক্তির কথা বলছেন। যে শক্তি দেখা যায় না যে শক্তির স্পর্শ করলেই জীবনের মরণ নামক বিষয়টির কথা স্মরণ করতে হবে। একদম পারফেক্ট কথা বলেছেন ভাই সম্মুখ শক্তির সাথে নিজেকে তুলনা করা যায় তার সাথে মোকাবেলা করা যাবে কিনা কিন্তু এমন এক শক্তি যার সাথে কখনো তুলনা করা যায় না পারবো কি পারবো না। যাইহোক, কখন কোন ধরনের বিপদ চলে আসে সেটা তো আমরা জানিনা। বাংলাদেশে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেই আমরা বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে দিই যেটা বিবেকের অপব্যবহার। সেজন্য আমাদের উচিত বিবেকের সঠিক ব্যবহার করা আপনার কথাগুলো পড়ে অনেক ভালো লাগলো ভাই।
একদমই, বিবেক যতক্ষন পর্যন্ত না আমাদের জাগ্রত হবে ততোক্ষন পর্যন্ত আমরা আমাদের হুজুকে বাঙালি অবস্থান হতে ফিরে আসতে পারবো না।
জী ভাইয়া গত কালকে গ্রীডের সমস্যার কারনে অনেক অনাকাংখিত ঘটনাও ঘটেছে। আপনার পোষ্ট থেকে জানতে পারলাম যে কিছু গার্মেন্স টেক্সটাইলের মালিকেরা পানি দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। এরকম একটি মহৎ কাজরে জন্য তাদেরকে অন্তর থেকে সালাম জানাই। ধন্যবাদ ভাইয়া।
হুম অনাকাংখিত ঘটনা ছিলো সত্য কিন্তু ফেসবুকের কল্যানে সেটা শুধু অনাকাংখিত ঘটনাই ছিলো না বরং আরো বহু ঘটনার জন্মদাতাও ছিলো, হি হি হি ।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
কথায় আছে আমরা হুজুকে বাঙালি। একটি সমস্যাকে বড় করে তুলতে আমাদের এক মিনিটও লাগেনা। আসলে সমস্যা হতেই পারে। তাই বলে যে সেটা নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়াতে হবে এমনটা নয়। আসলে এ ধরনের সমস্যাগুলো অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই চলে আসে। তাই সেই সময় ধৈর্যধারণ রাখা উচিত। কর্তৃপক্ষ অবশ্যই চেষ্টা করেছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সব সমস্যার মোকাবেলা করার। কিন্তু সত্য কথা বলতে আমার শহরে কালকে এই সমস্যা হয়নি। মাঝে মাঝে একটু লোডশেডিং হয়েছিল। তবে নেটওয়ার্কের অবস্থা সত্যি খারাপ ছিল।
একদমই আমরা হুজুকে বাঙালি বলে কথা, কান নিয়ে গেছে চিলে আর আমরা কানে হাত না দিয়েই চিলের পিছনে দৌ্ড়াই। আমার নেটওয়ার্কতো ছিলোই না সন্ধ্যার পর হতে।
এই গুজব আমিও শুনলাম,সত্যিই ভয় পেয়েছিলাম।তখন এই ব্ল্যাক আউট কারেন্টের চেয়ে মনেই বেশি হয়েছিলো!আসলে কিছু হতে দেরি,গুজব রটতে দেরি নেই।তাও শেষ এ এসেছিলো এটাই শান্তি।
আর এই রটানোর ক্ষেত্রে আমরা বাঙালিরা সর্বদা এক্সপার্ট, এটা বলতেই হবে।
Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.
একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া হুজুগে বাঙালি। একটা কথা কেউ শুনছে কি শুনে নি, কিন্তু সে কথাটাকে আরো দুই তিনগুণ বাড়িয়ে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তার মধ্যে আরও একটা বিষয় আমরা প্রতিটা সময় যে বিষয়টার সুবিধা ভোগ করছি সেটা যদি সমস্যার কারণে একটু বন্ধ হলেও আমাদের এরকম করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রতিটা ক্ষেত্রে একটু ধৈর্য ধারণ করা উচিত। আর একটা কথা বেশি ভালো লেগেছে। যেটা আপনাদের এলাকায় টেক্সটাইল মিল থেকে জেনারেটর দিয়ে সবাইকে পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আসলে একে অন্যের পাশে যদি না দাঁড়ায় তাহলে কিভাবে হবে।