মুভি রিভিউ: খুশি
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে একটি মুভি রিভিউ শেয়ার করে নেবো। এই মুভিটির নাম হলো "খুশি"। এটি সাধারণত অরিজিনালি তেলেগু একটি মুভি, নতুন রিলিজ পেয়েছে। তেলেগু এর মুভিগুলো বেশ ভালো লাগে দেখতে। তাহলে চলুন দেখা যাক এর কাহিনী কিভাবে কি হয়।
✠কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:✠
☀মূল কাহিনী:☀
বিপ্লব নামের একজন পুনেতে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনা করে এবং ভালো রেজাল্টও তার হয়। সে সেখানকার একটি কোম্পানিতে চাকরির দরখাস্ত করে এবং তার চাকরিও হয়ে যায়। তবে তার পোস্টিং পড়ে কাশ্মীর সীমান্তের কাছে। তবে সেখানে সে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতও হয়ে যায় কোনোরকম ভয় না পেয়ে। প্রথম যেদিন কাশ্মীর সীমান্তের পাশ দিয়ে যায়, সেখানকার সৌন্দর্য দেখে সে যেন প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যায়। তবে সেখানে জায়গাগুলো দেখতে যেমন সুন্দর ছিল, তেমন বিপদজনক জায়গাও ছিল, কারণ সেখানে প্রতিনিয়ত পাকিস্তানের সাথে গোলাগুলি চলতেই থাকে। তো যাইহোক, এরপর পীতবাস এর সাথে একটা সরকারি কোয়াটারে ওঠে, কিন্তু সেখানে থাকার পরিবেশও জঘন্য। তার থেকে আরো বেশি কঠিন বিষয় হলো, খাওয়াদাওয়ার। আগেরদিন হামলা হওয়ায় সেখানে সমস্ত দোকানপাট বন্ধ করে দেয়, ফলে খাওয়ার জন্য বিপ্লব কোনো উপায় না পেয়ে সেখানে কাশ্মীরি ভাষায় কয়েকজনের কাছে খাবার চাইলে সবাই আপেল দিতে থাকে। এতো আপেল দেখে সে সেখান থেকে পালায়, যে আমার আর খাওয়ার দরকার নেই হা হা।
এরপর বিপ্লব আর পীতবাস দুইজন নদীতে নৌকায় করে যাওয়ার সময় আরা নামের একটি মেয়েকে দেখে এবং তাকে এক দেখাতেই ভালো লেগে যায়। এরপর তার পিছু নেয়, কিন্তু সে প্রথমে মেয়েকটিকে মনে করে সে মুসলিম আর পাকিস্তান থেকে এসেছে, কিন্তু তার পরেও সে তাকে ভালোবেসে ফেলে। মেয়েটিও বুঝতে পারে যে সে তাকে পছন্দ করে, কিন্তু মেয়েটিও মিথ্যা কথা বলে যে, সে তার ভাইকে খুঁজতে এখানে এসেছে আর সে মুসলিম। মূলত তারাও মুম্বাই থেকে একটি প্রজেক্ট এর কাজে কাশ্মীর আসে, কিন্তু বিষয়টা গোপন রাখে সব জায়গায়। বিপ্লব এদিকে মেয়েটিকে পছন্দ করে ফেলে, ফলে সবসময় তার পিছনে পিছনে চলতে থাকে, একদিন তাদের কোয়ার্টারে থাকতে বলে, তাদের থাকার জায়গার সমস্যা আছে বলে। এদিকে এক কান্ড হয়েছে বিপ্লব তাকে পাকিস্তানী ভেবে মটন বিরিয়ানি নিয়ে আসে, কিন্তু সে আবার নিরামিষভোজী, কিন্তু এরাও পড়েছে এক বিপদে, সত্যিটা বলতেও পারছে না।
যাইহোক, এইভাবে বেশ কয়েকদিন কেটে যায় এবং একদিন তারা ভোরের ট্রেন ধরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিপ্লব এই খবর পেয়ে স্টেশন এ চলে যায় আর তারপর সব সত্যিটা মেয়েটাও বলে দেয় তাকে। এরপর তারা দুইজন দুইজনকে ভালোবেসে ফেলে আর বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এখানে তাদের সামনে আরো একটা বড়ো সমস্যা হলো, তাদের দুইজনের বাবার মধ্যে ঝামেলা লেগেই আছে অর্থাৎ একজন আরেকজনকে খুবই অপছন্দ করে। আর এই অপছন্দের কারণ হলো মেয়েটির বাবা ধর্মশাস্ত্র আর ঈশ্বর বিশ্বাসী আর ছেলেটির বাবা বিজ্ঞানের ভাষা ছাড়া বোঝে না। তাই এই দুইজন যখন তাদের কোনো বিষয় নিয়ে কোথাও আলোচনা করে তখন কারো কোথাই কেউ সহ্য করতে পারে না। তবে বিপ্লবের মা আর আরার ঠাকুরমা এই বিয়ের বিষয় নিয়ে তাদের মানায় এবং কথা বলে। কিন্তু আরার বাবা বিপ্লবের কুন্ডলি দেখে বলে যে তাদের মধ্যে বিয়ের পরে সমস্যা হবে, তাই যোজ্ঞ করার প্রয়োজন আছে।
কিন্তু এইসব সংস্কার বিপ্লবের বাবা মানতেই চায় না, তাই সেখান থেকে দুই পক্ষই রাগারাগি করে চলে যায়। তবে বিপ্লব আর আরা দুইজন বাড়ির অমতে বিয়ে করে দেখিয়ে দিতে চায় যে এইসব কুণ্ডলীতে কোনো সমস্যা নেই। তাদের বাড়ির থেকেও বাধা দেয় না কেউ, রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে তার অফিসের মালিক জয়া তাদের বিয়ে দেয়। এরপর তাদের সাথেই বাড়িতে তারা থাকতে লাগে। কিছুদিন বাদে তাদের প্রথম সন্তান জন্ম নেওয়ার আগেই মারা যায় আর তাদের মধ্যে ঝামেলারও সৃষ্টি হয়। তখনি তার বাবার কথাগুলো মনে পড়ে যে সে তো এইসব আগেই বলেছিলো। এরপর একসময় তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং আলাদাও হয়ে যায়। তবে বিপ্লব আবার আনতে তাদের বাড়িতে যায়, কিন্তু সে আর তার বাবা যদি যজ্ঞ না করে তাহলে তাদের মেয়েকে তার সাথে পাঠাবে না। এরপর বিপ্লব রাজি হলেও তার বাবা রাজি হতে চায় না। অবশেষে ছেলের কথা ভেবে তার বাবা যায় এবং যজ্ঞ করতে রাজি হয়।
☀ব্যক্তিগত মতামত:☀
এই মুভিটায় সব মিলিয়ে বেশ হাস্যরসাত্মক বিষয় আছে, দেখলে বেশ মজা লাগবে। তবে এই দুইজনের একসাথে থাকার বিষয়ে আরার জামাইবাবু বাধা দেয় সবসময় অর্থাৎ সবসময় উল্টোপাল্টা কথা বলে বলে অশান্তি তৈরি করতো। তবে তার বাবা একজন ধার্মিক আর শাস্ত্র বিষয়ে অনেক জ্ঞানী, তাই সে এইসব বিষয়ে কান না দিয়ে কোনটা ভালো হবে না হবে সেই বিষয়ে সবসময় বলে থাকে সবাইকে। এক্ষেত্রে কেউ কথা না শুনলে জোরও করে না, সে তার পরিবারের কেউ হোক আর বাইরের কেউ হোক। বিপ্লব আর তার বাবা মন্দিরে এসে যজ্ঞে বসলেও সেটি সম্পন্ন করতে পারে না, কারণ মাঝ পথে বৃষ্টি এসে যায়। যদিও পরে আর তাদের এইটা করতে বলেনি, সবাই সবার ভুল বুঝতে পেরে আবার একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। আর তাদের পরে একটা মেয়েও হয় যার নাম রাখে 'খুশি', মূলত এই মুভিটার নামের অর্থই এই মেয়েটির নাম রাখার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
☀ব্যক্তিগত রেটিং:☀
৮.৭/১০
☀ট্রেইলার লিঙ্ক:☀



Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
দাদা একদিকে নতুন নায়ক হিসাবে বিজয় দেবেরকোন্ডাকে আমার খুবই ভালো লাগে। আমি তার অনেক মুভি দেখেছি। আমি জানি সে বর্তমানে অনেক মুভি করছে। আর তার মুভি গুলো সবসময় রোমান্টিক হয়। আর সামান্থা রুথ প্রভু এর মুভি তো জাষ্ট আগুন। তার অভিনয় আমার কাছে এত ভালো লাগে বলে বুঝানো যাবে না। সে যেমন মানুষকে হাঁসাতে পারে আবার কাদাঁতেও পারে। আর সে দেখতে অনেক সুন্দর। তাকে কাশ্মিরী মেয়েই বুঝা যায়। তামিল সব গুলো মুভি হিট হয়। তারা একটি মুভি করার ক্ষেত্রে সব দিক দিয়ে খেয়াল রেখে মুভি করে। আজকের খুশি মুভিতে বিজ্ঞান এবং ধর্ম শাস্ত্র দুইদিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আসলেই জীবনে যেমন ধর্মকে বাদ দেওয়া যাবে না ঠিক তেমনি বিজ্ঞানকেও বাদ দেওয়া যাবে না। তবে কোনটাই একে অপরের বিরোধী নয়। সেটা আমাদের বুঝতে হবে এবং মানতে হবে। বর্তমানে বিজ্ঞান যা আবিষ্কার হচ্ছে ধর্ম শাস্ত্র গুলোতে সে গুলোর ইঙ্গিত আগেই দেওয়া হয়েছে। তবে সেটা আমরা বুঝতে পারি না। যারা সত্যিকারের জ্ঞানী মানুষ তারা বিজ্ঞান এবং ধর্ম দুইটাকে আলাদা করে দেখে না। আমাদের জীবনে দুইটি জিনিষেরই গুরুত্ব আছে। দারুন একটি মুভি রিভিউ দিয়েছেন দাদা। ধন্যবাদ।
বেশ দারুন একটি মুভির রেভিউ করেছেন। আসলে এই মুভিটি আমার কখনও দেখা হয়নি। তবে আপনার করা রিভিউ টি পড়ে কেন জানি দেখার ইচ্ছা জাগলো। বেশ দারুন রিভিউ করেছেন। আশা করি আগামী তে এমন সুন্দর মুভির আরও রিভিউ করবেন।
"খুশি" মুভিটি যদিও দেখা হয়নি। তবে রিভিউ পড়ে অনেক ভালো লাগলো দাদা। এই মুভিটি ভিন্ন রকমের ছিল। হাস্যরসাত্মক মুভি গুলো দেখতে অনেক ভালো লাগে। আর এই মুভি গুলো সব সময় জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে মন খারাপের সময় গুলিতে এই ধরনের মুভি দেখলে অনেক বেশি ভালো লাগে। তেলেগু মুভি গুলো সব সময় একটু আলাদা ধরনের হয়। আর এই মুভি গুলো দেখার প্রতি আকর্ষণ অনেক বেশি থাকে। সামান্থা আমার খুবই পছন্দের একজন অভিনয়শিল্পী। উনার অনেকগুলো মুভি দেখেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। এই মুভিটিতে বিজ্ঞান এবং ধর্ম দুটোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর দুইদিক সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে। আসলে একটি ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ। বিপ্লব আর পীতবাস নদীর পাড়ে নৌকায় করে যাওয়ার সময় সেই মেয়েটিকে দেখে আর প্রেমে পড়ে যায়। প্রথমে মেয়েটি মিথ্যা বলেছিল যে সে তার ভাইকে খুঁজতে এসেছে। কিন্তু অবশেষে তাদের মাঝে প্রেম হয়ে যায়। আর যখন তাদের বিয়ের কথা চলে তখনই বিপত্তি শুরু হয়। কারণ মেয়েটির বাবা আর ছেলের বাবা দুজনে দুই ধরনের মানুষ। একজন ধর্মশাস্ত্রে বিশ্বাস করে অন্যজন বিজ্ঞান ছাড়া কিছুই বোঝেনা। তবে যাই হোক অবশেষে সব কিছুর সমাধান হয়েছে এবং সবাই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তাদের মেয়ের নাম খুশি রাখার কারণে এই মুভির নামটি আরো বেশি সার্থক হয়েছে। দারুন একটি মুভি রিভিউ শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি দাদা।
দাদা আপনি অনেক সুন্দর একটা মুভির রিভিউ পোস্ট লিখেছেন, যেটা পড়তে আমার কাছে জাস্ট অসাধারণ লেগেছে। আমি এরকম মুভি গুলো দেখতে অনেক বেশি পছন্দ করি। এই মুভিতে বিজয় দেবেরকোন্ডা , সামান্থা রুথ প্রভু দুজনেই খুবই ভালো অভিনয় করেছে। আর তাদের অনেকগুলো মুভি আমি দেখেছিলাম। তাদের মুভি দেখার সময় আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল। যদিও এই মুভিটা এখনো পর্যন্ত আমার দেখা হয়নি, তবে আপনার রিভিউ পোস্টের মাধ্যমে দেখতে পেলাম। আমি তো ভাবছি সময় পেলে এই মুভিটা দেখে নেব। এই মুভিতে কিন্তু বিজ্ঞান এবং ধর্ম দুটোকে অনেক সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং গুরুত্বটা সুন্দরভাবে দিয়েছে। আর সবাই শেষ পর্যন্ত একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এটা দেখে আমার কাছে সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে। আর তাদের সন্তানের নাম খুশি রেখেছিল এটা জেনে অনেক ভালো লেগেছে। মুভিটার নামের অর্থই মেয়েটির নাম রেখেছিল এটা সত্যি অনেক সুন্দর হয়েছে। ধন্যবাদ দাদা এত সুন্দর মুভিটা সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়ার জন্য।
দাদা আপনি খুশি মুভিটার রিভিউ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। এই মুভিটার রিভিউ বেশ ভালোই উপভোগ করে পড়েছি আমি। আপনার মুভি গুলো রিভিউ আমি প্রতিনিয়ত পড়ার চেষ্টা করি দাদা। আর আপনি সবসময় অনেক সুন্দর করে রিভিউ টা তুলে ধরার চেষ্টা করেন যেন সবার বুঝতে অনেক সুবিধা হয়। সবাই সবার ভুল সবশেষে বুঝতে পেরে একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আসলে যে কোন মুভির শেষে এরকম দৃশ্য দেখতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। ধর্ম এবং বিজ্ঞানকে আলাদা করে দেখেনি এখানে, আর অনেক সুন্দর ভাবে এই দুইটা বিষয় তুলে ধরেছে এই মুখটার মধ্যে এটা আমার অনেক ভালো লেগেছে দাদা। এখানে দেখছি বিপ্লব তার বাবা মন্দিরে এসে যজ্ঞে বসার পরে বৃষ্টি এসেছিল, যার কারণে তারা এটা সম্পূর্ণ করতে পারেনি। আর তাদের এক একটা সন্তান হয়েছিল আর তার নাম খুশি রেখেছিল, সব মিলিয়ে পুরোটা অনেক ভালো লেগেছে।