ছোট গল্প - "আহ্বান" || ( ১০%লাজুক খ্যাকের জন্য)
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আমি@ripon40 বাংলাদেশের নাগরিক
- আহ্বান
- ১০, আগস্ট ,২০২২
- বুধবার
আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশাকরি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন। আমিও ভালো আছি। আজ আমি " আহ্বান " গল্প শেয়ার করছি । আশাকরি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
আমি মনে করি গল্প মানেই কোন বাস্তব চরিত্র বা ঘটনার সাথে পরিচিত হওয়া।জীবনের ইতি হয়ে যাবে কিন্তু থেকে যাবে স্মৃতি বিজরিত অতীত বা জীবনের গল্প। বেশিরভাগ মানুষ জীবনের বাস্তবতা উপলব্ধি করার চেষ্টা করে নাহ।আমি গল্প পড়তে পছন্দ করি কারণ বাস্তবতার সাথে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারি।জীবনে লুকিয়ে থাকা ঐতিহাসিক বড় ঘটনা গুলোই হলো অনেক বড় গল্প।বাস্তব জীবনের সাথে জড়িত জীবন চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো।
গল্প - আহ্বান
২০১২ সালের জুলাইয়ের এক তারিখ , নতুন বাসায় উঠি । দোতলা বাসার উপরতলা । খাপ খাইয়ে নিতে মোটেও সময় লাগেনি , আশপাশের মানুষের সাথে না হোক ; অন্তত বাসাটার সাথে , বাসার পরিবেশের সাথে , ছাদের সাথে , আর সামনের পাকা উঠানের সাথে । নিচতলায় বয়সে আমার থেকে চার - পাঁচের মত ছোট ছেলের সাথে মাঝে মাঝে খেলতাম । খেয়াল করতাম , বাইরে থেকে আগত একটা ছোট বাচ্চা কুকুর বাসার গ্যারেজে আস্তানা বেঁধেছে । ফুটবলের সাথে সেও দৌড়াত । বলের আঘাত কিংবা পায়ের লাথিও মাঝে মাঝে কপালে জুটত । তবুও তার ভাঙা বাঁকানো লেজটা যথেষ্ট পরিমাণে নাড়াত , আদর করে ডাকলে , কখনো লাফ দিয়ে উপরে চলে আসত কোলের কাছে , পরক্ষণে সরে যেতাম । কারণ , ধর্মে বাধা । ছুঁতে পারতাম না , গোসল করতে হতো ।
ধীরে ধীরে বড় হলো আর আমরাও 1 তাদের হলাম জীবনের গতি একটু বেশিই চলে । কারণটা আগে না জানলেও এখন জানি । মানুষের জীবনে , খাওয়া - ঘুমানো , বংশ বিস্তার ছাড়াও আরও কিছু কাজের জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হলেও , তাদের জন্য তা প্রযোজ্য হয়নি । নানান খাতে , নানান শাখা - প্রশাখার কাজ থাকে মানুষের , কুকুরের থাকে না । মাঝে মাঝে মার্কো বলে ডাকতাম , লেজ নাড়াতো তবে কাছে আগাতো না , বুঝতাম , নামটা তার পছন্দ না । নিজে এগিয়ে জুতা পড়া পা দিয়ে আদর করতাম । হাসতাম কিন্তু কিছু করার নেই , জানার ইচ্ছা থাকলেও প্রশ্ন করিনি কাউকে সব সৃষ্টিই এক স্রষ্টার হলেও কুকুর কেন এতো নিম্নের ? মা হলো ! তাও আবার এক ডজনের মা । মাথামোটা চোখহীন কুকুর গুলো দেখে এলিয়েন এলিয়েন লাগত । অসুখ - বিসুখে , গাড়ী চাপায় মরত । মরতে মরতে একটাই অবশিষ্ট থাকল , তাও একই রং এর , বাদামি ।
মা'র চোখের দিকে তাকালে বোঝা যেত অনেক আবদার তার গল্প জমিয়ে রেখেছে দু'চোখে চোখে চোখ রাখত না বেশি সময় , চোখ নামিয়ে ফেলত । কারণটা ঠিক জানি না । ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে চলে এলাম স্বপরিবারে ৩২ কিলোমিটার দূরে । চার - পাঁচ মাস পর আবার এলাম , আমি একা , পড়ালেখার জন্য । তবে নতুন বাসা । পুরোনো বাসা থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে । কাটল আরও এক বছর । পুরোনো বাসা আর কুকুরটাকে ভুলেই গেছি । মানুষের রাজত্বে সামান্য এই অমানুষকে মনে না করাই স্বাভাবিক ভাবতাম । যেমন গাছপালা আর খাল - বিল । জীবনের অর্থ বদলে যেতে থাকে খুব দ্রুত । সন্ধ্যার পরে শীতের মাঝে পকেটে হাত গুজে হাঁটছি বাসার দিকে । রোড লাইটের আলোয় বুঝলাম কোচিং এর একটু পর থেকে কী একটা আমার পিছু পিছু হাঁটছে । তাকালাম অবশেষে একটা কুকুর । আবার হাঁটছি , হঠাৎ আমার শরীর যেন ইচ্ছা ছাড়াই থেমে গেল । জ্বল জ্বল চোখ দুটো খুব পরিচিত । মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকালাম , হাসলাম , গরম দু'ফোটা জল বেয়ে পড়ল গাল দিয়ে । তারপর পেছনে তাকালাম , ‘ মার্কো ' লাফ দিয়ে সামনের দু'পা তুলে যেন জড়িয়ে ধরল । কাঁচা রাস্তার মাঝে ছায়া ভাসল । একটা মানুষের আর কৃতজ্ঞতার ...
আশাকরি গল্পটি আপনারা পড়বেন। গল্প পড়তে আমি খুবই পছন্দ করি। যেটা প্রায়ই পড়া হয়ে থাকে ভালো লাগে পড়তে।গল্প পড়া মানেই নতুন কোন কিছু ঘটছে তার সাথে পরিচিত হওয়া। আমার লেখা গল্প পড়ে ভালো লাগলে নিশ্চয় মতামতের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন নাহ।
| প্রথম গল্প:-গোয়েন্দা রহস্য গল্প - "এলাচির উইল"( শেষ পর্ব) |
| source |
| দ্বিতীয় গল্প:-ছোট গল্প - "অশ্রুর তির্থস্থানে একদিন"( শেষ পর্ব) |
| source |
| তৃতীয় গল্প:-ছোট গল্প - "শোনার পাহাড়ের পাখি"( পর্ব নেই ) |
| source |
| চতুর্থ গল্প:-ছোট গল্প - "ছায়া"( পর্ব নেই ) |
| source |
| পঞ্চম গল্প:-ছোট গল্প - "তীর্থ"( পর্ব নেই ) |
| source |
আমার পোষ্ট দেখার জন্য আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। আমি আশা করছি আপনারা সবাই আমার পোষ্ট উপভোগ করবেন এবং আপনারা সবাই আমাকে অনুপ্রাণিত করবেন
| বিভাগ | ছোট গল্প । | |
|---|---|---|
| বিষয় | ছোট গল্প - "আহ্বান") | @ripon40 |
| গল্প তৈরি করার অবস্থান | লিংক |
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি মোঃ রিপন মাহমুদ। আমার স্টীমিট একাউন্ট@ripon40। আমি একজন বাঙালি আর আমি বাঙালী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করি। আমি স্টীমিটকে অনেক ভালোবাসি। ভালোবাসি পড়তে, লিখতে, ব্লগিং,ফটোগ্রাফি,মিউজিক,রেসিপি ডাই আমার অনেক পছন্দের। আমি ঘুরতে অনেক ভালোবাসি। আমার সবচেয়ে বড় গুণ হলো কারোর উপর রাগ করলে সহজেই ভুলে যাই।
আপনি এভাবেই সাপোর্ট দিয়ে চলেছেন যেটা ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন ভালো লাগে।
ভাই আপনি এত সুন্দর ছোট গল্পগুলো লেখেন কিভাবে। জাস্ট অসাধারণ আপনার আগেও আমি অনেকগুলো ছোট গল্পের পোস্টগুলো করেছি আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। আশা করি প্রতিনিয়তই আপনি এভাবে সুন্দর সুন্দর গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করবেন। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
হ্যাঁ আমি চেষ্টা করি সুন্দর গল্পগুলো লিখে আপনাদের মাধ্যমে শেয়ার করার যেটা আপনারা উপভোগ করে থাকেন ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপনার গল্পগুলো বরাবর আমার কাছে খুবই ভালো লাগে আপনি মনের মাধুর্য দিয়ে গল্প লিখে থাকেন ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর গল্প লিখে আমাদের মাঝে উপহার দেওয়ার জন্য।।
আমার লেখা গল্পগুলো আপনার কাছে ভালো লাগে জেনে খুশি হলাম এভাবেই গল্প লিখে আপনাদের মাঝে উপহার দিয়ে থাকার চেষ্টা করব।
দারুন একটি গল্প লিখেছেন সত্যি আপনার এই গল্পটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। গল্পের পরবর্তী পর্ব দেখার জন্য অপেক্ষায় রইলাম
তাই নাকি মামা পরবর্তী পর্বের আশায় রইলেন ইনশাল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি নেক্সট পর্ব আপনাদের সামনে নিয়ে আসব।
আমি কখনো গল্প পোস্ট করিনি কিন্তু আপনার গল্প পড়ে আমার বেশ ভালই লাগলো। সকলেই জানে গল্প লিখতে হলে আলাদা সিচুয়েশন দরকার হয়। আর সেটা আপনার ভিতরে পরিপূর্ণ রয়েছে সেটা পোষ্টের মাধ্যমে আপনি ফুটিয়ে তুলেছেন। শুভকামনা রইল এভাবেই এগিয়ে যান সামনের দিকে।
একটা কথা ঠিকই বলেছেন গল্প লিখতে হলে সুন্দর পরিবেশ ভালো সিচুয়েশন দরকার চেষ্টা করেন পারবেন গল্পে লিখতে।
সত্যি বলতে অনেক দারুন লিখেছেন,বেশ গুছিয়ে লিখতে পারেন আপনি,পরের পার্ট এর অপেক্ষায় রইলাম, দোয়া করি অনেক দূর এগিয়ে যাবেন
চেষ্টা করি ভালোভাবে গল্প লিখে প্রকাশ করার তা আপনারা উপভোগ করতে পছন্দ করেন।