৪র্থ পর্বঃ অধরা পরী
20-03-23
০৬ চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই অনেক ভালো আছেন!
ভালো থাকাটাই সবথেকে বড় বিষয়। যাক আপনাদের মাঝে নতুন একটি গল্প শেয়ার করেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় আপনাদের সাথে নতুন একটি পর্ব নিয়ে হাজির হলাম। দেখতে দেখতে গল্পের চতুর্থ পর্বে চলে এলাম!
৩য় পর্বের পর থেকে
ভালোবাসার আদান-প্রদান হতো প্রতিদিনই ঝর্নার সাথে। আসিফ ঝর্নাকে দেখার জন্য প্রতিদিন বাড়ি পর্যন্ত চলে যেত। ঝর্নাকে না দেখা অবধি তার মনে কাজ করতো শুধু অস্থিরতা। বন্ধু সৌরভকে নিয়ে বিকাল হলেই ঝর্নাদের এখানে। একদিন হয়ে গেল বিপত্তি! ঝর্নাদের বাড়ির সামনে আসিফ আর সৌরভ দাড়িঁয়ে আছে। ঠিক তখনই ঝর্নার বড় ভাই দেখে ফেলে দুজনকে! পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু পারেনি। ঝর্না শিমুল গাছের নিচে দাড়িঁয়ে আছে। আসিফকে তার ভাইয়া দেখে ফেলে। ভাইয়াকে দেখে ঝর্না সোজা দৌড়!
-কি ব্যাপার! তোমরা কারা, চিনলাম না!
-জ্বি ভাইয়া, আমি আসিফ আর আমার বন্ধু সৌরভ!
-এখানে অনেকক্ষণ ধরেই দেখছি দাড়িঁয়ে আছো দুজন! কার জন্য অপেক্ষা করছো।
-আমরা সজিবদের বাড়িতে এসেছিলাম। সজিবের কাছ থেকে নোট খাতাটা নেয়ার জন্য!
-ওহ আচ্ছা! তাহলে এখানে দাড়িঁয়ে কেন? চলো ভিতরে যায়। সজিব আমার চাচাতো ভাই।
-না ভাইয়া থাক! আরেকদিন যাবো!
-ঠিক আছে।
-এইতো সজিব এসে পরেছে! (আসিফ)
ঝর্নার ভাইয়া তখন চলে যায়। ভাগ্যক্রমে সজিবও চলে আসে। সজিব আসিফের বন্ধু। ঝর্নাদের বাড়ির পাশেই তাদের বাড়ি। মাঝে মাঝেই খোজঁ-খবর নেয়ার জন্য এখানে আসে। ভাগ্যিস সজিব তখন চলে এসেছিল! নয়তো আজ হাতেনাতে ধরা পরতো।
-তুই বন্ধু বাচাঁলি আমাদের! (আসিফ)
-কেন? কি হয়ছে?
-ঝর্নার বড় ভাই এসেছিল। এসেই কোনো কথা নেই! কার জন্য দাড়িঁয়ে আছি জিজ্ঞেস করছে।
-ওহ! এই কথা বন্ধু তাহলে, হাহা! চল, আমাদের বাড়িতে যায়।
-আজকে যে বিপদে পড়ছিলাম একটুর জন্য, আর বাড়ি যাওয়া! আরেকদিন আসবো রে!
-ঠিক আছে! শোন, সোহান ভাই কিন্ত অনেক রাগী মানুষ! সাবধানে চলাফেরা করিস। যদি জানতে পারে ঝর্নার জন্য এখানে এসেছিলি তাহলে খবর করে দিবে।
-ঠিক আছে বন্ধু! ওসব নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। আজ যায় রে!
-কাল দেখা হবে স্কুলে!
"আজ যদি ধরা পরতাম তোর খবর ছিল কিন্তু! " ধরা তো পরি নাই বন্ধু।
এভাবে রিস্ক নিয়ে দেখা করতে আসাটা ঠিক না। ঝর্নার ভাইকে তো চিনিস! আগেরবার এক ছেলে ঝর্নাকে টিজ করেছিল বলে বেদুম পিঠাইছিল। একটিমাত্র বোন! এমন মাইর না খাইতে চাইলে এতো ঘন ঘন দেখা করা বাদ দিতে হবে! " কি করবো বল! ঝর্নাকে না দেখলে আমার ভালোই লাগে না। কেমন জানি অস্থিরতা ফিল হয়! আর ঝর্নার সাথে দেখা করার জন্য এক সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে আসতে পারি! " এসব কথা সিনেমায় সম্ভব! বাস্তবে শুধু স্বপ্ন! প্রেম করিস ঠিক আছে তবে সবকিছু ঠিক রেখে কর! মনে রাখিস, কাকা কিন্তু তোর উপরই ডিপেন্ড করে আছে! একটামাত্র ছেলে তুই! " হুমম, ঝর্নাকে পেয়ে গেলে যেন সব পেয়ে যাবো! "
দুই বন্ধু হেটেঁ হেটেঁ চলে আসে বাড়িতে! সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। লক্ষী ছেলের মতো আসিফ পড়তে বসে পড়ে। বাবার সামনে সে সবসময় লয়াল প্রমাণিত করে। কিন্তু বাবা যে তাকে নজরে নজরে রাখে তা আসিফ জানে না।
"মুকশোদ, আমাকে ফোন দিয়েছিল! তোর পড়াশোনার দেখভাল করার জন্য। কেমন হচ্ছে তোর পড়াশোনা! "
"জ্বি, আব্বা ভালো। "
"মুকশোদ বললো বাহিরে কম ঘুরাঘুরি করার জন্য। এস এস সি সময়টা গুরুত্বপূর্ণ! এখন সময় নষ্ট করলে পরে পস্থাবি!"
"জ্বি আব্বা! "
"ঠিক আছে। পড় তাহলে! "
আসিফ মাথা নিচু করে বসে আছে। পাশের রুমে তার মা রান্না করছে।
পাশের রুম থেকে তার মা ডাকছে! আসিফ শুনে যা তো! "হুম আম্মা বলো! " কাল তোর আপু আসবে, বাজার থেকে দুধ কিনে নিয়ে আসতে পারবি! " আপু কখন আসবে? " কাল বিকালে চলে আসবে! " তাহলে কাল যাবো বাজারে। আজ সন্ধ্যা হয়ে গেছে, একটু আগের বাহির থেকে আসলাম! আগে বলতে আমাকে। "ঠিক আছে, কাল মনে করে সকাল সকাল নিয়ে আসিস! " সকালে রতন কাকার কাছ থেকে নেয়া যাবে। কাকার গাভী আছে। সকালেই যায় এদিক দিয়ে দুধ বিক্রি করতে। আব্বাকে বলে রাখলেই হবে! "ঠিক আছে পড়তে বস। "
আসিফের রুমে চলে চলে! বিছানার উপরে আসিফের বাটন ফোন! মেসেজ আসছে। ফোনের স্ক্রিনে তা শো করছে। এতোটা আগ্রহ হয়নি মেসেজ দেখার! আসিফ পড়তে বসে। ঠিক কিছুক্ষণ পর আবার ফোনের মেসেজের শব্দ। ইদানিং সিমের সার্ভিস থেকে অনেক মেসেজ আসে। কিছুটা বিরক্ত হয়ে আসিফ ফোনটা হাতে নিল। মেসেজ চেক করতেই দেখে একটা আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ ! "কি করেন? "
চলবে...
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
twitter share link
@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 0/8) Get profit votes with @tipU :)
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সত্যি বলতে ভাই আপনি দারুন গল্প লিখেন। আর গল্পগুলো পড়তেও ভালো লাগে। যদি কোন গল্প লেখার পর গল্প পড়ার প্রতি পাঠকের আগ্রহ জাগে তখন বেশি ভালো লাগে সেই গল্প পড়তে। তাছাড়া আপনার লেখা গল্প গুলো আগেও পড়েছিলাম। বেশ ভালই লিখতেন। আর গল্পের মধ্যে একটা বাস্তবিক ভাব থাকে যেটা চোখের সামনে মনে হচ্ছে দেখছি। যাই হোক আজকের পর্বটি পড়ে ভালো লাগলো। আসিফ আর ঝর্ণার দেখা করার ব্যাপারটা তাহলে ঝর্ণার ভাই কিছুক্ষণের জন্যই ধরে ফেলেছিল। যাইহোক পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
ভাইয়া আপনার গল্প অধরা পরীর আগের পর্বগুলো যদিও সময়ের কারণে করতে পারে নাই তবে চতুর্থ খবরটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। ঐ গল্প পড়তে ভালই লাগে যে গল্পগুলি পড়লে বাস্তব চিত্র চোখের সামনে ফুটে উঠে। আসিফ আর ঝর্ণার কাহিনী গুলো পড়ার সময় চোখের সামনে বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছিল। দেখা যাক ঝর্ণার ভাই তাদেরকে ধরে পরবর্তীতে কি করে। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমার কাছে কিন্তু এই গল্পটি যত পড়ছি ততই ভালো লাগছে পড়তে। দেখতে দেখতে চতুর্থ পর্ব ও শেষ হয়ে গিয়েছে গল্পটির। একটুর জন্য আসিফ ঝর্নার ভাইয়ের কাছ থেকে বেঁচে গিয়েছে। না হলে তো যদি একবার ধরা খেত নাযেহাল অবস্থা হতো। আসিফ তো জানে না তার বাবা তার প্রতি সবসময় নজর রাখে। যাইহোক এখন তো ভাবছি পরের পর্বে কি হবে সেই মেসেজটা কে দিয়েছিল। অপেক্ষায় আছি পরের পর্ব দেখার জন্য।