এঁচোড়ের সুস্বাদু তড়কা রেসিপি

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

আজকে একটি রেসিপি পোস্ট শেয়ার করে নেবো। রেসিপিটা এঁচোড়ের, রেসিপিটা ৪-৫ দিন আগে করা ছিল। এই এঁচোড়টি আমাদের গাছের এঁচোড়, গাছে একটাই ধরেছিলো, নষ্ট হয়ে যায় কিনা তাই তরকারি হিসেবে রান্না করে নিয়েছিলাম । চিংড়ি দিয়ে এঁচোড়ের তরকারি খেতে অনেক ভালো লাগে, তবে এটি নিরামিষ হিসেবেও খেতে বেশ মজাদার। চিকেন বা মটন দিয়েও অনেকে রান্না করে, অনেকদিন আগে একবার বাইরে খেয়েছিলাম মটন দিয়ে, ভালোই লাগে মশলা দিয়ে রান্না করলে। এঁচোড় আমাদের এদিকে এমনিতেই সারা বছর বাজারে পাওয়া যাবে, তাই একদিন চিকেন দিয়ে টেস্ট করার জন্য বাড়িতে তৈরি করতে বলবো দেখি কেমন লাগে। তাছাড়া এঁচোড় খেতেও যেমন সুস্বাদু লাগে তেমনি কাঁচা সবজি হিসেবে এর উপকারিতাও আছে খারাপ না। এঁচোড়ে বিভিন্ন রকমের ভিটামিন যেমন থাকে, তেমন মানব শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কাজে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। যাইহোক, এখন রেসিপিটার মূল প্রস্তুত প্রণালীর দিকে চলে যাবো।


☫প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:☫

❦উপকরণ
পরিমাণ❦
চিংড়ি
১৫০ গ্রাম
এঁচোড়
১ টি গোটা
আলু
১ টি
পেঁয়াজ
১ টি
রসুন
১ টি
কাঁচা লঙ্কা
৫ টি
শুকনো লঙ্কা
১ টি
গোটা জিরা
১ চামচ
সরিষার তেল
পরিমাণমতো
লবন
৪.৫ চামচ
হলুদ
৩.৫ চামচ
জিরা গুঁড়ো
১.৫ চামচ


এঁচোড়, আলু, পেঁয়াজ, রসুন


কাঁচা লঙ্কা, সরিষার তেল, লবন, হলুদ, জিরা গুঁড়ো


დএখন রেসিপিটা যেভাবে প্রস্তুত করলাম---


✠প্রস্তুত প্রণালী:✠


❖কেটে রাখা চিংড়িগুলো ফ্রিজ থেকে বের করে একবার ধুয়ে রেখে দিয়েছিলাম। এরপর এঁচোড়টির খোসা ছালিয়ে নেওয়ার পরে কেটে ছোট ছোট পিস করে নিয়ে ধুয়ে রেখে দিয়েছিলাম।

❖আলুটির খোসা ছালিয়ে নেওয়ার পরে কেটে নিয়ে ধুয়ে রেখেছিলাম। এরপর পেঁয়াজ এর খোসা ছালিয়ে কেটে নিয়েছিলাম এবং রসুনের কোয়াগুলোর থেকে খোসা ছালিয়ে নিয়ে রেখেছিলাম। কাঁচা লঙ্কাগুলো কেটে নেওয়ার পরে ধুয়ে রেখেছিলাম।

❖একটি কড়াই চুলায় বসিয়ে নেওয়ার পরে তাতে জল দিয়ে দিয়েছিলাম এবং পরে এঁচোড়ের পিসগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে অল্প সরিষার তেল দিয়েছিলাম আঠাটা যাতে না থাকে ফুটানোর পরে। কিছুক্ষন ফুটিয়ে নেওয়ার পরে তুলে নিয়েছিলাম।

❖এঁচোড় ফুটানোর সময়ে চিংড়িগুলোতে লবন আর হলুদ দিয়ে ভালোভাবে মিক্স করে রেখেছিলাম।

❖কড়াইটি ধুয়ে নিয়ে তাতে তেল দিয়ে চিংড়িগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। ভালোভাবে ভাজা মতো হয়ে আসলে একটি পাত্রে তুলে নিয়েছিলাম।

❖চিংড়ি ভাজার পরে কড়াইতে আরেকটু তেল দিয়ে ফুটিয়ে তুলে রাখা এঁচোড় দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর ভাজা মতো করে তুলে নিয়েছিলাম।

❖এঁচোড় ভাজার পরে কড়াইতে আরেকটু তেল দিয়ে আলুর পিসগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর আলু ভালোভাবে ভেজে তুলে নিয়েছিলাম।

❖আলু ভাজার পরে কড়াইতে সরিষার তেল দিয়ে গোটা জিরা আর শুকনো লঙ্কা দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে পেঁয়াজ-রসুন দিয়ে দিয়েছিলাম।

❖জিরার সাথে পেঁয়াজ-রসুন ভেজে নেওয়ার পরে তাতে অল্প করে জিরা গুঁড়ো দিয়েছিলাম এবং পেঁয়াজ-রসুনের সাথে মিক্স করে নিয়েছিলাম।

❖মিক্স করার পরে তাতে ভেজে রাখা এঁচোড় দিয়ে দিয়েছিলাম এবং সাথে ভাজা আলুর পিসগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে ভাজা চিংড়ি দিয়ে দিয়েছিলাম।

❖চিংড়ি দেওয়ার পরে তাতে কাঁচা লঙ্কা দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে স্বাদ মতো লবন-হলুদ দিয়ে দিয়েছিলাম।

❖মশলা উপাদানগুলোর সাথে ভালোভাবে মিক্স করে নিয়েছিলাম। এরপর তাতে পরিমাণমতো জল দিয়ে দিয়েছিলাম।

❖জল দিয়ে কড়াই কিছুক্ষন ঢেকে রেখে দিয়েছিলাম সব ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে আসার জন্য। এরপর সেদ্ধ করে নেওয়ার পরে ঢাকনা সরিয়ে নিয়েছিলাম এবং তরকারিটা শেষমেশ ভালোভাবে হয়ে আসা পর্যন্ত দেরি করেছিলাম।

❖তরকারিটা একটু শুকনো শুকনো মতো করতে চাইছিলাম তাই ঝোলটা একেবারে মেরে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে জিরা গুঁড়ো হালকা করে ছড়িয়ে দিয়েছিলাম এবং পরিবেশনের জন্য একটি পাত্রে তুলে নিয়েছিলাম।

রেসিপি বাই, @winkles

শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

Sort:  
 3 years ago 

দাদা, এঁচোড় দিয়ে মাংসের রেসিপি অনেক খেয়েছি। তবে কখনো এঁচোড় দিয়ে চিংড়ির রেসিপি খাইনি। তাই আপনার তৈরি এঁচোড়ের সুস্বাদু রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে খেতে খুবই মজার হয়েছে। আর আপনার রন্ধন প্রণালীতো একদম দুর্দান্ত। বিশেষ করে এঁচোড়গুলো তেলে ভেজে নেওয়ার কারণে স্বাদের পরিমাণ একটু বেশি পাওয়া যাবে মনে হচ্ছে। দাদা, এঁচোড়ের সুস্বাদু তরকা রেসিপির কালারটা খুবই লোভনীয় লাগছে। গরম গরম ভাতের সাথে এই রেসিপির কোন তুলনায় হবে না। খুবই সুস্বাদু ও মজাদার এই রেসিপি তৈরির প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

এঁচোড় আমার কখনও খাওয়া হয়নি।সবাই দেখি খুব মজা করে খায়।আপনি দাদা চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করলেন। খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে আশাকরি।আপনি রান্নার ধাপগুলো এক এক করে তুলে ধরেছেন।যা দেখে খুব ভালো লাগলো। আর হে দাদা অনেকে শুনেছি মাংস দিয়ে রান্না করে। আপনিও একদিন মুরগি এনে রান্না করবেন বললেন। ভালোই লাগবে খেতে মন্দ নয়।ধন্যবাদ দাদা মজার এই রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য। অনেক শুভকামনা দাদা আপনার জন্য।

 3 years ago 

আপনি তো দেখছি এই এঁচোড়ের খুবই মজাদার এবং লোভনীয় একটা রেসিপি তৈরি করেছেন। আপনার রেসিপিটি দেখে খুব মনে হচ্ছে খুবই সুস্বাদু এবং ইয়াম্মি হয়েছিল। এবং কি আপনি বেশ মজা করেই খেয়েছিলেন মনে হয়। আসলে চিংড়ি মাছ দিয়ে এভাবে এঁচোড়ের রেসিপি তৈরি করলে কিন্তু খেতে ভীষণ ভালোই লাগে। আপনার রেসিপি কালার দেখে আমার খুবই খেতে ইচ্ছে করছে। আপনি সব সময় খুবই মজাদার রেসিপি তৈরি করে থাকেন। আসলে ঠিকই বলেছেন এঁচোড় চিকেন বা মাটন দিয়ে তৈরি করলেও খেতে ভীষণ ভালো লাগে। আপনাদের কাছে একটাই এঁচোড় ছিল। নষ্ট হয়ে যাবে সেজন্য আপনারা তরকারি হিসেবে রান্না করে ফেলেছিলেন। ভীষণ ভালো লেগেছে আপনার আজকের এই এঁচোড়ের রেসিপি। শেয়ার করেছেন দেখে ভালো লাগলো।

 3 years ago 

আমাদের এদিকে কাঁচা কাঁঠাল একেবারেই খাওয়া হয়না তাই জানিও না টেস্ট কেমন হয়।তবে দেখে তো মনে হয় সুস্বাদু।

 3 years ago 

খেয়ে দেখো একবার, দারুন টেস্ট লাগে।

 3 years ago 

এঁচোড়ের তড়কা নাম শুনেই তো খেতে ইচ্ছে করছে দাদা। এঁচোড় চিংড়ি খেতে অনেক ভালো লাগে। আসলে চিংড়ি মাছের সাথে যা কিছুই রান্না করা হোক না কেন খেতে পারফেক্ট হয়। তবে মাংসের সাথে কখনো এঁচোড় রান্না করে খাওয়া হয়নি। মনে হচ্ছে চিকেন কিংবা মাটনের সাথে এঁচোড় রান্না করলে খেতে দারুন লাগবে। আর একটু বেশি পরিমাণে মসলা দিয়ে শুধু ভুনা করলে খেতে অনেক ভালো লাগে। নিরামিষ এঁচোড়ের তরকারি আমার কাছে ভালোই লাগে খেতে। তবে চিংড়ি মাছের সাথে এই এঁচোড় রান্না করলে সবচেয়ে বেশি পারফেক্ট হয় খেতে। দাদা আপনি এত সুন্দর ভাবে এঁচোড়ের তরকারি রান্না করেছেন দেখেই তো খেতে মন চাচ্ছে। খুবই লোভনীয় একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

 3 years ago 

এঁচোড়ের তড়কা রেসিপি দেখেই তো খেতে ইচ্ছে করছে দাদা। এঁচোড়ের রেসিপি আমার কখনো খাওয়া হয়নি। আপনি চিংড়ি মাছ দিয়ে এঁচোড়ের রেসিপি তৈরি করেছেন। চিংড়ি মাছের যেকোনো রেসিপি আমার খুব পছন্দ। চিংড়ি মাছ এবং এঁচোড় ভেজে নেওয়ায় রেসিপির স্বাদ মনে হচ্ছে অনেক বেড়ে গিয়েছে। সবাই মিলে মনে হচ্ছে খুব মজা করে খেয়েছেন এই রেসিপিটা। যাইহোক ধাপে ধাপে এতো মজাদার একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।

 3 years ago 

এবার ঈদে বাড়িতে গিয়ে আমিও খেয়েছি মাংস দিয়ে। খেতে দারুন লাগে। আপনাদের ওখানে সারা বছর পাওয়া যায় এচোড় আমাদের এখানে কেবক গ্রীষ্মকালেই পাওয়া যায়। আপনার চিংড়ি দিয়ে এচোড় রেসিপিটি দেখে মনে হচ্ছে খাতে দারুন হয়েছিল। আর চিংড়ি মাছ দিয়ে যাই রান্না করা হোক না কেন খেতে দারুন লাগে। অনেক ধন্যবাদ মজাদার একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

ছোটবেলা থেকেই এঁচোড় আমার খুবই পছন্দের। এঁচোড় খেতে আমি ভীষণ ভালোবাসি। যদি হয় নিজেদের গাছের তাহলে তো কোন কথাই নেই। আপনাদের কাছে একটি মাত্র ছিল এঁচোড় নষ্ট হয়ে যাবে বলে আপনি তরকারি হিসেবে রান্না করে বেশ ভালোই করেছেন দাদা। আপনি কয়েকদিন আগে রেসিপিটা তৈরি করেছিলেন। খুবই মজাদার এবং সুস্বাদু ভাবে রেসিপিটি তৈরি করেছিলেন আপনি যা দেখে আমার তো খুবই লোভ লেগে গিয়েছে। আর আপনার রেসিপিটা দেখে খুবই লোভনীয় মনে হচ্ছে। এরকম লোভনীয় রেসিপিগুলো দেখলে খুবই লোভ লেগে যায়। চিংড়ি মাছ দিয়ে এঁচোড় রান্না করে আগে কখনো আমার খাওয়া হয়নি। আসলে চিংড়ি মাছ আমি তেমন খেতে পছন্দ করি না। কিন্তু আপনি চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করেছেন দেখে আমার মনে হচ্ছে টেস্টটা একেবারে অন্যরকম ছিল এবং খুবই মজা করে খেয়েছিলেন আপনি। আসলেই অনেকে মাটন এবং চিকেন দিয়ে রান্না করে এঁচোড়। আমিও কয়েকবার চিকেন এবং মাটন দিয়ে এঁচোড় রান্না করেছিলাম। যাইহোক আপনার রেসিপি পোষ্টের মাধ্যমে এত সুন্দর একটা রেসিপি দেখে ভালো লেগেছে।

 3 years ago 

প্রিয় দাদা চিংড়ি মাছ দিয়ে আপনি খুবই সুস্বাদু একটি রেসিপি তৈরি করেছেন। চিংড়ি মাছের সাথে এচোড় রান্না খেতে খুবই মজাদার লাগে। এচোড় রান্নার ক্ষেত্রে আলু দেওয়াটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। চিংড়ি মাছ দিয়ে এচোড় রান্নার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে আমাদের নিকট উপস্থাপন করার জন্য প্রিয় দাদা আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.104
BTC 64301.72
ETH 1879.43
USDT 1.00
SBD 0.37