কলার থোড়ের রেসিপি
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে আমি একটা রেসিপি শেয়ার করে নেবো। এই রেসিপিটা গতকাল রাতে করেছিলাম। কলার থোড়ের রেসিপি তৈরি করেছিলাম, কলার থোড় কিনে আনা ছিল অনেকদিন কিন্তু করা হয়ে ওঠেনি। শুকিয়ে যাচ্ছিলো তাই ভাবলাম আজকে এইটা দিয়েই করি। তবে কোনো মাছ দিয়ে করিনি, করলে এক চিংড়ি নাহলে পাতি কাঁকড়া দিয়েই করলে ভালো লাগে কিন্তু সেই দুটির কোনোটাই আনা নেই, তাই সাধারণ ঘন্ট মতো করেছি। কলার থোড় একটি সাধারণ খাদ্য মনে হলেও এর উপকারিতা বা গুণাবলী অনেক বড়ো বড়ো। রক্তের হিমোগ্লোবিনের সংখ্যা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে এর উপকারিতার জুড়ি নেই, হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া থোড়ে অনেক বিশেষ বিশেষ উপাদান থাকে যেগুলো আমাদের হজম শক্তিকে মজবুত করার পাশাপাশি অনেক ক্ষতিকারক টক্সিন জাতীয় জটিল সমস্যাকে পেট থেকে দূর করে পরিষ্কার রাখতে অনেক উপযোগী কাজ করে থাকে। যাদের বাড়িতে কলা গাছ আছে তাদের ক্ষেত্রে একটা সুবিধা, একদম ফ্রেশ খেতে পারে যখন খুশি, আর ফ্রেশ খাবার খাওয়াও অনেক ভালো। আমি কলার থোড়ের এই ঘন্ট যদিও রুটি দিয়ে খেয়েছিলাম আর রুটি দিয়ে খেতে অনেক ভালো লেগেছিলো। ভাতের সাথেও থোড় খেতে ভালো লাগে। যাইহোক, থোড়ের এই রেসিপিটার মূল প্রস্তুতির দিকে চলে যাবো এখন।
✠প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:✠
დএখন রেসিপিটা যেভাবে প্রস্তুত করলাম---
❂প্রস্তুত প্রণালী:❂

❖আলুগুলোর খোসা প্রথমে ভালোভাবে ছালিয়ে নেওয়ার পরে কেটে খুব ছোট ছোট পিচের মতো করেছিলাম এবং পরে ধুয়ে রেখে দিয়েছিলাম। এরপর কাঁচা লঙ্কাগুলো কেটে নেওয়ার পরে ধুয়ে নিয়েছিলাম।
❖কলার থোড়টি ভালোভাবে কেটে নিয়েছিলাম পুরোটা। এরপর ধুয়ে নেওয়ার পরে লবন দিয়েছিলাম।
❖লবন দেওয়ার পরে থোড়ের সাথে ভালোভাবে মাখিয়ে নিয়ে রেখে দিয়েছিলাম ১০ মিনিটের মতো ( লবন দিয়েছিলাম যাতে থোড়টি একটু নরম নরম হয়)। এরপর ধুয়ে তুলে নিয়েছিলাম, তবে কস এর কারণে একটু কালচে কালারের হয়ে গেছিলো।
❖প্যানে অল্প করে তেল দিয়ে কেটে রাখা সেই আলুর পিচগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর ভালোভাবে ভেজে নেওয়ার পরে পাত্রে তুলে রেখেছিলাম।
❖আলু ভাজা সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পরে তাতে আরেকটু তেল দিয়ে শুকনো লঙ্কা দিয়ে দিয়েছিলাম এবং পরে তাতে সরিষা বীজগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম।
❖সরিষা বীজ একটু ভাজা ভাজা মতো করে নিয়েছিলাম এবং পরে তাতে ধুয়ে তুলে রাখা সেই কলার থোড় প্যানে দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে ভেজে রাখা আলুর পিচগুলো দেওয়ার পরে লঙ্কাগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম।
❖লঙ্কা দেওয়ার পরে তাতে স্বাদ অনুযায়ী লবন আর হলুদ দিয়ে দিয়েছিলাম এবং কলার থোড় আর ভাজা আলুর সাথে উল্টেপাল্টে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়েছিলাম।
❖মেশানোর পরে তাতে জল দিয়ে দিয়েছিলাম একটু এবং বেশ খানিক্ষন ধরে ফুটিয়ে নিয়েছিলাম।
❖ফুটিয়ে জলটা কমিয়ে আনার পরে তাতে চামচ খানিক জিরা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছিলাম এবং উল্টেপাল্টে আরেকটু মিশিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর ঘন্ট মতো হয়ে আসার জন্য আর কিছুক্ষন নেড়েচেড়ে দিয়েছিলাম।
❖কলার থোড়ের ঘন্ট রেসিপিটা তৈরি হয়ে গেলে আমি নামিয়ে নিয়েছিলাম এবং পরে ঘন্ট পুরোটাই একটি পাত্রে তুলে নিয়েছিলাম পরিবেশনের জন্য।
রেসিপি বাই, @winkles
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |




কলার থোড়ের রেসিপি দেখে খুবই সুস্বাদু মনে হচ্ছে। আপনি খুবই মজাদার রেসিপি তৈরি করেছেন।দাদা আসলেই আপনার রেসিপির পরিবেশনে আমার খুবই ভালো লেগেছে। কারণ আপনার রেসিপি পরিবেশন গুলো দেখে খুব সহজেই আমরা শিখতে পারি। কলার থোড়ের রেসিপি আমি কিছুদিন আগে খেয়েছি, তবে আপনার মত এভাবে তৈরি করা হয়নি। তাই আপনাদের পরিবেশন দেখে আমি শিখে নিলাম। পরবর্তীতে তৈরি করব ইনশাল্লাহ।আপনার সুস্বাদু রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
দাদা আপনার সুস্বাদু রেসিপি দেখে জিভে জল চলে আসলো। আমি অনেক আগে একদম গাছ থেকে পেরে এভাবে রেসিপি তৈরি করেছিলাম। তবে আমি ভাত দিয়ে খেয়েছি আর খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। আপনার প্রতিটা পোস্ট পড়ে কিছু না কিছু শেখা যায়। আজ কলার থোড়ের উপকারিতা জানতে পারলাম। যদি আবা এই রেসিপি তৈরি করা হয় তাহলে অবশ্যই রুটি দিয়ে খেয়ে দেখবো। রুটি দিয়ে খেতে নিশ্চয়ই অনেক সুস্বাদু লেগেছিল। ধন্যবাদ দাদা মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
দাদা আপনার রেসিপি দেখে বেশ লোভনীয় লাগছে।আপনি কলার থোড়ের ঘন্ট করেছেন।খেতে বেশ মজার হয়েছিল বেশ বুঝতে পারছি। আমি বাড়িতে গিয়ে খেয়েছিলাম অনেক আগে চিংড়ি মাছ দিয়ে বেশ মজা লেগেছিল।কলার থোর শুধু খেতেই মজা তা নয়।এর অনেক গুনের কথা আপনার পোস্ট পড়ে জানতে পারলাম। আসলে এসব খাবার আমাদের খাওয়া উচিত। একটি উপকারী খাবারের পোস্ট আজ শেয়ার করলেন,খুব ভাল লাগলো। খুব সুন্দরভাবে রেসিপিটি ধাপে ধাপে তুলে ধরেছেন।ধন্যবাদ দাদা শেয়ার করার জন্য।
কলার থোড়ের রেসিপি আমার কাছেও খেতে খুবই ভালো লাগে। কলার থোড় আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তবে চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করলে খেতে বেশি সুস্বাদু হয়। আমরা এর রেসিপি ভাতের সাথে খাই। কখনো রুটি দিয়ে খাওয়া হয়নি। আপনার রেসিপি দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। ধন্যবাদ আপনাকে সুস্বাদু ও মজাদার একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনি ঠিকই বলেছেন হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিতে অনেক সাহায্য করে এই কলার থোড়। আমাদের এদিকে তো আমরা গাছ থেকে তাজা কলার থোড় পেড়ে নিয়ে রান্না করি। আসলে যাদের বাড়িতে গাছ আছে তারা তাজা খেতে পারে এবং তাজা খেতেও ভীষণ ভালো লাগে রান্না করে যখন খুশি তখন খাওয়া যায়। এরকম একটা মজাদার রেসিপি দেখে আমি তো লোভ সামলাতে পারছি না। কলার থোড়ের রেসিপি আমি একটু বেশি পছন্দ করি খেতে। আপনার রেসিপি গুলো এমনিতেই খুবই ইউনিক এবং লোভনীয় হয়। এই রেসিপিটা দেখে বুঝতে পারছি খুবই সুস্বাদু এবং ইয়াম্মি হয়েছে। আপনি তাহলে এই কলার থোড়ের রেসিপিটা রুটি দিয়ে খেয়েছিলেন। রুটি দিয়ে খেতেও এরকম রেসিপি ভালো লাগে। বুঝতে পারছি বেশ মজা করেই খেয়েছেন। আপনার আজকের সম্পূর্ণ রেসিপি পোস্ট পড়ে অসম্ভব ভালো লেগেছে।
দাদা আমরা তো এটা কে বলি কলার ভারালি। আর কলার থোড় বলি কলার সাথে লাল রঙের ফুল যেটি বের হয় সেটি কে। সে যাই হোক কলার থোড় খেতে কিন্তু খুবই মজার। আমার আম্মু সব সময় দেখি এর সাথে চিংড়ি মাছ এবং লাউ শাক দিয়ে রান্না করে খেতে খুবই মজা লাগে। আপনি আজ খুব চমৎকারভাবে আলু দিয়ে কলার থোড় নিরামিষ ঘন্ট তৈরি করেছেন ।তা আবার রুটি দিয়ে খেয়েছেন আমি কিন্তু রুটি দিয়ে কখনো খেয়ে দেখিনি। খেতে নিশ্চয়ই অনেক মজা লেগেছে। তবে এর যে এত উপকারিতা আছে তা আজ আপনার সুন্দর তথ্য গুলোর মাধ্যমে জানতে পারলাম। খুবই ভালো লাগলো রেসিপিটি দেখে।
কলার থোড় এভাবে ভাজি করলে খেতে সত্যি দারুন লাগে। আসলে বাজার থেকে কিনে আনা কলার থোড় গুলো কয়েকদিন রাখলে শুকিয়ে যায়। আর যাদের বাসায় কলা গাছ আছে তারা টাটকা কলার থোড় খেতে পারে। সত্যি দাদা আপনি সবসময় ভিন্ন ধরনের রেসিপি গুলোই আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেন। আসলে মাঝে মাঝে পুরনো খাবার গুলো দেখলে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায়। এখন হয়তো আমরা অনেক কিছুই খাই না। কিংবা শহরে থাকার কারণে এগুলো খুঁজেই পাইনা। কিন্তু ছোটবেলায় কলার থোড় আর কলার মোচা খেতে সত্যি দারুন লাগতো। গরম ভাতের সাথে কিংবা রুটির সাথে এই কলার থোড় খেতে সত্যি অনেক ভালো লাগে। খুবই মজার একটি রেসিপি আমাদের সকলের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি দাদা।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
কলার থোড় বা মোচা ভাজি করে খেতে খুব ভালো লাগে। আমিও কয়েকদিন আগে খেয়েছিলাম। কলার থোড়ের ঘন্ট রেসিপিটা চমৎকার হয়েছে দাদা। গরম গরম রুটি দিয়ে এই রেসিপিটা খেতে দারুণ লাগবে। এতো মজাদার একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
আপনার এত সুন্দর সুন্দর রেসিপি গুলো দেখলে জিভে জল চলে আসে। আসলেই ঠিক বলেছেন কলার থোড় সাধারণ হলেও কিন্তু এর উপকারিতা অনেক বেশি। কারন আমি নিজেই এটাকে অনেক বেশি পছন্দ করি। অবশ্য আপনি যতগুলো উপকারিতা বলেছেন এগুলো আমার জানা ছিল না। আপনার পোস্টের মাধ্যমে আরো অনেক কিছু জানতে পারলাম। আবার কিছু কিছু জিনিস কিন্তু সত্যিই চিংড়ি ছাড়া ভালোই লাগে না। কিন্তু আজকে খুব সাধারণভাবে হলেও রেসিপিটা দেখতে কিন্তু অসাধারণ লাগছে। তাছাড়া ঠিক বলেছেন নিজের কাছে হলে বেশি সুবিধা। একদম ফ্রেশ পাওয়া যাবে। কিছুদিন আগে আমাদের কলার থোড় দিয়ে একটা রেসিপি করেছিল। আমার কাছে ভীষণ মজা লেগেছিল খেতে। আপনার রেসিপিটাও খুব দারুণ লেগেছে।