ওয়েব সিরিজ রিভিউ: ব্যাধ ( পর্ব ২ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে 'ব্যাধ' ওয়েব সিরিজটির দ্বিতীয় পর্ব রিভিউ দেব। এই পর্বের নাম হলো "ফল অফ এ স্প্যারো"। গত পর্বে লাস্ট দেখেছিলাম যে সৌভিক তথা তাদের আনইউসিয়াল কেসের ডিপার্টমেন্ট-এ একটা কেস আসে। আর সেই কেসটা কিসের সেটা দেখা যাক।
✠কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:✠
❂মূল কাহিনী:❂
এখানে আসলে তাদের কাছে যখন একটা ভালো কেস এসেছে তখন তাদের মনে হয়েছিল যেন, না এইবার এতো বছর বাদে মনে হয় কোনো মার্ডার এর কেস এসেছে। কিন্তু বিষয়টা হলো, এসেছে তো এসেছে খুবই অদ্ভুত ধরণের একটা কেস। এখানে আসলে তাদের ডিপার্টমেন্ট যেমন সেইরকমই একটা কেস আসে, যা আসলে পুলিশের এইসব বিষয়ে তেমন কোনো গুরুত্ব থাকে না। বেশ কিছু গ্রামে গত এক মাসে অনেক চড়াই পাখি মারা যাচ্ছে, যেটা গ্রামের অনেক জনসাধারণের সামনে এসেছে, তবে সেই মরার সংখ্যাটা খুবই বেশি। এখন তাদের ডিপার্টমেন্টে যে হেড সে সৌভিক আর কানাইকে এই কেসটা দেয় সল্ভ করার জন্য। কেসটা অদ্ভুত হলেও তাদের এখন এই কেসটার বিষয়ে দেখতে হবে। প্রথমে তাদের এই রামদিহি গ্রামে যেতে বলে আর সেখানকার বিষয়ে খোঁজ নিতে বলে যে, আসলে মূল কারণটা কি। তারা দুইজন হাওড়া থেকে ট্রেন করে সেই গ্রামের উদ্দেশ্যে যায় এবং প্রথমে তারা সেখানকার লোকাল থানায় যে অফিসার আছে, তার সাথে দেখা করে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
এরপর যে দীঘির পাড়ে চড়াই পাখিগুলো মারা গিয়েছে সেখানে দেখায়, হাতে গোনা কয়েকটা চড়াই পাখি সেখানকার জনসাধারণ বরফ দিয়ে রেখে দেয় প্রমাণস্বরূপ। তবে তাদের ধারণা যে, এই চড়াই পাখিগুলোকে যে মারা হয়েছে সেটা গলার নালী সরাসরি কেটে দিয়েছে এবং এটা অবশ্যই কোনো ন্যাচারাল মৃত্যু না। এরপর কানাই আর সৌভিক বিষয়টা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করে দেখে যে, এই বিষয়ে ক্লিয়ার ধারণা পেতে গেলে আগে এই মৃত বডিগুলো পোস্টমর্টেম এর ব্যবস্থা করতে হবে, তাই তারা সেখান থেকে পরের ট্রেন ধরে কলকাতায় চলে যায় আর তাদের একজন পরিচিতের কাছে দেয় এইগুলোর রিপোর্ট তৈরি করার জন্য। কিন্তু সে আবার এই কাজ করতে চায় না, কারণ পাখির পোস্টমর্টেম একটা হাস্যকর বিষয় হয়ে যায়।
বিষয়টা আসলে এইরকম হলেও তাদের ইনভেস্টিগেশন স্বরূপ এই কাজটা করতে হয়। এখন কিছু ঘন্টার মধ্যে তাদের এই রিপোর্ট দিলেও আসলে কি উদ্দেশ্যে মারা হচ্ছে সেটা জানতে হলে এই কোনো পাখি বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। আর কানাই এর একজন জানাশোনা এক্সপার্ট আছে যে বারাসাতে থাকে, সেখানে গিয়ে তারা দেখা করে কথা বলে। তবে তার মতে বিষয়টা দাঁড়ায় যে, সমস্ত গ্রামে এতো চড়াই পাখি মারা যাচ্চে সেটা মোটেও স্বাভাবিক বিষয় না। আর এটা পাখির মৃত্যু হোক আর মানুষের মৃত্যু হোক, সেটা যদি কেউ ঠান্ডা মাথায় করে থাকে, তাহলে সেটা মার্ডারই, বিষয়টা একই পর্যায়ে দাঁড়ায় ।
❂ব্যক্তিগত মতামত:❂
এই পর্বের মেইন বিষয়টা এটাই ছিল চড়াই পাখির পতন নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত গ্রামের দিকে বিভিন্ন স্থানে এই চড়াই পাখির অসংখ্য মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে, আর এটা কেউ একজন ইচ্ছাকৃত মারছে সেটা নিশ্চিত। প্রথমের দিকে রামদিহি গ্রামে দীঘির পাড়ে একটি ছোট বাচ্চা যে লোকটাকে দেখেছিলো, সেই মূলত এটা করেছে। আর এটা পুলিশের কাছে বলেও। তবে এই লোকটার একটা মেইন কোনো উদ্দেশ্য আছে এইসব পাখিদের মারার পিছনে সেটা বোঝা যাচ্ছে । কিন্তু মেইন মোটিভটা কি সেটা সবার কাছেই অজানা। এই বিষয়ে এখন ইনভেস্টিগেশন করার পরেই বোঝা যাবে। এই সিরিজটা একটু অদ্ভুত টাইপের, তবে এই সিরিজের গল্পের অর্থ না বুঝতে পারলে কিছুই বোঝা যাবে না।
❂ব্যক্তিগত রেটিং:❂
৭.৭/১০
❂ট্রেইলার লিঙ্ক:❂



Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
দাদা আজকে আপনি ব্যাধ ওয়েব সিরিজটির দ্বিতীয় পর্ব আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন দেখে আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। অনেক সুন্দর করে আপনি এই পর্বটা আমাদের মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন। এই ওয়েব সিরিজটার প্রথম পর্ব যেহেতু আমার পড়া হয়েছিল তাই দ্বিতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। এখানে তো দেখছি ওই লোকটা প্রত্যেকটা পাখিকে মেরে ফেলেছে। যেখানে নিশ্চয়ই তার কোনো না কোনো একটা বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। না হলে সে কেনই বা এতগুলো পাখিকে মারতে যাবে। এখন তো দেখছি এই বিষয়গুলোর উপর ইনভেস্টিগেশন চলছে। দেখা যাক কোন সূত্রটা পাওয়া যায় এবং লোকটার উদ্দেশ্যে কোনো কিছু জানা যায় কিনা পরবর্তীতে। দাদা আপনার এই ওয়েব সিরিজের পরবর্তী পর্ব টা পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে থাকলাম। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি আমাদের মাঝে এই ওয়েব সিরিজের পরবর্তী পর্ব শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ দাদা
দাদা আপনি অনেক সুন্দর করে মুভিটার রিভিউ শেয়ার করেছেন। সময় পেলে আমি অবশ্যই চেষ্টা করব এই মুভিটার দ্বিতীয় পর্ব দেখে নেওয়ার। দাদা আমি আসলে সব সময় চেষ্টা করি আপনার পোস্টগুলো পড়ার। আপনি সব সময় আমাদের মাঝে অনেক সুন্দর করে পোস্টগুলো শেয়ার করে থাকেন সব রকমের। আর নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সব কাজ করার চেষ্টা করেন যেগুলো অনেক সুন্দর হয়। এই মুভিটার প্রথম পর্ব যখন পড়েছিলাম তখন এর দ্বিতীয় পর্বে কি হবে তা জানার আগ্রহ অনেক বেশি বেড়েছিল। কিন্তু এখন তো দেখছি অন্য একটা রহস্য রয়ে গিয়েছে। ইনভেস্টিগেশন করার পরে আশা করছি এসব কিছু বুঝা যাবে স্পষ্টভাবে। এটা কিন্তু সত্যি বলেছেন দাদা এই সিরিজটা বেশ অদ্ভুত টাইপের। তবে যাই হোক পরবর্তী পর্বে অনেক কিছু স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে আশা করছি।
দাদা এই সিরিজের আগের পর্বের অনেক রহস্য রয়ে গেছে। লাষ্টের দিকে অনেক প্রশ্ন জমা হয়েছিলো। যে লোকটাকে রামদিহি গ্রামে দীঘির পাড়ে একটি ছোট বাচ্চা দেখেছিলো তার কি হলো সেটা জানা হলো না। তার উপর আবার পাখি মারা রহস্য সামনে চলে আসলো। শ্চিমবঙ্গের সমস্ত গ্রামের দিকে বিভিন্ন স্থানে চড়াই পাখির অসংখ্য মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে, আর এটা কেউ একজন ইচ্ছাকৃত মারছে সেটা নিশ্চিত ভাবেই বুঝা যাচ্ছে। এখানে আগের ঘটনার ইনভেস্টিগেশন কি হলো সেটা জানা গেল না। এখন আবার পাখির ঘটনা নিয়ে ইনভেস্টিগেশন করতে হবে। পাখি মারার কাজটা ঐলোকটাই করতে পারে। কারন সে হয়তো সবার নজর ঘুরিয়ে পাখির দিকে নিতে চাচ্ছে। তাহলে তার খুন করার ঘটনাটা চাপা পড়ে যাবে। এখন পুলিশের ইনভেস্টিগেশনে কি উঠে আসে সেটাই দেখা যাক। এই সিরিজের একটি পর্ব পড়া বাদ গেলেই রহস্য গুলো বুঝা কঠিন হয়ে যাবে। ধন্যবাদ দাদা।