সাগরের অদম্য মানসিকতার গল্প (চতুর্থ পর্ব)। ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য।
লোকটার প্রস্তাব শুনে সাগরের চোখে পানি চলে আসে। তার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে থাকে। সাগর বলে স্যার আপনার অনেক মেহেরবানি। আসলে এরকম কোন কাজ পেলে আমার জন্য অনেক সুবিধা হয়। লোকটা সাগর কে বলে তোমাকে আর রিকশা চালাতে হবে না। কাল থেকে তুমি আমার দোকানে বসবে। দোকানতো তুমি আজকে চিনেই গেলে। কাল সকাল দশটার ভিতরে চলে এসো।
সাগর অত্যন্ত খুশি হয়ে বাড়িতে ফিরে যায়। সাগরের মা ওকে আজ সকাল সকাল দেখে জিজ্ঞেস করে কিরে আজ এত তাড়াতাড়ি ফিরে এলি যে? সাগর বলে মা অন্য একটা কাজ পেয়েছি। কাল থেকে আর এত পরিশ্রম হবে না। আর আমি আবার আমার লেখাপড়া করতে পারব। পরের দিন সকাল ৯ টার ভিতরে সাগর দোকানে পৌঁছে যায়। দোকানটি একটি রড সিমেন্টের দোকান। সাগর দোকানের সামনে পৌঁছে মালিকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
দোকানের মালিক এসে দেখে সাগর আগে থেকেই দাঁড়িয়ে আছে। এটা দেখে সে খুব খুশি হয়। সে বুঝতে পারে সাগরের ভেতর ভালো কিছু করার স্পৃহা আছে। সে সাগরকে তার কাজ বুঝিয়ে দিতে থাকে। কয়েকদিনের ভিতরে সাগর দোকানের সমস্ত কাজ শিখে নেয়। লোকটা খেয়াল করে দেখে সাগর হিসাবে খুবই পারদর্শী। আর ছেলেটা খুবই বিশ্বস্ত। কারণ এর আগে সে দোকানে যত লোক রেখেছে তারা সবাই সুযোগ পেলেই টাকাপয়সা মেরেছে। কিন্তু সে সাগরকে কিছু সুযোগ দিয়ে দেখেছে। সাগর প্রত্যেকটা টাকার হিসাব তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে। এটা দেখে লোকটার সাগরের উপর আস্থা জমে গিয়েছে।
সাগর দোকানের কাজের ফাঁকে ফাঁকে তার লেখাপড়াটাও চালিয়ে যাচ্ছিল। লোকটা একদিন সাগরকে বলল তুমিতো অঙ্কে খুবই ভালো। আমার মেয়েটা অঙ্কে খুব কাঁচা। তুমি যদি একটু ওকে অঙ্ক দেখিয়ে দিতে। তাহলে খুব ভালো হতো। সাগর সাথে সাথে রাজি হয়ে যায়। কারণ এই লোকটা তার যে উপকার করেছে সেটা সে কখনো ভুলতে পারবে না। পরদিন থেকেই সাগর সন্ধ্যার সময় মালিকের মেয়েকে পড়াতে যায়। সেই সময়ে মালিক নিজেই দোকানে থাকে।
মেয়েটা ক্লাস টেনে পড়ে। সামনে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। সাগর দু এক দিন পড়ানোর পর বুঝতে পারলো যে মেয়েটা আসলে অঙ্কে অনেক কাঁচা। সাগর তাকে খুব মনোযোগ দিয়ে পড়াতে লাগলো। প্রথম কিছুদিন মেয়েটা বেশ ভালোই পড়ালেখা করলো। কিছুদিন যাওয়ার পর সাগর খেয়াল করে দেখল মেয়েটার পড়ালেখায় খুব একটা মনোযোগ নেই। সব সময় শুধু নানা রকম বিষয় নিয়ে গল্প করতে চায়। সাগরের একটু অস্বস্তি লাগতে লাগলো। মেয়েটা দেখতে যথেষ্ট সুন্দরী। এইজন্য সাগরের অস্বস্তি একটু বেশি ছিল। মেয়েটার ব্যবহার দিন দিন সাগরের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠলো।
সাগর বুঝতে পারল মেয়েটা তাকে কিছু বলতে চায়। পড়ালেখায় তার মোটেই মনোযোগ নেই। সাগর চিন্তা করছিল কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়। তার পক্ষে তার মালিককে বলা সম্ভব না যে সে তার মেয়েকে পড়াতে চায় না। আবার পরিস্থিতি এরকম চলতে থাকলে যে কোন খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে। সাগরের মন ও আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল মেয়েটার প্রতি। এর ভেতর মেয়েটা একদিন সাগরকে তার ভালোবাসার কথা জানিয়ে দিলো।
সাগর এই প্রস্তাব পেয়ে দিশেহারা বোধ করছিল। সে এখন কি করবে? সে মেয়েটাকে পড়ানো বাদ দিতে পারবে না। আবার মেয়েটার প্রস্তাবে সাড়া দেয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ মেয়েটার বাবার কাছে সে অনেক কৃতজ্ঞ। তার কারণেই সাগর এখন আবার লেখাপড়ায় মন দিতে পারছে। এই বিষয়টা নিয়ে সাগরের মন খুবই অস্থির হয়ে আছে। সে এখন কি করবে তা বুঝতে পারছে না।
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩
আমি রূপক। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি বাঙালি। আমি বাংলায় মনের ভাব প্রকাশ করতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকেও ভালোবাসি।
ভাইয়া সর্ব প্রথমে আপনাকে জানাই অত্যন্ত ধন্যবাদ। সুন্দর একটি গল্প আমাদের মাঝে উপহার দেওয়ার জন্য। মেয়েটি ও সাগরের বিষয়টি কি হবে এটি জানার জন্য মনের ভিতর অনেক কৌতূহল জন্মাচ্ছে। নেক্সট পার্ট এর জন্য অপেক্ষায় থাকলাম ভাইয়া ❤️ কিছু মনে না করলে একটা কথা বলতাম নেক্সট পার্ট পোস্ট করার আগে আমাকে একটু মেনশন দিয়েন ভাইয়া😁😁❤️
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ব্যাপার গুলো খুবই কমন হয়ে গেছে। অনেকের কাছেই এটা এখন গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে না পারে কিছু বলতে না পারে কিছু করতে। গল্পটি পড়ে এমন মনে হলো যেনো শেষ হইয়াও শেষ হলোনা এমন। পরবর্তী অংশের জন্য অপেক্ষায় রইলাম
নেক্সট পর্বের জন্য অপেক্ষা করছি ভাইয়া
অনেক বেশি ভালো লাগছে গল্পটি,জাস্ট অসাধারণ।
যখন গল্পটি পড়ছিলাম নিজেকে সাগরের রূপে কল্পনা করে পড়ছি। অনেক ভালো লাগছে। প্রথমে আগের পার্টগুলো পড়লাম তার পর এই পার্ট পড়লাম খুব ভালো লিখছেন ভাই। পরের পার্টের অপেক্ষায় রইলাম। ❤️❤️
খুবই সুন্দর হয়েছে ভাইয়া গল্পটি। পড়ে বেশ মজা পাচ্ছিলাম।
এই লাইনটা পড়েই বুঝতে পারছিলাম সামনে কি হতে যাচ্ছে😅😅😅। খুবই সাসপেন্সপূর্ণ একটি জায়গায় শেষ করেছেন আজকের পর্ব টি। অধীর ভাবে আগামী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
বাহ আশ্চর্যজনক, আপনার বিষয়বস্তু খুব ভাল এবং ফটোগুলি সুন্দর দেখাচ্ছে