ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে পদ্মা নদীতে ট্রলার ভ্রমণ (দ্বিতীয় পর্ব)।

কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।


প্রথম পর্বের লিংক


কিন্তু নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছে শুনতে পেলাম খিচুড়ি এখনো রান্না করা হয়নি। আরো আধা ঘন্টা সময় লাগবে। আমি সর্বদা সময় মেনে চলতে পছন্দ করি। এই কারণে কেউ যদি তার দেয়া কমিটমেন্ট রক্ষা না করতে পারে তাহলে আমার খুবই মেজাজ খারাপ হয়। যাই হোক কি আর করা? যেহেতু রান্না হয়নি তাই আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর উপায় ছিল না। তাছাড়া এর ভিতরে ট্রলার ভ্রমণে যাদের যাওয়ার কথা তারা সবাই এসে উপস্থিত হয়নি। সেজন্য চিন্তা করলাম রান্না হতে হতে সবাইকে আরো একবার ফোন দিয়ে নির্ধারিত জায়গায় আসতে বলি। সবাইকে ফোন দেয়ার পর আমি আর রাসেল দুজন মিলে গেলাম টুকিটাকি কিছু জিনিস কিনতে।

IMG_20230424_113621.jpg

আমি অবশ্য আগেই বন্ধু প্রদীপকে ফোন দিয়ে বলে রেখেছিলাম কোল্ড্রিংস গুলো যেন কোন একটা দোকানের ডিপ ফ্রিজে রেখে দেয়। কিন্তু পরে জানতে পারলাম সে এটা বেমালুম ভুলে গিয়েছে। মেজাজ আরো এক দফা খারাপ হলো। কোল্ড্রিংস আগে থেকে ডিপ ফ্রিজে রাখতে বলার কারণ হচ্ছে। আমরা যখন কোল্ড ড্রিংকস খাব তখন বেলা দুটো আড়াইটে বেজে যাবে আমরা যদি এখন ফ্রিজের কোন নরমাল কোল্ড ড্রিংকস নেই তাহলে আমাদের খাওয়ার সময় হতে হতে সেটা আর ঠান্ডা থাকবে না। তখন খেয়েও মজা পাওয়া যাবে না। এই কারণে মেজাজটা আরো বেশি খারাপ হয়েছিল। যাইহোক যেহেতু সে কোন ব্যবস্থা করেনি তাই আমি আর রাসেল দুজন মিলে খাওয়ার পানি, কোল্ড ড্রিংকস, চিপস বিস্কিট এগুলো কিনে নিলাম।

IMG_20230424_114055.jpg

এগুলো কিনতে কিনতে সবাই এসে সেখানে উপস্থিত হোলো। আমাদের পরিকল্পনা ছিল আমরা কয়েকজন আমাদের এলাকার কাছ থেকে ট্রলারে উঠবো। আর রাফসান ওর এলাকার কয়েকজন সহ ওদের এলাকা থেকে উঠবে। এর ভেতরে বন্ধু প্রদীপ ফোন দিয়ে বলল রান্না হয়ে গিয়েছে। তখন আমরা সকলে মিলে একটি অটো রিক্সা এবং একটি রিক্সা নিয়ে সমস্ত মালপত্র সেগুলোতে উঠিয়ে ট্রলার যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সে জায়গার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। জায়গাটি খুব একটা বেশি দূরে নয়। যার ফলে সেখানে আমরা অল্প সময়ে পৌঁছে গেলাম। অবশ্য সেখানে যাওয়ার আগে আমি বন্ধু রাফসানকে ফোন দিয়ে বলেছিলাম তোরা আগে থেকেই জায়গা মত থাকিস। নদীর ঘাটে আমরা পৌঁছে দেখি ট্রলার চরের পাশে ভেড়ানো রয়েছে। ট্রলার পর্যন্ত পৌঁছাতে হলে আমাদেরকে বেশ খানিকটা পথ হাঁটতে হবে। আমাদের সাথে বেশ কিছু জিনিসপত্র ছিলো। সবাই ভাগাভাগি করে সেই জিনিসপত্র গুলো হাতে নিয়ে ট্রলারের উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলাম।

IMG_20230424_114515.jpg

কিছুক্ষণের ভেতরেই আমরা ট্রলারে পৌঁছে গেলাম। আমরা ট্রলারে উঠে বসার কিছুক্ষণ পরে ট্রলার ওয়ালা ট্রলার ছেড়ে দিল। আমরা তাকে বললাম প্রথমে সাইনবোর্ড নামক এলাকার উদ্দেশ্যে চলেন। কারণ সেখান থেকে আমাদের আরো কয়েকজন বন্ধু বান্ধব উঠবে। ট্রলার ওয়ালা আমাদের দেখে বেশ অবাক হলো। কারণ আমরা সেখান থেকে ট্রলারে উঠেছিলাম মাত্র ৬ জন। আমরা যে ট্রলারগুলো ভাড়া করেছিলাম সেগুলি আকারে বেশ বড়। এই সমস্ত ট্রলারে করে ৬০-৭০ জন থেকে শুরু করে ১০০ জন পর্যন্ত পিকনিক করতে যায়। এই কারণেই ট্রলারওয়ালা আমাদের দেখে বেশ অবাক হয়েছিলো। আমরা সকলে ট্রলারে উঠে ট্রলারের ছাউনির নিচে বসে ছিলাম। কারণ বাইরে তখন বেশ রোদ। যাই হোক ট্রলার চলতে শুরু করলে সবাই ট্রলারে সামনে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ বা ছাদে উঠে চারপাশের ছবি তুলতে লাগলো।

IMG_20230424_150457.jpg

আমাদের ট্রলার চলছিল আর আমরা চারপাশের দৃশ্যগুলো মুগ্ধ নয়নে দেখছিলাম। আমরা যেদিন ট্রলার ভ্রমণে গিয়েছিলাম সেদিনটা ছিল ঘোরাফেরার জন্য একদম পারফেক্ট। অতিরিক্ত গরম ছিল না আবার ঠান্ডাও ছিল না। ট্রলার চলতে শুরু করলে নদীর খোলা হাওয়ায় আমাদের মন প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছিল। আমরা সকলে বসে তখন নিজেদের ভেতর নানা বিষয় নিয়ে গল্প করছিলাম। যেহেতু বাইরে অনেক রোদ তাই সকলে ছাউনির নিচেই বসে ছিলাম। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে অবশ্য আমরা সবাই চারপাশের কোন কিছু পছন্দ হলে সেটার ছবি তুলছিলাম। এভাবে চলতে চলতে ৪০ মিনিট পরে আমরা বন্ধু রাফ্সানের এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। তখন আমি রাফসানকে ফোন দিয়ে বললাম তোরা কোথায়? তোদের তো আমি দেখতে পাচ্ছি না। রাফসান বলল তোরা চলে এসেছিস নাকি? আমি বললাম কাছাকাছি চলে এসেছি। বুঝতে পারলাম রাফসান তখনো বাড়ি থেকে রওনা দেয়নি। তাই আমি তাকে তাড়া দিয়ে বললাম তাড়াতাড়ি ঘাটের কাছে চলে আয়। আমরা তোদের জন্য অপেক্ষা করছি।

IMG_20230424_114854.jpg

আমাদের ট্রলার ঘাটের কাছে পৌঁছানোর আগেই দেখি রাফসান সেখানে এসে হাজির হয়েছে। গতবার আমাদেরকে রাফসানের জন্য অনেকক্ষণ এই ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এবার তাকে সময় মতো দেখে বেশ ভালো লাগলো। রাফসানের এলাকার ঘাটে ট্রলার থামিয়ে আমরা সেখানে নেমে হালকা কিছু খেয়ে নিলাম। কেউ চা খেলেো, আমি খেয়েছিলাম কোল্ড ড্রিঙ্কস। তারপর সেখানকার একটি ছোট্ট দোকান থেকে গোসল করার জন্য সাবান শ্যাম্পু কিনে আমরা সকলে মিলে আবার ট্রলারে উঠে বসলাম। এদিকে রাফসান আসার আগে তাকে ফোন করে বলে দিয়েছিলাম কাঁচা আম লবণ আর চাকু সাথে করে নিয়ে আসতে। কারণ আমাদের সকলেরই কাঁচা আম খেতে ইচ্ছা করছিল। ওঠার পর দেখলাম রাফসান সাথে করে বেশ কিছু কাঁচা আম নিয়ে এসেছে। সাথে করে চাকু আর বিট লবনও এনেছে।

IMG_20230424_115035.jpg

ট্রলার চলতে শুরু করলে আমরা কয়েকজন আম কেটে খাওয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। দুপুরের এই গরমে কাঁচা আম বিট লবণ দিয়ে খেতে বেশ মজা লাগছিল। যদিও আমটা একটু বেশি টক ছিল। তারপরেও আমরা বেশ কিছুটা আম খেলাম। আমরা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম রাফসানরা ট্রলারে ওঠার পর আমরা আগে থেকেই পছন্দ করে রাখা একটি জায়গায় গিয়ে ট্রলার ভেড়াবো। যদি সেখানে পানি পরিস্কার থাকে তাহলে আমরা সেখানে গোসল করব। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক রাফসানদের এলাকা থেকে আমরা ধীরেসুস্থে সেই দিকে আগাতে লাগলাম। (চলবে)

ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসহুয়াই নোভা 2i
ফটোগ্রাফার@rupok
স্থানপদ্মা নদী

logo.png

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

standard_Discord_Zip.gif


break .png

Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote


VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png



🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩


@rupok

Sort:  
 3 years ago 

প্রথম পর্বে দেখেছিলাম পড়েছিলাম ৷ আজকে দ্বিতীয় পর্বে পড়ে অনেক ভালো লাগলো ভাই ৷ সবাই মিলে ট্রলার ভ্রমন দারুন অনুভুতি ৷ পানীয় খাবার কোল্ড ড্রিঙ্কস। এরপর দোকান থেকে সাবান নিয়ে স্নান সত্যি অসাধারণ ছিল৷ যা হোক পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা ৷

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

কাঁচা আম খাওয়ার কথা শুনেই তো জিভে জল চলে এসেছে ভাইয়া। আসলে দুপুর বেলার রোদে কাঁচা আম খেতে সত্যি ভালো লাগে। আর সাথে যদি হয় বিট লবণ আর কাঁচামরিচ তাহলে খেতে আরো বেশি মজার হয়। সবাই মিলে দারুন সময় কাটিয়েছেন বুঝতে পারছি। যাই হোক অবশেষে আপনার বন্ধু রাফসান ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পেরেছে জেনে ভালো লাগলো। আমি তো ভেবেছিলাম সে ঠিক সময়ে পৌঁছাতেই পারবেনা। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ভাইয়া।

 3 years ago 

আপনারা শেষ মেষ ট্রলারে উঠলেন দেখে খুব ভালো লাগলো। রাফসান ভাইয়া এবার তবে আগে ভাগেই এলো।আপনি কাঁচা আম নিয়ে আসতে বললেন।এটা ঠিক রোদে বসে টক কিছু খেতে বেশ ভালোই লাগে।আমিও আজ আম মাখানো খেয়েছি।আর আপনারা বিট লবন দিয়ে খেয়েছেন, খুব মজা। 😋আপনারা পছন্দের জায়গায় পানি পরিষ্কার হলে সেখানে নেমে গোসল করবেন।খুব সুন্দর ভাবে অনুভূতি গুলো শেয়ার করলেন ভাইয়া।অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

 3 years ago 

ভাইয়া পদ্মা নদীতে ট্রলার ভ্রমণের দ্বিতীয় পর্বটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। আসলে ভাইয়া যারা ব্যবস্থাপনায় থাকে, তারা যদি সময়ের কাজ সময় মতো না করতে পারে তাহলে মেজাজটা খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে ভাইয়া এবার রাফসান যে সময় মতো ঘাটে এসেছিল এটা জানতে পেরে খুবই ভালো লাগলো আমার। আর বিট লবনের সাথে কাঁচা আম খাওয়ার মজাই আলাদা। ভাইয়া পদ্মা নদীতে আপনাদের ট্রলার ভ্রমণের তৃতীয় পর্বটি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

 3 years ago 

পদ্মা নদীতে ট্রলার ভ্রমণের প্রথম পর্বটি আমার পড়া হয়নি, তবে দ্বিতীয় পর্বটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো। প্রথমদিকে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল তাতে সবারই মাথা গরম হওয়ার মতই, তবে শেষ পর্যন্ত যে আপনারা ট্রলারে করে খুব সুন্দর করে ঘুরেছেন আর আপনার বন্ধু রাফসান গত বছর দেরি করে আসলে এ বছরে ঠিক সময় মত এসে আপনাকে খুশি করে দিয়েছে এটা তো খুবই ভালো ব্যাপার ।আর সাথে করে সে আপনাদের সকলের জন্য বিট লবণ আর ছুড়ি নিয়ে এসেছে । ট্রলার করে ঘুরে আপনাদের সকলের অনেক মজা হয়েছে তা আপনাদের পোস্টটি পড়ে বুঝতে পারলাম।

 3 years ago 

শেষ পর্যন্ত আপনারা ট্রলার ভ্রমণে গিয়েছেন, এটা দেখে খুব ভালো লাগলো। যাবার সময় ভারী খাবারের পাশাপাশি শুকনো খাবার নিয়ে খুব ভালো করেছেন। কাঁচা আম বিট লবণ দিয়ে খেতে দারুণ লাগে। আমার তো ভেবেই জিভে পানি চলে এলো। আপনারা রাফসান ভাইয়ের এলাকা থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলেন এবং গোসলও করবেন নদীতে। সামনে তাহলে ইন্টারেস্টিং কিছু অপেক্ষা করছে। আশা করি পরবর্তী পর্ব খুব শীঘ্রই শেয়ার করবেন। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

গত বছরের ন্যায় আজকেও দেখছি এবার ঈদ উপলক্ষে ট্রলার ভ্রমনে গিয়েছিলেন বন্ধুদের সাথে। বেশ ভালো লাগলো আপনার আজকের এই পোস্ট করে এবং বেশ কিছু ধারণা অর্জন করতে পারলাম আপনার এই পোষ্টের মধ্য থেকে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 64620.43
ETH 1910.26
USDT 1.00
SBD 0.37