ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে পদ্মা নদীতে ট্রলার ভ্রমণ (প্রথম পর্ব)।

কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।


গত কয়েক বছর ধরে ঈদের পরে আমরা কিছু বন্ধুবান্ধব মিলে ট্রলার ভ্রমণ করি। ঈদের পরে করার কারণ হচ্ছে এই সময়ে ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের অনেক বন্ধু-বান্ধব এলাকায় আসে। সাধারণত সারা বছর যারা নিজ শহরের বাইরে থাকে তারা ঈদের ছুটিতে কিছুদিন বাড়িতে এসে থাকে। সেই সময় আমরা এই ট্রলার ভ্রমণ আয়োজনের চেষ্টা করি। যাতে বেশি বন্ধু-বান্ধব এখানে অংশ নিতে পারে। তাছাড়া দীর্ঘদিন পর বন্ধুবান্ধবদের সাথে দেখা হওয়ায় তাদের সাথে কিছুটা ভালো সময় কাটানো যায় এই ভ্রমণের মাধ্যমে।

IMG_20230424_121928.jpg

সেই ধারাবাহিকতায় এবারও আমরা কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব মিলে ট্রলার ভ্রমণে বেরিয়েছিলাম। একটা সময় ছিল যখন আমরা অনেক বন্ধু-বান্ধব মিলে এভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেতাম। কিন্তু আজ সবাই সংসার জীবনে ব্যস্ত হওয়ায় এখন এই ধরনের আয়োজনে আর বেশি বন্ধুবান্ধব অংশগ্রহণ করে না। তারপরেও আমরা ক্লোজ যে কয়জন আছি তারা মিলে চেষ্টা করি কিছুটা ভালো সময় কাটানোর। তবে আগে যখন ঘুরতে যেতাম তখন আমাদের দুই বন্ধু এই সমস্ত আয়োজন এর দায়িত্বে থাকতো। তখন আমি শুধু মজা করতাম। কোন দায়িত্ব ঘাড়ে নিতাম না। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আমি এই ট্রলার ভ্রমণের আয়োজন করার চেষ্টা করছি। কোন একটা কিছু আয়োজন করতে গেলে যে কি পরিমাণ দায়িত্ব ঘাড়ে এসে পড়ে। সেটা এই ট্রলার ভ্রমণের আয়োজন করতে গিয়ে সেটা আমি টের পেয়েছি।

IMG_20230424_115742.jpg

এখন আমি বুঝতে পারি যে সমস্ত বন্ধু-বান্ধব আগে আমাদের বিভিন্ন ট্যুর আয়োজন করতো তাদের কতটা কষ্ট হতো। আসলে যে কোন আয়োজন করতে হলে আপনাকে যথেষ্ট উদ্যমী হতে হবে। তাছাড়া আপনার সাথে আরও দু একজন মানুষ থাকতে হবে যারা আপনার বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবে। আমার সমস্যা হচ্ছে এই ধরনের মানুষ আমার আশেপাশে এখন বেশ কম। সেজন্য এই ট্রলার ভ্রমণের আয়োজন করতে গিয়ে আমাকে ছোটখাটো কিছু ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। অবশ্য শেষ পর্যন্ত সব ঝামেলা কাটিয়ে উঠে আমরা যে ট্রলার ভ্রমণ করতে পেরেছিলাম আমি তাতেই খুশি।

IMG_20230424_120746.jpg

আমি ফেরদৌস আর রাফসান এই তিনজন মিলে এই ট্রলার ভ্রমণের ব্যাপারে অনেক আগে থেকেই কথা বলছিলাম। ঈদের আগে যখন আরো কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব ঢাকা থেকে ফরিদপুরে ফিরল। তখন তাদের সাথেও আলাপ আলোচনা করলাম। তাদের ভেতর কয়েকজন সম্মতি জানালো ট্রলার ভ্রমণে যেতে। শেষ পর্যন্ত আমরা হিসাব করে দেখলাম ট্রলার ভ্রমণে আমাদের লোক সংখ্যা হবে ১৪/১৫ জন। সেই হিসেবেই আমি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এদিকে ট্রলার ভ্রমণে যেতে হলে অবশ্যই আগে থেকে একটি ট্রলার ঠিক করে রাখতে হবে। সে কারণে রমজানের শেষের দিকে আমি আর ফেরদৌস গিয়েছিলাম ট্রলার ঠিক করতে। তখন একজন লোকের সাথে মোটামুটি কথাবার্তা বলে এসেছিলাম। তবে তার ট্রলারটা আমাদের পুরোপুরি পছন্দ হয়েছিল না। সেই কারণে ঈদের পরদিন আমি বন্ধু প্রদীপকে সাথে নিয়ে গিয়ে সিএনবি ঘাটে গিয়ে দেখে শুনে একটি ট্রলার পছন্দ করে এডভান্স দিয়ে এসেছিলাম।

IMG_20230424_153803.jpg

ট্রলার ঠিক হওয়ার পর তখন আমাদের মাথায় চিন্তা ছিল খাওয়া দাওয়ার আয়োজন কি করা যায়? তবে আমরা সকলে একমত ছিলাম খাওয়া-দাওয়া নিয়ে খুব বেশি বাড়াবাড়ি করা যাবে না। তাহলে বেশি আনন্দ করা যাবে না। এজন্য আমরা খুব সাধারন খাবারের ব্যবস্থা করেছিলাম। খাবারের মেনুতে ছিল খিচুড়ি এবং মুরগির মাংস ভুনা আর সাথে সালাদ কোল্ড ড্রিংকস। সাথে আরো কিছু হালকা খাবার নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। খাবারের মেনু ঠিক হওয়ার পর এখন মাথায় চিন্তা এলো রান্না হবে কোথায়? সেই সমস্যার সমাধানে বন্ধু প্রদীপ এগিয়ে এলো। আমি প্রদীপকে বললাম তুই তোর বাড়ি থেকে খিচুড়ি রান্না করে নিয়ে আসবি। আমি আমার বাসা থেকে মুরগির মাংস রান্না করে নিয়ে আসবো। যেহেতু আমরা লোক খুব একটা বেশি না তাই আর বাবুর্চির দারস্থ হতে হয়নি।

IMG_20230424_153916.jpg

সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার পর আমি সেদিনের মত বাড়ি চলে গেলাম। পরদিন সকালবেলা উঠে যখন আমি সব বন্ধু-বান্ধবকে ফোন দিয়েছিলাম। এর ভেতর দুজন জানালো তারা তাদের কিছু কাজের কারণে যেতে পারবেনা। শেষ মুহূর্তে এই ধরনের কথা শুনলে কারোই মেজাজটা ঠিক থাকে না। তার পরেও কি আর করা। কেউ না যেতে চাইলে তাকে তো আর জোর করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। তাছাড়া আমরা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম শেষ পর্যন্ত আমরা যে কয়জনই হই রওনা দিয়ে দেবো। অবশ্য রওনা না দিয়ে আমাদের উপায় ছিল না। কারণ সমস্ত আয়োজন করা শেষ হয়ে গিয়েছিলো। আমি আগের দিন ফোনে বন্ধুর রাসেলকে বলে রেখেছিলাম তুই সরাসরি আমার বাড়িতে চলে আসিস। কারণ এখান থেকে খাবার দাবার নিয়ে যেতে হবে। সেটা আমার একার পক্ষে নিয়ে মুশকিল হবে। রাসেল সময় মতোই আমার বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়েছিল। রান্নাবান্না শেষ হওয়ার পরে আমি সবাইকে আবার একবার ফোনে মনে করিয়ে দিলাম। সবাইকে বললাম নির্ধারিত জায়গায় সময় মতো চলে আসতে। এর ভিতরে একবার ট্রলার ওয়ালার সাথেও ফোনে কথা বলে তাকে জায়গা মত থাকতে বলেছিলাম। (চলবে)

ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসহুয়াই নোভা 2i
ফটোগ্রাফার@rupok
স্থানপদ্মা নদী

logo.png

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

standard_Discord_Zip.gif


break .png

Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote


VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png



🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩


@rupok

Sort:  
 3 years ago 

কোন একটা আয়োজন করতে গেলে যে কি পরিমান ঝামেলা হয় সেটা আমি উপলব্ধি করতে পারছি, কারণ শুধু বন্ধু-বান্ধব নয় আরো যতগুলো জায়গায় আমি অবস্থান করি প্রায় সবগুলোতেই আয়োজনের দায়িত্ব গুলো আংশিক হলেও আমাকে নিতেই হয়। তবে বিষয়গুলোর মধ্যে ইনজয় করার অনেক জায়গা আছে, আমার কখনো ট্রলার ভ্রমণ করা হয়নি এটা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেল।

 3 years ago 

বন্ধুদের সাথে ট্রলার ভ্রমন দারুন সময় অতিবাহিত করেছেন ঈদে ৷ আসলে জীবন জীবিকা তাগিদে সবাইকে যেতে হয় নানা জায়গায় ৷ আর এই ঈদে সবাই নিজ নীরে ফেরা ৷ যা হোক নদীতে ট্রলার করে ঘুরতে ভালো লাগে ৷ পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা৷

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

আসলে ভাইয়া যে কোন কাজের দায়িত্ব নিয়ে সে কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা নিঃসন্দেহে একটি কঠিন কাজ। যাহোক ভাইয়া, আপনি খুবই সুন্দর হবে আপনার বন্ধুদের সাথে পদ্মা নদীতে ট্রলার ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছিলেন। একই সাথে পদ্মা নদীতে ট্রলার ভ্রমণের সময় সাথে হালকা খাবার নেওয়ার বিষয়টা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। ভাইয়া পদ্মা নদীতে আপনাদের ট্রলার ভ্রমণের দ্বিতীয় পর্বটি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

 3 years ago 

আপনি দারুন ঘোরাঘুরি করেন ভাইয়া। ঈদে সবাই ছুটিতে এলে আপনারা ট্রলার ভ্রমন করেন সবাই মিলে, খুবই ভালো।জীবনে ইনজয়ের দরকার আছে।কিন্তু একসাথে সবাইকে পাওয়া ও কিন্তু খুব কঠিন কাজ।আপনারা খাবার নিয়ে ভ্রমনে বের হবেন সব আয়োজন করলেন।আপনার ট্রলারে ভ্রমনের অনুভূতি পড়ে ভালো ও লাগলো আবার কিছুটা কষ্টও লাগলো।সবাইকে কেন আবার ফোন দিতে হবে। সবার মাঝেই স্বতঃস্ফূর্ততা সমান থাকা জরুরী নয়ত ভালো লাগে না।যাক, অনেক ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

সবাই কে নিয়ে যে কোন আয়োজন করতে গেলে একটু ঝামেলায় পড়তে হয়। যাই হোক সবাইকে নিয়ে ঈদের মধ্যে ট্রলারে ভ্রমনের আইডিয়াটি কিন্তু বেশ। আর সবাই মিলে কোথাও ঘুরতে গেলে কিন্তু মজা আর মজা। তাও যদি হয় ট্রলারে ভ্রমন তাহলে তো কোন কথাই নেই। আপনাদের আনন্দ দেখে কিন্তু আমারও বেশ আনন্দ করতে মনে চাইছে।

 3 years ago 

বন্ধুদের নিয়ে পদ্মা নদীতে ট্রলার ভ্রমণের প্রথম পর্ব পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। আসলে কোন কিছুর দায়িত্ব নিজের কাঁধের উপর পড়লে বুঝা যায় সবকিছু। সবাইকে নিয়ে প্ল্যান করার পর শেষের দিকে যদি কেউ না যেতে চায়, তাহলে মেজাজ অবশ্য খারাপ হওয়ারই কথা। যাইহোক যে কয়জন হোক না কেন আপনারা যাবেন,এটা জেনে খুব ভালো লাগলো। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 65335.22
ETH 1948.43
USDT 1.00
SBD 0.37