ভ্রমণ।। নূরজাহান টি স্টেট এবং মাধপপুর লেক।।শেষ পর্ব ।।
নূরজাহান টি স্টেট একটি সম্পূর্ন প্রাইভেট চা বাগান। তবে এখানে নেমে ভিতরে না ঢুকে পর্যবেক্ষণ এবং ছবি তোলা যায়। আমরা অতি আগ্রহী বাঙালিরা যেখানে যাই কোন একটা ঝামেলা বাঁধিয়ে রাখি। কোন এক কাপল ছবি তুলতে তুলতে চা বাগানের মাঝখানে চলে গিয়েছিল। সেখানকার দায়িত্বরত লোকজন সেই কাপল সহ আমাদের সবাইকে এক প্রকার তাড়িয়ে দিল। যাই হোক আমাদেরও তাড়া ছিল তাই দ্রুত সেই বাগান ত্যাগ করলাম এবং রওয়ানা দিয়েছি মাধপপুর লেকের দিকে।
নূরজাহান টি স্টেট থেকে কিছুদূর যাওয়ার পর চিকন রাস্তা ধরে জিপ এগিয়ে যাচ্ছিল। রাস্তার ধারে পার হয়ে যাওয়া অনেক কিছু উপভোগ করছিলাম। এর মধ্যে কিছু গবাধি পশু যেমন গরু ছাগল দেখে ছবি তুলে নিলাম। চিকন রাস্তা ধরে কিছুদূর যেতেই আমাদের গন্তব্যস্থলে চলে এসেছি। সেখানে নেমেই পাহাড়ি আনারস দেখে লোভ লেগে গেল। সবাই একসাথে বলে উঠল আনারস খাব।
আনারস গুলো সাইজে অনেকটা ছোট ছিল। দাম চাইল ৪০ টাকা করে পিস। আমি আবার যেকোন জিনিস দামাদামি করে কিনতে পছন্দ করি। পরে দরদাম করে জোড়া প্রতি ৭০ টাকায় রাজি করালাম। আনারস খেয়ে ত মাথা নষ্ট। খুবই মিষ্টি এবং আনারসের সেই ঘ্রাণ নাকে লাগছিল। সবাই মিলে অনেকগুলো আনারস খেয়ে রওনা দিলাম মাধপপুর লেকের দিকে। এখান থেকে পায়ে হেঁটে যেতে হয়।
পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথে একটি দৃশ্য আমার কাছে নতুন লাগল তাই ছবি তুলে নিলাম। একটি চা বাগানের সবগুলো গাছ সম্পূর্ন কাটা। পরে জানতে পেরেছি এই গাছের আর কুড়ি হবে না তাই কেটে দিয়েছে। কিছুদূর হেঁটে যেতেই আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত মাধপপুর লেকে পৌঁছে গিয়েছি।
লেকের সামনে গিয়ে অপলক দৃষ্টিতে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম। বিশ্বাস করেন এত সুন্দর লেক তার উপর পাশে চা গাছে ঘেরা পাহাড় ভাবতেই অন্য রকম অনুভুতি হচ্ছিল। লেকের সামনে লম্বা রাস্তায় মেয়েকে নিয়ে হাঁটছি আর লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করছিলাম।
লেকের পাড়ে এক বয়স্ক দম্পতি দেখে আমার ভাল লাগল। আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করতে গিয়ে জানতে পারলাম তারা ইন্ডিয়া থেকে ঘুরতে এসেছে। ভাবছিলাম এত বয়স হয়েছে কিন্তু কি মিল তাদের মধ্যে। রিকুয়েস্ট করে উনাদের কিছু ছবি তুলেছি। পাশেই আরেকটি দম্পতি খুব পোজ দিয়ে ছবি তুলছিল।
লেকে অনেক সুন্দর কিছু পদ্ম ফুল ফুটেছে। এই লেকের স্পেশালিটি হচ্ছে এই পদ্ম ফুল। এই লেকের তিন পাশে তিনটি পাহাড় আছে। মেয়ে সাথে ছিল বলে আমি সেই ট্রাই এঙ্গেল এ যেতে পারিনি। লেকের পাড়ে যখন হাটছিলাম অনেক সুন্দর বাতাস বয়ে যাচ্ছিল।
আরো অনেকটা সময় সেখানে কাটিয়ে আমরা রওনা দিয়েছি ।
| ডিভাইস | অপ্পো এ ৫৪ |
|---|---|
| বিষয় | নূরজাহান টি স্টেট এবং মাধপপুর লেক |
| লোকেশন | শ্রীমঙ্গল, বাংলাদেশ |
| ক্রেডিট | @miratek |
আশা করি আমার পোস্ট আপনাদের ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ সবাইকে।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
@tipu curate
;) Holisss...
--
This is a manual curation from the @tipU Curation Project.
Upvoted 👌 (Mana: 2/8) Get profit votes with @tipU :)
শেষ পর্বে মাধবপুর লেক দেখে ইচ্ছে করছে এখনি ছুটে যাই সেই মুগ্ধকর জায়গায়। লেকের পাশে তিনটি পাহাড় আবার চা বাগানও রয়েছে জেনে দেখার জন্য আগ্রহ আরও বেড়ে গেল। ইন্ডিয়া থেকে আসা বয়স্ক দম্পতি দেখে অনেক ভালো লাগলো। তাদের মধ্যে এখনও কত গভীর সম্পর্ক রয়েছে যা অল্প বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের মধ্যে দেখা যায় না। সত্যি পদ্ম ফুলের জন্য মনে হয় এর সৌন্দর্য আরও বেড়ে গিয়েছে। ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার ভ্রমণ কাহিনি আর কিছু সুন্দর ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
নূরজাহান টি স্টেট এবং মাধপপুর লেক ভ্রমনের শেষ পর্ব নিয়ে হাজির হয়েছেন।
আমার মাধপপুর লেকটা কিন্তু বেশ ভালো লেগেছে। আর ইন্ডিয়ান বয়স্ক দম্পতিকে বেশ মিশুক মনে হয়েছে। যাক মেয়ে সাথে রয়েছে বলে পাহাড়ে ওঠার চেষ্টা করেননি দেখে ভালোই লাগলো। সবমিলিয়ে বেশ ভালো ভ্রমন করেছেন বোঝাই যাচ্ছে। অনেক ধন্যবাদ ভাই চমৎকার অনুভূতি মেশানো পোস্টটি উপহার দেয়ার জন্য।
নূরজাহান টি স্টেট এবং মাধবপুর লেক ভ্রমণের শেষ পর্ব পড়ে বেশ ভালো লাগলো ভাইয়া। যদিও আগের পর্ব গুলো পড়া হয়নি। পদ্মফুল গুলো দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে। ভারতীয় বয়স্ক দম্পতির ফটোগ্রাফি দেখে খুব ভালো লাগলো। জায়গাটি কিন্তু দেখতে অসাধারণ। অনেক সুন্দর সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। সবমিলিয়ে পোস্টটি দেখে এবং পড়ে খুব ভালো লাগলো। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।