সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - চতুর্থ পর্ব

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago (edited)
আজ রবিবার • ৩১শে আশ্বিন • ১৪২৯ বঙ্গাব্দ • ১৬ অক্টোবর - ২০২২


মার বাংলা ব্লগের সকল বাংলাভাষী ব্লগার ভাই এবং বোনদের আমার সালাম এবং আদাপ। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভাল আছি।



Picsart_22-10-16_18-04-09-315.jpg

• Edited By PicsArt App

সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - প্রথম পর্ব
সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - দ্বিতীয় পর্ব
সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - তৃতীয় পর্ব


এর আগের পর্বে আপনারা দেখেছিলেন আমি এবং মামা মোটরসাইকেল দিয়ে প্রায় ২,০০০ ফিট পাহাড় চড়াইয়ের পর সাজেক ভ্যালি রুইলুই পাড়ায় পৌঁছেছিলাম। সেই পাহাড়ে চড়াইয়ের পর কি যে ভালো লাগছিল আপনাদের তা বলে বুঝাতে পারব না। পাহাড়ের উপরে বেশিরভাগ দোকান গুলোই আদিবাসীদের ছিল। আর থাকার রিসোর্টগুলো ছিল কিছু বাঙালিদের আর কিছু । আদিবাসীদের

আমরা প্রথমেই গিয়ে আর্মিদের রিসোর্টে উঠেছিলাম সেখানে এক আর্মি ভাইয়ের সাথে রিসোর্ট নিয়ে অনেকক্ষণ গল্প করার পর জানতে পারি তাদের এই রিসোর্টে একরাত থাকতে গেলে পকেট থেকে ১৩,০০০ হাজার টাকা গুনতে হবে। এ তো আমাদের জন্য অনেক বেশি ছিল কারণ আমরা খুবই কম বাজেটে সাজেক ভ্যালি ঘুরে আসতে চেয়েছিলাম। তাই আমরা সেই আর্মি রিসোর্টে না উঠে অন্য আরেকটি রিসোর্টে থাকার জন্য সেখান থেকে নেমে এলাম।

আমরা যখন সাজেক ভ্যালি গিয়েছিলাম তখন সাজেক ভ্যালি ঘোরার উপযুক্ত সময় ছিল না, আর উপযুক্ত সময় না হওয়ায় খুব কম খরচেই আমরা সাজেক ভ্যালির রিসোর্টে উঠতে পেরেছিলাম। শীতকালে এই রিসোর্ট গুলোতে থাকতে গেলে আপনাদের পকেট থেকে অনেক বেশি টাকা খসাতে হবে।

IMG_20221016_004619.jpg

জায়গা : মেঘের ঘর রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট
সময়: বিকেল ০৫ঃ২৮
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২

এটা হচ্ছে মেঘের ঘর রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট। এই রিসোর্ট এই আমরা ছিলাম। এখানে আমরা একটি আউট সাইড উইন্ডো রুম নিয়েছিলাম, রুমটি ছিলো ডাবল বেড এর। আর সেই রুম এর জন্য আমরা ভাড়া দিয়েছিলাম মাত্র ২,০০০ হাজার টাকা৷ সত্যিই অনেক কম খরচে আমরা থাকতে পেরেছিলাম।

IMG_20220906_175151.jpg

জায়গা : রিসোর্ট এর বেলকুনি
সময়: বিকেল ০৫ঃ৫১
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২

IMG_20220906_175159.jpg

জায়গা : রিসোর্ট এর বেলকুনি
সময়: বিকেল ০৫ঃ৫২
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২

আমরা যে রিসোর্ট এ ছিলাম এটা সেই রিসোর্ট এর বেলকুনি। বেলকুনিতে দারিয়ে যখন দূরের পাহাড় গুলো দেখছিলাম তখন কিযে ভালো লাগছিলো৷ পাহাড় গুলোর চুড়ায় একটু একটু করে মেঘ আটকে ছিলো৷ এর আগে কখনো এত কাছে থেকে মেঘ দেখি নি। সত্যিই এটা অসাধারণ একটি অনুভূতি ছিলো।

IMG_20220906_175434.jpg

জায়গা : রিসোর্ট এর বেলকুনি
সময়: বিকেল ০৫ঃ৫৫
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২

রিসোর্ট এর বেলকুনিতে দারিয়ে এই ছবিটি তুলেছিলাম। বাহিরে প্রচুর রোদ থাকায় ছবিটি একটু অন্ধকার হয়েছিলো। তবুও ছবিটি স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছি। ছবিতে আমার পেছনে নিচের পাহাড়গুলোতে ধোঁয়ার মতো যে জিনিসগুলো চোখে পড়ছে সেগুলো কিন্তু ধোঁয়া নয় সেগুলো মেঘ। শীতের সময় সাজেক আসলে আমার পেছনের যে পাহাড়গুলো দেখতে পারছেন এগুলো মেঘের কারণে একদমই দেখা যাবে না। আর এ সময় শুধু বৃষ্টি হলেই প্রচুর মেঘ আপনারা দেখতে পারবেন। আর আমার পেছন বরাবর আপনারা যে বড় পাহাড়টি দেখতে পারছেন এটা ভারতের মিজোরাম পাহাড়।

IMG_20221016_170915.jpg

জায়গা : রিসোর্ট এর বেলকুনি
সময়: বিকেল ০৬:১১
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২

বেলকনিতে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর সৌভাগ্যবশত টিপটিপ করে বৃষ্টি আসা শুরু হলো। বেলকনিতে দাঁড়িয়েই আমরা কিছুক্ষণ সেখানে বৃষ্টির উপভোগ করছিলাম বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর সামনের দিকে তাকিয়ে উপলব্ধি করতে পারলাম আগের তুলনায় অনেক বেশি মেঘ পাহাড় গুলোর উপরে এসে ভিড় বেঁধেছিল। খুব ইচ্ছে করছিল মেঘ গুলো হাত দিয়ে শুয়ে দেখার। এই ইচ্ছাটা পূরণ হতো যদি আমরা শীতকাল কিংবা বর্ষার সিজনে সাজেক ভ্যালি যেতাম।

তারপর বেলকনিতে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর পেটের ভেতর কেমন ক্ষুধা অনুভব করলাম, তাই বেলকনিতে বেশিক্ষণ দেরি না করে রিসোর্টের কেয়ারটেকার সোহাগ ভাইকে ডাক দিলাম। তাকে তাড়াতাড়ি খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করতে বললাম কারণ আমরা খাওয়া-দাওয়া শেষ করে হেলিপ্যাড ঘুরতে যাব।

তখন বিকেল হয়ে গিয়েছিল কিন্তু সেটা ছিল আমাদের দুপুরের খাবার, দুপুরে মেঘের ঘর রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্টে পাহাড়ি মুরগি আর সাদা দিয়ে বেশ জম্পেশ খাওয়া হয়েছিল। সে সময় এতটাই ক্ষুধা লেগেছিল যে খাবার দাবার ছবি তুলতেই ভুলে গিয়েছিলাম তাই আপনাদের মাঝে আমাদের দুপুরের সেই খাওয়া-দাওয়া ছবিগুলো শেয়ার করতে পারলাম না।

IMG_20220906_181417.jpg

জায়গা : হেলিপ্যাড সাজেক ভ্যালি
সময়: বিকেল ০৬:৩১
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২

সন্ধ্যা হয়ে আসছিল তাই আমরা একটু তাড়াহুড়ো করে খাওয়া দাওয়া সেরে ফেলি, খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আর অন্য কোথাও দেরি না করে আমরা সোজা হেলিপ্যাড ঘুরতে চলে যাই। এই ছবিটি তুলেছিলাম হেলিপ্যাড এর উপর দাঁড়িয়ে, হেলিপ্যাড থেকে আমাদের রিসোর্ট এর দিকের ছবি এটি।

IMG_20220906_181412.jpg

জায়গা : হেলিপ্যাড সাজেক ভ্যালি
সময়: বিকেল ০৬:৩৪
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২

এটা হেলিপ্যাড থেকে মিজোরাম পাহাড়ের দিকে ছবি। দূরে যে পাহাড়টি চোখে পড়ছে এটা হল ভারতের মিজোরাম পাহাড়।

IMG_20220906_181421.jpg

জায়গা : হেলিপ্যাড সাজেক ভ্যালি
সময়: বিকেল ০৬:৩৫
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২

হেলিপ্যাডে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সময় কাটানোর পরেই সন্ধানে নেমে এলো। সেখানে সন্ধ্যার দৃশ্যটা এখনো আমার মনে গেঁথে রয়েছে। কি সুন্দর সেই দৃশ্য। মনে হচ্ছিল সেখানেই বসে সারা জীবন কাটিয়ে দেই।

IMG_20220906_211909.jpg

জায়গা : রুইলুই পাড়া সাজেক ভ্যালি
সময়: বিকেল ০৯:১৯
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২

সন্ধ্যে নামার পর আমরা সোজা আমাদের রিসোর্টে চলে আসি। রিসোর্ট এর বেলকনিতে বসে আমরা অনেকক্ষণ আড্ডা দেই। তখন খুব একটা রাত হয়নি কিন্তু মনে হচ্ছিল অনেকটা রাত হয়ে গিয়েছিল, আসলে পাহাড়ি এলাকায় সন্ধ্যা মানেই অনেক রাত। তারপর মামা আমাকে বলল তার নাকি খুব চা খেতে ইচ্ছে করছে তাই আমরা রিসোর্টে আর বসে না থেকে বেরিয়ে পড়লাম চা খাওয়ার জন্য এই ছবিটি ঠিক তখনই তোলা।

IMG_20220906_233959.jpg

জায়গা : মন টানা রেস্টুরেন্ট সাজেক ভ্যালি
সময়: বিকেল ১১:৪০
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২

এটা হল সাজেকের বিখ্যাত ব্যাম্বু চিকেন কারি। বাঁশের ভেতরেই এই তরকারিটি রান্না করা হয় । সাজেকের বিখ্যাত মন টানা রেস্টুরেন্ট থেকে আমরা ব্যাম্বু চিকেন নিয়েছিলাম সাথে ছিল সাদা ভাত।

IMG_20220906_234052.jpg

জায়গা : মন টানা রেস্টুরেন্ট সাজেক ভ্যালি
সময়: বিকেল ১১:৪১
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২

আমার কাছে এই ব্যাম্বু চিকেন কারিটি বেশ ভালোই লেগেছিল। অন্যরকম একটা লোভনীয় সুভাষ আসছিল এই তরকারিটি থেকে। আপনারা যারা সাজেক আসবেন তারা অবশ্যই এই ব্যাম্বু চিকেন কারিটি টেস্ট করে দেখবেন।

যাই হোক বন্ধুরা আজ তাহলে এ পর্যন্তই, এরপরের পর্বে আপনাদের সাজেক ভ্যালির অন্যান্য দিকগুলো কিছুটা দেখানোর চেষ্টা করব। সে অব্দি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভকামনা রইল সকলের জন্য।

image.png


PicsArt_03-22-02.27.17.png

আমি মাহির । আমার বাসা বাংলাদেশের রংপুর বিভাগে । আমি একজন ব্লগার, ফটোগ্রাফার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নতুন কোন বিষয়ে লিখতে এবং সবাই কে অজানা বিষয়ে জানাতে আমার ভিষণ ভালো লাগে। ছবি তুলতে, জাঙ্ক ফুড খেতে এবং ঘুরতেও আমি ভিষণ পছন্দ করি । আর আমার সব থেকে বড় শখ ছবি তোলা।

FacebookTwitterYouTube

2bP4pJr4wVimqCWjYimXJe2cnCgnMqDPMwPqFHimR5p.png

standard_Discord_Zip.gif


আমাদের উইটনেসকে সাপোর্ট করুন

"Please support Bangla Witness"


https://steemitwallet.com/~witnesses




VOTE @bangla.witness as witness
witness_proxy_vote.png
OR

SET @rme as your proxy

witness_vote.png

Sort:  

বন্ধু তুমি মামা সঙ্গে গিয়েছো। আশা করি খুব ভালো একটা মুহূর্ত কাটিয়েছো। ব্যালকনি থেকে পাহাড়। অন্যরকম একটা ভিউ দেখলাম যে আমার খুব ভালো লেগেছে।সাজেক ভ্যালি তে আমারও খুব যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। দেখি নেক্সটে যাবো

 4 years ago 

আসলেই অনকে ইনজয় করেছি বন্ধু। তাড়াতাড়ি প্লান করে ঘুরে আসো ভালো লাগবে। ❤️

 4 years ago 

সবাই সাজেক চলে গেলো ভেবেছিলাম।মাহির ভাই অন্ততপক্ষে আমাকে রেখে যাবে না আপনেও রেখে ঘুরে এলেন আফসোস হতাশ আমি।দারুন সময় কাটিয়েছে ভাই বাংলাদেশের খুবই পরিচিত ভাইরাল প্লেস সাজেক।দারুন ছিল উপস্থপনা।

 4 years ago 

ইশ ভাই আগে বললে তো তোমাকে নিয়ে আসতে পারতাম। যাইহোক নেক্সট টাইম এক সাথে যাবো।
ধন্যবাদ প্রিয় ভাই এতো সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।

 4 years ago 

সাজেক ফেলের গল্প অনেক শুনেছি অনেকের কাছে কিন্তু কখনো যাওয়া হয় নি। তবে আজ আপনার ফটোগ্রাফির মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রকৃতিটি দেখতে পেরেছি। বেম্বো চিকেন কারি এটি দেখে মনে হচ্ছে অনেক মজা হয়েছে।ওখানকার রিসোর্ট গুলোর ভাড়া এত বেশি শুনে অবাক হলাম। অবশ্য পরে ২০০০ টাকায় থাকতে পেরেছেন এটাই বড় কথা। দারুণ সময় ছিল।

 4 years ago 

সামনা সামনি দেখলে আরো ভালো লাগবে আপু, অবশ্যই একবার যাবেন।
বেম্বো চিকেন কারি আসলেই অনেক মজার, অন্য রকম একটা সুন্দর গন্ধ আসে খাওয়ার সময়।
সিজনে গেলে রিসোর্ট গুলোর ভাড়া আরো অনেক বেশি৷

 4 years ago 

এর আগের পর্বটিও পড়েছি এবং দেখেছি সেখানেও আমার খুব ভাল লেগেছিল যে আপনার প্রতিটি ছবির লোকেশন এবং জায়গা উল্লেখ করেছিলেন যেটি দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম আপনার ভ্রমণ টা কেমন ছিল ঠিক আজকের পর্বেও ছবিগুলা এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং আপনার লেখনি দিয়ে সব ভ্রমণ কাহিনীটি আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন এই বিষয়টি আমার বেশি নজর কেড়েছে।

 4 years ago 

আপনার কাছে এত ভালো লেগেছে শুনে খুবই খুশি হলাম আপু।
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মতামত দেয়ার জন্য৷

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.104
BTC 64621.25
ETH 1928.65
USDT 1.00
SBD 0.37