সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - তৃতীয় পর্ব
আ মার বাংলা ব্লগের সকল বাংলাভাষী ব্লগার ভাই এবং বোনদের আমার সালাম এবং আদাপ। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভাল আছি।
সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - প্রথম পর্ব
সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - দ্বিতীয় পর্ব
সাজেক ভ্যালি বাইক টুর দ্বিতীয় পর্বে আপনারা দেখেছেন আমরা কেবল জোন অব্দি পৌঁছেছিলাম। যেখান থেকে আর্মির বহর আমাদের সাজেক ভ্যালি অর্থাৎ রুইলুই পাড়া অব্দি নিয়ে যাবে সেই জায়গাটিকে জোন বলা হয়। আর এই জোনটি দীঘিনালায় অবস্থিত। এই এলাকায় ঢুকলে আপনারা বুঝতে পারবেন যে আপনারা পাহাড়ি এলাকায় ঢুকে পড়েছেন চারিদিকে উঁচু-নিচু রাস্তা আর দূরে দেখতে পারবেন সাজেক ভ্যালি সেই বড় পাহাড়, সাজেক ভ্যালির সেই বড় পাহাড়ের নাম হল কংলাক পাহাড়।
এর আগের পর্বে আপনাদের বলেছিলাম আর্মির বহর আমাদের রুইলুই পাড়া অর্থাৎ সাজেক ভ্যালি অব্দি নিয়ে যাবে, এর কারণ হলো পাহাড়ি দস্যু। এই অঞ্চলে পাহাড়ি দস্যুর কোন অভাব নেই। পাহাড়ি দস্যুদের মূল টার্গেট হয় এই অঞ্চলে আশা টুরিস্টরা। তারা টুরিস্টদের নিজেদের জিম্মায় নিয়ে সরকারের কাছে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করে। এই অঞ্চলে শুধু এটাই ভয়ের কারণ। তবে আর্মিদের গার্ডের কারণে অনেকাংশেই এই ভয় এখন কমে গিয়েছে। রুই লুই পাড়ায় ওঠার সময় আপনারা দেখতে পারবেন কিছুদূর পরপরই আর্মিদের ক্যাম্প, তাই দস্যুরা এদিকে এখন আসার সাহস খুব একটা পায় না।
তবুও পাহাড়ে ওঠার সময় আমার কেমন যেন একটা ভয় করছিল কারণ কিছু কিছু জায়গায় আমরা আমাদের স্কোয়ার্ড থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছিলাম। পাহাড়ে ওঠার রাস্তায় এতটাই দুর্গম ছিল যে আমরা অনেক সময় স্কোয়ার্ডের সাথে টাইম মিলাতে পারছিলাম না। কিছু কিছু জায়গায় মামা দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিল, এমনটা করা এদিকে একদমই নিষেধ। পাহাড়ে ওঠার সময় স্কোয়াডের থেকে আলাদা না হওয়াটাই উত্তম। কারণ পাহাড়ি দস্যুরা সবসময়ই টার্গেটে থাকে কখন কাউকে নিজেদের জিম্মায় নেয়া যায়।
জায়গা : দীঘিনালা আর্মি স্কোয়াড জোন
সময়: সকাল ১০:৫০
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২
এটা হল সেই স্কোয়াড জোন আমরা সকলেই যেখানে এসে দাঁড়িয়েছিলাম, এখান থেকেই আমাদের সাজেক ভ্যালি অব্দি নিয়ে যাওয়া হবে। আমরা পৌঁছেছিলাম এখানে সকাল সাড়ে নটার দিকে। এই ছবিটি যখন তুলেছিলাম তখন প্রায় এগারোটা বেজে যাচ্ছিল। সকাল থেকে এখানে দাঁড়িয়েই আমাদের সময় কাটছিল। এখান থেকে স্কোয়াড বেরোনোর সময় ১১:০০ টায় আমরা একটু তাড়াতাড়ি পৌঁছে গিয়েছিলাম।
জায়গা : দীঘিনালা আর্মি স্কোয়াড জোন
সময়: সকাল ১০:৫৩
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২
স্কোয়াড জোনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে আমাদের প্রচুর ক্ষুধা লেগে গিয়েছিল তাই সেখানেই আর্মিদের একটি খাবারের স্টলে আমরা হালকা-পাতলা খাওয়া দাওয়াও সেরে নেই। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ করে একজন আর্মি হ্যান্ড মাইক নিয়ে সকলকে যার যার গাড়ি এবং বাইকে উঠে বসতে বলে তখন ঘড়িতে ঠিক ১১ঃ০০ বেজে গিয়েছিল। সেই আর্মির হ্যান্ড মাইকে কথা শুনে মনের ভিতর একটা স্বস্তি অনুভব করছিলাম এখন আর বসে থাকতে হবে না আমাদের যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে।
জায়গা : রুইলুই পাড়া যাওয়ার পথে
সময়: সকাল ১১:১৪
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২
আমরা যখন যাত্রা শুরু করি তখন আমাদের পেছনে ছিল সব বড় গাড়িগুলো আর আমাদের সামনে ছিল একটি পুলিশের গাড়ি আর কিছু বাইক। তবে আমাদের পরিকল্পনা ছিল কিছুদূর যাওয়ার পরেই সবগুলো বাইকের সামনে থাকবো আমরা কারণ বাইকের পেছনে যেতে পাহাড়ি রাস্তা একটু অসুবিধাই হয়।
জায়গা : রুইলুইপাড়া যাওয়ার পথে
সময়: সকাল ১১:১৬
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২
যতই এগোচ্ছিলাম ততই যেন আকাশের মেঘটা হাতের কাছে এসে পৌঁছাচ্ছিলো। অনেকক্ষণ বসে থাকার পর যখন যাত্রা শুরু করলাম তখন মনের ভিতরে কতটা যে আনন্দ অনুভব করছিলাম তা আপনাদের বলে বোঝাতে পারবো না। রাস্তা যতই দুর্গম হোক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে সেই দুর্গম রাস্তা কিছুই মনে হচ্ছিল না।
জায়গা : রুইলুই পাড়া যাওয়ার পথে
সময়: সকাল ১১:১৯
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২
জোন থেকে কিছুটা পথ যাওয়ার পর আমাদের আটকিয়ে দেয়া হয় কারণ কিছু গাড়ি পেছন পড়ে গিয়েছিল। স্কোয়াডের নিয়ম সব গাড়ি একসাথে যাওয়া তাই সেই গাড়িগুলো আশা অব্দি আমাদের সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল।
জায়গা : রুইলুই পাড়া যাওয়ার পথে
সময়: সকাল ১১:৩০
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২
অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার পর শেষমেষ আমরা আবারো যাত্রা শুরু করলাম। তখনো আমরা মোটরসাইকেল বহরের একদম পেছনে ছিলাম কিন্তু আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম কিভাবে সেই বহরের আগে যাওয়া যায়। কারণ পেছনে থাকার অসুবিধা সেই দুর্গম রাস্তায় ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারছিলাম। আরো উপরে ওঠার সাথে সাথে এই অসুবিধা যেন আরো বেড়েই চলেছে।
জায়গা : মাসালং আর্মি ক্যাম্প
সময়: সকাল ১১:৪০
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২
মসালং আর্মি ক্যাম্প এর কাছে যেতে যেতেই আমরা সবগুলো মোটরসাইকেল কে পিছনে ফেলে আগে চলে এসেছি। অনেক সময় আমরা এতটাই আগে চলে যাচ্ছিলাম যে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরেও কোন মোটরসাইকেল চোখে পড়ছিল না, সে সময়টায় আমি একটু ভয় পাচ্ছিলাম।
জায়গা : রুইলুই পাড়ার নিকটে
সময়: সকাল ১১:৫১
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২
রুইলুই পাড়ায় ওঠার সময় মাঝে মাঝেই এমন ছোট বড় পাহাড় চোখে পড়ছিল, বারবার এরকম পাহাড় দেখার পর আমার মনে প্রশ্ন জাগছিল এই পাহাড়গুলো পাথরের নাকি মাটির। দূর থেকে দেখে এই পাহাড়গুলোকে পাথরের মনে হলেও কাছে গিয়ে যখন হাত দিলাম তখন বুঝতে পারলাম এটা আসলে পাথরের না এটা মাটির পাহাড় কিছুটা নুড়ি পাথরও সাথে ছিল।
জায়গা : রুইলুই পাড়া সাজেক ভ্যালি
সময়: সকাল ১২:০৫
তারিখ: ০৬/০৯/২০২২
প্রায় দীর্ঘ এক ঘন্টা পাহাড় চড়াইয়ের পর আমরা আমাদের লক্ষ্য রুইলুই পাড়া সাজেক ভ্যালিতে পৌঁছাই। উপরে আসার পর পুরো সাবজেক্ট ভ্যালীটা একবার আমরা ঘুরে দেখি। নিচ থেকে যেমনটা ভেবেছিলাম উপরে ওঠার পর চিন্তা ভাবনাটা একদমই হয়ে গিয়েছিল। উপরে ওঠার পর মনে হচ্ছিল এটা যেন পাহাড়ের উপরেই আরেকটি শহর। উপরে ওঠার পর যে শান্তিটা আমি অনুভব করেছিলাম তা আপনারা সেখানে না গিয়ে উপলব্ধি করতে পারবেন না। প্রকৃতির মাঝে আসলেই আত্মতৃপ্তি খুঁজে পাওয়া যায় তা আমি সেই পাহাড়ে গিয়েই উপলব্ধি করতে পেরেছি।
যাইহোক বন্ধুরা আজ তাহলে এ পর্যন্তই, এরপরের পর্বে আমি আপনাদের সাজেক ভ্যালির উপরের দিকটা ঘুরিয়ে দেখাবো। সে অব্দি সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভকামনা রইল সকলের জন্য।
| YouTube |
|---|
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Twitter Link
আপনার সম্পুর্ণ লেখাটা পড়লাম। আমরাও গত বছর সাজেক গিয়েছিলাম। আসলেই অনেক সুন্দর একটি জায়গা এই সাজেক। তবে আপনার মত বাইক নিয়ে একবার ট্রাভেল করার ইচ্ছা আছে। অনেক সুন্দরভাবে বিস্তারিত লিখেছেন। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
বাইক নিয়ে যাবেন ভালই উপভোগ করতে পারবেন, যদিও শরিরের উপর প্রচুর প্রভাব পরবে।
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনার গঠনমূলক মতামত দেয়ার জন্য।
আজকের পর্বে আমার একটি বিষয় সব চেয়ে বেশি নজর করেছে সেটি হলো প্রতিটি ছবির সঙ্গে লিখে দিয়েছেন এটি কোন জায়গা। এতে আপনার ভ্রমণের পুরো বিষয়টি ফুটে উঠেছে অনেক সুন্দরভাবে এবং আমিও আপনার শুভ্রন সম্পর্কে সব কিছু জানতে পারলাম এবং বুঝতে পারলাম।
এখন থেকে সব পোস্ট এই এমনটা চেষ্টা করবো আপু৷
আপনার ভালো লেগেছে শুনে খুবই খুশি হলাম। ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মতামত দেয়ার জন্য। শুভকামনা রইল।
বাইক রাইডিং যেমন ইন্টারেস্টিং তেমনই সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে তো আরো বেশী করেই করা উচিৎ। তবে স্কোয়াডের সাথে গেলে রিস্ক ফ্রি হয়ে যাওয়া যায়।
অন্যান্য রিস্ক ছিল না তবে পাহাড়ি রাস্তায় চড়াইয়ের সময় মোটামুটি ভয় লাগছিল কারণ নিচে পড়ে গেলেই কেল্লাফতে।
তবে অনেক ইনজয় করেছি পাহাড়ে ওঠার সময়।। ধন্যবাদ দিদি এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য।