সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - প্রথম পর্ব

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago
আজ মঙ্গলবার • ২৯ শে ভাদ্র • ১৪২৯ বঙ্গাব্দ • ১৩ সেপ্টেম্বর - ২০২২


মার বাংলা ব্লগের সকল বাংলাভাষী ব্লগার ভাই এবং বোনদের আমার সালাম এবং আদাপ। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভাল আছি।



Picsart_22-09-12_22-06-50-942.jpg

• Edited By PicsArt App



ঘোরাঘুরির প্রতি আমার অনেক আগে থেকেই একটা দুর্বলতা কাজ করে। অনেক আগে থেকেই আমি ঘোরাঘুরি করতে ভিষণ পছন্দ করি৷ বিশেষ করে পাহাড়, সমুদ্রের ঘুরতে আমি বেশি পছন্দ করি৷ এবারের ঘোরাঘুরির আগে আমাদের কোন পরিকল্পনা ছিলো না, বলতে গেলে হঠাৎ করেই বাইক নিয়ে বেরিয়ে পরেছিলাম৷

আমি ঢাকায় ছিলাম তো আমার মামা (@mahbubul.lemon) হঠাৎ ঢাকায় আসে, তখনো আমি জানতাম না যে মামা সাজেক যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা এসেছে৷ বাসায় এসে মামা সন্ধ্যা অব্দি ঘুমিয়ে নেয়, তার পর সন্ধ্যায় আমায় বলে সে সাজেক ভ্যালি যাবে আর তার সাথে আমাকেও যেতে হবে। আমি প্রথমে বাইক দিয়ে এতো দূর যেতে রাজি হইনি কিন্তু মামার জেদ এর কারনে যেতেই হয়েছে।

মামাকে অনেক বুঝিয়েও আমার যাওয়া আটকাতে পারিনি, আমি বাইকে দূরের পথ যেতে একটু ভয় পাই কারণ আজকাল গাড়ি-ঘোড়া খুবই বেপরোয়া চলে। আর মহাসড়ক গুলোতে প্রতিনিয়ত এত দুর্ঘটনা ঘটে যে মহাসড়কে বাইক নিয়ে উঠতেই ভয় লাগে। তবুও মহান সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ি।

IMG_20220905_231710.jpg

আমরা ঢাকা সায়দাবাদ থেকে রাত ১১ টায় যাত্রা শুরু করি। কারণ আমরা এর আগে শুনেছিলাম সায়দাবাদ থেকে যারা চিটাগাং বা ওই দিকটায় যায় তারা রাতেই বেশিরভাগ সময় রওনা হয়। কারণ মহাসড়ক থেকে আরও অনেকটা দূরে সাজেক ভ্যালি যা খাগড়াছড়ির উপর দিয়ে যেতে হবে। শুনেছিলাম সে দিকটা একটু ডাকাতির ভয় রয়েছে তাই যেতে বেশ ভয় লাগছিল। তাছাড়া প্রথমে ভয় পাচ্ছিলাম ব্যাস্ত রাস্তার কথা চিন্তা করে৷ কিন্তু পরে লক্ষ করলাম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়িঘোড়া ভালোই সাবধানে চলাচল করে৷

IMG_20220905_231714.jpg

ভয় কাটার পর রাস্তা গুলো ভালই উপভোগ করছিলাম। ফোরল্যান রাস্তা ছিলো তাই আরো বেশি ভালো লাগছিলো। অনেকটা দূরে যেতে হবে এটা ভেবে মাঝে মাঝে কেমন যেন লাগছিলো, তাই মামা কে বলেছিলাম রাস্তায় যেন মাঝে মাঝে একটু দাঁড়ায়৷ রাস্তার পাশের চায়ের দোকান গুলোতে দাঁড়িয়ে চা খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে ভালো লাগবে। এভাবেই আমরা অনেক বার রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলাম৷ আপনারা যদি কেউ এই রাস্তায় রাত্রে যাত্রা করেন তাহলে অবশ্যই মাঝে মাঝে চা খেতে দাড়াবেন, আর দাড়ালে একটু জনগণের ভিড় দেখে দারাবেন কারণ সাবধানের মাইর নেই।

IMG_20220905_235129.jpg

তারপর দেখতে দেখতেই অনেকটা পথ পারি দিলাম। যাত্রাপথে অনেক বার দাড়িয়ে বিশ্রামও নিয়েছিলাম। তখন ঘড়ি দেখেছিলাম সময় অনেকটা হয়েছিলো, তবে সময়টা মনে নেই। আমরা তখন মেঘনা সেতুর টোল ঘরের সামনে দাড়ালাম। রাতের মেঘনা সেতু পাশেই ছিলো সদরঘাট, এটা দেখার জন্য মন আমার ব্যাস্ত হয়ে উঠেছিল।

IMG_20220905_235136.jpg
IMG_20220905_235155.jpg

তারপর আমরা তোর কাউন্টারের টোল দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লাম। তোর কাউন্টারের টোল নিয়েছিল পনেরো টাকা, আমি ভেবেছিলাম মেঘনা সেতুর টোল এর থেকে হয়তো আরো অনেক বেশি হবে। তারপর টোল কাউন্টারের টোল দিয়ে মামাকে এটাও জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে কুমিল্লা আর কতদূর সে বলল এখান থেকে মোটামুটি সময় লাগবে যেতে। এদিকে আমার ক্ষুধা লেগেছিল প্রচুর আর আমরা কুমিল্লাতে গিয়েই খাওয়া দাওয়া সারবো এটা আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম।

IMG_20220905_235408.jpg
IMG_20220905_235420.jpg

তারপর মেঘনা সেতুতে উঠে যখন দুপাশে তাকালাম সদরঘাটের আলোক উজ্জ্বল দৃশ্য দেখে সত্যিই আমার মন ভরে গিয়েছিল। আর আমি এবারই প্রথম মেঘনা সেতুতে গিয়েছিলাম তাই মেঘনা সেতু দেখতেও ভীষণ ভালো লাগছিল। সব মিলিয়ে দারুন একটা অনুভূতি কাজ করছিল।

IMG_20220906_015109.jpg

তারপর মেঘনা সেতু পেরিয়ে অনেকটা পথ যাওয়ার পর আমরা কুমিল্লায় ঢুকে পড়ি। তখন প্রচুর ক্ষুধা লেগেছিলো তাই ভাবলাম কোথাও দাড়িয়ে রাতের খাবারটা সেরে ফেলে যাক। আমরা আগেই হোটেল নূরজাহান এর সুনাম শুনেছিলাম তাই আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম সেখানেই খাবো।

IMG_20220906_015138.jpg
IMG_20220906_015141.jpg

রাতের বা দুপুরের খাবারের পাশাপাশি তাদের হোটেলে বিভিন্ন রকম মিষ্টান্ন এর ব্যবস্থাও রয়েছে, আর মিষ্টান্ন গুলো দেখে মনে হচ্ছিল খেতেও বেশ মজার হবে।

IMG_20220906_015201.jpg

নূরজাহান রেস্টুরেন্ট এর পরিবেশ ছিলো অনেক পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। তাদের গোছালো পরিবেশ আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছিলো। রেস্টুরেন্ট এর পরিবেশ দেখেই বুঝেছি যে তাদের এমন সুনাম অর্জন করার যতেষ্ট কারণ রয়েছে। এখন তাদের খাবার চেখে দেখার পালা।

IMG_20220906_020219.jpg
IMG_20220906_020242.jpg

আমার এবং মামার দুজনেরই প্রচুর ক্ষুধা লেগেছিল তাই আমরা রেস্টুরেন্টে ঢুকে হালকা ফ্রেশ হয়ে দেরি না করে টেবিলে বসে খাবারের অর্ডার করে ফেলি। আমরা অর্ডার করেছিলাম চিকেন খিচুড়ি। চিকেন খিচুড়ির দামটা আমার ঠিক মনে নেই তবে দামটা অনেক বেশি ছিল এটা মনে আছে। অবশ্য হাইওয়ে রেস্টুরেন্টগুলোতে খাবারের দাম একটু বেশিই হয়। খাবারের দাম একটু বেশি হলেও আমার কাছে খারাপ লাগেনি কারণ খাবারের মান ছিল ভালো লাগার মত সত্যি বলতে একদম পেট পুরে খেয়েছিলাম।

যাইহোক বন্ধুরা আজ তাহলে এ পর্যন্তই আপনাদের সাথে আবারও দেখা হবে সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুরের দ্বিতীয় পর্বের পোস্টে। সে অবদি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভকামনা রইল সকলের জন্য।

image.png


PicsArt_03-22-02.27.17.png

আমি মাহির । আমার বাসা বাংলাদেশের রংপুর বিভাগে । আমি একজন ব্লগার, ফটোগ্রাফার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নতুন কোন বিষয়ে লিখতে এবং সবাই কে অজানা বিষয়ে জানাতে আমার ভিষণ ভালো লাগে। ছবি তুলতে, জাঙ্ক ফুড খেতে এবং ঘুরতেও আমি ভিষণ পছন্দ করি । আর আমার সব থেকে বড় শখ ছবি তোলা।

FacebookTwitterYouTube

2bP4pJr4wVimqCWjYimXJe2cnCgnMqDPMwPqFHimR5p.png

standard_Discord_Zip.gif

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

JOIN WITH US ON DISCORD SERVER

Sort:  

Hello friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 4 years ago 

হা হা হা এত রাতে চিকেন খিচুড়ি দেখে লোভ লেগে গেল। কয়েক মাস আগে চিটাগাং যাওয়ার সময় আমিও হোটেল নূরজাহানে খেতে নেমেছিলাম। সেখানকার খাবারের মান ও পরিবেশ আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল। এটা থেকেই বোঝা যায় কেন তাদের এত সুনাম। যাইহোক বাইক নিয়ে এত দূরে ট্যুর করা আমি মোটেও সমর্থন করি না। আমার মনে হয় এ বিষয়ে তোমার আরো একটু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত ছিল। দেখা যাক তোমার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে মেঘ হয়ে ভাসতে পারি কিনা।

 4 years ago 

হাহা মামি কে বলো রান্না করে দিতে।
আসলেই হোটেল নূরজাহান এর সব কিছুই আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে৷
আর এত দূর বাইক ট্যুর আমিও পছন্দ করি না।
যাইহোক মেঘ দেখার জন্য পরের পর্ব গুলোর অপেক্ষা করো।

 4 years ago 

পাহাড়ে, সমুদ্রে ঘুরাঘুরি আমারও খুব পছন্দ। তবে বাইকে চড়ে না।খুব রিস্কি একটি যান এটি। আপনার মামা এবং আপনাকে সাহসের বাহবা দিতে হয় যে আপনারা ঢাকা থেকে সাজেক বাইকে চলে গেছেন তাও আবার রাত ১১ টায় যাত্রা শুরু করেছেন। আমিও সাজেক গিয়েছি। আমার তো চান্দের গাড়ি দিয়ে যেতেই ভয় হচ্ছিল আর বাইক নিয়ে মানুষ কিভাবে সাহস করে বুঝি না। আমার জেলা কুমিল্লার নুরজাহান হোটেলে আপনারা খেয়েছেন শুনে ভাল লাগছে। ধন্যবাদ ভাইয়া।

 4 years ago 

ভাই আপনার মত আমিও এত দূর বাইক ট্যুর খুব একটা পছন্দ করি না, আসলে খুব রিক্স হয়ে যায়। আর যারা চিটাগাং এর ওদিকে টুরে যায় তারা রাত ১১ টাতেই রওনা দেয় তাই আমরাও দিয়েছিলাম। তবে আমি যেটা লক্ষ্য করলাম চান্দের গাড়ির থেকে সাজেক ওঠার সময় বাইকেই রিক্স কম।
আর আপনার জেলার নুরজাহান হোটেলের খাবারের মান এবং পরিবেশ সত্যিই ভালো লাগার মত ছিল ভাই। ধন্যবাদ।

 4 years ago 

বাইকে ঘোরাঘুরি আমার সবচেয়ে পছন্দের। ফোর হুইলার অত ভালো লাগে না।আপনারা রাত ১১ টায় যাত্রা করেছেন পড়ে লোভ হচ্ছে। এই এক্সপিরিয়েন্স তো নেই। সাথে আবার চিকেন খিচুড়ি খাওয়া! যদিও আমি প্রথমে বাসন্তী পোলাও ভেবেছিলাম খিচুড়ি কে। মামা-ভাগ্নের যুগলবন্দী সবসময়ই হিট্।

 4 years ago 

আসলেই দিদি ভিষণ মজা হিয়েছে। পরের পর্বে আপনাদের মাঝে আমি আমার আরো অনেক অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করবো দেখার জন্য অপেক্ষা করুন দিদি।

আমরা মামা ভাগ্নে মাঝে মাঝেই এমন বাইক ট্যুরে বের হই।

ধন্যবাদ।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.097
BTC 63828.12
ETH 1861.37
USDT 1.00
SBD 0.38