কলকাতায় মৃতা ডাক্তারি ছাত্রীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি প্রতিবাদী কবিতা।

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago

এক পোড়া সমাজের কবিতা

🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱🌱


✊কবিতায় প্রতিবাদ✊


pexels-photo-5150610.jpeg
সোর্স

সকলকে স্বাগত জানাই

পৃথিবী আজ বড় চঞ্চল। পথভ্রষ্ট পথিকের মত আমরা ঘুরে বেড়াচ্ছি আশেপাশে। কোন দিশা নেই। নেই কোনো গন্তব্যের ঠিকানাও। তবু পথ চলতে হয়। অন্ধকার কাটিয়ে আলোর দিকে যাওয়ার চেষ্টাই জীবনের একমাত্র কাজ। তাই চরম দুঃসময় কাটিয়েও মানুষ ধীরে ধীরে ফিরে আসে আলোর ঠিকানায়। সম্প্রতি কলকাতা শহরের বুকে ঘটে যাওয়া এক ধিক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী রইলাম আমরা। সারারাত জুড়ে চোখের আড়ালে এই শহরেই নির্যাতিতা হয়ে মৃত্যু মুখে ঢলে পড়লেন এক ডাক্তারি ছাত্রী। কোথায় ছিলাম আমরা? কোথায় ছিল রাত পাহাড়ার দল? একা ঘরে বন্দি হয়ে অনেক মানুষের সঙ্গে পেরে উঠলেন না সেই নির্যাতিতা হতভাগ্য মেয়েটি। আর আমরা কেমন সুন্দর ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে রইলাম সেই রাত জুড়ে। পরের দিন তাঁর মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেল সমাজের এক কালো দিক। আর অপরাধী করে গেল আমাদেরকে। আমরা চোখ থাকতেও অন্ধের মত বেঁচে রইলাম পৃথিবীর বুকে। তাঁর গগনভেদী চিৎকার আমাদের কানে এসে পৌঁছয়নি। কিন্তু তাঁর বহুমূল্ আমাদের অন্তরে এসে ধাক্কা মেরেছে সজোরে। আর সেই অভিঘাতে পথে নেমেছে বাঙালি। শুধু কলকাতা নয়, শুধু বাংলাও নয়, পথে নেমেছে আপামর ভারতবর্ষ। আজ আমরা সমাজের কাছে দায়বদ্ধ। যে দেশের মাটিতে আমরা জন্মেছি, সেই দেশের মাটিকে কলুষিত হতে দেওয়া এক অপরাধ। তাই নিজেদের সামাজিক দায়বদ্ধতাটুকু কাঁধে তুলে নিতে বেশি দেরি করিনি কেউ। ডাক্তারি পঠনরতা কৃতি-ছাত্রীটির প্রাণের মূল্য কোনদিন ফিরিয়ে দিতে পারবো না আমরা। কিন্তু বাকিটুকু আমাদের হাতেই। আর নয়। যে যন্ত্রনা তার শরীরকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, আর সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তার দায় আমাদেরই। আর সেই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই পথে নামা।

pexels-photo-6077326.jpeg
সোর্স

আজ এই মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আমার কলম নড়েচড়ে উঠলো কিঞ্চিৎ। আমার প্রতিবাদের অর্থ আমার কলমের মধ্যে দিয়েই প্রকাশিত হয়। আজ সেই নির্যাতিতা হতভাগ্য মেয়েটির ক্ষতবিক্ষত মুখের দিকে তাকিয়ে আমরা নিজেদের মত প্রতিবাদ শানিয়ে চলেছি প্রতিনিয়ত। সেই সময়টিকে নিজেদের লজ্জা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে একটি কবিতা উৎসর্গ করছি সেই হতভাগ্য প্রাণটির প্রতি। সেও তো হাসতে এসেছিল, সেও তো সমাজে বাঁচতেই এসেছিল। আমরা তাকে সুন্দর জীবন উপহার দিতে পারিনি। আমরা লজ্জিত। আমরা কলঙ্কিত। আজ তাই যে যার মত করে প্রতিবাদের ভাষা তীক্ষ্ণ করছি এই পোড়া সমাজের প্রতি।

কবিতা

খোলাবাজারি রাত
কৌশিক চক্রবর্ত্তী

আজ ঘুমোনোর রাত নয়
ছিন্নভিন্ন যোনী অর্জন থেকে নিজের বিবৃতি প্রস্তুতি
একনিষ্ঠ জড়ো করা ঘুম বিকিয়ে যাচ্ছে জলের দরে
জমানো আদরের স্বপ্নে বিক্রয়মূল্য
দাবী করিনি আমি।

সবটুকু নিঃশেষ হবার পর খোলাবাজারে সাজিয়ে রেখেছি রাতের মোড়ক।
প্রদর্শনীতে দাঁড়ানোর শ্রেষ্ঠ সময় সকাল
তাই আজীবন সঞ্চয় করেছি অতিরিক্ত চাদরের কোণ।

না, আজ ঘুমোনোর রাত নয়
নিজেকে আষ্টেপৃষ্টে পুড়িয়ে নেবার রাত
সমস্ত স্বপ্ন ফুরিয়ে যাবার পর
পণ্য হিসাবে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখব দগদগে পোড়া ঘা।

এরপর আর ঘুম আসেনি ছিটেফোঁটা
লাভক্ষতির অংকে খোলাবাজারি রাতকেই আমি একক ধরে এগিয়ে গেছি বাকি পথ।


(৫% বেনিফিশিয়ারি এবিবি স্কুলকে এবং ১০% বেনিফিশিয়ারি প্রিয় লাজুক খ্যাঁককে)



1720541518267-removebg-preview.png

Onulipi_07_27_10_21_22.jpg


new.gif

1720541518267-removebg-preview.png


--লেখক পরিচিতি--

IMG_20240303_181107_644.jpg

কৌশিক চক্রবর্ত্তী। নিবাস পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। পেশায় কারিগরি বিভাগের প্রশিক্ষক। নেশায় অক্ষরকর্মী। কলকাতায় লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত৷ কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবিতার আলো পত্রিকার প্রধান সম্পাদক। দুই বাংলার বিভিন্ন প্রথম সারির পত্রিকা ও দৈনিকে নিয়মিত প্রকাশ হয় কবিতা ও প্রবন্ধ। প্রকাশিত বই সাতটি৷ তার মধ্যে গবেষণামূলক বই 'ফ্রেডরিক্স নগরের অলিতে গলিতে', 'সাহেবি কলকাতা ও তৎকালীন ছড়া' জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সাহিত্যকর্মের জন্য আছে একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি। তার মধ্যে সুরজিত ও কবিতা ক্লাব সেরা কলমকার সম্মান,(২০১৮), কাব্যলোক ঋতুভিত্তিক কবিতায় প্রথম পুরস্কার (বাংলাদেশ), যুগসাগ্নিক সেরা কবি ১৪২৬, স্রোত তরুণ বঙ্গ প্রতিভা সম্মান (২০১৯), স্টোরিমিরর অথর অব দ্যা ইয়ার, ২০২১, কচিপাতা সাহিত্য সম্মান, ২০২১ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।



কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ

ধন্যবাদ জানাই আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যবন্ধুদের৷ ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।

44902cc6212c4d5b.png


Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 2 years ago 

মৌমিতা দিদির মৃত্যুতে প্রতিবাদ জানিয়ে সুন্দর একটি কবিতা লিখেছেন দাদা।দিদির পরিবার যাতে ন্যায় বিচার পাই।সমাজে আর যেন কোনো দ্বিতীয় মৌমিতার সাথে এরকমটা না ঘটে।ভালো লাগলো আপনার কবিতার লাইনগুলো।ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 2 years ago 

বড় বেদনাদায়ক এই ঘটনা। মৌমিতার জন্য সারা পৃথিবী আজ গর্জে উঠেছে। আজ দেখলাম ঢাকাতেও মিছিল হয়েছে। সকলে এক হলে অপরাধী সাজা পাবেই আর মৌমিতার আত্মা শান্তি পাবে।

@tipu curate

Holisss...

--
This is a manual curation from the @tipU Curation Project.

 2 years ago 

মৌমিতার মৃত্যুতে সত্যি অনেক খারাপ লেগেছে। এরকম মৃত্যু মেনে নেওয়া কষ্টকর। ভাইয়া আপনি অনেক সুন্দর করে কবিতাটি লিখেছেন। কবিতার কথাগুলো সত্যি দারুন ছিল।

 2 years ago 

সত্যিই এ মৃত্যুর অভিঘাত থেকে আমরা বেরোতে পারছি না। ভয়ংকর ভাবে মেয়েটি চলে গেল সকলের আড়ালে। নিজের কর্মস্থলে যদি এমন বিপদ তাড়া করে আসে তবে আর কিছুই বলার থাকে না। এখন শুধু একটাই প্রার্থনা সব মেয়েরা ভালো থাকুক।

 2 years ago 

এভাবেই প্রতিবাদ চলতে থাকুক। হাজারো কালো রাত পেরিয়ে আমরা চাই একটি নতুন ভোর। যে ভরে থাকবেনা নারীদের থাবা খাওয়ার ভয়। আজ মানুষ হিসেবে বড় বেশি লজ্জা আমার। কারণ ওই নরপিশাস অমানুষেরা দেখতে আমার মতই। তারপরেও ঘৃণা ভরে ধিক্কার জানাই ওইসব জানোয়ারদের প্রতি।

 2 years ago 

ঠিকই বলেছ। মানুষ বড় হিংস্র জাতি। তবে ঈশ্বর যদি থাকেন সুবিচার আসবেই। এই ঘটনার প্রতিবাদে মানুষ সারা বাংলায় জুড়ে যেভাবে পথে নেমেছে, তা সত্যই নজিরবিহীন। আমি কখনো এর আগে এমন দেখিনি। আমার তো মনে হয় জানোয়াররাও এমন অধম কার্য সম্পাদন করে না।

 2 years ago 

আমি একটা বিশ্বাস করি পৃথিবীতে আমরা সবাই যে যার কর্মফল পাব এটা সুনিশ্চিত।
পৃথিবীতে অন্যায় করে কোন অন্যায়কারী
পার পাইনি। ওরাও পাবেনা।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.101
BTC 64044.24
ETH 1817.28
USDT 1.00
SBD 0.38