২য় পর্বঃ নীল শাড়ি
25-09-2022
১০ আশ্বিন ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই অনেক ভালো আছেন 🌼। আপনাদের সাথে একটি গল্পের প্রথম পর্ব শেয়ার করেছিলাম। আজকে দ্বিতীয় পর্বটি লিখে ফেললাম। ১ম পর্ব এখনও পড়ে না থাকলে পড়ে আসতে পারেন। আশা করি আপনাদের ভালোই লাগবে।
১ম পর্বের পর
আবির বাসায় চলে আসার পর সারাকে নিয়েই ভাবতে তাকে। হটাৎ করেই তার জীবনে সারার আগমন আর হটাৎ করেই হারিয়ে যাবে। ইট পাথরের এই শহরে কোথায় সারাকে খুঁজে বেড়াবে! ভাবতে ভাবতে আবির রাতের খাবার খেতে টেবিলে বসে পড়ে। খাবার খেয়ে আবির আবার রুমে চলে আসে। চাকরির প্রিপারেশন এর জন্য বই নিয়ে বসে পড়তে থাকে আবির। জানালার পাশে ঠান্ডা হাওয়া বইছে। টেবিলে নিয়ন ল্যাম্প জ্বলছে। পড়তে বসে আবির কোনোভাবেই মনোযোগ দিতে পারতেছিল না। আবিরের দু চোখে শুধু নীল শাড়ি পড়া সারার কথাই ভাসছে। কিন্তু আবির নীল শাড়ি পড়া সেই মেয়েটির না জানে না। তবে কেন এতো মন পড়ছে তার কথা! আমার কথাও কি মেয়েটি স্মরণ করছে? আবির ভাবতে থাকে।
সকালে আবার আবিরের একটা ইন্টার্ভিউ আছে। এজন্য তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ে। ফোনে এলার্ম সেট করে রেখে দেয়। আগেরবারের মতো উঠতে দেরি হলে ঝামেলা হয়ে যেতে পারে। সকাল সকাল উঠে ফ্রেশ হয়ে চলে যায় জব ইন্টার্ভিউ দেয়ার জন্য। আবির এখন পর্যন্ত অনেক জায়গায় ইন্টার্ভিউ দিয়েছে কিন্তু কোনো জায়গায় জব হয় না। গ্রাডুয়েশন কমপ্লিট করেছে এক বছর হলো। জব ইন্টার্ভিউ আবির বাসায় চলে আসে। মনে মনে সে ভীষন খুশি কারণ জবের ইন্টার্ভিউ খুবই ভালো হয়েছে। বাসায় এসে আবির কিছুক্ষণ রেস্ট নেয়। তারপর বিকালে তার বাসা থেকে কাছেই একটি রেস্টুরেন্ট এ চলে যায় কফি খাওয়ার জন্য। আবির রেস্টুরেন্ট এর ভিতরে গিয়ে একটি চেয়ারে বসে। তখনই দেখা মিলে নীল শাড়ি পড়া সেই মেয়েটির সাথে। আরে অবাক করা ব্যাপার! আবির তার কথাই চেয়ারে বসে ভাবতেছিল। আবির সারাকে দেখে বলে, আপনার কথাই আমি ভাবছিলাম!" সারা কিছু বুঝতে পারছিল না। আবির বলে, "আপনাকে ঐ দিনের পর থেকে অনেক জায়গায় খুঁজেছিলাম, কিন্তু কোথাও পায়নি? " কিন্তু কেন? সারা বললো।
আবির তখন সারাকে বলে, "সেদিন আমাকে দেখে আপনি হেসে দিয়েছিলেন কেন? " এ কথা শুনেই সারা হেসে দেয়। সেদিন আবিরের শার্টের মাঝখানের বোতাম খোলা ছিল, আর আপনার পেট দেখা যাচ্ছিল, হাহাহা! আবির তো শুনে রীতিমত অবাক হয়ে যায়। এই হলো তাহলে আসল কাহিনী। আসলে সেদিন আমার একটা ইন্টার্ভিউ ছিল। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় একবার ফাইল রেখে বের হয়ে পরেছিলাম। তারপর আবার বাসা থেকে ফাইল আনতে হলো। শার্টের বোতাম খোলা ছিল এটা একদমই খেয়াল করিনি। তাড়াহুড়োর মাঝে এতো কিছু হয়ে গেল আসলে। সারা তখন বুঝতে পারে। তারপর আবির বলে সারাকে আজকে সে খাওয়াবে। কারণ তার মনটা সারাকে দেখেই ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু আবির জানেনা যে সারা এই রেস্টুরেন্ট এ পার্ট টাইম জব করে। সারা তখন বলে যে, " আপনি অর্ডার করুন আমি দিচ্ছি। " আবির তখন বলে,"আপনার পছন্দ অনুযায়ী কিছু একটা দিয়ে দেন। "
সারা আবিরকে একটা কফি দেয়। কিন্তু সারার নামটাই তো জানা হলো না! আবির তখন সারার নাম জানতে চায়। সারা তখন নাম বলে দেয়। কফি খেতে খেতে আবির সারাকে দেখতে থাকে। নীল শাড়ি পড়া মেয়েটি এখন তার সামনে দাড়িঁয়ে। তার কল্পনা যেন বাস্তবে রূপ নিয়ে নিল। সে ভেবেছিল হয়তো কোন একদিন সারার সাথে দেখা হবে, হলোও তাই। সারা আবিরকে কফি সার্ভ করে সেখান থেকে চলে যায়। আবির শুধু সারাকেই দেখছে। আবির কফি খেয়ে বাসায় চলে যায়। যেতে যেতে আবির সারার কথাই ভাবতে থাকে। প্রথম দেখাতেই সারাকে ভালো লাগা। আর ভালোলাগা থেকেই বুঝি ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। আবিরের আজ অনেক খুশি লাগছে। এভাবে সারার সাথে দেখা হয়ে যাবে ভাবতেও পারেনি। হাটঁতে হাটঁতে আবির বাসায় চলে আসে। বাসায় এসেই অর্ডায় পায় বাজারে যেতে হবে আবিরকে। আবির কিছু বুঝে উঠার আগেই হাতে ব্যাগ ধরিয়ে দেয় তার মামী। আবিরের মামা সাধারণত অফিস থেকে ফেরার পথে বাজার করে নিয়ে আসে । আজ তার মামার বাসায় ফিরতে দেরি হবে এজন্য আবিরকেই বাজার করতে হবে। ব্যাগ নিয়ে আবির চলে যায় বাজারে। মামীর দেয়া বাজারের লিস্ট অনুযায়ী সে বাজার করতে থাকে।
বাজার শেষ করে আবির বাসায় চলে আসে। ফ্রেশ হয়ে আবির এক কাপ গরম কফি নিয়ে বসে পড়ে ল্যাপটপের সামনে। ফেইসবুকের নিউজফিডে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করতে থাকে। একি! ঠিক কিছুক্ষণ পর দেখা যায় সারার প্রোফাইল আইডি সামনে এসেছে। দেখা মাত্রই আবির সারাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দেয়। সারার প্রোফাইল লক করা। এজন্য কিছুই দেখা যাচ্ছে না প্রোফাইল ছাড়া। সারা কাজ শেষ করে বাসায় চলে আসে। সকালে বেরিয়েছিল নাস্তা করে। এখনও কিছু খায়নি সারা। বাসায় প্রবেশ করে দেখতে পায় তার ছোট ভাই জিহান রাগ করে বসে আছে। তার মায়ের কাছে কারণ জিজ্ঞেস করতে চাইলে বললো তার মা বলল , "বলেছিলি বাহিরে ঘুরতে নিয়ে যাবি, এখন ঘুরতে নিয়ে যাসনি দেখে রাগ করে আছে। " সারা জানে একমাত্র সে শুধু জিহানের রাগ ভাঙাতে পারবে। এজন্য অফিস থেকে ফেরার পথে দুটো আইসক্রিম কিনে নিয়ে এসেছিল সারা। আইসক্রিম দিতেই জিহানের অভিমান নিমিষেই চলে গেল।
সারা ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে নেই। তারপর সে তার রুমে চলে যায়। ফোনের ডাটা অন করতেই দেখতে পায় কে যেন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে! প্রোফাইল চেক করে দেখতে পেলো সেই ছেলেটি যার সাথে আজ তার রেস্টুরেন্ট এ দেখা হয়েছিল। সারা ভাবতে থাকে, রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করবে কি করবে না! অবশেষে আবিরের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট সে একসেপ্ট করে। কিছুক্ষণ পরেই আবিরের মেসেজ
-হেলো, চিনতে পেরেছেন?
-হুম,চিনতে পেরেছি। তবে আপনি আমার ফেইসবুক আইডি জানলেন কিভাবে?
-আমি শুনেছি আমরা যার কথা ভাবী ঠিক সেসময় নাকি সে মানুষটাও ঠিক আমাদের কথাই ভাবে। ভাবতে ভাবতে আপনার আইডি সামনে চলে আসা।
-সারা আবিরের কথা শুনে মুচকি হাসতে থাকে। এভাবে তো কখনো ভেবে দেখেনি।
তারপর শুরু হয় তাদের কথোপকথন।
চলবে....
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Hello friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
"ফাস্ট সাইট অফ লাভ।" গল্প পড়ে আমার নীল শাড়ি পরা সারা কে দেখতে মন চাচ্ছে যার প্রেমে লেখক পড়েছে। দ্বিতীয় পর্বটি খুবই ভালো লাগলো ।পরবর্তী ভাগের আশায় রইলাম
হাহাহা কি যে বলেন না 🤭🤭। লেখক লিখেছে শুধু, প্রেমে পড়েনি 😁
আপনার লেখা নীল শাড়ি দ্বিতীয় পর্বটি পড়ে আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আসলে আপনি খুব সুন্দর ভাবে গল্পটি গুছিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। বেশ চমৎকার লেখনি আপনার। এত সুন্দর গল্প শেয়ার করার আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।