সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - পঞ্চম পর্ব
আ মার বাংলা ব্লগের সকল বাংলাভাষী ব্লগার ভাই এবং বোনদের আমার সালাম এবং আদাপ। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে অনেক ভাল আছি।
সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - প্রথম পর্ব
সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - দ্বিতীয় পর্ব
সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - তৃতীয় পর্ব
সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - চতুর্থ পর্ব
সাজেক ভ্যালি ঘুরতে আসার আগেও আমি অনেকবার পাহাড়ে ঘুরে ছিলাম কিন্তু সাজেক ভ্যালির পাহাড় গুলোতে ঘোরার মত অনুভূতি এর আগে কখনো পাইনি। সাজেক ভ্যালির পাহাড়গুলো ছিল অনেক বড়সড়, এই পাহাড়গুলো এতটাই বড় ছিল যে পাহাড়গুলোর উপরে উঠলে নিচের দিকে মেঘ দেখা যেত। এটাই আমার কাছে সবথেকে বেশি ভালো লেগেছিল। সিজনের সময় সাজেক ভ্যালিতে আসলে এই মেঘগুলো আরো কাছে দেখতে পাওয়া যায়।
এই সময়েও এসে আমরা মেঘগুলোকে খুব একটা দূরে দেখিনি তবে অন্যান্য সময়ের থেকে মেঘ কিছুটা কম ছিল। তবে এই সময় আসলে মোটামুটি ভালো মেঘ দেখতে পারবেন যদি কিনা মুষলধারে বৃষ্টি হয়। যদি মুষলধারে বৃষ্টি হয় তাহলে কিছুক্ষণের মধ্যেই উপরের এই পাহাড় গুলোর নিচের দিকে তাকালেই মেঘ ছাড়া আর অন্য কিছু চোখে পড়ে না। আমরা আসার পর বৃষ্টি হয়েছিল কিন্তু খুব একটা বেশি না তাই আমরা খুব বেশি মেঘও দেখতে পারিনি।
তবে সাজেক ভ্যালিতে বাইক নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে আমার ভীষণ ভালো লেগেছিল, এত উপরে উঠে বাইক নিয়ে ঘোরাঘুরি তারপর খাওয়া দাওয়া ব্যাপারটা ভাবতেই অন্যরকম লাগে। সাজেক ভ্যালিতে আমরা ছিলাম একদিন এক রাত, তবে যেদিন সাজেক ভ্যালি থেকে চলে এসেছিলাম সেদিন সকালে একটু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে আমরা কংলাক পাহাড় ঘুরতে গিয়েছিলাম।
জায়গা : মেঘের ঘর রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট
সময়: সকাল ০৮:২৮
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
জায়গা : মেঘের ঘর রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট
সময়: সকাল ০৮:৩০
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই রিসোর্টের বারান্দায় গিয়েছিলাম গিয়েই দেখি বাহিরে মেঘের মেলা শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রথম দিনের থেকে পরের দিনের মেঘের পরিমাণ অনেকটাই বেশি ছিল।
জায়গা : মেঘের ঘর রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট
সময়: সকাল ০৮:৪৯
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
সকালে রিসোর্টের বারান্দায় যাওয়ার আগে একটু রিসোর্ট এর বাহিরে গিয়েছিলাম তখন এক চাকমা ভাইয়ের কাছে আমরা এরকম দুটি বাঁশের কাপ কিনেছিলাম। পরে আমাদের রিসোর্ট এর রেস্টুরেন্টে এই কাপগুলো দিয়ে বলি আমাদের এই কাপেই চা বানিয়ে দিতে। পরে সেই বাঁশের কাপগুলোতেই সকালের চা খেয়েছিলাম।
জায়গা : মেঘের ঘর রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট
সময়: সকাল ০৮:৫১
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
সকাল বেলা রেস্টুরেন্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাহাড়ের উপর মেঘ দেখতে দেখতে চা খাওয়ার অনুভূতিটাই অন্যরকম ছিলো। আমি সেই বারান্দায় দাঁড়িয়ে ১০-১৫ কাপ চা একাই শেষ করে দিতে পারতাম সেখানে দাঁড়িয়ে চা খেতে আমার এতটাই ভালো লাগছিল।
জায়গা : মেঘের ঘর রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট
সময়: সকাল ১০:০১
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
সকালে চা খেয়ে গোসল সেরে আমরা আবার গিয়ে রিসোর্টের বারান্দায় বসি। কিন্তু তখন সকালের মতো এত বেশি মেঘ ছিল না। তবে সামনের দিকে তাকালেই বোঝা যাচ্ছিল যে হালকা মেঘ সামন দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল।
জায়গা : মেঘের ঘর রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট
সময়: সকাল ১০:০৭
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
তারপর রিসোর্ট-এর বারান্দায় ছবি তোলা শেষ করে আমরা দুজনেই রিসোর্ট থেকে বের হই কংলাক পাহাড় ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। সকাল ১১:০০ টায় আমাদের ফেরার স্কোয়াড সাজেক ভ্যালি থেকে নিচের দিকে রওনা হবে তার আগেই আমাদের কংলাক পাহাড় ঘুরে আসতে হবে।
জায়গা : কংলাক পাহাড় যাওয়ার পথে
সময়: সকাল ১০:১৯
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
জায়গা : কংলাক পাহাড় যাওয়ার পথে
সময়: সকাল ১০:২৩
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
কংলাক পাহাড় যাওয়ার পথে এই ছবিগুলো তোলা। কংলাক পাহাড় সাজেকের সব থেকে বড় এবং উঁচু পাহাড়। সাজেক ঘুরতে এলাম কিন্তু কংলাক পাহাড় ঘুরবো না তা কি হয়। আমাদের হাতে যদিও খুব একটা সময় ছিলনা তবুও ভেবেছিলাম একটু হলেও কংলাক পাহাড় থেকে ঘুরে আসবো।
জায়গা : কংলাক পাহাড়
সময়: সকাল ১০:২৯
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
জায়গা : কংলাক পাহাড়
সময়: সকাল ১০:৩১
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
কংলাক পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় আমরা উঠিনি , কিন্তু যতটুকু উপরে আমরা উঠেছিলাম ততটুকুতেই আমাদের শরীরের অবস্থা একদম নাজেহাল হয়ে গিয়েছিল, আমি রীতিমত একটু উপরেই ওঠার পর হাঁপিয়ে গিয়েছিলাম । তবে সময় থাকলে সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠতাম। @mahbubul.lemon মামা এবং আমি উপরে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেই তারপর দু একটা ছবি তুলে সেখান থেকে চলে আসি।
জায়গা : কংলাক পাহাড়
সময়: সকাল ১০:৩৩
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
এই ছবিটি কংলাক পাহাড়ের উপর থেকে তোলা। সত্যি বলতে উপর থেকে নিচের দিকে যখন দেখছিলাম তখন আমি প্রকৃতির মাঝে একদম হারিয়ে গিয়েছিলাম, কতটা যে ভালো লেগেছিল তা আপনাদের ভাষায় বলে বুঝাতে পারবো না।
জায়গা : কংলাক পাহাড়
সময়: সকাল ১০:৩৭
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
জায়গা : কংলাক পাহাড়
সময়: সকাল ১০:৩৭
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
পাহাড় যে কতটা সুন্দর তা আমি সাজেক ভ্যালি যাওয়ার পর উপলব্ধি করতে পেরেছি। সাজেক ভ্যালি থেকে চলে আসার পরেও এখনো আমাকে সাজেক ভ্যালি টানে, জীবনে বেঁচে থাকলে আরো অনেকবার সেই পাহাড়গুলোর দিকে ছুটে যেতে চাই হারিয়ে যেতে চাই সেই সবুজ প্রকৃতির মাঝে।
জায়গা : কংলাক পাহাড়
সময়: সকাল ১০:৪১
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
রাস্তায় যাওয়ার পথে এই জায়গাটি দেখতে ভীষণ ভালো লাগছিল তাই সেখানে নেমে নিজের দু একটা ছবি তুলে নেই। তবে রোদের কারণে সেখানের ছবিগুলো একদমই ভালো হয়নি। তবু আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
জায়গা : কংলাক পাহাড়
সময়: সকাল ১০:৪৮
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
আরেকটু সামনে এগোতেই রাস্তার পাশে এক জায়গায় এরকম একটি দোলনা চোখে পড়ে তাই চিন্তা করলাম এখানেও দাঁড়িয়ে একটা ছবি তোলা যায় যদিও আমাদের অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল।
কংলাক পাহাড় ঘুরে আসতে আসতে আমাদের আসলেই অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল আমরা স্কোয়াড সঙ্গ পারিনি। তবুও আমরা তাড়াহুড়া করে সাজেক ভ্যালি ছেড়ে যাওয়ার ফর্মালিটিস পূরণ করে সেখান থেকে রওনা হয়।
জায়গা : কংলাক পাহাড়
সময়: সকাল ১১:৩০
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
সাজেক ভ্যালি ছেড়ে যাওয়ার পথে কিছু দূর যেতে একটি দোকান চোখে পড়ল। দোকানটি ছিল চাকমাদের, সেই দোকানে দাঁড়িয়ে আমি এবং মামা এক কাপ চা খেয়েছিলাম তখনই এই মিষ্টি বাচ্চাটির সাথে একটা ছবি তুলে নেই। এই ছোট ভাইটির নাম হলো অভিমান চাকমা।
জায়গা : কংলাক পাহাড়
সময়: সকাল ১১:৩৩
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
মামা একজন বড় ক্রাম বোর্ড ভক্ত, সেখানে দাঁড়িয়ে আমি যখন ছবি তুলছিলাম মামা এই ক্রাম বোর্ড টি দেখে নিজেকে আটকাতে না পেরে দু এক টোকা মারা শুরু করে দিয়েছিল।
তারপর আমরা আর সেখানে খুব একটা দেরি করিনি, কিছুক্ষণ বসে থেকে আমরা সেই জায়গা টি ত্যাগ করে আবার আমাদের যাত্রা শুরু করি।
জায়গা : কংলাক পাহাড়
সময়: সকাল ১১:৪৭
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
এই পাহাড়ি পথ গুলো দিয়ে ওঠা নামা করার সময় সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় না হলে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। আমরা যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা গ্রস্ত এই গাড়িটি ছিল না কিন্তু ফিরে যাওয়ার সময় এই গাড়িটি চোখে পড়েছিল তাই ভেবেছিলাম ছবি তুলে নেই আপনাদের সতর্কতামূলক বার্তা দেওয়ার জন্য।
জায়গা : কংলাক পাহাড়
সময়: সকাল ১২:৩০
তারিখ: ০৭/০৯/২০২২
কিছুটা নিচে আসার পর এই নদীটি আপনারা দেখতে পারবেন। এটা একটি পাহাড়ি নদী বর্ষাকালে এই নদীতে প্রচুর স্রোত বয় আর এ নদীতে এই এলাকার মানুষজন প্রচুর পরিমাণে মৎস্য শিকার করে এগুলো এখানকার এক চাকমা চাচার কাছে জানতে পেরেছিলাম।
তারপর আমরা আবার সেই আগের রাস্তা ধরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই। আবার আমাদের সম্পূর্ণ রাত বাইক ভ্রমণ করে ঢাকায় ফিরতে হবে। আমরা এতটাই ক্লান্ত ছিলাম যে যাওয়ার পথে আমরা আসার তুলনায় অনেকবার দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিয়েছিলাম আর ছবি তোলার এনার্জি পাচ্ছিলাম না তাই ফিরতি পথ নিয়ে আপনাদের মাঝে আর কোন পোস্ট উপস্থাপন করতে পারলাম না।
যাই হোক বন্ধুরা আজ তাহলে এ পর্যন্ত, এটাই ছিল সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুরের শেষ পর্বের পোস্ট। আপনাদের সাথে আবারও দেখা হবে আমার অন্য কোন এক পোস্টে সে অবধি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভকামনা রইল সকলের জন্য।
| YouTube |
|---|
VOTE @bangla.witness as witness
OR
TWITTER LINK
তোমার পোস্ট পড়তে পড়তে আমি যেন সেদিনের সেই দিনে ফিরে গিয়েছি। সেদিন আমরা দুজনে অনেক মজা করেছিলাম আর কংলাক পাহাড়ে উঠতে গিয়ে দুজনে হাপিয়ে গিয়েছিলাম। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর দিন কাটিয়েছিলাম। আর সেই দিনটির কথা আজ তোমার পোস্ট পড়ে ভীষণ মিস করছি। সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর সুন্দর বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপন করার জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ওয়াও ভাইয়া পাহাড়ি অঞ্চলে এত সুন্দর তা আপনাদের পোস্ট না পড়লে বুঝতে পারতাম না, সাজেক ভ্যালি তে আমি আজও কখনো যায়নি তবে খুব ইচ্ছে করছে যেতে । আজকে সাজেক ভ্যালি বাইক ট্যুর - পঞ্চম পর্বে অনেক সুন্দর বিবরণ দিয়েছেন সেই সাথে বারান্দায় চা খাওয়ার অনুভূতিটাও দারুন ছিল। 🥰
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি হচ্ছে সাজেক ভ্যালি । আসলে সত্যি সাজেক ভ্যালি পরিবেশ অনেক সুন্দর। তবে পাহাডে উঠা সময় খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। সাজেক ভ্যালিতে খুব সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছেন। পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। এত চমৎকার মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
আগের পর্বেও অনেক দারুন দারুন ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছিলেন আজকেউ করেছেন।আসলে সাজেক ভ্যালির গল্প শুনে মজা পাওয়া যাবে না বাস্তবে দেখতে হবে।দারুন ছিল উপস্থপনা ধন্যবাদ ভাই।
প্রথমেই এতো চমৎকার এবং গোছানো ভ্রমন কাহিনী উপস্থাপন করার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
মেঘের ঘর রিসোর্ট সত্যিই অসাধারণ লেগেছে আমার কাছে, আর বাঁশের মগে চা খাওয়ার বিষয়টি সত্যিই দারুন ছিল। তবে আমিও মেঘের রাজ্যে হারিয়ে যাচ্ছিলাম মনে হচ্ছিল। না এভাবে ছবিতে দেখে মন ভরছেনা, বাস্তবে দেখতে হবে। কংলাক পাহাড়ের চূড়ায় না উঠতে পারলেও যতটুকু সম্ভব উঠে আমাদের চমৎকার কিছু ছবি উপহার দিয়েছো, ধন্যবাদ জানাই তোমায়। সবমিলিয়ে অসাধারণ ছিল। আমার এখনও যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি তবে ইনশাআল্লাহ একদিন যাবো।
আসলেই ভাইয়া এটা দারুন একটি ট্রিপ ছিলো৷ সব মিলিয়ে অনেক মজা করেছি। আর সময় থাকলে কংলাক পাহাড়ের চুড়ায় উঠতাম তবুও ভালই লেগেছে। আপনিও খুব শীঘ্রই ঘুরে আসুন ভাইয়া।
অনেক অনেক ধন্যবাদ এতো সুন্দর মন্তব্য করার জন্য৷