১০ম পর্বঃ মেঘ বালিকা
28-02-23
১৬ ফাল্গুন ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো এবং সুস্থ্য আছেন!🌼🦋 আমি ভালো খারাপ মিলিয়েই আছি! যাক, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গল্প একসাথে লিখছি। আশা করি সব গল্পগুলো আপনাদের কাছে ভালো লাগবে । আজকে গল্পের ১০ম পার্ট লিখলাম। আশা করি আজকের পর্বটিও উপভোগ করবেন।
৯ম পর্বের পর থেক
কিরে রিধি! প্রাইভেট থেকে আসতে এতো দেরী হলো যে তোর!
বাড়িতে পা দেয়ার আগেই মায়ের প্রশ্ন! যথেষ্ট নজরে রাখে মেয়েটাকে।
-আম্মা, টুম্পাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম! টুম্পার বাবাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে?
-টুম্পার বাবাকে ধরে নিয়ে গেল কেন?
-সে এক অনেক কাহিনী আম্মা! টুম্পার বাবার বাজারে একটা মিষ্টির দোকান ছিল! তার পাশেই গৌতম নামের আরেকজন ব্যবসায়ীর দোকান! ঐ গৌতম দা নাকি টুম্পাদের মিষ্টি খেয়ে হসপিটালে ভর্তি! পুলিশ জানতে পারে এসে তাদের দোকানের মিষ্টি নাকি ভালো না!
-কি বলিস! টুম্পার বাবা এমন তো করতে পারে না! তোর নানুর খুব পছন্দের মিষ্টি ছিল টুম্পাদের দোকানের!
-হুমম! টুম্পার বাবার কোনো দোষ নেই, আম্মা! সব দোষ ঐ গৌতম দা এর। উনি নাকি টুম্পাদের সাথে সম্পত্তি লাভের জন্য এমন করেছে! টুম্পাদের বাড়িতে ভিটা মাটি ছাড়া কিছুই নেই! মিষ্টির দোকানটাও ভাড়ায় চালিত! এটা দিয়েই সংসার চলে যায়! টুম্পার বাবা মা এতো রাজনীতি বুঝে না! আগেরবার ভুলভাল সিগনেচার করিয়ে শোয়া দুশতক জমি হাতিয়ে নেয়! ব্যাটা! খুব বজ্জাত। আমি তো ব্যাটাকে ভালো মনে করতাম!
-তাহলে পুলিশ টুম্পার বাবাকে ধরে নিয়ে গেল কেন!
-ঐ যে টুম্পার বাবা আগেই মিথ্যে মামলা দায়ের করে রেখেছিল! জানোই তো, পুলিশের ঘুষ পেলেই হয়!
-মানুষ কেমন দেখছিস! সামান্যটুকু সম্পত্তির জন্য কত কিছু করে!
- হুমম, আম্মা! আমার ক্ষুধা পেয়েছে, খেতে দাও!
- হাত মুখ ধুয়ে নে!
টুম্পা হাত-মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে নেই। বিকেল হয়েছে। শরৎ এর সময়টা শেষের দিকে। গ্রামের যে প্রাকৃতিক দৃশ্যেরও পরিবর্তন হচ্ছে সেটা ভালো করেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে! রিধির না শীত না গরম যেটাকে বলে নাতিশীতোষ্ণ! এমন আবহাওয়াই ভালো লাগে! যেটা বসন্তের শুরতে অথবা শরৎ এর শেষের দিকে দেখা যায়! ষড়ঋতুর এ দেশে ঋতুগুলোও যেন বৈচিত্র্যময়!
রিধি আনমনে তাদের পুকুর পাড়ে কিছুক্ষণ হাটঁতে থাকে! মিনহাজ ভাইয়ের চিন্তাটা এখন মাথা থেকে অনেকটাই চলে গিয়েছে! টুম্পাদের পরিবারের অবস্থা দেখে রিধির খুব খারাপ লাগছে! টুম্পার মা-বাবা সহজ-সরল বলে এমন করতে পেরেছে গৌতম দা! তাদের জায়গায় অন্য কেউ থাকলে এমন করতে পারতো না! মহেশদা যখন এসে যাবে তাহলে হয়তো জেল থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে। কাল আবার মিন্টু স্যারের প্রাইভেট আছে! কিন্তু টুম্পা যাবে না! টুম্পাকে ছাড়া রিধিরও যেতে মন চাইছিল না। কিন্তু যেতে তো হবেই! নিউ টপিক শুরু করবে স্যার! টুম্পা না আসলেও আসার সময় তাদের বাড়ি থেকে খোজঁ-খবর নিয়ে আসা যাবে!
পরদিন সকালে প্রাইভেটের দিকে বেরিয়ে পরে রিধি! আজ টুম্পা যাবে না! একা একাই যেতে হবে। রিধি সবসময় হেটেঁই প্রাইভেটে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে! বাড়ি থেকে ত্রিশ মিনিটের পথ! বলতে গেলে অনেকটা দূর হেটেঁই যেতে হয়! রিধি বাবার কাছে কখনো টাকা চাইনি! যেটা যখন প্রয়োজন হয়েছে সেটা তার মাকে বলেছে! তার মা আবার সবকিছু পূরণ করার চেষ্টা করেছে। রিধি যখন এস এস সি তে গোল্ডেন এ+ পেয়েছিল তখন সে বৃত্তি পেয়েছিল। ৯০০০ টাকা! রিধির বাবা বাজারে যাওয়া আসা করে। হেটেঁ হেটেঁ যেতে হয়! বাবা হেটেঁ হেটেঁ বাজারে যায়, একটা সাইকেল কিনে দিলে মন্দ হতো না! বৃত্তির টাকা পেয়ে সব টাকা তার মায়ের কাছে দিয়ে দিয়েছিল। বলেছিল বাবা যেন একটা সাইকেল কিনে! প্রতিদিন হেটেঁ হেটেঁ বাজারে যায়! রিধি বৃত্তির টাকা দিয়ে তার বাবা শেয়ালধরা বাজার থেকে একটি সাইকেল কিনেছিল! সেকেন্ড হ্যানড! কিন্তু নতুনের মতো সাইকেল। তখন ফনিক্স সাইকেলটাই বেশি চলতো! বাবা মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে পারলেই রিধির সব কিছু স্বার্থক!
রিধি পায়ে হেটেঁই চলে আসে বাজার পর্যন্ত! ঠিক তখনি দেখা হয়ে যায় মিতুর সাথে! দীর্ঘ এক বছর পর দেখা মিতুর সাথে। এইস এস সি এর শুরুতে শেষ দেখা হয়েছিল বিয়েতে। এর পর আর দেখা হয়নি! মিতুর সাথে লম্বা করে একজন ভদ্রলোক! বুঝার বাকি রইলো না এটা তার হাসবেন্ড! রিধি প্রথমে চিনতেই পায়নি মিতুকে! আগের থেকে মোটা হয়েছে মিতু! চেহারা সুন্দর হয়েছে! বিয়ের পরই মিতুর এতো পরিবর্তন!
-রিধি! রিধি!
পিছন ফিরে তাকাতেই দেখতে পায় মিতু তাকে ডাকছে। ভয়েসটা খুবই পরিচিত! সে আর কেউ না! মিতু!
-কিরে কেমন আছিস তুই?
-এইতো ভালো! বাড়িতে কবে এসেছিস?
-আজই যাচ্ছি বাড়িতে! যাওয়ার পথেই তোর সাথে দেখা হয়ে গেল! সাথে আমার হাসবেন্ডও এসেছে!
-ভাইয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দে তাহলে!
-একটু দাড়াঁ! মিষ্টির দোকানে গেছে মিষ্টি নিতে!
-ওহ আচ্ছা! সব মিলিয়ে সংসার জীবন ভালো যাচ্ছে তোর!
-হ্যা! আলহামদুলিল্লাহ! তোদের দোয়ায় ভালো যাচ্ছে। তুই কি এখন প্রাইভেটে যাচ্ছিলি!
-হুম, মিন্টু স্যারের প্রাইভেট! ইংরেজি পড়ি!
-মিন্টু স্যার অনেক ভালো ইংরেজি পড়ায়। তোর ভাইয়া আমাকে ঢাকা একটা কলেজে ভর্তি করিয়েছে। কিন্তু সংসার সামলাতে সামলাতে আমার জীবন যায়!
-হুমম! এখন স্বামী নিয়েই সুখে থাক!
একটু পরেই মিতুর হাসবেন্ড সাজু ভাইয়া চলে আসে! হাতে মিষ্টির প্যাকেট নেই!
-একি! মিষ্টি কোথায়?
-মিষ্টি তো পেলাম না! ঐ যে আগেরবার যে দোকান থেকে মিষ্টি নিয়েছিলাম সেটি দেখি এখন বন্ধ!
-ওহ আচ্ছা সমস্যা নেই! পরিচয় করিয়ে দেয়! আমার ফ্রেন্ড রিধি! আমরা একসাথে পড়াশোনা করেছি!
-আসসালামু আালাইকুম! কেমন আছেন আপনি?
-জি ভাইয়া ভালো! আপনি ভালো তো?
-আপনার ফ্রেন্ড আর ভালো থাকতে দিলো কই!
-কেন কি করেছে!
-সারাদিন ঘরের ভিতরে বসিয়ে রাখে
-হাহাহা! ঘরের ভিতরেই বসে থাকেন সেটা ভালো।
-তো আপনার বিয়েটা কবে খাচ্ছি?
-দূর! তুমি কি আজব প্রশ্ন শুরু করেছো (মিতু)
-ভাইয়া, অনেক মজার মানুষ বুঝা গেল! মিতু, তুই ভাইয়াকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসিস! আম্মা তোকে দেখতে চেয়েছিল। আমার প্রাইভেট এর সময়ও হয়ে গেছে।
-আচ্ছা! বাড়িতেই থাকবো কয়েকদিন। তোর ভাইয়ারও অফিস ছুটি! সময় করে আসবো নে।
- আচ্ছা, আমি যাই! ভাইয়া,আমাদের বাড়িতে আসবেন কিন্তু।
-ঠিক আছে!
রিধি চলে আসে! কতদিন পর মিতুর সাথে দেখা হয়ে গেল! মিতু অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। বান্ধবী স্বামীর সংসারে ভালো ভাবেই দিন কাটাচ্ছে। মেয়েদের এটাই যেন সবথেকে বড় প্রাপ্তি।
চলবে.....
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
twitter share link
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ভাই, অসুস্থতার কারণে কমিউনিটিতে কাজ করতে পারিনি, যার কারণে আপনার মেঘো বালিকার বাকি পর্বগুলো পড়া হয়নি। তবে আজ যখন আপনার গল্পটি পড়ছিলাম আমি যেন গল্পের মাঝেই হারিয়ে গিয়েছিলাম। আপনি ঠিকই বলেছেন, ষড়ঋতুর এদেশে রীতিগুলো যেন বৈচিত্র্যময়। আর এই বৈচিত্র ঋতু আমাদের একেকবার একেক রকম আনন্দ উপভোগ করতে সাহায্য করে। যাই হোক, আপনার গল্পে রিধি বৃত্তির টাকা পেয়ে তার বাবাকে সাইকেল কিনে দিয়েছে, ব্যাপারটি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আপনার লেখা গল্পটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে বেশ সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। এজন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমি সময় সুযোগ করে মেঘ বালিকার পেছনে ফেলে আসা পর্বগুলো পড়ার চেষ্টা করব। ভালো থাকবেন
জি ভাইয়া। আপনার অসুস্থতার কথা শুনে খারাপ লাগলো। আশা করি এখন সুস্থ্য আছেন। বাকি পর্বগুলো আশা করি উপভোগ করবেন 🌼
রিধি আসলে অনেক ভালো একটা মেয়ে। রিধি আর টুম্পা যেহেতু ক্লোজ বান্ধবী তাই টুম্পার জন্য রিধির কষ্ট লাগা স্বাভাবিক। যাইহোক টুম্পার বাবা তারাতারি ফিরে আসুক এই কামনা করি। আর মিতুর সাথে দেখা হবে রিধির অনেক ভালো লেগেছে।
জি আপু। মিতুর সাথে রিধির দেখা হয়ে গেল অনেকদিন পর! আপনাকে ধন্যবাদ আপু 🌼🦋
আপনার মেঘ বালিকা এই গল্পটির প্রত্যেকটি পর্ব আমি পড়েছি আসলে আমার খুবই পছন্দের একটি গল্প এটি। আসলে আমার কাছে এরকম গল্প গুলো পড়তে ভীষণ ভালো লাগে। টুম্পার বাবার জন্য কিন্তু বেশ খারাপ লাগছে। রিধি এবং টুম্পা খুবই ভালো ফ্রেন্ড টুম্পার বাবার এবং তার পরিবারের এরকম অবস্থার কথা শুনে টুম্পার খারাপ লাগার কথা। এখন তো ভাবছি পরের পর্বে কি হবে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি পরের পর্ব শেয়ার করবেন আমাদের সকলের মাঝে। ভালই লাগলো আজকের এই পর্ব পড়ে।
জি আপু! আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি! আপনি শুরু থেকে আমার গল্পটি পড়ে আসছেন! সামনে আরও ইন্টারেস্টিং কিছু অপেক্ষা করছে আপু! অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে 🌼