৮ম পর্বঃ লিপা
06-02-23
২৪ মাঘ ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই অনেক ভালো আছেন 🌼🦋। যাক, দেখতে দেখতে গল্পের অষ্টম পর্বে চলে এলাম।আশা করি এ পর্বটিও আপনারা উপভোগ করবেন!
৭ম পর্বের পর থেকে
লিপার কদিন ধরেই মন খারাপ! মন মরা হয়ে বসে থাকে। কিছু করতেও ভালো লাগে না! শিলা সেটা ভালো করেই লক্ষ্য করে! শিলা ভাবছে লিপার হয়তো সেই বিয়ের কথা এখনও মাথায় ঘুরছে!
-মন খারাপ করে বসে আছিস যে?
-না এমনি! ভালো লাগছে না!
-কিছু তো একটা হয়েছে! আবার কি বিয়ের জন্য কিছু বলেছে!
-না! শাওনকে মেসেজ দিতে না করেছিলাম! আজ তিনদিন হয়ে গেল! সে কোনো মেসেজ দেয়নি! আমার সামান্য এক কথায় মেসেজ দেয়াই বন্ধ করে দিল!
-ওহ, আচ্ছা! তুই তো প্রেমে পড়ে গেলি শাওনের! বেচারাকে শুধু শুধু এতো কথা বলেছি!
-এ কয়দিনে ভালোই লেগেছে কথা বলতে! হঠাৎ করে বন্ধ!
-তুই ফোন দিয়ে কথা বল তাহলে!
-না! আমি ফোন দিব না! ছেলেদের কাছে ভালোবাসা প্রকাশ করতে নেই! এতে তারা দূর্বলতাভাবে! ভালোবাসা প্রকাশও করতে নেই!
-তাহলে তুই যেটা ভালো মনে করিস, সেটাই কর!
এই বলে শিলা চলে আসে রুমে! লিপা বেলকনীতে দাড়িঁয়ে বাহিরের ওয়েদার দেখছে! মাথায়, বিয়ের ও শাওনের কথা ঘুরপাক খাচ্ছে! সামনে আবার পরীক্ষা! এই সময়ে এমন চিন্তা এসে মাথায় ঢুকলো! কোনো কিছুতেই যেন লিপার মন বসছিল না! কি যেন একটা মিসিং! পড়তেও ভালো লাগে না! বই নিয়ে ঝিমিয়ে পড়ে।
ঠিক সাতদিন পর শাওনের মেসেজ! লিপার হাজারো অভিমান জমে আছে শাওনের উপর! হয়তো সেটা ভালোবাসার জন্যই! কথা বলার ইচ্ছে নেই! কিন্তু কথা না বলেও যে থাকতে পারছে না!
-কেমন আছেন? ভুলে গেলেন? (শাওন)
-হুমম! ভুলে গিয়েছি!
-ওহ
-এতোদিন কোথায় ছিলেন?
-সেই খবর কি আর কেউ রাখে! আমি কয়েকদিন অসুস্থ ছিলাম! বিছানা থেকে উঠতেই পারিনি!
-কি হয়েছিল আপনার?
-ক্যাম্পাসে এসেই ডেঙ্গু জ্বর হয়ে গিয়েছিল! এই কয়দিন শরীরের উপর দিয়ে মনে হয় ঝড় গেছে! খুব দূর্বল হয়ে গিয়েছিলাম! বাড়ি থেকে মা এসেছিল। হাসপাতালেই ছিলাম কদিন!
লিপা কাদঁছে! কোনো কারণ ছাড়াই! শাওন এতো অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল আর সে কিছু জানেইনি! নিজেকে অনেক অপরাধী মনে হচ্ছে! শাওন জানে না লিপা কাদঁছে। জানবেও না কোনদিন! অপ্রকাশিত থেকে যাবে শাওনের প্রতি তার ভালো লাগা!
-এখন ভালো আছেন!
-হুমম, এখন একটু ভালো! তবে শরীর পুরোপুরিভাবে ঠিক হতে আরও কিছুদিন লাগবে!
-ঠিক আছে! রেস্ট নেন কয়েকদিন!
চোখের কোণে এক আকাশ পরিমাণ মেঘ জমে আছে! শিলা দরজার পাশে দাড়িঁয়ে দেখছে লিপা কাদঁছে! সাথে করে সে টিস্যু নিয়ে এসেছে!
-এই নে, ধর! চোখ মুছে নে! খুব তো বলছিলি প্রেম করবি না! কাউকে ভালোবাসবি না!! এখন শাওনের জন্যই কান্না করছিস!
-ও অসুস্থ ছিল কয়েকদিন! আর আমি সেটা জানি না! আমি ভেবেছি হয়তো মোহ বাড়িয়ে চলে গেছে!
-শুধু শুধু নেগেটিভ চিন্তা করিস! শাওন যে তোকে ভালোবাসে আমি সেই আগে থেকেই বলছিলাম!
-আমি ভালোবাসতে পারবো না! আমার দ্বারা এসব হবে না!
-সেই আবার এক কথা বলছিস! দুজনেই তো ভালো ভার্সিটিতে পড়াশোনা করছিস! তো সমস্যাটা কোথায়?
-আমার মা-বাবা জানতে পারলে শেষ! সব আশা জলের সাথে মিশে যাবে!
-সব সিক্রেট রাখবি! যখন দুজন একসাথে প্রতিষ্ঠিত হবি তখন পরিবারকে তোদের দুজনের ব্যাপারটা জানাবি!
-না না! আমার এতো সাহস নেই! কাউকে শুধু শুধু আশা দিয়ে লাভ কি! তার চেয়ে যেভাবে আছে ওভাবেই থাকা ভালো।
-তুই যেটা ভালো মনে করিস!
লিপা টিস্যু দিয়ে চোখ মুছছে! শিলা বেলকনী থেকে চলে আসে! লিপা অনেক নরম হৃদয়ের মানুষ! অল্পতেই চোখ গড়িয়ে পানি চলে আসে! অল্পতেই কাউকে বিশ্বাস করে ফেলে। যার ফলে কষ্টটাও পেতে হয়! যেমনটা হয়েছিল উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময়!
জিসান নামের এক ছেলের সাথে পরিচয় হয়েছিল। একই গ্রামের দুজন! একইসাথে কলেজে পড়াশোনা করতো। তখন ভালোলাগার বয়স ছিল! লিপা ভালো ছাত্রী হওয়ায় কলেজের অনেক ছেলেই তার পিছু পিছু হাটতো কিন্তু সে কাউকে পাত্তা দিতো না! তবে কলেজের জিসান নামের একটা ছেলের সাথে লিপার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল! ছেলেটাও ভদ্র ছেলে! লিপা যেমনটা ভেবেছিল! প্রথম প্রথম ভাবের আাদান-প্রদান ভালোই হচ্ছিল। একসময় তাদের ভালো লাগা থেকে তৈরি হয় ভালোবাসার! কিন্তু সেটা আর দীর্ঘ হলো না! কিছুদিন পরে লিপা জানতে পারে ছেলেটা অন্য আরেকটি মেয়েকে পছন্দ করে। লিপার বিশ্বাস তখনই ভেঙ্গে গিয়েছিল। লিপার আর জিসানের সম্পর্কটা ছয়মাসের মতো ছিল! এর পর থেকে লিপার কাছ থেকে বিশ্বাস জিনিসটা উঠে গেছে! কোনো ছেলেকেই এখন তার বিশ্বাস হয় না! এতো কাছের একজন হয়েও তার ভালোবাসার প্রতিদান দেয়নি তাহলে অন্য কোনো ছেলে দিতে পারবে কিভাবে?
শিলার কাছে অতীতে কথা শেয়ার করেনি লিপা! কারন এসব শেয়ার করলে শুধুই কষ্ট বাড়বে। তার চেয়ে ভালো নিজের কষ্ট নিজেই বয়ে বেড়ানো। তবে লিপাকে একটা শিক্ষা দিয়েছে! ঘুরে দাঁড়ানোর! লিপা খারাপ অবস্থা থেকেও ঘুরে দাড়িঁয়ে ছিল! ভালো রেজাল্টও করেছিল! অনেকটা শক্ত হয়ে গেছে লিপা!
লিপা কখনোই পরিবারের অমতে বিয়ে করবে না! মা-বাবা যে ছেলের সাথে বিয়ে দিবে তার সাথেই বিয়ে করবে লিপা! তবে শর্ত হলো গ্রাডুয়েশন কম্প্লিট করার পর বিয়ে! এখন বিয়ের কোনো প্লেন নেই! পরিবারের বড় মেয়ে হওয়ায় দায়িত্বটা একটু বেশি! কিন্তু গ্রামের মানুষের একটি কথা! "মেয়ে মানুষরে এতো পড়াইতে নাই, বয়স বাড়ে না কমে! " এ কথাগুলো বারবার শুনতে হয় তার বাবা-মার। শুনতে শুনতে তারা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে! কিন্তু তাদের বিশ্বাস লিপা তাদের স্বপ্ন পূরণ করিয়ে দেখাবে! কিছুদিন পর ভার্সিটির পরীক্ষা। পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়াটাই এখন ভালো হবে!
এদিকে সন্ধ্যা হয়ে এল! পাশের রুমে শিলা হাসছে! সম্ভবত ভাইয়ার সাথে কথা বলছে! ভালোবাসার মাঝে কিছু মুহূর্ত থাকে যেগুলো মনে হলে সবসময় হাসায়, আনন্দ ফিল হয়! অভি ভাইয়ার সাথে শিলার ভালোবাসার মুহূর্তটা আমার কাছেও ভালো লাগে! দুজনের মাঝে কতটা দূরত্ব তবুও তারা আপন করে নিয়েছে একে অপরকে!
চলবে.....
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
twitter share link
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আস্তে আস্তে লিপা শাওনকে ভালবেসে ফেলেছে কিন্তু তাকে এখনো ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। যার মন প্রথমেই একবার ভেঙে যায় পরে জোড়া লাগতে অনেক কষ্ট হয়। আসলে মানুষকে বিশ্বাস করার পরিনাম এরকমই হয়। এভাবে স্বার্থপরের মত চলে গিয়েছে। শাওন লিপাকে অনেক ভালোবাসে। লিপা ও শাওনের জন্য কান্না করেছে। এই গল্পটি আমি যত পড়ছি ততই ভালো লাগছে। পরবর্তী পর্ব দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
আপনাদের কাছে ভালো লাগলে আমার গল্প লেখা স্বার্থক। পরের পর্ব খুব শীঘ্রই আসছে।
লিপার এই গল্পটির প্রত্যেকটি পর্ব আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। সেই সাথে আজকের পর্ব টিও অসাধারণ ছিল মনটা ভরে গেল। লিপার প্রথম প্রেমের কথা পড়ে খারাপ লেগেছে। লিপা একজনকে বিশ্বাস করেছিল কিন্তু সে তার বিশ্বাস ভেঙে অন্য আরেকজনকে ভালোবাসতো এবং তাকে ছেড়ে চলে যায়। সেজন্য লিপার অন্য কারো প্রতি বিশ্বাস এত সহজে আসে না। পরের পর্বে কি আসবে তা দেখার অপেক্ষায় আছি শুধু। আশা করছি খুবই তাড়াতাড়ি শেয়ার করবেন।
জি আপু। খুব শীঘ্রই শেয়ার করবো। প্রতিটি পর্বে আপনার মন্তব্য আমাকে ভীষণভাে অনুপ্রাণিত করেছে 🌼
পর্ব ভিত্তিক আপনার গল্পটি তো দিনে দিনে ড্রামাটিক করে তুলছেন ভাইয়া। যদিও মানুষের বিশ্বাস একবার ভেঙ্গে গেলে আর ফিরে আসে না, তবুও লিপা মনে হয় শাওন কে অনেক ভালবেসে ফেলছে। আর বাসবেই না কেন শাওন ও তো লিপা কে অনেক ভালবাসে। আগামী পর্ব দেখার অপেক্ষায় রইলাম।
জি আপু আগামী পর্বে আরও নতুন কিছু আসছে! ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার মন্তব্য করার জন্য