শেষ পর্বঃ অধরা পরী
02-10-2023
১৭ আশ্বিন , ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই অনেক ভালো আছেন!
ভালো থাকাটাই সবথেকে বড় বিষয়। যাক, আপনাদের সাথে একটি গল্প শেয়ার করেছিলাম। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে আর কন্টিনিউ করা হয়নি। বাকি দুইটা গল্প লেখা শুরু করেছি। খুব শীঘ্রই শেয়ার করবো আপনাদের সাথে। আজকে গল্পের শেষ পর্বে চলে এসেছি। আশা করছি গল্পটি পড়বেন।
৮ম পর্বের লিংক
"কিরে কি ভাবছিস?"
"কই, কিছু না তো! "
"তাহলে কথা বলছিস না কেন?"
"হুমম, বল! শুনতেছি আমি।"
"ঝর্ণা, কি বললো তারপর বললি না! "
" ঝর্ণাকে মনে হচ্ছে কেন জানি হারিয়ে ফেলতেছি! বাড়ি থেকে ওকে অনেক প্রেসার দিচ্ছে বিয়ের! "
" তোর এমন মনে হচ্ছে কেন? এক কাজ কর! "
" কি কাজ? "
" ঝর্ণাকে নিয়ে পালিয়ে যা! পালিয়ে বিয়ে করে ফেল! "
" এটা সম্ভব না রে! জানসই তো আমার ফ্যামিলির অবস্থা! মা-বাবা কতো আশা করে বসে আছে আমার উপর! "
একটু রাগেই বললো সৌরভ -
" তাহলে আর কি করা! ঝর্ণাকেও আর পাবি না। ওর ভাইকে আমি ভালো করেই চিনি! "
এই কথা শুনে আসিফের হার্টের স্পিড যেন বেড়ে গেল! মনে হচ্ছে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরছে। ভালোবাসার মানুষটাকে এতো সহজে হারিয়ে ফেলবো!
" আমি এখন কি করবো! সামনে এস এস সি পরীক্ষা! এই মুহূর্তে এমন ডিসিশন নেয়াও যাবে না! "
" হুমম! আচ্ছা বাদ দে! বাসায় গিয়ে চিন্তা কর কি করবি। "
হাটঁতে হাটঁতে বাসার কাছে চলে আসে দুজন। রহমান চাচা মসজিদে তালা লাগিয়ে বের হচ্ছে। অনেকদিন পর আসিফকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করে -
" কেমন আছো বাবা? "
এইতো হুজুর ভালো। আপনি ভালো আছেন তো?
" আল্লাহ ভালো রেখেছেন। তোমাকে অনেকদিন পর দেখলাম। মসজিদেও আসো না তেমন! "
" আমি আসলে বাসায় ছিলাম না এতোদিন! "
" ওহ আচ্ছা! মসজিদে আইসো! "
এই বলে হুজুর সাইকেলে উঠে পরে।
আসিফ হুজুরকে সালাম দিয়ে বাসার দিকে চলে আসে। সৌরভ ততক্ষণে বাসায় চলে গিয়েছে। বাসার সামনে যেতেই আসিফ তার বাবাকে দেখতে পায়! বেঞ্চের উপর বসে আছে। আসিফকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করে -
" কোথায় গিয়েছিলি? "
মাথাটা নিচুঁ করে রাখে আসিফ। স্বল্প স্বরে উত্তর দেই -
" সৌরভের সাথে ছিলাম কিছুক্ষণ! "
ঠিক আছে বাসায় যা। এই বলে আসিফ বাসায় চলে আসে। তার মা বসে আছে। আসিফ এখনও খাইনি। আসিফ সোজা তার রুমে চলে আসে। তার মা পাশের রুম থেকে ডাকছে। কিন্তু আসিফ কোনো কথা বলছে না।
আসিফের মাথায় শুধু ঝর্ণার চিন্তায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ঝর্ণার অশ্রুভেজা চোখ তার চোখের সামনে ভাসছে। ঝর্ণাও যে আসিফকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু আসিফ এখন কি করবে! ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায় আসিফ।
ঠিক তিন মাস পর! এস এস সি পরীক্ষা শেষ! ঝর্নার সাথে যোগাযোগ নেই অনেকদিন হলো। রেজাল্টের আগের দিন! হঠাৎই আননোন একটা নাম্বার থেকে মেসেজ!
' কেমন আছো? '
একটা আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ দেখে আসিফ কিছুটা ইতস্তত হয়ে পরে।
' আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না! '
ঠিক কিছুক্ষণ পর আবার মেসেজ আসে!
' আমি ঝর্ণা! এবার চিনতে পেরেছো! '
মেসেজটা দেখেই আসিফের বুকটা ধুক করে উঠল! ঠিক তিনমাস আগে ঝর্নার সাথে আসিফের দেখা হয়েছিল। পরীক্ষা হলেও, ঝর্নার দেখা পায় নি। যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারেনি। হঠাৎ করেই যেন ঝর্ণা তার জীবন থেকে হারিয়ে যায়! আজ এতোদিন পর ঝর্নার মেসেজ!
' তুমি এতোদিন কোথায় ছিলে? আমি কত খুঁজেছি তোমাকে! '
' ভাইয়া আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়। আমি পরীক্ষা দিতে পারেনি। আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি তোমার সাথে যোগাযোগ করার কিন্তু পারেনি! আসিফ, আমি ভালো নেই! '
ঝর্নার বিয়ে হয়ে গেছে শুনে আসিফের সব স্বপ্ন নিমিষেই শেষ হয়ে গেল! আসিফ আনমনে হাসতে হাসতে বের হয়ে গেল! আর বলতে লাগল, আমি তোমাকে অনেক ভালোবেসেছিলাম, অনেক! ঝর্না, যেন তার কাছে অধরায় রয়ে গেল। আসিফ এখন ভবঘুরে এক পাগল, ভালোবাসার পাগল!
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। সম্প্রতি আমি ইলেকট্রিক্যাল থেকে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছি। এখন বিএসসি এর জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছি। পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত দু বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। যাক,
নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
twitter share link
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
অধরা পুরীর গল্পটার শেষ পর্ব অনেকদিন পরে পেলাম। আসলে এই পর্বটার জন্য অনেক দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলাম। আপনি অনেক সুন্দর করে এই গল্পটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শেয়ার করেছিলেন। আর আজকে শেষের পর্বটা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন, কিন্তু শেষের পর্বটা পড়ে অনেক খারাপ লেগেছে। ঝর্ণার বিয়ে হয়ে গিয়েছে, আর এখন আসিফ ভালোবাসার কারণে পাগল, এইসব কিছু জেনে চোখে জল চলে এসেছে।
জি আপু গল্পটা অনেকদিন পর শেয়ার করলাম। ধন্যবাদ আপু চমৎকার মন্তব্যের মাধ্যমে উৎসাহিত করার জন্য।
আপনি এই গল্পটা আমাদের মাঝে অনেক দিন ধরে শেয়ার করেছেন। আর আজকের পর্বটা দেখছি অনেক দেরিতে শেয়ার করলেন। আজকে এই গল্পটার শেষের পর্ব পড়ে ভালো লেগেছে। ভেবেছিলাম ঝর্ণা এবং আসিফের ভালোবাসার মিলন হবে, কিন্তু ঝর্ণাকে তার ভাই অন্যজনের সাথে জোর করে বিয়ে দিয়েছিল। আর এই কথা শুনে আসিফ ও তার ভালোবাসার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছে। আপনার পরবর্তী গল্পটা পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম।
জি ভাইয়া, গল্পটা অনেকদিন পর লিখলাম। আজকের পর্বের মাধ্যমে গল্পটা শেষ হলো। নতুন গল্প নিয়ে খুব শীঘ্রই হাজির হবো 🦋🌼
আপনার পোস্ট পড়ে সত্যি ঝর্ণার জন্য অনেক খারাপ লাগল। আসলে ঝর্ণা ও আসিফ দুজনের ভালোবাসা ঠিক ছিল কিন্তু তাদের কিছুই করার ছিল না। আর ভালাবাসার মানুষকে না পাওয়া সত্যি অনেক দুঃখ জনক। সত্যি ভালোবাসার জন্য আসিফকে অবশেষে পাগল হতে হলো। ধন্যবাদ ভাইয়া।
জি আপু। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু চমৎকার মন্তব্য করার জন্য ☘️
গল্পটা পড়ে সত্যিই খুব মর্মাহত হলাম ভাই। প্রকৃত ভালোবাসা পূর্ণতা না পেলে কষ্টের শেষ থাকে না। আজীবন প্রিয় মানুষটাকে না পাওয়ার আফসোস রয়ে যায় মনের মধ্যে। ঝর্ণাকে অবশেষে তার ভাই জোর করে বিয়ে দিয়েই দিল। এতে করে আসিফ চিরতরে ঝর্ণাকে হারিয়ে ফেললো এবং পাগল হয়ে গেল। যাইহোক আশা করি নতুন কোনো গল্প নিয়ে আমাদের মাঝে হাজির হবেন।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া, প্রকৃত ভালোবাসা পূর্ণতা না পেলে কষ্ট লাগেই! আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া চমৎকার একটি মন্তব্য করার জন্য 🌼