২য় পর্ব || জীবনের ব্যর্থতার গল্প
12-03-2024
২৯ ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
🌼আসসালামুআলাইকুম সবাইকে🌼
তখনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা কি জিনিস বুঝতাম না। তবে পরীক্ষা দিয়ে যে ভালো করতে হবে সেটা বুঝেছিলাম। আমাদের নান্দাইলে চন্ডীপাশা সরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। তো সে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে আগে পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষায় ভালো করতে পারলে তারপরে ভর্তি হওয়া যায়। আমাদের সময় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে ১৪০ জনের মতো নিতো। আমি মোটামোটি গণিত আর ইংরেজিতে ভালোই ছিলাম। তো পারবোই তো এটা ভেবে বইয়ের সাথেও সাক্ষাত বাদ দিয়েছিলাম। আর আপু চলে যাওয়ার পর আমার মনটাও ভালো ছিল না। সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে আমি চলে গিয়েছিলাম খালামনিদের বাড়িতে বেড়াতে। খালামনিদের বাড়িটা আবার একদম বিলের পাশে অবস্থিত ছিল। আর আমার সমবয়সী খালাতো ভাইও ছিল। দুজনে মিলে সেখানে সারাদিন ঘুরাঘুরি করতাম। বিলের মাঝে দেখতাম অনেক শাপলা ফুটে থাকতো। আবার অনেকেই জাল দিয়ে মাছ সংগ্রহ করতো। বলতে গেলে বিলের মোমেন্টাই অন্যরকম ছিল।
বিলের ঠিক মাছে ছোট একটা ব্রিজ। সেটা কি কারণে বিলের মাঝে নির্মাণ করেছিল আমি বুঝলাম। সে ব্রিজ থেকে বিলের পরিবেশটাও দেখতে চমৎকার লাগতো। তো খালামনিদের বাড়িতে প্রায় এক মাসের মতো থেকেছিলাম। দেখতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝ সময় চলে আসে। আমি আর দেড়ি না করে বাড়িতে চলে আসি। কিন্তু ততক্ষণেও যে আমার হুশ হয়নি সেটা বুঝতে পেরেছিলাম। স্কুলে খোজঁ নিয়ে জানতে পারলাম ফর্ম দিয়েছে। আর ফর্ম দেয়ার এক সপ্তাহ পরে পরীক্ষা ছিল আমার। আমি তখনও বুঝতে পারছিলাম না কি করবো। তবে আমার কনফিডেন্স ছিল যে আমি পারবো। কিন্তু প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পর্কে বিন্দুমাত্র আইডিয়া ছিল না। আমি ভেবেছিলাম হয়তো ইংরেজি, গণিত এগুলা থেকেই প্রশ্ন করবে। বইয়ের ম্যাথগুলো একটু করেছিলাম জাস্ট। তবে সেটা ভালোভাবেও প্র্যাকটিস করা হয়নি।
পরীক্ষার দিন চলে আসে। তখন তারিখটা মেবি ২৫ ডিসেম্বর, ২০১২ সাল হবে। পরীক্ষা ছিল সকালে। সকাল হতেই আমার মায়ের কান্না শুরু। আপুর কথা মন করে কান্না শুরু করে দিয়েছিল। আমি আম্মাকে সান্তনা দিয়ে গেলাম পরীক্ষা দিতে চন্ডীপাশা সরকারি বিদ্যালয়ে। আমার আব্বাই নিয়েছিল আমাকে। আব্বার ছোট সাইকেল করে পিছনে বসে গিয়েছিলাম। যাওয়ার পথে আব্বা বলছিল যেন মাথা ঠান্ডা করে সবকিছু যেন আনসার করি। আমিও মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলাম। স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখলাম সেখানে অনেকেই এসেছে পরীক্ষা দিতে। আমার কয়েকজন বন্ধুকেও পেলাম। যাদের সাথে চারিআনি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একসাথে পড়াশোনা করেছি তাদের অনেককেই সেখানে পেয়েছিলাম। আমার ফ্রেন্ড বিজয়ের সাথে আমার সিট পড়েছিল। সেটাও আবার দুতলায়!
পরীক্ষায় যখন খাতা চলে আসলো তখন দেখে মনে হলো আমি পারি কিন্তু লিখতে পারছি না! আমি খাতা পেয়েই সোজা কান্না করে দেয়। যুক্ত বর্ণ, শব্দার্থ, এক কথা কথায় প্রকাশ, ইংরেজি একটা কবিতা আর কিছু বাক্য তৈরি। গণিতের কয়েকটা বেসিক ম্যাথ। আমার সবগুলো সহজ মনে হচ্ছিল। কিন্তু আমি পারলাম না সবগুলো উত্তর দিতে। এক ঘন্টার পরীক্ষা ছিল। একশো নাম্বারে মনে হয়েছিল ষাটের মতো পাবো। কিন্তু এটা যথেষ্ট ছিল না। কারণ আমার থেকেও খুব ভালো পরীক্ষা দিয়েছে অনেকেই। কি আর করার। অনেক মন খারাপ নিয়েই হল থেকে বেরিয়ে আসলাম। নিচে আমার আব্বা দাঁড়ানো। পরীক্ষা কেমন হয়েছে বলতেই আমি বললাম মোটামোটি হয়েছে! তবে আমার আব্বা যে বুঝতে পারছিল আমার পরীক্ষা ভালো হয়নি আমি বুঝেছিলাম। আমাকে বললো চিন্তার কিছু নেই, ভাগ্যে থাকলে হবে। তারপর পরীক্ষা দিয়ে সোজা বাড়িতে চলে এলাম। বাড়িতে এসে বই খুলে শুধুই আফসোস করলাম! নিজের কাছে আরেকবার অসহায় লাগছিল। আবারো তাহলে আমি ব্যর্থ হলাম!
চলবে,,,,,,,
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। সম্প্রতি আমি ইলেকট্রিক্যাল থেকে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছি। এখন বিএসসি এর জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছি। পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত দু বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। যাক,
নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
twitter share
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
বাহ জীবনের ব্যর্থতা নিয়ে তো খুব সুন্দর গল্প লিখেছেন।প্রথম পর্ব পড়া হয়নি কিন্তু দ্বিতীয় পর্ব পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আমিও ঠিক আপনার মতোই করতাম। সবসময়ই মনে হতো আমি পারবো সেজন্য বই খুলে কখনোই দেখা হতো না। আমার অবস্থা এমন অনেক বার হয়েছে প্রশ্ন দেখে মনে হচ্ছে সব পারি কিন্তু লিখতে পারছি না। তার একমাত্র কারণ একবার পড়লে সেই জিনিস পানির মতো ক্লিয়ার হয়ে যায়। তখন লিখতে অসুবিধা হয়না কিন্তু না পড়লে পারা জিনিসও লেখা যায় না। তবে আপনার আব্বু কিছু না বলে শান্তনা দিয়েছে জেনে ভালো লাগলো। বাড়িতে এসে বই খুলে দেখতেই আফসোস লাগছে আর মনে হচ্ছে আবারও ব্যর্থ হলাম। এরপর কি হলো জানার অপেক্ষায় রইলাম।
জি আপু, পরের পর্বে জানতে পারবেন। অসংখ্য ধন্যবাদ আপু 🌼
ভাই আমি মনে করি এটা আপনার ব্যর্থতা না। কারণ আপনার ভাগ্য সহায় ছিলো না। আপনি যে পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন, এটা সত্যিই খুব কঠিন ছিলো। আপনার আপুর মৃত্যুর পর আপনার আন্টির বাসায় গিয়ে এক মাস থেকে হয়তো মনটা কিছুটা ভালো হয়েছিল। তবে এই ধরনের শোক সহজে কাটে না। আর এমন পরিস্থিতিতে পড়াশোনা হয় না সেভাবে। কম্পিটিশন একটু কম হলেও কথা ছিলো। যাইহোক পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ভাই।