ছোটগল্পঃ নীলু
08-10-2023
২৩ আশ্বিন , ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
পরিবারের সবার ছোট নীলু। মায়ের আদরটাও সবসময় বেশি পায়। বড় চার ভাই। সবাই তাকে খুব আদর করে। যখন যা চেয়েছে সবসময় সেটা পেয়েছে। কখনো মা অভাব বুঝতে দেয়নি নীলুকে। মায়ের সাথে ছোট্র কুঠিরে বাস করে নীলু। বড় যে কজন ভাই রয়েছে সবাই বিয়ে করে যার যার মতো বাসা করে রয়েছে। মা মেয়ের জীবন ভালোভাবেই চলছিল। দেখতে দেখতে নীলু স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে পা দেয়। গ্রামের পাশেই কলেজ।
প্রতিদিন যাওয়া আসা করে। কিন্তু গ্রামের মানুষের নজর পরে নীলুর উপর! মেয়ে বড় হয়েছে, বিয়ে দিতে হবে! এ নিয়ে নীলুর মাকে সবাই এসে কর্ণপাত করে যায়। নীলুর মা আবার সহজ সরল মানুষ। এতো প্যাচঁ বুঝে না। যা হয় সব ছেলেদের সাথে শেয়ার করে। ছেলেরা যে ডিসিশন দেয় সেটাই মেনে নিতে হয়। মেয়েকে নিয়ে গ্রামের মানুষদের কথা শুনতেও নীলুর মার ভালো লাগছিল না। একদিকে নিরাপত্তার চিন্তা আরেকদিকে নীলুর পড়ালেখার!
নীলুর মা তার বড় ছেলে জীবনকে জানায়! গ্রামের মুরব্বিরা বলাবলি করছে নীলুকে বিয়ে দেয়ার জন্য! নীলুর মায়ের কথাশুনে রীতিমতো রেগে যায় জীবন!
' কি! তুমি এসব কথা শুনো কেন? গ্রামের মানুষ যাই বলুক, আমার বোনকে আমি ডাক্তার বানামু! তোমাকে এসব নিয়ে টেনশন করতে হবে না। দরকার হলে আমি নীলুকে আমার কাছে নিয়ে আসমু! '
জীবনের কথাশুনে নীলুর মা কিছুটা চিন্তামুক্ত হয়। নীলু গ্রামেই পড়াশোনা করতে থাকে! পড়াশোনার যত খরচ সব ভাইয়েরাই বহন করে। প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার পথে নীলু লক্ষ্য করে একটি ছেলে তার পিছু পিছু আসে! ছেলেটি গ্রামের মেম্বারের ছেলে! দেখে বখাটে মনে হয়। নীলু ছেলেটাকে পাত্তা দেয় না। কিন্তু প্রতিদিন ছেলেটা নীলুর পিছু পিছু আসে। নীলু অনেকটা ভয়ও পায়। মেম্বার ছেলে রায়হানের বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কয়েকবার ইভটিজিং এর মামলা রয়েছে। গ্রামের মানুষরা তেমন কিছু বলার সাহস পায়নি। এজন্য একের পর এক অন্যায় কাজ করলেও কারো মাথা ঘামনোর প্রয়োজন হয় না।
নীলু ভয়ে তার মাকেও কিছু বলতে পারে না। মা যদি জানে তাহলে হয়তো অন্যকিছু হয়ে যেতে পারে। নীলু মাঝে মাঝে মন খারাপ করে বসে থাকে! নীলুর মা সেটা ভালোভাবেই লক্ষ্য করে! তারপর নীলু তার মাকে সবকিছুই খুলে বলে। মেম্বারের ছেলে রায়হান প্রতিদিন তার পিছু পিছু হাটেঁ, কেমন করে তাকায় থাকে! এদিকে নীলুর কলেজের পরীক্ষাও চলে আসে। গ্রাম ছেড়ে ভাইয়ের বাসায় যেতে পারবে না। মা একলা হয়ে যাবে। কিছুদিন পর হঠাৎই দেখা হয় রায়হানের সাথে নীলুর! পথ আটকে দাড়াঁয় সে। নীলুকে তার ভালো লাগে! সে তাকে বিয়ে করতে চাই! নীলু তখন অনেকটা রেগে গিয়েই বলে ফেলে -
' তোর মতো কুলাঙ্গারকে কে বিয়ে করবে? কতো মেয়ের জীবন নিয়ে খেলেছিা তুই! তোর লজ্জা করে না একটা মেয়ের সাথে এসব করতে! '
নীলু রায়হানের মুখে থুথু দেয়! থুথু দিয়েই সেখান থেকে চলে আসে নীলু! এদিকে রায়হান রেগে আগুন! নীলু তাকে এতো অপমান করলো! এর শাস্তি পেতেই হবে। রায়হান তখন নীলুকে যে করেই হোক ধর্ষণের পরিকল্পনা করে! নীলু সেদিন বাড়ি এসে অনেক ভয়ে থাকে। রাগে কতো কিছু বলে ফেলেছে রায়হানকে। নীলুর সারারাত ঘুম হয়নি চিন্তায়! টেবিলে বই নিয়ে বসে আছে কিন্তু পড়া হচ্ছে না। অথচ দুদিন পর নীলুর কলেজে পরীক্ষা।
কোনোরকম প্রিপারেশন নিয়েই নীলু পরীক্ষা দিতে যায়। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফেরে পথে সেই রায়হান দলবল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে! নীলুকে জোর করে সেখান থেকে ধরে নিয়ে যায়। রায়হানের অত অপকর্ম করে সেই ডাক বাংলু বাড়িতে নিয়ে যায় নীলুকে! নীলুকে রায়হান ধর্ষণ করে! নীলু সেটা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারেনি! গ্রামের মানুষের সামনে মুখ দেখাবে কি করে! এদিকে নীলুর মা নীলুর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে! নীলু এখনও বাড়ি ফিরছে না। নীলুদের বাড়ি পাশে বটগাছটাই জীবনের সব মায়া ত্যাগ করে নীলু ফাসিঁ দিয়ে মৃত্যুবরণ করে! জীবনের কাছে হেরে যায় নীলু। হয়তো সমাজ তাকে মেনে নিতো না কখনো, এটা ভেবে সে আত্নহত্যা করে। তবে যাওয়ার আগে নীলু লেখে গিয়েছিল ছোট্র খামে -
' আমাকে ক্ষমা করে দিও মা! রায়হান কুলাঙ্গার আমাকে বাচঁতে দিল না '
ইতি
তোমারই আদরের
নীলু।
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। সম্প্রতি আমি ইলেকট্রিক্যাল থেকে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছি। এখন বিএসসি এর জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছি। পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত দু বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। যাক,
নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
twitter share link
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
বর্তমানে আমাদের সমাজে এই নিলুর মতো কত মেয়ে রায়হানের মত কুলাঙ্গারদের জন্য অল্প বয়সে ঝরে যাচ্ছে। যেকোনো পরিবার থেকে মেয়ে বড় হইলে বাবা-মায়ের চিন্তার ভাঁজ পড়ে কপালে। সবাই চায় মেয়েকে ভালোভাবে পড়াশোনা করে ভালো একটা জায়গায় বিয়ে দিতে। কিন্তু কিছু কুলাঙ্গার থাকে যারা সব সময় এইসব মেয়েদেরকে উত্তপ্ত করে। নীলু লেখাপড়া শিখে তাদের মা-বাবায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে পারত কিন্তু রায়হানের মত কুলাঙ্গাদের জন্য সে তাদের স্বপ্নটাকে পূরণ করতে পারল না এমন তার নিজের জীবন পর্যন্ত চলে গেল।
একদম ঠিক বলেছেন ভাই, আমাদের সমাজে রায়হানের অনেক কুলাঙ্গার থাকে যারা প্রতিনিয়ত এমন কাজ করে যাচ্ছে, যাদেরকে কেউ কিছু বলছেও না। সে হিসেবে গল্টা লেখার চেষ্টার করলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে 🦋
চোখের জল আটকে রাখতে পারিনি এই গল্পটা পড়ে। সত্যি অনেক বেশি খারাপ লেগেছে গল্পটি পড়ে। এরকম কিছু অমানুষের জন্য মেয়েদের স্বাধীনতা একেবারে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রায়হানের মত এরকম কুলাঙ্গার ছেলেদের জন্য হাজার হাজার মেয়ের জীবন নষ্ট হচ্ছে। তাদের স্বপ্ন, তাদের আশা, তাদের বাবা মায়ের ইচ্ছা, সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এভাবেই এই কারণে চলে যাচ্ছে হাজার হাজার মেয়ের জীবন। রায়হানের মত এরকম মানুষদের অবশ্যই শাস্তি হবে একদিন না একদিন।
জি আপু আপনি একদম ঠিক ধরেছেন 🦋
অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্য করার জন্য ☘️
নীলুর গল্পটা পড়ে চোখে জল চলে এসেছে ভাই। এরকম গল্প গুলো পড়লে যেমন খারাপ লাগে, তেমনি কান্নাও আসে। আবার সেই মানুষরূপী পশুগুলোর প্রতি অনেক বেশি ঘৃণা সৃষ্টি হয়। রায়হানের মত এরকম অমানুষ গুলোর কারণে বেশিরভাগ মেয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে না রাস্তাঘাটে। এই মানুষগুলো তাদের জীবনটাকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
জি ভাইয়া ঠিক বলেছেন, সমাজে রায়হানের মতো মানুষরূপী জানোয়ার থাকে, সে কনসেপ্ট থেকেই গল্পটি লেখেছি
এরকম ঘটনা বাস্তবেও অনেক ঘটে। তবে এই ক্ষেত্রে আমি বলবো বেশিরভাগ মেয়ের অনেক ভুল থাকে। কারণ বেশিরভাগ মেয়ে বাসায় কিছু জানায় না। তারা ভাবে এগুলো জানালে বাসা থেকে পড়াশোনা বন্ধ করে বিয়ে দিয়ে দিবে। কিন্তু এই ভুলের কারণে শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনটাই দিয়ে দিতে হয়। বাসায় যদি সব ঘটনা খুলে বলে, তাহলে অনেক সময় অনেক কিছুর সমাধান হয়ে যায়। অনেক মেয়েকে বাসা থেকে স্কুল কলেজে মেয়ের অভিভাবক দিয়ে আসে এবং নিয়েও আসে। এমনটা করলে কুলাঙ্গাররা ততটা সাহস পায় না। নীলু ঠিকই তার মায়ের সাথে সব শেয়ার করেছিল। কিন্তু রায়হানের মুখে থুথু মারার কথা বাসায় বললে,পরীক্ষার কয়েকটা দিন নিলুর ভাই যদি কলেজে আনা নেওয়া করতো, তাহলে নীলুর জীবনটা হারাতে হতো না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবশ্যই রুখে দাঁড়াতে হবে। যাইহোক এতো চমৎকার একটি গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
জি আপনি এটা ঠিক বলেছেন ভাইয়া। নীলু যদি সব বিষয় তার পরিবারকে জানাতো তাহলে গল্পটা অন্যরকম হতো। তবে আমি চেষ্টা করেছি সুন্দরভাবে লেখার। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে 🦋