কচুরমুখী দিয়ে বাটা মাছের সুস্বাদু রেসিপি
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে আমি একটা রেসিপি শেয়ার করে নেবো। এই রেসিপিটা গতকাল সকালের দিকে করেছিলাম। এই রেসিপিটা হলো কচুরমুখী দিয়ে বাটা মাছের রান্না। বাটা মাছ অনেকদিন পরে খেলাম বলতে গেলে। বাটা মাছ খেতে বেশ সুস্বাদু হয়ে থাকে। বাটা মাছের সবথেকে ভালো লাগে এর শুঁটকি গুলো কোনো ভাজাভুজির সাথে খেতে। বাটা মাছের শুঁটকি একদিন খেয়েছিলাম, আমাদের কলকাতায় সবদিনই পাওয়া যায়। কিন্তু এর এতো গন্ধ যে ধারে কাছে যাওয়ার মতো না, আমি এর গন্ধ একদমই সহ্য করতে পারিনা। তবে একদিন কলকাতার থেকে সকালের দিকে গাড়িতে করে আসার সময় নিয়ে এসেছিলাম অল্প কিছু। আর এই শুটকির ধারে তো আমার মা একদমই যায়না গন্ধর জন্য, আর খায়ও না। আমি আর ভাই দুইজন খেয়েছিলাম বেশ ভালো লেগেছিলো। আর এমনি বাটা মাছ যদি ঝাল ঝাল করে খাওয়া যায় তাহলেও ভীষণ টেস্ট লাগে, আমি ভেবেছিলাম ঝাল ঝাল করবো, কিন্তু এই গরমের কথা ভেবে আর বেশি ঝাল ঝাল করতে যাইনি, এমনি যা গরম দিচ্ছে তাতেই শরীরে ঝাল বেরিয়ে যাচ্ছে ঘামের চোটে হা হা। তবে কচুরমুখী দিয়ে বাটা মাছের তরকারিটা বেশ ভালো লেগেছিলো আর তরকারিটা ঠান্ডা ঠান্ডা খেয়ে বেশি টেস্ট পেয়েছিলাম গরমের থেকে । আমার এই ভীষণ গরমের মধ্যে গরম তরকারি একদমই ভালো লাগে না। যাইহোক এই সুস্বাদু রেসিপিটার মূল উপকরণের দিকে এখন চলে যাবো।
❂প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:❂
დএখন রেসিপিটি যেভাবে প্রস্তুত করলাম---
☀প্রস্তুত প্রণালী:☀

➤কেটে রাখা বাটা মাছগুলো রান্নার পূর্বে একবার ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে রেখেছিলাম। এরপর কচুরমুখীগুলোর খোসা ভালোভাবে ছালিয়ে নেওয়ার পরে কেটে নিয়েছিলাম এবং জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়েছিলাম।
➤পেঁয়াজ এর খোসা ছালানোর পরে কেটে নিয়েছিলাম এবং সেই সাথে রসুনের কোয়াগুলো আলাদা করে তার থেকে খোসা ছাড়িয়ে নিয়েছিলাম। এরপর কাঁচা লঙ্কাগুলো কেটে ধুয়ে নিয়েছিলাম।
➤বাটা মাছের পিসগুলোতে ২ চামচ করে লবন আর হলুদ গুঁড়ো দিয়েছিলাম। এরপর হাত দিয়ে সব মাছের পিসে ভালোভাবে মাখিয়ে নিয়েছিলাম।
➤প্যানে তেল দিয়ে গরম করে নিয়েছিলাম এবং পরে তাতে বাটা মাছের পিসগুলো অল্প করে করে দিয়ে সবগুলো ভেজে তুলে নিয়েছিলাম।
➤মাছ ভাজার সাথে অন্য কড়াইতে তেল দিয়ে কচুরমুখীর পিসগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর কচুরমুখী ভালোভাবে ভেজে তুলে নিয়েছিলাম।
➤কচুরমুখী ভাজার পরে কড়াইতে আরেকটু তেল দিয়ে পেঁয়াজ-রসুন দিয়ে দিয়েছিলাম এবং ভালোভাবে ভেজে তুলে নিয়েছিলাম।
➤কড়াইতে তেল দিয়ে তাতে পাঁচফোড়ন দিয়ে দিয়েছিলাম। পাঁচফোড়ন একটু ভাজা মতো করে নিয়ে তাতে কচুরমুখীর পিসগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম।
➤কচুরমুখীর পিস দেওয়ার পরে তাতে কাঁচা লঙ্কাগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে স্বাদ মতো লবন, হলুদ এবং শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে দিয়েছিলাম।
➤সব মশলাগুলো উপাদানের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়েছিলাম এবং পরে তাতে পরিমাণমতো জল দিয়ে কিছুক্ষন ফুটিয়ে নিয়েছিলাম।
➤সেদ্ধ কিছু কচুরমুখীর পিস তরকারির থেকে তুলে নিয়েছিলাম। এরপর গলিয়ে আঠালো মতো করে নিয়েছিলাম।
➤কচুরমুখী গলিয়ে নেওয়ার পরে এক সাইডে রেখে তরকারিতে ভাজা বাটা মাছের পিসগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে ভেজে রাখা পেঁয়াজ-রসুন দিয়ে দিয়েছিলাম।
➤তরকারি আরো কিছুক্ষন ফুটিয়ে নেওয়ার পরে তাতে গলিয়ে রাখা কচুরমুখী দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তরকারিটা আরো ভালোভাবে হয়ে আসার জন্য ৫-৬ মিনিট জ্বাল দিয়ে নিয়েছিলাম।
➤তরকারির ঝোল ঘন হয়ে আসলে জ্বাল নিভিয়ে দিয়েছিলাম এবং পরে তাতে জিরা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। এরপর বাটা মাছের তরকারিটা পরিবেশনের জন্য একটি পাত্রে তুলে নিয়েছিলাম।
রেসিপি বাই, @winkles
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |




কচুরমুখী আমার খুব পছন্দের একটি সবজি। বাটা মাছ অনেক আগে খেয়েছিলাম। কচুরমুখী দিয়ে বাটা মাছের রেসিপির কালারটা খুব সুন্দর হয়েছে দাদা। রেসিপিটা দেখেই বুঝা যাচ্ছে খেতে দারুণ হয়েছে। সবজি এবং মাছ ভেজে নেওয়ায় রেসিপির স্বাদ মনে হচ্ছে অনেক বেড়ে গিয়েছে। রেসিপিটা দেখে খুব ভালো লাগলো দাদা। যাইহোক ধাপে ধাপে এত লোভনীয় একটি রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
এটা কিন্তু একেবারেই সত্যি গরমের সময় গরম তরকারি খেতে একেবারেই ভালো লাগেনা। আপনি দেখছি কচুর মুখী দিয়ে বাটা মাছের খুবই সুস্বাদু এবং মজাদার একটা রেসিপি তৈরি করেছেন। বাটা মাছ তাহলে অনেক দিন পরেই খাওয়া হয়েছে আপনার। এমনিতে আপনার রেসিপি গুলো দেখলে আমার তো জিভে জল চলে আসে। আপনার রেসিপি টা দেখে বুঝতে পারছি খুবই সুস্বাদু এবং ইয়াম্মি হয়েছে। বাটা মাছের শুটকিগুলো কোন ভাজাভুজির সাথে খেতে আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে জেনে খুশি হলাম। আপনি আপনার এই রেসিপিটি তৈরি করার পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে খুবই সুন্দর ভাবে উপস্থাপনা করেছেন দেখছি। এরকম মজার মজার রেসিপি গুলো দেখলে শুধু খেতে ইচ্ছে করে আমার। বেশ মজা করেই খাওয়া হয়েছে তাহলে এই রেসিপিটি। এই রেসিপিটা সবার মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন দেখে ভালো লেগেছে।
বাটা মাছ আমার ও খুবই পছন্দের। আসলে আমারও অনেক দিন হয়েছে বাটা মাছ খাওয়া হয় না। আপনার পোষ্টের মাধ্যমে বাটা মাছের রেসিপি দেখে আমার তো এখন খুবই খেতে ইচ্ছে করছে। আপনি কচুর মুখী দিয়ে বাটা মাছের রেসিপিটি তৈরি করেছেন। দেখে বুঝতে পারছি খুবই সুস্বাদু হয়েছে এবং খুবই মজা করে খাওয়া হয়েছে। আমার কাছেও বাটা মাছের শুটকি গুলো খেতে ভালো লাগে। আমি মাঝে মাঝে বাজার থেকে কিনে নিয়ে আসি খাওয়ার জন্য। ভাবছি বাটা মাছ কিনে নিয়ে আসব কারণ অনেকদিন খাওয়া হয়না। এটা কিন্তু সত্যি গরমের সময় গরম গরম তরকারি খেতে একেবারেই ভালো লাগেনা। গরমের থেকে ঠান্ডা ঠান্ডা এই তরকারি খেয়ে বেশি মজা পেয়েছেন তাহলে। আপনার উপস্থাপনা গুলো ও খুবই ভালো ছিল। উপস্থাপনা দেখে যে কেউ এই রেসিপিটি খুবই সহজে তৈরি করতে পারবে।
এই জাতীয় রেসিপিগুলো সব সময় আমার খুবই প্রিয়। তাই আমিও মাঝেমধ্যে এই জাতীয় রেসিপিগুলো বাসায় তৈরি করার চেষ্টা করি আত্মীয়-স্বজনের সাথে। আপনি কচুর মুখে দিয়ে মাছ রান্না করে দেখিয়েছেন আমাদের তাই খুব খুশি হলাম।
কচুরমুখী দিয়ে বাটা মাছের সুস্বাদু রেসিপি দেখেই খেতে ইচ্ছা করছে, আপনার রেসিপি পরিবেশন আমার খুবি ভালো লেগেছে। অসাধারণ রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করলেন দাদা।
দাদা এই গরমে লেবু পানি হালকা লবন দিয়ে খাবেন।এটা খুব ভাল কাজ দেয়।আশাকরি এই গরমে নিজেকে নিরাপদ রেখে সুস্থ থাকবেন।
আপনি একদম ঠিক বলেছেন শুঁটকি মাছ এর গন্ধ অনেকেই সহ্য করতে পারেনা।কিন্তু খেতে বেশ ভালোই লাগে।তবে আমি বাটা মাছের শুঁটকি কখনও খাইনি। কিন্তু মাছ খেয়েছি খুব মজা। এই মাছ তেলের উপর মচমচে ফ্রাই করলেও বেশ ভাল লাগে।আপনি আজ কচুরমুখী দিয়ে বাটা মাছ রান্না করলেন। খেতে বেশ ভালোই হওয়ার কথা।কচুরমুখী আমার খুব ভাল লাগে।আর এটা ঠিক গরমে গরম খাবারের চাইতে ঠান্ডা খাবারই বেশি ভাল আমারও লাগে।আপনার মাছের রেসিপিটি খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন দাদা।শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। অনেক শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
দাদা, গরমকালটা আমার কাছেও খুবই অসহনীও মনে হয়। তাই কোন কিছুই খেয়ে যেন স্বস্তি পাওয়া যায় না। তবে হ্যাঁ গরমকালে ভাতের সাথে ঠান্ডা ঠান্ডা তরকারি খেতে বেশ মজাই লাগে। আর তাইতো আপনার তৈরি কচুর মুখি দিয়ে বাটা মাছের সুস্বাদু রেসিপি খেয়ে খুবই স্বাদ পেয়েছেন। আমিও বাটা মাছের রেসিপি তৈরি করেছি তবে এখনো শেয়ার করা হয়নি। বাটা মাছ খেতে সত্যিই দারুন লাগে। আর কচুর মুখী দিয়ে বাটা মাছ রান্না করে খেতে বেশ ভালোই মজা হয়েছে রেসিপিটি দেখেই বোঝা যাচ্ছে। রন্ধন প্রণালীর প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর ভাবে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো আপনার জন্য।
বেশি ঝাল খেলে আবার পেটে বরফের বোতল বেঁধে রাখতে হবে দাদা🤭। যা গরম পড়েছে এই সময় ঝাল খাওয়া সত্যি ভীষণ রিক্সের। না হলে আবার বাথরুমে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে 😅। বাটা মাছের শুটকি যদিও কখনো খাওয়া হয়নি। তবে শুটকি মাছ খেতে আমি ভীষণ পছন্দ করি। অনেকেই শুটকি মাছের ঘ্রাণ সহ্য করতে পারেনা। কিন্তু আমার কাছে ভালই লাগে। বেগুন কিংবা করলা দিয়ে শুঁটকি মাছ রান্না করলে বেশ ভালো লাগে খেতে। বাটা মাছ আমার খুবই প্রিয়। মচমচে বাটা মাছ ভাজা খেতে যেমন ভালো লাগে তেমনি ঝাল ঝাল ভুনা করলেও খেতে ভালো লাগে। কচুরমুখী কিংবা বেগুন দিয়ে বাটা মাছের হালকা ঝোল করলেও খেতে বেশ ভালো লাগে। আমি তো মাঝে মাঝে এভাবে খাই দাদা। আপনি এত সুন্দর ভাবে বাটা মাছ গুলো ভেজে নিয়েছেন এরপর রান্না করেছেন দেখে মনে হচ্ছে খেতে দারুণ হয়েছিল। আর আপনার রেসিপি তো সব সময় দারুন হয়। খুবই মজার একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি দাদা।
বাটা মাছ খেতে এমনিতে খুবই সুস্বাদু লাগে। তবে আমি বাটা মাছ ভাজা খেতে খুবই পছন্দ করি। কচুর মুখী দিয়ে রান্না করা বাটা মাছ আমি কখনো খাইনি। তবে আপনার পোস্টটি পড়ে মনে হচ্ছে কচুর মুখী দিয়ে রান্না করা বাটা মাছ খেতে খুবই সুস্বাদু ছিল। আমি আগামী দিন চেষ্টা করবো বাটা মাছ দিয়ে কচুর মুখী রান্না করে খেতে। নতুন একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।