গল্প: অতৃপ্ত আত্মা 💀 || শেষ পর্ব : আত্মার মুক্তি।
শেষ পর্ব : আত্মার মুক্তি |
|---|
মরফেজ জোসেফকে মারার জন্য দুধ নিয়ে হাজির হয়েছিল কিন্তু অস্টিফের আত্মা তার হাতে জোরে ধাক্কা দিয়ে দুধ ফেলে দেয় কারন সে বুঝে গেছে সবকিছুর মূলে এই মরফেজ। মরফেজ ঘটনার আকস্মিকতায় বেশ ভয় পেয়ে গেছে। সে তাড়াতাড়ি ঘর পরিষ্কার করে সেখান থেকে চলে গেলো। এদিকে জোসেফ তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করে দিল, তার হাতে আঁকা দাদুর ছবি প্রায় শেষ করেছে সে। হঠাৎ ছবিটায় পুরোপুরি তার দাদুর মুখ ফুটে উঠলো এবং কথা বলতে শুরু করলো। প্রথমেই জোসেফ একটু ভয় পেলেও সাহস পায় যখন অস্টিফের আত্মা নাম ধরে ডাকতে শুরু করে। জোসেফ অশ্রুসিক্ত চোখে তার ডাকে সাড়া দিয়ে বলে দাদু তুমি আমাকে কেন ছেড়ে গেলে? অস্টিফের আত্মা বলতে থাকে দাদু ভাই আমি কখনো তোমায় ছেড়ে যেতে চাইনি কিন্তু ঐ মরফেজ আমাকে মেরে ফেলেছে বালিশ চাপা দিয়ে। ওর খারাপ কোন উদ্দেশ্য রয়েছে, ও এখন তোমাকে মেরে ফেলতে চাইছে। আমি তোমাকে না বাঁচালে হয়তো আজ তোমার বিপদ ঘটতো দাদু ভাই।
জোসেফ বলতে থাকে দাদু ভাই আমরা উনাকে অনেক বিশ্বাস করেছি কিন্তু তিনি আমাদের বিশ্বাসের এই দাম দিলেন। আমি তাকে ছাড়বোনা আর তোমার মৃত্যুর বদলা আমি নেবোই। কিন্তু তোমার কাছে তো কোন প্রমান নেই, আর আমি তার কিছুই করতে পারবোনা বলে উঠলো অস্টিফের আত্মা। যা করার তোমাকেই করতে হবে জোসেফ। বুদ্ধি খাটিয়ে তুমি তার কর্মের উপযুক্ত শাস্তি দাও। তবে আমি তাকে ছেড়ে দেবোনা তাকে মৃত্যুর ভয় আমি দেখিয়ে ছাড়বো। বিদায় জোসেফ, এই বলে ছবিটা স্থির হয়ে গেছে।
এদিকে জোসেফ ফন্দি আঁটে সে শেরিফ রোজারকে ফোনে সব জানায়, মরফেজকে সন্দেহ করার কথা । তবে অস্টিফের বারন করার কারনে সে অস্টিফের আত্মার বিষয়ে কাউকে কিছু জানায় না। সে শেরিফকে বসায় আসতে বলে কারন সে বুঝে গেছে মরফেজকে দাদুর আত্মা ভয়ানক কিছু করবে আর এই সময়টাতে তাকে ধরে ফেলা যাবে।
রাত বারোটা বেজেছে পেছনের দরজা দিয়ে শেরিফকে ঘরে প্রবেশ করায় জোসেফ আর ওরা ঘাপটি মেরে অপেক্ষা করতে থাকে কোন সুযোগ আর প্রমানের জন্য। হঠাৎ পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। জানালা দিয়ে জোরে বাতাস বইতে শুরু করেছে। মরফেজ মাত্র ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, হঠাৎ একটা বড় কালো ছায়া ধেয়ে আসতে থাকে তার দিকে। পুরো ঘরের দরজা জানালা সব একবার খুলছে বন্ধ হচ্ছে, পুরো ঘর কেমন যেন কেঁপে উঠে সব তছনছ হয়ে যাচ্ছে। মরফেজ ভীষণ ভয় পেয়ে যায় সে জোসেফকে ডাকতে থাকে। জোসেফ বুঝতে পারে মরফেজের খারাপ সময় শুরু হয়ে গেছে। তবুও সে চুপ করে বসে শুনতে থাকে কি হচ্ছে।
হঠাৎ দৈবিক আওয়াজ শুনতে পায় মরফেজ, কি অপরাধ ছিল আমার ? তুমি কেন আমায় মেরে ফেললে? আমি তো আমার কলিজার টুকরোকে ছেড়ে আসতে চাইনি। এবার মরফেজ ভয়ে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিল আমায় ক্ষমা করুন মালিক আমি লোভে পরে এই কাজ করে ফেলেছি, মালিক আমায় মাফ করুন। আমি এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবো, আমি সব স্বীকার করে নিয়ে শাস্তি ভোগ করবো। এই কথা শোনা মাত্রই অতপ্ত আত্মা আরো ক্ষেপে গিয়ে পুরো ঘরে তান্ডব চালাতে থাকে। তুমি আমার উপকারের এই প্রতিদান দিলে কেন? আর কেনই বা আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে? বলো জবাব দাও। আবারো তান্ডব চলতে থাকে। মরফেজ যেন মৃত্যু দেখছে চোখে সে চোখ বন্ধ করে আহাজারি করতে থাকে আর তার কৃত কর্মের জন্য আফসোস করতে থাকে। হঠাৎ পরিবেশ ঠান্ডা হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মরফেজ দৌড়ে জোসেফের ঘরের দিকে যেতে থাকে জোসেফ ঠিক মাঝ ঘরেই দাড়ানো ছিল কিন্তু তার চোখে মুখে আগুন ঝরছে যেন।
মরফেজ তার পায়ের কাছে লুটিয়ে পরে ক্ষমা চাইতে থাকে আমায় ক্ষমা করো জোসেফ, আমি তোমার দাদুকে মেরে ফেলেছি। আমায় যা শাস্তি দেয়ার দাও। জোসেফ বয়সে ছোট তবুও সে শুধু বললো আমরা আপনাকে বিশ্বাস করতাম আর আপনি বিশ্বাস ঘাতকতা এভাবে করতে পারলেন, সামান্য সম্পদের লোভে। আমায় আজ আপনি পৃথিবীতে একা করে দিলেন। আপনার জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে, ইহকাল এবং পরকালে। নিশ্চয়ই আমার দাদু আপনাকে ছেড়ে দেবে না। মরফেজের বলার কোন ভাষা নেই, সে শুধুমাত্র চোখের জল ফেলছে।
ঘরের অপর প্রান্তে হঠাৎ শেরিফ রোজার দাড়িয়ে পরলো এবং মরফেজকে বললো তোমার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবো আমি। চলো হাজতে এটাই তোমার আসল ঠিকানা। তোমার নিমোক হারামি করার শাস্তি অপেক্ষা করছে তোমার জন্য। পরবর্তী কয়েকদিনের মধ্যেই মরফেজের ফাঁসি কার্যকর করা হয় এবং তার নাকি লাশ দাফনের পর লাশ গায়েব হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল শেয়াল কুকুর খুবলে খেয়েছে তার লাশ। এদিকে হঠাৎ রাতের আঁধারে জোসেফ তার দাদুর গলার স্বর শুনতে পায় বলতে থাকে আমি চলে যাচ্ছি জোসেফ। মরফেজ তার শাস্তি পেয়েছে, নিয়তির খেলা এটা। আমার অতৃপ্ত আত্মা আজ মুক্ত হলো। তবে আমি তোমার পাশে ছায়ায় মতো থাকবো দাদু ভাই। জোসেফ ভীষণ কাঁদতে থাকে আর একটা তীব্র আলো এসে অস্টিফের আত্মার উপর পরে, মূহুর্তের মধ্যে সে গায়েব হয়ে যায়।
এদিকে শেরিফ রোজার জোসেফক তার নাতির মর্যাদা দিয়ে তার সাথে বসবাস করতে শুরু করে, তার ঠিক জোসেফের মতো কেউ ছিল না।।।।
"কৃতকর্মের ফল
ইহকাল এবং পরকালে ভোগ করতেই হবে"
ইহকাল এবং পরকালে ভোগ করতেই হবে"
https://steemitwallet.com/~witnesses
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
https://twitter.com/emranhasan1989/status/1594250193498968064?t=qjQwUPGickZPNo6dolO0DQ&s=19
কথায় আছে না পাপ বাপকেও ছাড়ে না।
মরফেজ যে বেইমানি করেছিল তার জন্য তাকে তার জীবন দিতে হয়েছে শুধু এখানেই শেষ নয় মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে তার লাশ শেয়াল আর কুকুর খেয়ে ফেলেছে এটা হয়তো সৃষ্টিকর্তার একটা ইশারা। আর মরফেজের মৃত্যুর ফলে জোসেফের দাদার আত্মার মুক্তি হয়েছে। গল্পটা দারুন ছিল ভাইয়া পরবর্তী আবার এরকম একটা গল্পের অপেক্ষায় রইলাম।
অনেক ধন্যবাদ ভাই আমার গল্পটি পড়ার জন্য। আমি দেখেছি কয়েকটি পর্ব আপনি পড়েছেন।
ধন্যবাদ ভাই, সামনে আরো গল্প আসছে।
মারফেজ এর শাস্তি হয়েছে যেনে ভালো লাগলো। সত্যিই তাই পাপ কখনোই কাউকে ছাড়ে না। আপনার গল্পটি আমার কাছে শুরু থেকেই ভালো লেগেছে। আশাকরি এমন গল্প আরো শেয়ার করবেন। নতুন গল্পের অপেক্ষায় রইলাম। আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো।
ধন্যবাদ লিমন। গল্পটা আমার নিজের কাছেও বেশ ভালো লেগেছে।
ইনশাআল্লাহ সামনে আরো আসবে।
Hello, friend!
This is a free upvote from @steemgoon.witnez.
I am a new witness on STEEM, thanks in advance for your support.
Our main goal is contributing to the stabilization of the STEEM blockchain.
Or
(Go to https://steemit.com/~witnesses go at the bottom of the page, type steemgoon.witnez and click VOTE)
If you vote for me as a witness, you can get my daily little vote.
ধন্যবাদ আপনাকে।
ভোট করা হয়েছে, চেক করুন।
Thank you for voting for my witness @pennsif.witness 😀
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই আমার পোস্টটিতে আপনার মূল্যবান সাপোর্ট প্রদান করার জন্য। খুব ভালো থাকুন দোয়া রইল। 🥀
আপনার গল্পের আগের পর্বগুলো আমি মনে হয় পড়তে পারিনি, যেহেতু লিংক দিয়েছেন সময় করে পড়ে নিব। কিন্তু এই পর্বটা পড়ে বুঝতে পারলাম যে, মরফেজ অনেক খারাপ লোক। আর সে তার খারাপ কর্মকান্ডের জন্য শাস্তি পেল। এমনকি সে অনেক কাকুতি মিনতি করেও কিন্তু কোনভাবেই রক্ষা পেল না। শেষ পর্যন্ত তাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হলো। তার শাস্তি এমনভাবে ফেলো যে লাশটাও শিয়াল কুকুরে খেল। গল্পটা পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো। আপনার লেখাগুলো পড়তে পড়তে জানো সত্যি কারের ক্যারেক্টারে ঢুকে পড়লাম।
ধন্যবাদ আপু আমার গল্পটি পড়ার জন্য।
পাপের শাস্তি পেতেই হয়, এটাই ছিল আমার গল্পের অন্যতম শিক্ষা।
আপনার ভালো লেগেছে জেনে ভীষণ খুশি হলাম।