নরেশ আমার বন্ধু
আমি যখন গ্রামীন এলাকায় বিকাল বেলা করে চেম্বার করতাম, তখন আমার চেম্বারের দুই দোকান পাশেই নরেশ দাদার সেলুনের দোকান ছিল। তার দোকানটা এখনো আছে আগের জায়গাতেই, তবে শুধুমাত্র আমার চেম্বারটাই নেই।
যেহেতু দীর্ঘ বছর গ্রামীন এলাকায় প্রান্তিক মানুষদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলাম আর যেহেতু পাশেই নরেশ দাদার দোকান ছিল, তাই মোটামুটি তার সঙ্গে আমার সখ্যতা, শুরু থেকেই বেশ ভালো ছিল। আমরা বয়সে একদম সমবয়সী ছিলাম, তাই মূলত আমি নিজেদের ভিতরে কোন দূরত্ব প্রথম থেকেই রাখিনি। তাছাড়াও মানুষ হয়ে মানুষের ভিতরে দূরত্ব রাখা, খুব একটা তেমন আমি পছন্দ করি না।
একটা সময় তো, আমি তাকে বন্ধুই বানিয়ে ফেললাম। যদিও সে প্রথমদিকে অনেক সমাদর করত, সেটা আমার কাছে নিছক ভালো লাগত না। আসলে সমবয়সী মানুষ যদি বারবার স্যার স্যার বলে মুখে ফেনা তুলে দেয়, তখন নিজের কাছেই কেন জানি নিজেকে অপরাধী মনে হয়।
আমাদের এই বন্ধুত্বটা তৈরি হয়েছিল বহু আগেই, এইতো এখনো বেশ ভালই প্রাণবন্তই আছে। মাঝে মাঝেই সময় সুযোগ পেলে ওর দোকানে যাই, টুকটাক গল্প করি। তবে আগে যেভাবে চেম্বার থাকাকালীন সময়ে, ওর সঙ্গে সময় কাটাতাম, এখন আর সেভাবে হয় না। এখন যখন মাঝে মাঝে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেলে, তখন সময় সুযোগ পেলেই ওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করি।
আজকাল বেশ ভালোই ভিড় হয় ওর দোকানে। মোটামুটি এই গ্রামীণ অঞ্চলে ও বেশ সুনামের সঙ্গেই নিজের সেলুনের কাজ করে যাচ্ছে। হয়তো তা সম্ভব হয়েছে, ওর সুন্দর মানসিকতা বা ব্যবহারের কারণে। সেদিন যখন শ্বশুর বাড়িতে ছিলাম, তখন সন্ধ্যেবেলা ওর দোকানে গিয়েছিলাম। আমাকে দীর্ঘদিন পরে দেখে ও বেশ ভালোই খুশি হয়েছিল।
ওকে বললাম, কি খবর নরেশ তোমার, কেমন আছো। একদম সেই আগের মত হাস্যোজ্জ্বল মুখে উত্তর দিল, ভালো আছি বন্ধু। তবে ব্যস্ততা একটু বেড়ে গিয়েছে। প্রতিনিয়ত কাস্টমারের চাপ থাকে, তাই একা কুলিয়ে উঠতে পারিনা।
তোমাকে আমি এখন আর বিরক্ত করব না, তুমি তোমার নিজের কাজ করো। তবে তোমাকে আমার দরকার, কেননা আমার আর তোমার ভাতিজার চুল কাটাতে হবে। তুমি যদি কষ্ট করে আগামীকাল সকালবেলা আমাদের বাড়িতে আসো, আমি খুবই খুশি হব।
নরেশ এমন প্রস্তাব পেয়ে, প্রত্যাখ্যান করেনি। বরং বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেছে। কারণ তার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে আমার বাড়িতে আসার। অতঃপর সেদিন সকাল বেলা আমি ঘুম থেকে ওঠার আগেই, ও বাড়িতে এসে হাজির। মূলত ঘুম থেকে উঠে মুখ হাত ধুয়ে, ওকে নিয়ে প্রথমে বসে একসঙ্গে বাড়িতে নাস্তা করলাম। যদিও ও খেতে চেয়েছিল না, তবে আমি নাছোড়বান্দা। অবশেষে দুই বন্ধু একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করে, তারপরে ওকে বললাম, এবার যত্ন সহকারে আমাকে আর তোমার ভাতিজার চুলগুলো কেটে দাও।
প্রথমত, ও বাবুর চুল কেটে দিয়েছিল তারপরে আমার। নরেশ পেশায় যাইহোক না কেন, এটা কোন মুখ্য ব্যাপার না। ও আমার বন্ধু, এটাই আমার কাছে ওর প্রথম এবং শেষ পরিচয়।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1724311525253648766?t=vM29_NjTCY5TDzCp7zKv2Q&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আসলেই ভাইয়া বাস্তবতা এমনই।প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনে পরিবর্তন এসেই চলতেছে । সে তার জায়গায় রয়েছে কিন্তু আপনার চেম্বারটা আর নেই। আমাদের শায়ান বাবা যে চুল কাটতেছে। জি ভাইয়া এটা খুব ভালো লাগে মানুষ হয়ে মানুষের ভেতরে দূরত্ব রাখা খুব একটা আমিও পছন্দ করিনা।যাক মাঝে মাঝেই সময় সুযোগ পেলেই আপনি তার সাথে গল্প করেন। এটা খুব ভালো লাগলো এবং সুন্দর মুহূর্ত কাটে আপনার সাথে ।আসলে মানুষের মন মানসিকতা যদি সুন্দর হয় তাহলে প্রতিটা মানুষই তার সুনাম করতে বাধ্য এবং ওই ব্যক্তিটির অনেকে সুনাম ও মন মানসিকতা ভালো বলেই তো মানুষজন ওনার কাছে যায়।আপনাকে ভালো আছি বন্ধু বলল। সত্যিই আপনাদের মধ্যে অনেক সুন্দর বন্ডিং । আপনি অনেক সুন্দর মন মানসিকতা একজন মানুষ আমি বিশ্বাস করি। দুজনে একসাথে খাওয়া দাওয়া করলেন এবং যত্ন সহকারে আপনারা সকলে মিলে চুল কাটলেন তার কাছে বেশ ভালো লাগলো আমার। পেশা যাই হোক না কেন এটা কোন ব্যাপার না ভাইয়া ও আপনার বন্ধু এটাই প্রথম ও শেষ পরিচয়। এই কথাটি আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগলো।
এটা সত্য সেদিনের সময় টা আমার আর নরেশের বেশ ভালই কেটেছিল।
মানুষ পেশার কারনে ভেদাভেদ করে,যেটা আমার মোটেই পছন্দ না। যাক আপনি যে ভেদাভেদ করেন নি,আপন করে নিয়েছেন দেখে ভাল লাগল।এভাবেই টিকে থাকুক বন্ধুত্ব।
আশীর্বাদ করবেন ভাই, যেন আমাদের সম্পর্ক অটুট থাকে।
আসলে ভাইয়া বন্ধুূদের মধ্যে কখনো ভেদাভেদ নেই। তবে বন্ধু হতে হলে মনের মিল অনেক দরকার। তবে ভাইয়া আপনার মতো ভালো মনের মানুষ যেখানে যাবে, আমার মনে হয় সেখানেই ভালোবন্ধু গড়ে উঠবে।যাইহোক দুজন এক সাথে চুল কাটা তারপর খাওয়া দাওয়া করলেন জেনে অনেক ভালো লাগলো। সত্যি পেশা দিয়ে কখনো বন্ধু বিচার করা হয় না। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
ধন্যবাদ আপু আমার অনুভূতি বুঝতে পারার জন্য।
"বন্ধু" সম্পর্ক টা মানুষের জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর জন্য আলাদা কোন পেশা বা আর কোন আলাদা পরিচয় এর প্রয়োজন পরে না যার, সেই তো প্রকৃত উদার মানুষ। আমাদের সবার তো আসলে এমনই হওয়া উচিত।
মানুষ, হওয়ার চেষ্টা করছি আপু।
আসলেই ভাই আপনার মন-মানসিকতা ভীষণ ভালো। আপনার ব্যাপারে যতই জানতে পারছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি। আমাদের সবার উচিত মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করা। পেশা যা ই হোক না কেনো, দিনশেষে আমরা সবাই মানুষ। দোয়া করি আপনাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক এভাবেই অটুট থাকুক সারাজীবন। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
সুবুদ্ধি উদয় হোক সকলের এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
পেশা যাই হোক না, পরিচয় শুধু বন্ধু! আর বন্ধু ব্যাপারটাই অন্যরকম। নরেশ দাদার সাথে আপনার ভালোই একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল দেখছি। আর বন্ধু ব্যাপারটা মৃত্যু অবধিই থাকবে। হয়তো সেজন্যই আপনার বাড়িতে এসে শায়ান আর আপনার চুল কেটে দিয়ে গেল। সমাজের এ পেশার মানুষগুলোকে অনেকেই অবহেলা করে। আপনার কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে আমাদের 🍀
আমার কাছে এমনটাই মনে হয়, যে বন্ধুত্বের ভিতর অন্য কোন ব্যবধান রাখতে নেই।
বন্ধুত্ব পেশা হিসেবে হয় না আর কখন কিভাবে একটি মানুষের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠবে সেটাও ঠিকভাবে বলা যায় না।হয়তো আপনার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।সে আপনার অনুগত বন্ধু বলেই ব্যস্ততার মাঝে ও আপনার বাড়িতে গিয়েছে।যাইহোক আশা করি মুহূর্তটি সুন্দর ছিল, ধন্যবাদ আপনাকে।