১৭ ওভারে ১৮২ রান চেজ ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে!
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে খেলাধুলা বিষয়ক পোস্ট শেয়ার করে নেবো। গতকাল আইপিএল এর কলকাতা আর ব্যাঙ্গালুরু এর মধ্যকার ম্যাচ ছিল। ম্যাচটা যারা গতকাল দেখেছেন, তারা বলতে পারবেন আসলে কেমন হয়েছে। খেলাটা বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল উভয় টিম থেকে। ব্যাঙ্গালুরুর যে মাঠে বা পিচে খেলা হয়েছে সেটা হলো রান মেশিন পিচ এক কোথায় বলা যায়। রান উঠতে বাধ্য এই পিচে, এমনকি এই পিচে ২০০ ক্রস করে যায় টি২০ ম্যাচে। ব্যাঙ্গালুরুতে খেলা হলেও টসে জিতে যায় কলকাতা আর কলকাতা টিমের ক্যাপ্টেন এটা ভালোমতো জানতো যে এই পিচে রান তোলা বা চেজ করা অনেক ইজি হবে, তবে সেটা যদি কন্ট্রোলে রাখতে পারে। আর তার জন্য তারা আগে ফিল্ডিং বেছে নেয়। এক্ষেত্রে ব্যাঙ্গালুরু কিন্তু শুরুটা বেশ ভালোই করেছিল অর্থাৎ পাওয়ারপ্লে ওভারে রান রেটটা বেশ ভালোই মজবুত ছিল, ১০+ ছিল।
কলকাতার স্টার্ক সব থেকে বাজে বল করেছে গতকাল, অসম্ভব মার খেয়েছে প্রথম ওভার থেকেই। তবে এক্ষেত্রে ব্যাঙ্গালুরু ব্যাটসম্যানরা প্রথম থেকে শুরুটা করলেও ৮-১০ ওভার বাদে অনেকটা রান চেপে যায়, যদিও এক্ষেত্রে বিশেষ কিছু কিছু মুহূর্তে উইকেট পড়ে যাওয়ায়। রাসেল আর অনুকূল নামের দুইজন বলার সব থেকে ভালো বল করেছে এই পিচে কাজ না করলেও। এই দুই ওভারের জন্য বেশ কিছু ওভার ভালোই প্রেসারে রেখেছিলো। তবে এখানে কোহলি শেষ পর্যন্ত টিকে ছিল বলে রানটা উঠেছে, নাহলে যদি দু প্লেসির মতো আউট হয়ে যেত, তাহলে রান আরো চেপে যেত ওই মুহূর্তে। কোহলি মেরেছে বেশ ভালোই, তবে বরাবর যেটা বলি যে তাদের বেস্ট ফিনিশার একজন হলো দীনেশ কার্তিক, এই একটা প্লেয়ার, সবসময় লাস্ট মুহূর্তে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এর আগে আরো ভালো ভালো ব্যাটসম্যান এসে কিছু না করতে পারলেও কোহলির সাথে বেশ ভালোই পিটালো লাস্ট দুই-তিন ওভারে।
মনে হচ্ছিলো ২০০ না পার করে ফেলে, তবুও অনেকটা তুলেছিল ১৮২ রান। তবে কলকাতার কথা যদি বলি এই রান চেজের বিষয়ে, তাহলে বলবো যেকয়জন ব্যাট করেছে তা ছিল বিদ্ধংসী ব্যাটিং। প্রথম থেকেই পিটানো শুরু করেছিল, মানে পার ওভারে আরো এক ওভারের সমান রান, ভাবা যায়। আর এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলো বিনা উইকেটে পুরো পাওয়ারপ্লেটা। সুনীল নারিন যা মেরে গিয়েছিলো তা সে বলার মতো না, শুধু ৬ আর ৪ এর বাউন্ডারি বেরিয়েছে তার ব্যাট থেকে। মোটামুটি তাদের ওপেনে যে রান করে দিয়েছিলো তা প্রয়োজনের থেকে অধিক ছিল অর্থাৎ রান রেট ছিল ১২-১৪ যা দরকার ছিল সাড়ে ৭ করে। অনেকটা কমিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো।
তাদের পরে স্পিন খাটিয়ে আউট করলেও ভেঙ্কটেশ-কে আটকাতে পারেনি, সেও বিদ্ধংসী ব্যাটিং শুরু করলো সব থেকে দ্রুতগামী ৫০ রান ভেঙ্কটেশ করে। তবে এর উদ্দেশ্য ছিল ১৫-১৬ ওভারে ম্যাচ খতম করে দেওয়া। কিন্তু বাউন্ডারি টানতে গিয়ে ওখানেই ক্যাচ তুলে দেয়। তবে শ্রেয়াস এখানে বসে থাকিনি, সেও টেনে দিয়েছে, আসলে রানটাও আর বেশি ছিল না, সিঙ্গেল নিয়ে খেললেও ম্যাচ বেরিয়ে যেত। এতো দ্রুত এতো বড়ো রান চেজ আসলেই কম দেখা যায়। অনেক সময় এইরকমও হয় এই ধরণের পিচে যে, ২০০ রানও ২০ ওভারের আগে চেজ হয়ে যায়। এই ম্যাচে সুনীল একটা উইকেট আর সেই সাথে অসাধারণ ব্যাটিং এর কারণে তাকেই প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ ঘোষিত করে দেয়। সব মিলিয়ে খেলাটা বেশ ভালো উপভোগ করার মতো ছিল ।
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
অনেকদিন পর সুনীল নারায়ন এর এতো সুন্দর একটা ব্যাটিং দেখলাম। এককথায় ঝড় সৃষ্টি করেছিল যেন। আর স্টার্ক এর কথা কী বলব। এই সিজেনে মনে হচ্ছে কলকাতার সবচাইতে লস প্রজেক্ট স্টার্ক। সবচাইতে দামি খেলোয়ার সে। দারুণ একটা ম্যাচ ছিল। তবে ব্যাঙ্গালুরুর রান দেখে ভেবেছিলাম কলকাতা আজকেও হেরে যাবে।
এই ম্যাচে কলকাতার ভাগ্য সবদিক দিয়েই অনুকূলে ছিলো। নয়তো বেঙ্গালুরুর মাঠে, বেঙ্গালুরু টিমকে এভাবে হারানো এতো সহজ নয়। যাইহোক এই ম্যাচে বিরাট কোহলি বেশ ভালো ব্যাটিং করেছে। তবে অপরদিক থেকে যদি সাপোর্ট পেতো,হয়তোবা আরও ভালো ব্যাট করতে পারতো। তবে এই টুর্নামেন্টে ডু প্লেসির ব্যাটিং দেখে হতাশ হয়েছি। দেখা যাক সামনে কেমন ব্যাটিং করে। তবে দীনেশ কার্তিকের কোনো তুলনা হয় না। একেবারে পারফেক্ট ফিনিশার। এই ম্যাচে তার ছোট ইনিংসটাও দেখার মতো ছিলো। তবে টার্গেট আর একটু বড় হলে, ম্যাচটা আরও বেশি উপভোগ করতে পারতাম। যাইহোক সুনীল নারিন দুর্দান্ত একজন অলরাউন্ডার। ওপেনিংয়ে নেমে নারিন প্রায়ই ঝড়গতির ইনিংস খেলেন। এই ম্যাচে তো একদম ফাটিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া কলকাতার অন্যান্য ব্যাটসম্যানরাও দারুণ ব্যাটিং করেছে। এতে করে কলকাতা খুব সহজেই জয় পেয়ে যায়। সবমিলিয়ে ম্যাচটি এককথায় দুর্দান্ত লেগেছিল। আপনি বরাবরের মতো আজকেও দারুণ ভাবে রিভিউ করেছেন দাদা। যাইহোক এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
যদিও খুব একটা খেলা দেখা হয় না। তবে আপনার স্পোর্টস রিভিউ পোস্ট গুলো পড়তে অনেক ভালো লাগে। আর এই রিভিউ পোস্টগুলো পড়ে অনেক কিছু জানতে পারি দাদা। ১৭ ওভারে ১৮২ রান করেছিল জেনে ভালো লাগলো। সুনীল নারিন দারুন খেলেছে বুঝতেই পারছি। তাদের পারফরমেন্স সত্যি দারুন ছিল। অন্যদিকে কলকাতার স্টার্ক খারাপ বল করেছে এটা জেনে সত্যিই খারাপ লাগলো। ব্যাঙ্গালুরু ব্যাটসম্যানরা নিজেদের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেনি বুঝতেই পারছি। আর অন্যদিকে ভেঙ্কটেশ দারুন পারফরম্যান্স করেছে। সেই সাথে সুনীল তার নিজের পারফরম্যান্সের জন্য প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ ঘোষিত হয়েছে জেনে ভালো লাগলো। এটা সত্যি অনেক আনন্দের। সব মিলিয়ে এই ম্যাচটি বেশ উপভোগ্য ছিল বুঝতেই পারছি দাদা। আপনার উপস্থাপন করা স্পোর্টস রিভিউ পড়ে অনেক ভালো লেগেছে দাদা।