টেস্ট বিশ্বকাপ শেষমেশ অজিদের হাতেই উঠলো

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।


স্ক্রিনশর্ট: ষ্টার স্পোর্টস ক্রিকেট

আজকে একটা খেলাধুলা বিষয়ক পোস্ট করবো। যারা খেলা দেখেন তারা হয়তো জানবেন যে ইতোমধ্যে টেস্ট এর বিশ্বকাপ খেলা গতকাল শেষ হয়েছে। আর এই খেলায় অস্ট্রেলিয়া আর ইন্ডিয়া ফাইনালে উঠেছিল। খেলাটি অনেকদিন আগেই থেকে শুরু হয়েছিল, আর টেস্ট খেলা মানে তো একটা দীর্ঘ টাইম নিয়ে খেলা। আর টেস্ট খেলা সবার দেখতেও ভালো লাগে না, কারণ সারাদিন ধরে দেখা ধৌর্যে কুলায় না। আর এটি যেহেতু লন্ডনে খেলা হয়েছে তাই রাতের দিকেও কিছুটা দেখা যায় আমাদের ইন্ডিয়ান সময়ে। আমি কাজের ফাঁকে ফাঁকে ফোনে দেখে নিতাম। দুই দলই খুবই স্ট্রং টিম আর টেস্ট এ এই দুই দলই প্রথম এবং দ্বিতীয় পজিশনে থাকে সব সময়। এক কোথায় বলতে গেলে তাদের মধ্যে টেস্ট খেলা নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা চলে একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয় লক্ষ্য করা যায় তাদের খেলার মধ্যে। বিশ্বকাপ ছাড়াও যখন নরমালি টেস্ট খেলা হয় তখন বিশাল বিশাল রানের চেজ দিয়ে থাকে এক টিম আবার সেটা চেজ করেও টার্গেট দিতে দেখা গেছে দুই টিমের মধ্যে।


স্ক্রিনশর্ট: ষ্টার স্পোর্টস ক্রিকেট

এই বিশ্বকাপে ইন্ডিয়া টসে জিতলেও সব সময়ের মতো ফিল্ডিংটাই চুজ করে , কারণ টার্গেটে খেলতে বেশি পছন্দ করে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা এখন যেটা দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং পারফরমেন্স প্রথম থেকেই বেশ ভালো ছিল, তবে ওপেনিংটা বেশ কিছু সময় খারাপ যায় আর রানও অনেক্ষন ধরে তাদের করতে দেয় না, মোটামুটি ভারতীয় প্রেসাররা একটা চাপে রেখেছিলো। দুইজন একটু কম বেশি ওপেনে খেলে আউট হয়ে গেলেও পরের পার্টনারশিপ খুবই স্ট্রংলি ম্যাচটাকে ঘুরিয়ে আনে, সাধারণত টেস্ট ম্যাচে খেলাটা যেমন হয়ে থাকে। যেন অস্ট্রেলিয়ান প্লেয়ারদের মধ্যে একটা নতুন উন্মাদনা কাজ করতে থাকে তাদের পার্টনারশিপ দেখে। আর এই পার্টনারশিপ চলে দীর্ঘক্ষণ, আর স্মিথ কেমন ধৌর্যশীল আর ঠান্ডা মাথার প্লেয়ার, ভারতীয় বোলারদের অনেক্ষন চাপের মুখে রাখে দুইজন ব্যাটসম্যান। আর তার ফলস্বরূপ অস্ট্রেলিয়া তাদের দুইজনের সর্বমোট রান গিয়ে দাঁড়ায় ২০০ এর কাছাকাছি, যেটা হিউজ একটা চাপের বিষয়। প্রথম ইনিংসে এইভাবে তো তারা সবাই মোটামুটি, বিশেষ করে এই দুইজনের কৃতিত্ত্ব এর কারণে সাড়ে ৪০০ রান ক্রস করে।


স্ক্রিনশর্ট: ষ্টার স্পোর্টস ক্রিকেট

যদিও চাপের থাকলেও এই রানটা দেখে তেমন ভয়ের কিছু মনে হয়নি, কারণ পুজারার মতো যেখানে বেস্ট টেস্ট ব্যাটসম্যান আছে সেখানে এই রান চেজ তারা করতে পারবে বলে এই আশা ছিল। কিন্তু বিষয়টা হলো উল্টো, প্রথম থেকেই যেন ঝর ঝর করে পড়তে থাকলো তাদের উইকেট, যেটা দেখে অবাক, তখনই ভেবেছিলাম যে ৪০০ চেজ হবে না, কারণ ১ দিনেই ৫ এর বেশি উইকেট যাওয়া মানে একটা বিশাল চাপের মুখে পড়ে যাওয়া। কোনোমতে দুই থেকে তিনজন একটু ধরে খেলেছিল তাই ৩০০ এর কাছাকাছি গিয়েছিলো। আসলে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং লাইন হার্ড ছিল একটু। অনেকে বাউন্স বল খেলতে গিয়ে আউট হয়েছে, বেশিরভাগ বলতে গেলে স্লিপে ক্যাচ তুলেছে আর আউট হয়েছে।


স্ক্রিনশর্ট: ষ্টার স্পোর্টস ক্রিকেট

যাইহোক প্রথম ইনিংস শেষেও অনেক রান বাকি ছিল আর দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়া অনেক রান করে, ফলে আবারো ৪০০+ রানের টার্গেট পড়ে যায় লাস্ট ইনিংসে। আর হাতেও বেশি সময় ছিল না, এই রান ধরে ধরে তোলার। আর টেস্টে এই রান চেজ করতে গেলে দ্রুত খেলতে গেলে তোলা সম্ভব না। বরাবরের মতো আবারো স্লিপে তাদের শেষ করে দেয়, স্লিপে যেন জালের মতো সাজিয়েছে আর সেখান থেকে ক্যাচ মিস হওয়া মুশকিল আসলেই । ফলে অনেক বড়ো রানের ব্যবধানে হারতে হলো, যদিও একটু কম রানে হারলে মুখ থাকতো কিন্তু এতো রানে হারাটাও একটা মানসম্মানের বিষয়।


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

দাদা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলাটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমি দেখেছি। আসলে অস্ট্রেলিয়া খুবই ভালো খেলেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে রাহানি এবং বিরাট কোহলি খেলা দেখে মনে হচ্ছিল যে ভারত ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর তা হলো না। ব্যাটিং পারফরমেন্সটা ভারতের খুবই খারাপ ছিল যার জন্য এই টেস্টটা তাদের হারতে হল। আসলে ৪০০ রানে টার্গেটে শেষে ইনিংসে ব্যাট করাটা খুবই কঠিন।

 3 years ago 

বিরাট কোহলি এবং রাহানে যতক্ষণ পর্যন্ত ক্রীজে ছিল ততক্ষণ পর্যন্ত আমি খুবই আশাবাদী ছিলাম যে ইন্ডিয়া বিজয়ী হবে। কিন্তু পরের দিন অস্ট্রেলিয়ান বোলিং এর দাপটের কাছে ইন্ডিয়ান সকল ব্যাটার রা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। তাই শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হাতেই টেস্ট বিশ্বকাপটি উঠে যায়।

 3 years ago 

দাদা যদিও খেলা দেখার অভিজ্ঞতা আমার খুবই কম। কিন্তু তারপরেও আমি যদি কখনো সুযোগ হয় তাহলে খেলা দেখার চেষ্টা করি। এই ম্যাচটা দেখার সুযোগ হয়নি। কিন্তু আপনার পোষ্টের মাধ্যমে আজকে অনেকটাই জানতে পারলাম। বিশেষ করে পার্টনারশিপ থাকার কারণে অস্ট্রেলিয়া খুবই ভালো খেলেছে। এমনকি ওদের রান অনেক বেশি ছিল। যদিও প্রথম থেকে ভেবেছিলাম ভারত ও অনেক ভালো খেলবে। কিন্তু ওরা তো প্রথমেই অনেকগুলো উইকেট পড়ে গিয়েছিল। আর সেজন্য অনেক রানের ব্যবধানে হারতে হলো। আসলে এটা ঠিক যদি কয়েকটা রানের ব্যবধানে হারতে হয় তাহলে বেশি খারাপ লাগে না। কিন্তু বেশি রানের ব্যবধানে হারলে খুবই খারাপ লাগে। যাই হোক আপনার কাছ থেকে এই পোস্টটা দেখে ভীষণ ভালো লাগবে।

 3 years ago 

দাদা আমি কিন্তু খেলা দেখতে খুবই পছন্দ করি। কিন্তু অনেক ব্যস্ততার জন্য এই খেলাটা দেখা হয়নি। তবে আমি ভেবেছিলাম টেস্ট বিশ্বকাপ এ নিশ্চয়ই ভারত জিতবে। কিন্তু এখানে দেখতে পেলাম আসলে অস্ট্রেলিয়ার দুইজন অনেক স্ট্রং পার্টনারশিপ থাকার কারণে তারা বেশি রান নিয়েছিল। আর এক্ষেত্রে তাদের দলটা ভারী হয়েছে। অন্যদিকে খেলার শুরুতেই ভারতের দলের একটার পর একটা উইকেট পড়ছিল। যার কারনে ওদের জেতার সম্ভাবনা টাই কমে গেল। কিন্তু তারপরেও আমি ভেবেছিলাম হয়তোবা কিছুটা বা অল্প পার্থক্য থাকবে। এখন তো দেখছি অনেক বেশি রানে হারতে হয়েছে। তবে এমনিতে না দেখলেও আপনার মাধ্যমে এই ম্যাচটার কথা জানতে পেরে ভালো লাগলো।

 3 years ago 

সত্যি কথা বলতে দাদা, আগে খেলার প্রতি আমার অনেক বেশি আগ্রহ ছিল এবং অনেক বেশি খেলাধুলাও করা হতো। কিন্তু বেশ কয়েক বছর পর্যন্ত তেমন ইন্টারেস্ট নেই আর খেলার প্রতি। আর সময়ের কারণে তো খেলা দেখাও হয়ে উঠে না। কিন্তু ক্রিকেট খেলার অনেক বড় ভক্ত ছিলাম আমি। আগে যখনই খেলা হতো না কেন, দিন অথবা রাতে কখনোই মিস করতাম না খেলা দেখা। অল্প কয়েক রানের ব্যবধানে এই খেলাটিতে বিজয়ী হতে পারেনি। এটা কিন্তু ঠিক বললেন, একটু কম রানে হারলে মুখ থাকতো কিন্তু এত রানে হারাটা আত্মসম্মানের বিষয়। আপনার এই পোস্টটির মাধ্যমে এই ম্যাচটা দেখতে পারলাম এবং অনেক কিছুই জানতে পারলাম এই ম্যাচটির বিষয়ে।

 3 years ago 

দাদা, ছোটবেলা থেকে খেলা তেমন আমার দেখা হয় না। বলতে গেলে খেলার প্রতি আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতাও নেই। যদি এমনিতে কারো মুখে বিস্তারিত সবকিছু শুনি তখন খুব ভালো লাগে। মাত্র অল্প কয়েক রানের ব্যবধানে ইন্ডিয়া আর বিজয়ী হতে পারেনি, এটা দেখে খুবই খারাপ লেগেছে। কাছাকাছি চলে আসলে যদি হেরে যায় তাহলে অনেক খারাপ লাগে বিষয়টা। শেষ পর্যন্ত তাহলে অস্ট্রেলিয়ার হাতেই বিজয়ের কাপটা গিয়েছে। দুই দলই অনেক শক্তিশালী। এই খেলাটার সম্পর্কে অনেক ধারণা নিতে পারলাম আপনার পোষ্টের মাধ্যমে। বলতে গেলে অনেক বছর পরে খেলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলাম, তাও আপনার পোষ্টের মাধ্যমে। খুব সুন্দরভাবে বিষয়টা তুলে ধরলেন দেখে ভালো লাগলো দাদা।

 3 years ago 

একটা সময় ক্রিকেট খেলার প্রতি ভীষণ আগ্রহ ছিল। সময় পেলেই বসে পড়তাম টিভির সামনে। কেন জানি সময়ের সাথে সাথে সব কিছুই বদলে যাচ্ছে। তাই তো এখন আর সেভাবে খেলা দেখা হয় না। তবে এবারের ম্যাচটি টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বোঝাই যাচ্ছে। ৪০০+ রানের টার্গেট ভাবতেই অবাক লাগছে দাদা। তাহলে তো ভীষণ ছিল বিপক্ষীয় প্লেয়ারদের। দুদলের ভীষণ উত্তেজনার মাঝ দিয়ে খেলাটি শেষ হয়েছে। যখন টার্গেট বেশি থাকে তখন প্লেয়ারদের মাঝে আলাদা রকমের টেনশন কাজ করে। তাইতো তারা ঠিকভাবে খেলতেও পারে না। ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন এবং আপনার অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি দাদা।

 3 years ago 

দাদা ঠিক বলেছেন আমারও টেস্ট খেলা সারাদিন ধরে দেখা ধৌর্যে কুলায় না। কখন টেস্ট বিশ্বকাপ খেলা চলে গেল বুঝতেই পারলাম না। আর এদিক দিয়ে অজিদরা কাপ নিয়ে চলে গেল। আপনার পোষ্ট না পড়লে জানতেই পারতাম না যে ২০২৩ টেস্ট বিশ্বকাপ অজিদরা নিয়ে গেছে। তবে যায় বলেন দুই দলই ফাইটিং করেছে। কেউ কাউকে ছাড় দেয় নি। ইন্ডিয়া আর অস্ট্রেলিয়ার যে কোন খেলাই দারুন জমে উঠে। ধন্যবাদ দাদা।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.103
BTC 64153.03
ETH 1867.14
USDT 1.00
SBD 0.36