এলোমেলো আলোকচিত্র- #০২

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

আজকে আপনাদের সাথে কিছু এলোমেলো আলোকচিত্র শেয়ার করবো। এই ছবিগুলো সব সন্ধ্যার মুহূর্তে কম আলোয় ক্যাপচার করা। তাহলে এখন এলেমেলো আলোকচিত্রগুলো দেখা যাক।

Photo by @winkles

Photo by @winkles

প্রথম যে আলোকচিত্রটি দেখতে পাচ্ছেন, সেটি মনে হয় অনেকেই চিনে থাকবেন। কারণ এটি প্রায় জায়গায় দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের এদিকে এই ফুলটিকে মধুমঞ্জরী ফুল, আবার মধুমালতী আবার মাধুরীলতা ইত্যাদি এইরকম কিছু প্রকারের নামে ডেকে থাকে। আমি মধুমঞ্জরী বলে জানি এই ফুলটিকে। এই ফুলের গাছগুলো লতা টাইপের দেখতে হয় আর ঝোপালো। পাতাগুলো খুবই ঘন হয়ে থাকে লতার প্রতিটা কাণ্ডে কাণ্ডে। এছাড়া ফুলগুলোও অনেকটা করে ধরে থাকে। এই উদ্ভিদ এমনিতেই হয়ে থাকে, আমাদের বাড়িতে এক জায়গায় এই ফুলের উদ্ভিদটি হয়েছে, গাছে থোকা থোকা ফুল ধরে থাকলে দেখতে বেশ সুন্দর লাগে। এই ফুলের আসলে অনেক প্রকারের জাত রয়েছে, জাত অনুযায়ী কিছু কিছু ফুলের গঠন একটু ভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। এই ফুলের অনেক সৌন্দর্য রয়েছে, বাড়িতে বা ছাদে এই ফুলের উদ্ভিদ লাগালে পরিবেশটা অনেক সৌন্দর্যমন্ডিত হয়ে উঠবে।

Photo by @winkles

দ্বিতীয় আলোকচিত্রটি হলো একটি শিব ঠাকুরের। এটি পহেলা বৈশাখের দিন তুলেছিলাম। এই শিব মূর্তিটি আমাদের এখানে সোমতীর্থ নামক একটি জায়গায় অবস্থিত, আর এটি অনেক আগে থেকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এমনিতে যখন শিবের মাথায় জল ঢালার সময় আসে তখন এখানে অবস্থিত মন্দিরে খুবই ভীড় হয়ে থাকে, সেই ভোর রাত থেকেই সবাই এখানে লম্বা লাইন দিয়ে থাকে জল ঢালার জন্য। তাছাড়া এখানে সোমতীর্থ প্রতিদিন খোলা থাকে। বিকেল থেকে রাত ৮-৯ টা অব্দি খুলে রাখে। সন্ধ্যার সময়ে গেলে সবথেকে ভালো দৃশ্য দেখা যায় এখানে, কারণ লাইটিং আর জলের ফোয়ারা চালু করে দেয়। শিবের জটায়ু থেকে যখন জল পড়ে তখন দেখতে অনেক ভালো লাগে। তবে এখন বিশেষ কোনো দিন ছাড়া লাইটিং বা জলের ফোয়ারা চালু করে না, আগে প্রতিদিনই চালু করতো আর লোকজনও হতো ভালো। আমি এখানে মাঝেমধ্যে যাই, সন্ধ্যার সময়ে বসে চারিপাশে দেখতে বেশ ভালোই লাগে আর পরিবেশটা বেশ শান্ত।

Photo by @winkles

Photo by @winkles

Photo by @winkles

তৃতীয় আলোচিত্রটিও একই দিনে তোলা ছিল। এটিও ওই সোমতীর্থের থেকে সন্ধ্যার মুহূর্তে যখন একজন পুকুরে থাকা মাছগুলোকে খাবার দিচ্ছিলো তখন সেই মুহূর্তে ছবিটি ক্যাপচার করা। এখন তো প্রায় বলতে গেলে মাছগুলো অনেকটা কম আছে, আগে বিভিন্ন রঙিন মাছের ভরে ছিল পুকুর। যেকোনো দিকে তাকালে পুকুরে একুরিয়ামের মতো রঙিন মাছ দেখা যাবে, আর মাছগুলোও অনেক বড়ো বড়ো। এই লোকটা এই শিব মন্দিরে থাকে সবসময় আর সন্ধ্যার সময়ে মাছগুলোকে খাবার দিতে যায়। মাছগুলোও টের পেয়ে যায় যে খাবারের সময় হয়ে গেছে, লোকটি ঘাটে যেতেই মাছগুলো সব একসাথে এসে ভীড় জমিয়েছে সেটা দেখতে পাচ্ছেন আপনারা কি পরিমানে ঝাঁক বেঁধেছে। এখানে এখন এই মাছগুলোর মধ্যে রঙিন মাছ খুব কম আছে তবে দেশি মাছ এখন বেশি ছেড়েছে। মাছগুলোও বেশ বড়ো বড়ো হয়েছে আগের থেকে। সন্ধ্যার সময়ে বেঞ্চে বসে এক ঝাঁক বেঁধে মাছগুলো যখন বিচরণ করতে লাগে তখন সেই মুহূর্তটা দেখতে আরো বেশি ভালো লাগে।

Photo by @winkles

Photo by @winkles

চতুর্থ আলোকচিত্রটি হচ্ছে একটি গোলাপ ফুলের। এই ফুলটিও সেখানে বাগানে লাগানো ছিল। জল দেয় না তেমন এই গরমে, প্রায় অনেক ফুলই শুকিয়ে গেছে, এই ফুলটি দেখতে ভালো লাগছিলো তাই তুলে নিয়েছিলাম। এই গোলাপ ফুলগুলো হাইব্রিট জাতের, সাধারণত এখন যেখানেই বাগান মতো করে গোলাপ বা যা লাগাক না কেন দেশি কোনো কিছু কেউ তেমন লাগায় না, সব হাইব্রিট। আর এটার একটা কারণ হলো হাইব্রিট জাতের ফুলগুলো আসলে দেখতে অনেক ভালো হয়, দেশিগুলোর থেকে সৌন্দর্য বেশি ছড়ায়। গোলাপ ফুলের জাত হরেক রকমের আর এর কালার বিভিন্ন পদের হয়ে থাকে জাত ভেদে। বাগানে সাদা ,পিঙ্ক আর লাল কালারের গোলাপগুলো দেখতে বেশ সুন্দর লাগে আমার কাছে।

Photo by @winkles

Photo by @winkles

Photo by @winkles

পঞ্চম যে আলোকচিত্রটি দেখতে পাচ্ছেন, এটি জামরুল ফুলের। গতবার আমি একটা জামরুল গাছ লাগিয়েছিলাম আর এই বছরই গাছটিতে বেশ জাঁকিয়ে ফুল এসেছে। গাছটি বেশি একটা বড়ো না হলেও জামরুল এর যেমন ফুল ধরেছে সব স্থানে তেমনি জামরুল বড়োও হয়ে গেছে উপরের দিকে। গাছটি যখন কিনেছিলাম বাজার থেকে তখন বলেছিলো জামরুল অনেক বড়ো বড়ো হয়ে থাকে। কিন্তু জামরুল বড়ো হওয়ার আগেই জালি অবস্থায় পাখিতে আর কাঠবিড়ালিতে খেয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে। এই জামরুলের জাতটাও হাইব্রিড জাতের আর সাদা সাদা যে বড়ো জামরুল হয়ে থাকে এটাও সেই জাতের। কাঠবিড়ালি আর বুলবুলি পাখিতে যেভাবে নষ্ট করছে তাতে মনে হয় না একটাও গাছে আর থাকবে, জালি অবস্থায় নামিয়ে খেতে হবে কিছুটা যা ভাবছি।

All photos location: https://w3w.co/trouble.shorthand.tumblers

শুভেচ্ছান্তে, @winkles

ক্যামেরাস্যামসুং গ্যালাক্সি M33 5G
লোকেশনকলকাতা
তারিখ১৫, ১৬ & ১৭ এপ্রিল ২০২৩


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

Sort:  
 3 years ago 

দাদা আজকে আপনার ফটোগ্রাফি গুলো আমার খুবই ভালো লেগেছে। আসলে এরকম ফটোগ্রাফি দেখলে খুবই ভালো লাগে। আর ফটোগ্রাফি সাথে খুবই সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন যার মাধ্যমে সেই ফটোগ্রাফি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। বিশেষ করে মধুমালতী নামের এই ফুলটি আমার অনেক প্রিয়। এর অনেক নাম রয়েছে।এই ফুলটি আমাদের বাড়িতে রয়েছে মসত্যিই সুন্দর দৃশ্য গুলো খুবই ভালো লেগেছে।তারপরে পুকুরে থাকা মাছগুলোকে খাবার দিচ্ছে এই ফটোগ্রাফি অসাধারণ হয়েছে। মাছগুলো দেখে খুবই ভালো লাগলো। তারপরে আপনার হাইব্রিড জাতের কিছু গোলাপ ফুলের ফটোগ্রাফি করলেন। হাইব্রিড জাতের গোলাপ ফুল দেখতে খুবই ভালো লাগে। আর গোলাপ ফুলের ফটো গুলো এত সুন্দর সুন্দর ছিলো যা খুবি ভালো লেগেছে আমার। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ দাদা।

 3 years ago 

দাদা আপনার প্রথম ফটোগ্রাফি টা আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। আসলে এই ফুলগুলো আমি অনেকবার দেখেছি কিন্তু এর নাম জানা ছিল না। কিন্তু এর নাম মধুমঞ্জরী ফুল এটা আজকে জানতে পারলাম। তাই জন্য ভীষণ ভালো লাগলো। আর আমার কাছে সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে মাছের খাওয়ার দেওয়ার দৃশ্যটা। মাছগুলোকে দেখতে এত সুন্দর লাগছিল কি বলবো। তবে আপনি বলছেন এখানে আগে রঙিন মাছ বেশি ছিল। রঙিন মাছ দেখতে কিন্তু খুবই সুন্দর দেখায়। গোলাপ ফুল আমার কাছে দেখতে ভীষণ ভালো লাগে। গোলাপ ফুলের ফটোগ্রাফি দেখতে বেশি ভালো লেগেছিল। আমার শ্বশুর বাড়িতে অনেক বড় একটা জামরুল গাছ রয়েছে। ফুল গুলো দেখতে ভীষণ ভালো লাগে।

 3 years ago 

দাদা ঈদ মোবারক। আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে খুব ভাল লাগলো। আমিতো মাছের ছবি দেখে আত্মহারা হয়ে গেলাম।ইচ্ছে করছে মাছ গুলো ধরি।ফুলের ফটোগ্রাফি তো সব সময়ই ভাল লাগে। ধন্যবাদ দাদা সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। অনেক অভিনন্দন রইলো আপনার জন্য।

 3 years ago 

দাদা আজকে আপনার একই পোষ্টে অনেক ধরনের ফটোগ্রাফি দেখলাম। প্রথম ফুলটি আমাদের দিকে মাধুরীলতা ফুল বলা হয়। আর পুকুরে খাবার দেওয়ার সময় অনেক গুলো মাছ দেখলাম। আর শেষ দিকেও ধারুন কিছু ফুলের ছবি দেখলাম। সব মিলিয়ে ধারুন ভাবে আজকের পোষ্টি সাজিয়েছেন। ধন্যবাদ দাদা।

 3 years ago 

ফুলটার নাম মধুমঞ্জরী , এটা আমার জানা ছিল না আপনার পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম। তবে এই ফুলটা আমি অনেক জায়গায় দেখেছি। আসলে আমরা বিভিন্ন ধরনের ফুল দেখলেও কিন্তু সবগুলো গুলির নাম জানা থাকে না।শিব ঠাকুরের আলোকচিত্রটা ও কিন্তু খুবই সুন্দর লেগেছে। বিশেষ করে আপনার ফটোগ্রাফি আমার কাছে ভালো লেগেছে। আপনি বলছেন এখানে মাছ কম কিন্তু আমার কাছে অনেক মাছ মনে হচ্ছে। তবে রঙিন মাছের কথা শুনে ভালো লাগলো। কারণ রঙিন মাছ আমার কাছে দেখতে ভালো লাগে। বিশেষ করে রঙিন মাছগুলো অনেকটা আকর্ষণীয় থাকে। তবে এখন দেখছি দেশীয় মাছ টাই বেশি। আপনি তাহলে দেখছি জামরুল গাছ লাগিয়েছেন বাড়িতে। আমাদেরও একটা আছে বাড়িতে। জামরুল ফুলের ফটোগ্রাফিটাও খুব সুন্দর হয়েছে।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

মধুমালতী ফুল আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। দাদা চমৎকার চমৎকার ফটোগ্রাফি করেছেন। এধরনের ফটোগ্রাফি করতে ও দেখতে অনেক ভালো লাগে।

 3 years ago 

প্রিয় দাদা অনেক সুন্দর একটি ফটোগ্রাফি পোস্ট শেয়ার করেছেন আপনি। গোলাপ ফুলের ফটোগ্রাফি এবং জামরুল ফুলের ফটোগ্রাফিটি আমার কাছে সবচাইতে বেশি ভালো লেগেছে। আসলে এ ধরনের ফটোগ্রাফি গুলো দেখতে এমনিতেই অনেক সুন্দর লাগে। দারুন একটি ফটোগ্রাফি পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

সবগুলো ছবিই বেশ ভালোই উপভোগ করলাম। তবে বেশি ভালো লেগেছে ভাই, পুকুরের মাছ গুলোকে খাবার দিচ্ছিল সেই ছবিটা দেখে। কারণ এমন মুহূর্ত সবসময় দেখা যায় না।

 3 years ago 

মাধুরীলতা ফুল মধুমালতী নামে পরিচিত সেটা জানা ছিল না দাদা। তবে মধুমালতী নামটি অনেক শুনেছি। মাধুরীলতা ফুল আর মধুমালতী ফুল যে একই সেটা আজকে জানতে পারলাম। মাধুরীলতা ফুল আমার ভীষণ পছন্দের।ফটোগ্রাফিটিও বেশ দারুন হয়েছে। এছাড়া গোলাপ ফুলটি দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। আজকাল বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপ ফুল পাওয়া যায়। যেগুলো দেখতেও অনেক সুন্দর হয়। আর সৌন্দর্যের দিক থেকে যখন গোলাপ ফুল সবার পছন্দের তালিকায় রয়েছে তাই তো এই ফুল সবাই পছন্দ করে। ফুলের সৌন্দর্য সব সময় আমাদেরকে আকর্ষিত করে। তাইতো আমরা সেই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ফটোগ্রাফি করার চেষ্টা করি। দাদা আপনার শেয়ার করা প্রত্যেকটি ফটোগ্রাফি দারুন ছিল। অনেক দক্ষতার সাথে দারুণ সব ফটোগ্রাফি গুলা আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 65335.22
ETH 1948.43
USDT 1.00
SBD 0.37