গরম গরম সুস্বাদু খিচুড়ি রেসিপি
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে একটা রেসিপি শেয়ার করে নেবো। রেসিপিটা গতকাল করেছিলাম সন্ধ্যার রাতের দিকে। এই রেসিপিটা করেছিলাম খিচুড়ির। কালকে আমাদের এখানে খুব বৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে একটা ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়া ছিল। আর এই বৃষ্টির সময়ে খিচুড়ি খেতে কিন্তু অসাধারণ লাগে, আর বৃষ্টির মুহূর্তটাও বেশ উপভোগ করা যায় খিচুড়ির সাথে। খিচুড়ি আমি এক গামলা দিলেও খেয়ে ফেলতে পারি বৃষ্টির সময়ে, আমার কাছে বেশ ভালো লাগে এই ওয়েদারে। তবে আমি খিচুড়ি তেমন ভালো পারিনা করতে বলতে গেলে, মাকেই বলেছিলাম খিচুড়ি করতে, কিন্তু মায়ের হাতে কাজ ছিল তাই করতে পারিনি। তবে করার পরে খেতে খারাপ লাগেনি একেবারে, বেশ মজার ছিল । খিচুড়ি বানাতে চেয়েছিলাম বিভিন্ন কয়েকটি পদের সবজি দিয়ে। কিন্তু বেশি একটা সবজি ছিল না, তাই শুধু কুমড়ো ব্যবহার করেছি আর ডালিয়া দিয়েছিলাম, খেতে বেশ ভালোই লেগেছিলো গরম গরম খিচুড়ি ঠান্ডা আবহাওয়ায়। খিচুড়ি আমাদের বাঙালিদের কাছে অতি জনপ্রিয় একটি খাদ্য, যা প্রত্যেকের কাছে খুবই পছন্দের। খিচুড়িতে যদি বরবটি, শিম এইসব বিভিন্ন সবজির সমন্বয়ে তৈরি করা যায়, তবে এটি খেতে খুবই সুস্বাদু হয়ে থাকে। খিচুড়ি আসলে বিভিন্ন ধরণের করে খাওয়া যায়, আমি যেটা করেছিলাম সেটা নরম বা ভুনার মাঝামাঝি খিচুড়ি। করতে চেয়েছিলাম এক, হয়েছে দুটোর মাঝামাঝি। যাইহোক, আমার কাছে স্বাদ হওয়া নিয়ে কথা। এখন এই খিচুড়ি রেসিপিটার মূল প্রস্তুত প্রণালীর দিকে চলে যাবো।
❂প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:❂
✦এখন রেসিপিটি যেভাবে প্রস্তুত করলাম---
☫প্রস্তুত প্রণালী:☫

❖কুমড়োটির প্রথমে খোসা ছালিয়ে নিয়ে কেটে ছোট ছোট পিস করে নিয়েছিলাম এবং পরে জল দিয়ে ধুয়ে নিয়েছিলাম। এরপর আলুগুলোর খোসা ছালিয়ে নেওয়ার পরে কেটে ছোট ছোট পিস করে ধুয়ে রেখেছিলাম।
❖পেঁয়াজ দুটির খোসা ছালিয়ে নেওয়ার পরে কেটে রেখেছিলাম। এরপর লঙ্কাগুলোও কেটে ধুয়ে রেখেছিলাম।
❖মসুর ডালগুলো ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে রেখেছিলাম এবং সেই সাথে চাউলও ভালো করে ধুয়ে নিয়েছিলাম। এরপর ডালিয়াও একবার ধুয়ে রেখে দিয়েছিলাম।
❖প্যানে অল্প তেল দেওয়ার পরে তাতে দুটি শুকনো লঙ্কা দিয়েছিলাম। এরপর তাতে গোটা জিরা দিয়ে হালকা ভেজে নিয়েছিলাম।
❖লঙ্কা ভাজার পরে তাতে পেঁয়াজ কুচি ধুয়ে দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর পেঁয়াজ ভালোভাবে ভেজে নিয়েছিলাম।
❖অন্য কড়াই ধুয়ে চুলায় বসিয়ে তাতে ধুয়ে রাখা চাউল দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে মসুর ডাল এবং ডালিয়া পর পর দিয়ে দিয়েছিলাম।
❖ডালিয়া দেওয়ার পরে তাতে কেটে রাখা আলুর পিসগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে কুমড়োর কেটে রাখা পিসগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম এবং একবার সব উল্টেপাল্টে মিশিয়ে নিয়েছিলাম।
❖মেশানোর পরে কাঁচা লঙ্কা এবং স্বাদ মতো লবন আর হলুদ গুঁড়ো দিয়ে দিয়েছিলাম।
❖লবন, হলুদ সবকিছুর সাথে ভালোভাবে মিক্স করে নিয়েছিলাম। এরপর তাতে পরিমাণমতো জল দিয়ে দিয়েছিলাম। জল দেওয়ার পরে বেশ কিছুক্ষন ধরে ফুটিয়ে আলু ,কুমড়ো, ডাল সব ভালোভাবে সেদ্ধ করে নিয়েছিলাম।
❖চাউল ফুটে উঠলে তাতে শুকনো লঙ্কার সাথে ভাজা জিরা আর পেঁয়াজ দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর আরো কিছু সময় ফুটিয়ে নিয়েছিলাম পুরোপুরি ভাতে অর্থাৎ খিচুড়িতে পরিণত হয়ে আশা পর্যন্ত।
❖খিচুড়ি হয়ে আসার পরে আঁচ মিডিয়ামে রেখে কিছুটা জল মেরে দিয়ে তাতে জিরা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছিলাম এবং নিচের জলটা আরো একটু কমিয়ে নরম নরম থাকতে জ্বাল নিভিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর পরিবেশনের জন্য একটি পাত্রে কিছু খিচুড়ি তুলে নিয়েছিলাম।
রেসিপি বাই, @winkles
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |




দাদা খিচুড়ি আমার খুবই প্রিয়। আমি খিচুড়ি রেসিপি খেতে খুবই পছন্দ করি। তবে ভুনা খিচুড়ি পেলে সেদিন আর আমি ভাত খাই না। আজকে আপনার খিচুড়ি রেসিপি দেখে যেন খেতে ইচ্ছা করছে। আর আপনি মিষ্টি কুমড়া দিয়ে সুস্বাদু এই খিচুড়ি রেসিপি তৈরি করেছেন। সত্যি দাদা আপনার রেসিপি পরিবেশন আমার খুবই ভালো লেগেছে। আর খিচুড়িতে অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। যার কারণে খিচুড়ি আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। খিচুড়ি রেসিপি তাই আমার খেতে ইচ্ছা করে। আপনার রেসিপি পরিবেশন দেখে এইভাবে শিখে নিলাম, পরবর্তী তৈরি করে দেখবো কতটা মজা হয়। আপনার সুস্বাদু রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
দাদা আমিও একটু বৃষ্টি দেখলেই প্রথমে খিচুড়ির কথা মাথায় আসে। ঘরে মাংস না থাকলে খেতে হবেই।খিচুড়ি বেশ পছন্দ আমার।সবজি দিয়ে করলে এর পুষ্টিগুন আরো দ্বিগুণ হয়ে যায়। আপনার মা ব্যস্ত ছিলেন তাই আপনি ই করে নিলেন।খিচুড়ি দেখতে কিন্তু বেশ হয়েছে।খেতেও খুব মজার তা বুঝতে পারছি। দাদা ডালিয়া কি?? আমি ছবি দেখেও চিনতে পারছি না।আমি খিচুড়িতে মসুর আর মুগ ডাল দিয়ে করি।বুঝতে পারলাম না।যাই হোক মজার রেসিপিটি শেয়ার করলেন এজন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আসছে সামনে রিমঝিম বৃষ্টির দিন।এই ওয়েদারে খিচুড়ি না হলে কি আর চলবে।ধন্যবাদ দাদা।
ঠিক বলেছেন দাদা বৃষ্টির দিনের গরম খিচুড়ি খেতে ভীষণ মজা লাগে। আপনার তৈরি গরম সুস্বাদু খিচুড়ি রেসিপি দেখে তো খেতে ইচ্ছে করছে। গতকাল আমাদের এখানে ও হালকা বৃষ্টি হয়েছে।
দাদা বৃষ্টির দিনে আর যাই হোক খিচুড়ি খেতে কিন্তু বেশ ভালো লাগে। বৃষ্টি পড়লে মনে হয় যেন আজকে যদি একটু খিচুড়ি রান্না করে খেতে পারতাম। কেন জানি বৃষ্টির সাথে খিচুড়ির একটা মহামিলন রয়েছে। বাঙালিরা সবসময় মজার মজার খাবার খেতে বেশি পছন্দ করে। আরে খিচুড়ি সাথে যদি একটু সবজি দিয়ে ভুনা করে রান্না করা যায় তাহলে খেতে বেশ বেশি ভালো লাগে। আপনি রান্নাটা যে প্রক্রিয়ায় তৈরি করেছেন তাতে বোঝাই যাচ্ছে এই রান্নাটি কতটা সুস্বাদু হয়েছে। এই খিচুড়ির মধ্যে যদি একটি ডিম ভাজি করে খাওয়া যায় তাহলে খাওয়ার মজাটা আরেকটু বেড়ে যায়। বৃষ্টির দিনে খুব মজার একটি খাবার তৈরি করে খেয়েছেন দাদা খুব ভালো লাগলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
বৃষ্টির মধ্যে আবহাওয়া শীতল হয়ে যায় । আর এই শীতল আবহাওয়ায় খিচুড়ি খেতে কার না ভালো লাগে। আপনি খিচুড়ি ভালো রান্না করতে না পারলেও আজ খুব সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন। শুধু মিষ্টি কুমড়া দিয়ে কেমন লাগে জানিনা কিন্তু অনেকগুলো সবজি দিয়ে রান্না করলে সবজি অনেক মজার হয়। তবে আপনার রান্নার রং ও পরিবেশন দেখে কিন্তু লোভ লেগে গেল। মনে হচ্ছে অনেক মজা হয়েছে। ডালিয়া উপকরণ এর সাথে আমি পরিচিত নই। ধন্যবাদ দাদা ।
ওয়াও অসাধারন গরম গরম সুস্বাদু খিচুড়ি রেসিপি দেখে আমার জিভে জল চলে এসেছে। দেখে বোঝা যাচ্ছে অনেক মজা ছিল খেতে। খিচুড়ি মানেই বৃষ্টি ভেজা দিন বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খেতে অনেক ভালো লাগে। আপনার খিচুড়ি দেখেই মনে পড়ে গেল বৃষ্টির কথা দাদা বৃষ্টি হলে মাকে বলি খিচুড়ি রান্না করে দিতে। খিচুড়ির সঙ্গে যে কোন সবজি দিলে অনেক বেশি মজা হয়ে থাকে আর আপনি দেখছি আলু এবং কুমড়ো দিয়েছেন। কুমড়ো দিলে খিচুড়ি স্বাদ অনেক গুনে বেড়ে যায়। ধন্যবাদ দাদা এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে উপহার দেওয়ার জন্য।
নিঃসন্দেহে আপনি ঠিক কথা বলেছেন দাদা, খিচুড়ি আমাদের বাঙ্গালীদের জন্য অনেক প্রিয় একটি খাবার। আমিও ব্যক্তিগতভাবে খিচুড়ি খেতে খুবই পছন্দ করি। দাদা আপনার এই খিচুড়ি রেসিপি তৈরি ক্ষেত্রে ডালিয়া দেওয়ার বিষয়টা আমার কাছে নতুন লেগেছে। কারণ আমি কখনো ডালিয়া দেওয়া খিচুড়ি খাইনি। খিচুড়ি রেসিপি প্রক্রিয়াগুলো খুবই সুন্দরভাবে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন আপনি। নিশ্চয়ই খিচুড়ি গুলো খেতে অনেক মজাদার এবং সুস্বাদু ছিল।
বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের সাথে ভুনা খিচুড়ি রান্না করতে যেমন ভালো লাগে তেমনি খেতেও ভালো লাগে। আসলে বৃষ্টির দিনগুলোতে কেন জানি খিচুড়ি খেতে অনেক ভালো লাগে। যেহেতু মাসিমা ব্যস্ত ছিলেন তাই আপনি নিজেই এই মজার রেসিপি তৈরি করেছেন দেখে ভালো লাগলো দাদা। আসলে বাঙালিরা সবসময় মজার মজার খাবার খেতে পছন্দ করে। বৃষ্টি ভেজা দিন মানেই বাসায় ভুনা খিচুড়ি রান্না হবে এটা যেনো বাঙালির ঐতিহ্য। কেন জানি বৃষ্টি দেখলেই খিচুড়ির কথা মনে পড়ে যায়। আর সবজি দিয়ে একটু ভুনা ভুনা করে খিচুড়ি করলে খেতে বেশ ভালো লাগে। ডালিয়া কি সেটা বুঝতে পারিনি। তবে মিষ্টি কুমড়া এবং আলু দিয়ে খিচুড়ি রেসিপি আমার বেশ ভালো লেগেছে। মনে হচ্ছে খেতে দারুণ হয়েছিল। খিচুড়ি রান্না করার আগে আমাদের সবাইকে দাওয়াত দিলেই হত দাদা। আমরা সবাই ডিম নিয়ে আপনার বাসায় চলে যেতাম। ডিম ভাজা দিয়ে খিচুড়ি খেতে আমার আবার বেশি ভালো লাগে। 🤭🤭
আচ্ছা দাদা একটু বলেন তো ডালিয়া কি মিষ্টি কুমড়া? আপনার খিচুড়ী দেখে তো আমার ও মনে চাইছে এভাবে রান্না করে খেতে। একটু ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়ায় এ ধরনের খিচুড়ি আর আচার হলে কিন্তু মন্দ হয় না। আপনি অনেক সুন্দর করে আমাদের মাঝে খিচুড়ী রান্নার প্রতিটি ধাপ তুলে ধরেছেন । ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।