তালের পায়েস রেসিপি
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে একটা রেসিপি পোস্ট শেয়ার করে নেবো। এই রেসিপিটা হলো তালের পায়েসের। তালের পায়েস করা হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগে। তালের পায়েস বা অন্য যা কিছু করে খাওয়া হোক না কেনো, এক কোথায় দুর্দান্ত লাগে। পায়েসের ক্ষেত্রে মূলত তালের যে সুগন্ধটা পাওয়া যায় এতে স্বাদের মাত্রাটা যেন আরো বাড়িয়ে দিয়ে থাকে। তাল দিয়ে প্রতিবছরই আমাদের প্রায় বেশিরভাগ বড়া করা হয়,পায়েস খুব কম করা হয়। তবে এইবার আমাদের বাড়িতে কোনো বড়া তৈরি করা হয়নি, এটা আসলে আমি করতে মানাই করেছিলাম, কারণ বড়া অতিরিক্ত তেল থাকবে বরং তার থেকে পায়েস অনেক ভালো লাগছে যখন, তখন পায়েসই হোক। পায়েসটাই মূলত বেশি করা হয়েছে আমাদের। আমাদের এখানে দুই এক জায়গায় এখনো তাল পাওয়া যাচ্ছে, ভাবছি একদিন অন্য কিছু বানাতে হবে । এই পায়েস এর রেসিপিটা মূলত মায়েই করেছে, আমি শুধু হাতা, খুন্তি নাড়া ছাড়া আর কিছুই করিনি এতে।
কারণ পায়েসের ক্ষেত্রে এর কোথায় কি লাগে না লাগে জানি না, আর এইসবে উপকরণগুলো গুছানোও একটা ঝামেলা, ঝামেলার জায়গায় বেশি যাই না হা হা। তবে এই পায়েস রেসিপিতে বেশি একটা উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি, কম উপকরণ দিয়েই করা হয়েছে। যাইহোক, তাল দিয়ে যেমন বিভিন্ন স্বাদের খাবার তৈরি করে খাওয়া যায়, তেমনি এর বেশ কিছু উপকারিতাও আছে। যেমন এর প্রধান কিছু দিক হলো, এতে ক্যালসিয়াম এর মাত্রাটা ভালো পাওয়া যায়, আর আমরা সবাই জানি আমাদের হাড় মজবুত রাখার জন্য এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এতে এন্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা আমাদের স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে। এছাড়াও যদি দেখা যায়, এতে প্রচুর ভিটামিন রয়েছে এবং কপার, ফাইবার ইত্যাদি আমাদের শরীরের নানান কাজে খুবই গুরুত্বপূর্ন। যাইহোক, এখন এই পায়েস রেসিপিটার তৈরির ধাপসমূহের দিকে চলে যাবো।
☫প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:☫
დএখন তৈরির ধাপসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো---
✠প্রস্তুত প্রণালী:✠

➤পাকা তালটির খোসা প্রথমে ভালোভাবে ছালিয়ে নিতে হবে এবং পরে তালের আঁটিগুলো ভেঙে আলাদা করে নিতে হবে।
➤এরপর প্রত্যেকটি আঁটি থেকে রস ভালোভাবে বের করে নিতে হবে। রস বের করা হয়ে গেলে সব একটি বাটিতে তুলে রাখা হয়েছিল। এরপর একটি পাত্রে চাউলগুলো ভিজিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিয়েছিলাম।
➤চাউল ধুয়ে নেওয়ার পরে কড়াইতে দিয়ে তাতে জল দিয়ে দিতে হবে। এরপর চাউলটা কিছুক্ষন ধরে ফুটিয়ে নিতে হবে।
➤ফুটিয়ে নেওয়ার পরে তাতে তালের রসটা দিয়ে দিতে হবে। এরপর লবনটা দিয়ে তালের রস চাউলের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।
➤এরপর কিছুক্ষন জ্বাল দিয়ে নেওয়ার পরে তাতে বাদাম আর কিসমিস দিয়ে দিতে হবে এবং পরে তাতে চিনি পরিমাণমতো দিয়ে দিতে হবে।
➤সবকিছু দেওয়া হয়ে গেলে পায়েসটা ভালোভাবে হয়ে আসার জন্য আর ৮-১০ মিনিটের মতো জ্বাল দিয়ে নিতে হবে।
➤পায়েস ভালোভাবে তৈরি হয়ে আসলে জ্বাল নিভিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর কড়াইয়ের থেকে একটি পাত্রে সব পায়েস ঢেলে নিয়েছিলাম।
রেসিপি বাই, @winkles
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |




আসলে তালের পায়েস কখনো খাওয়া হয়নি ।তবে আপনাদের তালের পায়েসের রেসিপি দেখে তো লোভ আর সামলাতে পারছি না। আসলে তালের রস বা তাল দিয়ে পিঠা বানালো খেতে খুবই ভালো লাগে। তবে আপনার এই তালের তৈরির পায়েসটি দেখে মনে হচ্ছে খুবই স্বাদ হয়েছে ।ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
তাহলে যে কোন খাবার খেতে ভীষণ ভালো লাগে। তাইতো দাদা সারা বছর খাবো বলে সিজনের সময় তালের গোটা করে ফ্রিজে আমরা রেখে দেয়। আপনি আজকে তালের পায়েস রেসিপি তৈরি করেছেন। মনে পড়ে গেল দাদা অনেকদিন আগে এই তালের পায়েশ রেসিপি তৈরি করেছিলাম। আর এটি খেতে ভীষণ ভালো লাগে। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে তালের গন্ধটা। আর এর জন্য খাওয়ার প্রবণতা ও একটু বেড়ে যায়। আপনি খুব চমৎকার ভাবে তালের পায়েশের রেসিপি ধাপ গুলো আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে শেয়ার করার জন্য।
আহা লোভনীয় খাবার 😋
আমার তালের বড়া খাওয়া হয় বেশি আসলে। তালের পায়েস খুব একটা খাওয়া হয়নি, তবে আপনার রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে তৈরি করে খাওয়া উচিত। যে বর্ননা দিয়েছেন দাদা তাতে খাবারটি সুস্বাদু হয়েছে বোঝাই যাচ্ছে। ধন্যবাদ দাদা চমৎকার রেসিপি আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য।
দোয়া রইলো পুরো পরিবারের জন্য।
এবার এখনো তাল খাওয়া হয়নি।তালের বড়া খেতে ভীষণ মজার হয়।কিন্তু ঠিক বলেছেন দাদা এতে তেল থাকে প্রচুর।তবে এমন করে পায়েস কখনও খাওয়া হয়নি। আপনার মায়ের হাতের পায়েস খেতে ভীষণ মজার ই হয়েছিল বেশ বুঝতে পারছি ।তালের গুনের কথা শেয়ার করলেন দাদা। তাল যতটা না খেতে পছন্দ করি। ঠিক ততোটাই তালের ঘ্রানটা বেশী ভালো লাগে। রেসিপিটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ দাদা আপনাকে।
তালের পায়েস রেসিপি দেখতেই এতো সুন্দর লাগছে দাদা।না জানি খেতেও কতো সুস্বাদু ছিল।নিশ্চয় অনেক মজা করে খেয়েছেন।একদম ইউনিক একটি রেসিপি দেখতে পেলাম আপনার পোস্টের মাধ্যমে।রেসিপি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থাপনা চমৎকার হয়েছে।ধন্যবাদ দাদা সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
তালের বিভিন্ন রেসিপি খেয়েছি কিন্তু কখনো তালের পায়েস খেয়েছি বলে মনে পড়ে না। তবে তালের সুন্দর এই রেসিপিটা দেখে নতুন একটা ইউনিক রেসিপি সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারলাম। আপনি সম্পূর্ণটা খুব সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন তাই এই দেখে হয়তো চেষ্টা করলে খুব সহজেই পেরে যাওয়া যাবে এই রেসিপি তৈরি করা।
ইউনিক একটি রেসিপি আপনার কাছ থেকে দেখলাম দাদা। রেসিপিটি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।পাকা তাল দিয়ে বিভিন্ন রকম জিনিস তৈরি করা খেয়েছি। তবে পায়েস রান্না করে কখনো খাওয়া হয়নি। দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। তৈরি করার ধাপগুলো খুব সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে দেখিয়েছে।এভাবে একদিন তৈরি করে খেয়ে দেখব। সুস্বাদু ও মজাদার একটি রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
এ বছর তালের বড়া খাওয়া হয়েছে কিন্তু আমার কখনো তালের পায়েস রেসিপি খাওয়া হয়নি। দাদা আপনি যেমনটা বর্ণনা করলেন খেতে খুবই সুস্বাদু তাহলে তো একসময় এই ধরনের রেসিপি তৈরি করে ট্রাই করতে হবে। পায়েস দেখেই তো খেতে ইচ্ছে করছে দাদা অনেক ভালো লাগলো আপনার আজকের রেসিপিটি।
দাদা তালের পায়েস কখনো খাওয়া হয়নি, আপনার কাছে প্রথম রেসিপিটি দেখলাম । দারুন একটি রেসিপি তৈরি করেছে মাসিমা ।দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে ভীষণ মজার হয়েছে। আসলে তালের পায়েস কেমন হয় খেতে এটা নিয়ে আমার কোন আইডিয়া নেই। তবে দেখতে বেশ লোভনীয় লাগছে। আর এতে যে উপকারিতার কথা বললেন তা পড়ে তো আরো বেশি খেতে ইচ্ছে করছে ।ধন্যবাদ আপনাকে মজার একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।