বৈশাখী মেলার শেষ দিনে ঘুরে আসা পর্ব - ২ (শেষ পর্ব)

in আমার বাংলা ব্লগ2 months ago

আসসালামু আলাইকুম


আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।




বন্ধুরা আজ আবারো আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আজ আমি মূলত বৈশাখী মেলায় ঘোরাঘুরির শেষ পর্ব নিয়ে হাজির হয়েছি। এইতো কয়েকদিন আগে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম বৈশাখী মেলায় প্রথম দিনে আমি আমার হাজবেন্ডের সঙ্গে গিয়েছিলাম। কিন্তু শেষের দিনে হাজবেন্ডের সঙ্গে না যেয়ে ভাড়াটিয়া আপার সঙ্গে গিয়েছিলাম ইচ্ছে মতো ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটা করার জন্য ।তারপর সেখানে গিয়ে বেশ কিছু কেনাকাটা ও খাওয়া-দাওয়া করেছি। আর মেয়েকে নিয়ে যাওয়ায় মেয়ে ও বেশ বায়না ধরেছিল এবং আমার বেশ টাকাও খরচ করিয়েছিল। এখন বুঝতে পেরেছিলাম হাসবেন্ড কে রেখে এসে খুব একটা লাভ হয়নি। সেও মূলত বুঝতে পেরেছিল একা গেলে আমার বেশ ভালই খরচ হবে। সে কারণেই বলেছিল যাও একা যেয়ে ঘুরে দেখো কেমন মজা। যাইহোক সেই অনুভূতিই এখন আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব ।আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে।

বৈশাখী মেলার শেষ দিনে ঘুরে আসা পর্ব - ২ (শেষ পর্ব)


IMG20240414192649.jpg

IMG20240414193621.jpg


মূলত মেলায় যাবার পর আমরা বেশ কিছু স্টল ঘুরে দেখেছিলাম এবং মেয়ের জন্য বেশ কিছু কেনাকাটাও করেছিলাম ।তারপর আমরা খাওয়া-দাওয়া করেছিলাম। মূলত আমি সেদিন মেলায় গিয়েছিলাম কিছু কাচের জিনিসপত্র কেনার জন্য। মেলায় দেখেছিলাম বেশ কিছু কাচের জিনিস। যেগুলোর তুলনামূলক ভাবে দাম বেশ কম ছিল। তারপর সেখান থেকে দেখে শুনে পছন্দ মতো কিছু কাঁচের জিনিসপত্র
কিনলাম । যদিও এর আগের দিন যে জিনিস গুলো দেখেছিলাম সেই জিনিসগুলোর কোন কিছুই পাইনি সবই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। যার কারণে মনটা একটু খারাপ হয়েছিল। যাইহোক তারপর আমরা আরো ঘুরে ফিরে দেখতে লাগলাম।


IMG20240428192654.jpg

IMG20240428192652.jpg


আমি মূলত মেলায় একটা দোকান খুঁজছিলাম যে দোকানে এক প্রকারের ফল মাখানো পাওয়া যায়, যেটি ভীষণ মজার। এর আগে আমার বোন এই মেলায় এসেছিল এবং সে এই খাবারটি খেয়েছিল। তার কাছ থেকে শুনেই মূলত দোকানটি খোঁজা ।তবে বিভিন্ন জায়গায় দোকানটি খুঁজতে লাগলাম ।কোথাও দোকান টি পাচ্ছিলাম না ।একটা লোক বলল ওই দোকানটি এখন উঠে গিয়েছে, যা শুনে মনটা ভীষণ খারাপ হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও আমি হাল ছাড়িনি ।তারপরেও খুঁজতে লাগলাম। তারপর অন্যদের থেকে শুনে শেষমেশ দোকানটি পেয়ে গেলাম ।আর আমার পছন্দের খাবারটিও পেয়ে গেলাম।


IMG20240428193124.jpg

IMG20240428193120.jpg


এটি মূলত কাঁচা আম, কাঁচা পেয়ারা, কাঁচা কলা , তেতুঁল ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে চমৎকার একটি মাখা তৈরি করে যা খেতে খুবই সুস্বাদু। আর গরমের সময় খেতে তো খুবই মজার। কেননা টক মিষ্টি একটা চমৎকার স্বাদের খাবার। হামান দিস্তায় মিক্সড করে এই খাবারটা তৈরি করে। বেশ ভালো লাগে। প্রথমে একটি নিয়ে আমি টেস্ট করে দেখলাম খেতে কেমন। তারপরে আরো কয়েকটা পার্সেল নিয়ে নিলাম বাসায় এসে খাবার জন্য ।সত্যি ভীষণ ভালো লেগেছিল খেতে।


IMG20240428194041.jpg

IMG20240428194043.jpg

IMG20240428194022.jpg


তারপর আমরা আরো কিছুদূর যেতে যেতে কয়েকটি রাইড দেখতে পেলাম। তার মধ্যে প্রথমেই আমাদের চোখে পড়লো নৌকার রাইড টি। যদিও এটি আমার কাছে ভীষণ ভয়ঙ্কর লাগে। এর আগে অনেক পোস্টেই আমি লিখেছি। তাই আমি এটিতে কখনোই চড়বো না এবং মেয়েকেও চড়তে দিব না। যদিও মেয়ে চড়ার জন্য একটু বায়না ধরেছিল ।কিন্তু তখন আমি তাকে না করেছি। কেননা এর আগে একবার এই রাইডে চড়ে আমাদের খুবই বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল। যাইহোক পরবর্তীতে দেখলাম আরো একটি রাইড রয়েছে ।তারপর সেটিতে মেয়েকে চড়িয়েছিলাম ।মেয়ে বেশ আনন্দ পেয়েছিল। আসলে বাচ্চারা কোন মেলায় গেলে তাদের কোন রাইড না রাইডে চড়তেই হবে।


IMG20240428194257.jpg

IMG20240428194252.jpg


তারপর সব ঘোরাঘুরি শেষে আমরা যখন বাসার দিকে যাব তখন আমার সঙ্গে থাকা আপা বলল চলেন ওইখানে লাচ্চির দোকান, লাচ্ছি খেয়ে আসি তারপর আমরা ওই গরমের ভেতর ঠান্ডা ঠান্ডা লাচ্ছি দেখে না খেয়ে পারলাম না। তারপর দুজন বসে দুই গ্লাস ঠান্ডা লাচ্ছি খেলাম। লাচ্ছি টা কিন্তু খেতে খুবই মজার ছিল ।যেহেতু গরমের ভিতর ঘোরাঘুরি করেছিলাম যার কারণে খেতে আরো অনেক বেশি সুস্বাদু লেগেছিল ।যাইহোক খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। তবে সেদিনকার ঘোরাঘুরিটা কিন্তু বেশ ভালই হয়েছিল। তবে বাসায় এসে আমার সকল খরচের বিবরণ শুনে আমার হাসবেন্ড মনে মনে বেশ খুশি হয়েছিল। কেননা যাবার আগে তার কাছে টাকা চেয়েছিলাম কিন্তু সে বলেছিল আমার নিজের টাকা খরচ করতে যেহেতু তাকে ছাড়া একা যাব। তবে আমি ভেবেছিলাম অল্প খরচে ঘুরে আসতে পারবো ।তবে সেদিন কিন্তু মোটামুটি বেশ ভালো খরচই হয়েছিল আমার ।তবে ঘোরাঘুরিটা কিন্তু বেশ ভালই ছিল।


আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ফটোগ্রাফার:@wahidasuma
ডিভাইস:OPPO Reno8 T

🔚ধন্যবাদ🔚

@wahidasuma

আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি একজন হাউজ ওয়াইফ। সমাজবিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স করেছি।ঘুরে বেড়াতে , ঘুমাতে এবং গান শুনতে আমি ভীষন পছন্দ করি।বাগান করা আমার শখ।এছাড়াও আর্ট , বিভিন্ন রেসিপি ট্রাই করতেও ভালো লাগে। আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।

VOTE@bangla.witness as witness witness_proxy_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_vote.png

logo.gif

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 2 months ago 

বৈশাখী মেলার ঘোরাঘুরি সুন্দর পর্ব আজকে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আপু। আমিও মেলা প্রমাণ করতে খুবই পছন্দ করে থাকি। আপনার আজকের এই পোষ্টের মধ্য দিয়ে বেশ অনেক কিছু দেখার সুযোগ মিললো পাশাপাশি অনেক কিছু জানতেও পারলাম। এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 2 months ago 

আপু আপনিও মেলায় ঘুরতে পছন্দ করেন জেনে ভালো লাগলো।ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।

 2 months ago 

আসলে আপনি দেখছি তো এই বৈশাখী মেলাতে গিয়ে অনেক বেশি মজা করেছিলেন। বিশেষ করে আপনি যে বিভিন্ন ধরনের ফল অর্থাৎ আম, পেয়ারা এবং কাঁচা কলা দিয়ে যে মাখাটি খেয়েছেন তা মনে হয় খুব দারুণ ছিল। এছাড়া আপনি আপনার সব বিবরণ গুলো খুব সুন্দরভাবে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছে। ধন্যবাদ আপনাকে আপনার আনন্দের মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

 2 months ago 

হ্যা ভাইয়া বিভিন্ন ফলের মাখা খেতে দারুন ছিল। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।

 2 months ago 

বৈশাখী মেলায় বেশ সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন। মেলায় ঘোরাঘুরি মুহূর্তগুলো বেশ দারুন হয়ে থাকে। আসলে মেলাতে গেলে বেশ ভালো লাগে অনেক কিছু দেখতে পাওয়া যায়। ছোট বাচ্চারা রাইডে চড়তে বেশ পছন্দ করে। মেলা থেকে আসার সময় দুজন মিলে ঠান্ডা লাচ্ছি খেয়েছেন জেনে ভালো লাগলো। মেলাতে কাটানো অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

 2 months ago 

হ্যাঁ ভাইয়া মেলায় বেশ ভালো সময় কাটিয়েছিলাম সেদিন।ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।

 2 months ago 

বৈশাখী মেলার শেষ দিন ভাইয়াকে ছাড়া গিয়ে বেশ ইঞ্জয় তো ভালোই করেছেন। তবে ওদিকে নিজের টাকা ও বেশ ভালোই খরচ হয়েছে!! আসলে এমন মেলাগুলোতে গেলে অনেক জিনিস ই কিনতে মন চায়। আবার এই মেলাগুলোয় এমন অনেক খাবারের স্টল বসে যা সচরাচর আশেপাশে বসে না। যেমন আপনার ফল মাখার দোকানটি! একটি টেস্ট করে ভালোলাগায় বাসার জন্য আরো কয়েকটি বক্স নিয়ে নিয়েছেন দেখছি! মেয়েও আবার রাইডে চরে ভীষণ মজা করেছে! আর গরমে পরে দুই গ্লাস করে মজাদার লাচ্ছি খাওয়া- সব মিলিয়ে বেশ ভালোই সময় কাটিয়েছেন।

 2 months ago 

আসলেই আপু এই ধরনের মেলায় গেলে টুকি টাকি কিনতে কিনতে অনেক কেনা হয়ে যায় ।আবার খাওয়াও হয় বেশ।অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.20
TRX 0.14
JST 0.030
BTC 67975.29
ETH 3240.67
USDT 1.00
SBD 2.66