মোটা বউ নাটক রিভিউ
প্রিয় বন্ধুগন, সবাই কেমন আছেন? আজকে আপনাদের মাঝে একটি নাটক রিভিউ নিয়ে হাজির হলাম। আশা করছি নাটক রিভিউটি পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে।
| মোটা বউ নাটক রিভিউ। |
|---|
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য |
|---|
| নাটকের নাম | মোটা বউ |
|---|---|
| পরিচালক | আর এইচ সোহেল |
| অভিনয় | নীলা ইসলাম, শফিক খান দিপু, রাজু আহমেদ, ফারজানা নোভা, রাকিব খান আরো অনেকেই |
| ভাষা | বাংলা |
| মুক্তির তারিখ | ১১ মার্চ ২০২৪ |
ইউটিউব থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া।
নাটকটির নাম শুনে বুঝতেছেন কি রিলেটেড নাটক। নাটকের নাম যখন দেখলাম "মোটা বউ" তখন দেখার ইচ্ছে দ্বিগুণ হারে বেড়ে গেল। কারণ "মোটা বউর" সুবিধা-অসুবিধা গুলো কি তা জানার ইচ্ছা পোষণ করলাম। তাই মূলত নাটকটি দেখা। মোটা বউ নাটকটি একটি রোমান্টিক নাটক। এটি সেফ বিনোদনের জন্যই বেশি কার্যকর। নাটকের শুরু থেকেই পুরো নাটক জুড়ে হাসির সংলাপ থাকলেও শেষে কিন্তু খুবই শিক্ষনীয় একটি দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছে পরিচালক। পরিচালকের দক্ষতার মধ্য দিয়ে একটি নাটকের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিনয় দক্ষতার মধ্য দিয়ে একটি নাটকের সার্থকতা নিয়ে আসে। তো বন্ধুরা শুরু করা যাক-
ইউটিউব থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া।
নাটকের শুরুতে দেখলাম নীলা ইসলাম এবং শফিকুল ইসলাম বেড়াতে যাচ্ছিল। শফিকুল ইসলামের কাছে ছিল সাইকেল, তিনি বউয়ের জন্য খুজতেছে অটো রিক্সা বাট দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েও কোন রিক্সা পেল না। কিংবা ফেলেও কেউ তার বউকে তথা নিলা ইসলামকে অটো রিক্সা তুলতে চাইল না। কারণ তার শরীরের সাইজ অনেক মোটা। তখন বউ বলতে লাগলো স্বামীর সাইকেলের পেছনে বসে তারপরে যাবে। এতে স্বামী রেগে গিয়ে বলে তোমাকে কোন অটো রিক্সা নিতে চায় না আর তুমি সাইকেলে বসলে তো সাইকেল বাস্ট হবে। তখন সে রোমান্টিক সুরে বলল স্বামীর পিছনে বসে স্ত্রী মজা করবে সেটাই মজা। যাইহোক অবশেষে বসলো সাইকেলের পেছনে সাথে সাথে সাইকেলের চাকা বাস্ট হয়ে গেলো। এবার শুরু হলো দূরাবস্থা তাদের।
স্বামী এবার বউ এবং সাইকেল উভয়টা নিয়ে ঝামেলা পড়লো। আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগোতে লাগলো। হঠাৎ চোখের সামনে পড়লো একটি ঠেলা গাড়ি। এটি দেখে বউ খুবই আনন্দিত। সে ঠেলা গাড়ি করেই যাবে। তর্ক বিতর্কের শেষ পর্যায়ে সাইকেল এবং বউ উভয়কে ঠেলাগাড়ির উপর রেখে, স্বামীর ঠেলাগাড়ি টানতে টানতে নিয়ে গেল গন্তব্যে। তবে ঠেলাগাড়ির মালিক কে ছিল দেখায়নি। মালিক ছাড়া রাস্তার পাশে গাড়ি পড়েছিল, আর স্বামী তার স্ত্রী এবং সাইকেলকে উপরে তুলে ঠেলাগাড়ি নিয়ে চলে গেল। এটি একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল। এটি বিনোদনের জন্য করলো এটিও এক প্রকার চুরির শামিল।
এক গরিব চাচার ছেলে পরীক্ষা ভালো পাস করল। তখন নীলা ইসলাম এবং শফিকুল ইসলাম সাহেবকে বলার জন্য এবং দোয়ার জন্য মুরুব্বী চাচাটি গেল। এদিকে গেটের সামনেই দেখা মিলল নীলা ইসলামের সাথে। নীলা ইসলামকে বলল তার ছেলে ভালো পাস করেছে, তাই তার জন্য দোয়া করতে। তখন নীলা ইসলাম বলল কোন দোয়া নাই, দোয়া করতে হলে মিষ্টি খাওয়াইতে হবে। মিষ্টি খাওয়ানোর জন্য মিষ্টি দোকানে গেলো। মিষ্টির অর্ডার দিয়ে খেতে খেতে লাস্ট পর্যন্ত পুরো দোকানই ছাটাই করে দিল। দোকানে আর মিষ্টি থাকলো না। খাওয়া শেষ করেই নীলা ইসলাম বাসায় চলে আসলো। এদিকে মুরুব্বি চাচাকে বেঁধে রাখল এবং কয়েকদিন যাবত কাজ করিয়ে টাকা পরিশোধ করালো।
চাচা মিষ্টি দোকান থেকে ছাড়া পেয়ে, গেল শফিকুল ইসলামের সাথে দেখা করতে। তাকে বিস্তারিত সব কিছুই বলল। শফিকুল ইসলাম লজ্জিত হলো এবং বলল টাকার জন্য প্রয়োজনে আমাকে কল দিতে তাহলে তো সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু সে বল্লো, তোমার বউ তো তোমার নাম্বার দেয় নাই, তাই কল দিতে পারেনি। এদিকে শফিকুল ইসলামের কয়েকদিন পর পরেই চাউলের বস্তা নিতে হয়। কারণ বউ অনেক বেশি খায়, প্রায় তিন কেজি চাউলের ভাত খায়। এগুলো নিয়েও গ্রামের অনেকে মজা নেয় শফিকুল ইসলাম সাহেবের সাথে। তবে এই জিনিসটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল। বর্তমান সময়ে মানুষ যত মোটাই থাকুক না কেন, তিন কেজি চাউলের ভাত কখনোই খেতে পারে না। এসবগুলোর কারণে তার একটি মেয়ে আছে তারও কোন বিয়ে হচ্ছে না। কারণ পুরো সমাজই জানে তাদের পরিবারের কথা।
দীর্ঘদিন পর মেয়ের জন্য একটি সম্বন্ধ আসলো। মুরুব্বী সব খোঁজখবর নিয়ে আবার মেয়ের বাবার সাথে কথা বলল। মুরুব্বি জানালো যে, তাদের নামে সমাজে এই ধরনের কথাগুলোর প্রচলন আছে। মেয়ের বাবা তাৎক্ষণিক বলল এই সবগুলো মিথ্যে। তখন মেয়ের বিয়ে-শাদীর বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত কথা হলো। যাইহোক অবশেষে বিয়ে হল। মেয়র শ্বশুরবাড়িতে গেল। মেয়ের স্বামী বড় একটি চাকরি করে। পরিবারে রয়েছে শুধুমাত্র স্বামী, স্ত্রী আর শশুর। ছোট্ট সংসার কোন ঝামেলা নেই। মেয়ের শ্বশুরও খুবই সহজ সরল মানুষ। মেয়ের শ্বশুরের কারনেই বিয়েটা হল। ছেলের বাবা বিয়েতে সম্মতির দেওয়া ছেলে আর নিষেধ করেনি।
বিয়ের কিছুদিন পরে মেয়ে বাবার বাড়িতে আসার জন্য ছটফট করতে লাগলো। কারণ সে দীর্ঘদিন তার বাবা-মাকে দেখেনি। এদিক থেকে বাবা-মাও মেয়েকে দেখার জন্য যায়নি। যার কারণ হচ্ছে, মেয়ের মা যদি আসে তাহলে একটি কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে খাওয়া দাওয়া নিয়ে। তাই মেয়ের বাবা কখনো তার মাকে শ্বশুরবাড়িতে নিতে চায়নি। এদিকে মেয়ে যখন বাবার বাড়িতে আসার জন্য বারবার বলতেছে তখন মেয়ের স্বামী বলল আমার বাবাকে একা রেখে তুমি যেতে পারো না। কারণ উনি মুরুব্বী হয়ে গেলো। অবশেষে মেয়ে বাবার বাড়িতে আসলো। এবং মা-বাবার সাথে বিস্তারিত কথা বলল। তাদেরকে তার শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার জন্য বারবার আকুতি মিনতি করল। মেয়ের বাবা একদমই কঠোরভাবে বলে দিল মেয়ের মাকে নিয়ে গেলে সম্মান থাকবেনা।
ইউটিউব থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া।
অবশেষে মেয়ে বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার সময় তার মাকে নিয়ে গেল। মা সেখানে গিয়ে খাওয়ার শুরু করলো। খাওয়ার টেবিলে বসে অনেক বেশি খাবার খেতে লাগলো। এ সময় মেয়ের শ্বশুরও খেতে আসলো খাবার টেবিলে। তখন মেয়ে রাগান্বিত হয়ে তার শ্বশুরকে খাবার টেবিল থেকে উঠিয়ে দিল। এবং বলল তার মা খাওয়ার পরে তার শশুরকে আসতে। এ সময় ছেলে অফিস থেকে বাসায় ফিরল মাত্র। এ কথা শুনে ছেলে অনেক বেশি রাগান্বিত হয়ে গেল, এবং মেয়েকে অনেক বেশি বকাঝকা করতে লাগলো। মেয়ে যখন মুখে মুখে তর্ক বিতর্ক করতে লাগলো তখন ছেলে মেয়ের গালে একটি কষিয়ে থাপ্পড় মারে। এটাতে মেয়ে আরো বেশি রাগান্বিত হয়ে যায়, তার সাথে সাথে মেয়ের মাও রাগান্বিত হয়। পরবর্তীতে ছেলে মেয়েকে তালাক দিয়ে দেয়। মেয়েও আর ছেলের সংসার করতে রাজি হলো না। ছেলে বললো যেখানে তার বাবার অসম্মান সেখানে কখনোই ওই মেয়েকে নিয়ে সংসার করবেনা। এভাবে নাটকটির পরিসমাপ্তি ঘটলো।
ইউটিউব থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া।
আমার ব্যক্তিগত মতামত।
নাটকটির নামের সাথে কাজের মিল রয়েছে, এদিক থেকে ঠিক আছে। তবে এ নাটকে কিছুটা ওভার অ্যাক্টিং করলো। তবে খুব সুন্দরভাবে পরিচালক নাটকটি উপস্থাপন করলো। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অসাধারণ অভিনয়ের দক্ষতার পরিচয় দিলো। নাটকটি দেখে খুবই ভালো লাগলো। আপনাদের সময় সুযোগ যদি হয় তাহলে নিচে লিঙ্ক দেওয়া আছে নাটকটি দেখে নেবেন।
| আমার ব্যক্তিগত মতামত অনুসারে নাটকের রেটিংঃ |
|---|
৮.৯৯/১০
সমাপ্ত
ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি।আগামিতে অন্য কোন নাটকের রিভিউ নিয়ে আবারও হাজির হবো। ভালো থাকবেন সবাই। আর কষ্ট করে রিভিউটি যারা পড়ছেন তাদেরকে ধন্যবাদ।
সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানেই শেষ করছি।
নিজেকে নিয়ে কিছু কথা
আসসালামু আলাইকুম, আশা করি সবাই ভালো আছেন। প্রথমেই সবাইকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আমি তাহেরুল ইসলাম, আমার স্টিমিট ইউজার আইডি হল - @ti-taher। আমি ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেছি। বর্তমানে ফেনী শহরে অবস্থান করছি। আমি ফেনীতে পড়াশোনা করেছি এবং বড় হয়েছি। আমি একজন ভ্রমণপ্রিয় মানুষ, আমি ভ্রমণ করতে এবং ছবি তুলতে ভালোবাসি। নতুন জায়গায় ঘুরতে আগ্রহী, নতুন জায়গায় ঘুরতে এবং নতুন কিছু আবিষ্কার করতে ভালোবাসি। আমি বই পড়তেও ভালোবাসি, অনেকে আমাকে বই পোকাও বলে থাকে। আমি কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং বৈজ্ঞানিক বই সহ সব ধরনের বই পড়তে পছন্দ করি। আমার প্রিয় কবি "কাজী নজরুল ইসলাম"। প্রিয় কবিতা "বিদ্রোহী"।( ফি আমানিল্লাহ)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy


https://x.com/titaherul/status/1803668779349713036?t=62pipGJsEoKehOH_nZXRWw&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ছেলেরা যদি একটু শক্ত হয় তাহলে বউরা শশুর শাশুড়ির সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে পারেনা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বউরা খারাপ ব্যবহার করে তখন ছেলেরাও কিছুই বলে না। এজন্য বউরা আরও মাথায় উঠে যায়। যাই হোক এই নাটকটি বেশ ভালো মনে হলো। বিশেষ করে ছেলেটির প্রতিবাদ করার কারণে আরো বেশি ভালো লেগেছে আমার কাছে। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দরভাবে রিভিউ উপস্থাপন করার জন্য।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আমার নাটক রিভিউ পড়ে আপনার মূল্যবান মন্তব্য উপস্থাপন করার জন্য। খুব সুন্দর একটি কথা বলেছেন ছেলেরা স্ট্রং হলে বউরা শ্বশুর বাড়িতে খারাপ ব্যবহার করতে পারেনা। বিনোদনের মধ্য দিয়ে লাস্ট ফিনিশিংটা অনেক সুন্দর ছিল।
মোটা বউ নাটকটা রিভিউ পোস্ট পড়ে তো আমি হাসতে হাসতে একেবারে শেষ। এই নাটকটার নাম পড়েই তো আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। আর রিভিউ না পড়ে থাকতেই পারিনি। তাই তো রিভিউ পড়ে নিলাম। এই নাটকের পুরো কাহিনীটা আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। আমিতো ভাবতেছি সময় পেলে আমি এই নাটকটা দেখে নেবো। কারণ নাটকটা দেখতে তো আরো বেশি ভালো লাগবে। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে ভাগ করে নেওয়ার জন্য।
মোটা বউ নাটকটি অনেক দিন আগে দেখেছিলাম। মিষ্টির দোকানে গিয়ে অনেক গুলো মিষ্টি খায়। তার পরে লোকটির অনেক টাকা খরচ হয়। এবং টাকা দিতে না পারায় তাকে কাজ করতে হয়। ভালো লেগেছিল নাটকটি। আপনার মাধ্যমে রিভিউ দেখে ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে।
নাটকের নাম দেখেই নাটকটি দেখতে ইচ্ছে করছে ভাইয়া। জানিনা নাটকটি দেখে কতটুকু ভালো লাগবে। তবে আপনার লেখা গল্পটি পড়ে ভালো লাগলো। নাটকের গল্পটি বেশ হাসির ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে ভিন্ন ধরনের একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করার জন্য।
খুবই সুন্দর একটি নাটক এর রিভিউ শেয়ার করেছেন আপনি। আপনার কাছ থেকে সুন্দর নাটকের রিভিউ দেখে খুবই ভালো লাগছে৷ এই নাটকটি আমি আগে কখনোই দেখিনি৷ আপনার
কাছ থেকে এই প্রথম এই নাটকটির রিভিউ সম্পর্কে জানতে পারলাম৷ এই নাটকটি সময় করে অবশ্যই দেখে নেওয়ার চেষ্টা করব৷
এই ধরনের হাস্যকর নাটক গুলো দেখতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। সত্যি কথা বলতে বাংলা নাটক গুলো আমি সময় পেলে দেখি। আপনার শেয়ার করা রিভিউ পরে বেশ ভালো লাগলো। সময় পেলে দেখার চেষ্টা করব। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য।