প্রয়োজনীয় কিছু খাবার জাতীয় জিনিসের ফটোগ্রাফি
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে আমি আবার আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম । আজকে আপনাদের সাথে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসের ফটোগ্রাফি শেয়ার করব । যখন বাইরে বের হয় তখন কত জিনিস যে আমাদের চোখে পড়ে তার কোন হিসেব নেই । আজকাল হাতের কাছে সবকিছুই পাওয়া যায় ।আমার তো কোন কিছু কিনতে হলে বেশি দূরে যেতে হয় না কারণ আমার বিল্ডিংয়ের 6 তলাতে সবকিছু পাওয়া যায় ।তারপরও মাঝে মাঝে আমি নিচে থেকে অনেক কিছু কিনে আনার চেষ্টা করি । সন্ধ্যার পরে যখন মাঝে মাঝে হাঁটার জন্য রাস্তায় বের হই তখন এইসব জিনিসগুলোই চোখে পড়ে । আর রাস্তার ধারে লোকজন যেন সবকিছু নিয়ে বসে পড়ে। কোন কিছু কেনার জন্য এখন আর খোঁজাখুঁজি করতে হয় না শুধুমাত্র ইচ্ছা থাকলে কিনে নিয়ে আসা যায় । আগে তো অনেক কিছু রয়েছে ওরা ভ্যানে করে বিক্রি করতে ইদানিং দেখছি ভ্যানে করে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে না থেকে রাস্তার পাশে বসে বিক্রি করার ব্যবস্থা রয়েছে । ফুটপাতে বিক্রি করুক তাতে অসুবিধা নাই তবে ভ্যানে করে রাস্তা আটকে রাখলে সেটাতে পুলিশরা খুব ঝামেলা করে । এমন অনেক সময় দেখা যায় যে ওরা ভ্যান থেকে মালামাল নিয়ে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে ।তখন যাদের মাল তাদের অনেক কষ্ট হয় । সেই কারণে ওরা ফুটপাতে বসে এসব জিনিস বেচাকেনা করে । ফুটপাতেই দেখলাম একটা ছোট্ট একটা দোকানে ওরা আমাদের প্রয়োজনীয় সবকিছু জিনিসই রেখেছে । সেখান থেকে আমি কিছু জিনিস কিনে নিলাম এবং কিছু ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য তুলে নিয়েছি । আজকাল তো যা কিছু দেখি তাই আমাদের ছবি তুলতেই হবে এখানে শেয়ার যে করতে হবে ।
প্রথমে জয়ত্রী ও এলাচের ছবি দিয়ে শুরু করলাম । জয়ত্রী সাধারণত আমরা বিরিয়ানি রোস্ট এগুলোতে ব্যবহার করে থাকি । তাছাড়া গরুর মাংস রান্না করার সময় সামান্য একটু গুড়া দিলেও কিন্তু খেতে টেস্টটা ভালো লাগে । আগেতো জয়ত্রী জয়ফল ছাড়া রোস্টের কথা চিন্তাই করা যেত না ইদানিং তো প্যাকেট রোস্টের মসলা হওয়ার কারণে এগুলোর ব্যবহার একটু কমিয়ে দিয়েছি । তবে প্যাকেটের থেকে এইসব জিনিস পাটায় বেটে ব্যবহার করলে সেগুলোর টেস্ট মনে হয় একটু বেশি আসে । আবার এগুলোর দামও তো তুলনামূলকভাবে একটু বেশি । তারপর এলাচ এই এলাচের দাম যেন সবসময় বেড়েই চলেছে । এলাচ ছাড়া তো মাংস ও অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় জিনিসের কথা ভাবায় যায় না । এলাচ দিলে সুন্দর একটা সুঘ্রান আসে এজন্য এলাচের দাম যতই বৃদ্ধি পাক না কেন এটা আমাদের কিনতেই হবে ।
এরপর দেখলাম যে এখানে কিছু সাহি এলাচও রয়েছে এবং সাথে রয়েছে পোস্তদানা । এই পোস্ত দানা জয়ফলজয়ত্রী একসাথে বেটেই বিরিয়ানি রোস্টে ব্যবহার করা হয় । এগুলো যেন একটা থেকে আরেকটা স্বাদ একটু বেশি । এগুলো দিলে খাবারের স্বাদটা যেন একটু বেশিই ভালো লাগে । এই জিনিসগুলো ইদানিং খুব বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে এজন্য ইদানিং এসব জিনিস মানুষজন বিক্রিও করে বেশি । তবে দামও কিন্তু বেশি । যেহেতু আমার বিল্ডিংয়ের নিচে এগুলো সব কিছু পাওয়া যায় সেহেতু আমার যখন যতটুকু প্রয়োজন হয় ঠিক ততটুকু কিনে এনে খাই আবার শেষ হয়ে গেলে নতুন করে আবার কিনি । আমি এগুলো কিনে রেখে জমিয়ে রাখি না যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু নিয়ে ব্যবহার করি ।
এখানে জয়ফল ও জিরার ছবি রয়েছে । জয়ফলের দাম কিন্তু ভালোই বেশি । একটা জয়ফল ২০ টাকা দিয়ে কিনতে হয় । ছোট্ট এতটুকু একটা জয়ফল তবে এতোটুকু একটা জয়ফল বাটলে যতোটুকু হয় সেটা কিন্তু পুরোটা ব্যবহার করা যায় না অল্প একটু ব্যবহার করলে খাবারের টেস্টটা বেড়ে যায় । এজন্য দাম একটু বেশি রাখে । আর জিরা এটাতো আমাদের একেবারে প্রতিদিনই খাবারে ব্যবহৃত হয় । জিরা ছাড়া যেন যেকোন তরকারি টেস্টই আসে না । কাঁচা জিরাও আমরা ব্যবহার করি । আবার জিরার গুড়াও ব্যবহার করি । ইদানিং দেখছি জিরার দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে আগে গুড়া কিনে ব্যবহার করতাম ইদানিং জিরা কিনে গুঁড়া করি গুঁড়া কিনতে গেলে দাম অনেক বেশি দিতে হয় । এ কারণে ইদানিং গোটা জিরা কিনে ব্যবহার করছি কষ্ট করে নিজেই ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নেই দাম । দাম যতই বেশি হোক না কেন এগুলো তো আর আমরা খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারি না ।
এখানে কিছু শাহী জিরা ও চিনা বাদাম রয়েছে । শাহী জিরাটা সেদিন আমি কিনে নিয়ে এসেছিলাম মোরগ পোলাও এ ব্যবহার করার জন্য । এর শাহী জিরাটা পোলাও এর ভিতর দিলে সুন্দর একটা ফ্লেভার আসে খেতে খুব ভালো লাগে ।এজন্য কিছু কিনে নিয়ে এসেছিলাম । তারপর চিনা বাদাম । চিনা বাদাম তো আমরা সবাই পছন্দ করি । ওরা এভাবে চিনা বাদাম গুলো ছিলে প্যাকেট প্যাকেট বিক্রি করছে। এভাবে করে কিনে আনলে কষ্ট করে ছিলে খেতে হবেনা এবং চীনা বাদামও কিন্তু আজকাল বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায় । অনেক কিছুর ভিতর দিলে খাবারের টেস্ট কিন্তু বাড়ে ।
এখানে কাঠবাদাম এর ছবি শেয়ার করলাম । কাঠ বাদাম কিন্তু খাবারের ভেতরে ব্যবহার করা হয় । কাঠবাদাম রোস্ট এবং মাংসের ভিতর দিলে খেতে কিন্তু সত্যিই অনেক ভালো লাগে । কাঠবাদাম ব্যবহারে রোস্ট এর টেস্ট অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয় । এই কাঠবাদাম বিভিন্ন মিষ্টির জাতীয় জিনিসের ভেতরে দিয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং খাবার ডেকোরেশন করতেও এটি ব্যবহার করা হয় । আর উপরে আরো একটি ছবি দিয়েছি এটাও হয়তোবা বাদাম । এটার নাম আমি জানি না তবে খেয়েছি । অনেকের কাছে এটা ভালো লাগে আমার কাছে খেতে খুব একটা ভালো লাগে না । সৌদি আরবে এই খাবারটা অনেক বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় । আজকাল আমাদের বাংলাদেশেও সব ধরনের জিনিসই দেখলাম পাওয়া যায় ।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
@tauhida
*** VOTE @bangla.witness as witness
OR SET @rme as your proxy
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আসলেই সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়ে হাঁটার জন্য বের হলে ফুটপাথ দিয়ে এরকম দোকান গুলোর অভাব হয় না। হাতের নাগালেই সবকিছু পাওয়া যায়। তখন আবার নেওয়ার ইচ্ছাটাই থাকে না। তবে আপনি এগুলোর মধ্যে থেকে দারুন কিছু ফটোগ্রাফি করে শেয়ার করেছেন আমাদের মাঝে। আর যে জিনিসটা আমার কাছে সবথেকে ভালো লেগেছে সেটি হচ্ছে কোন জিনিস কোন কাজে ব্যবহার করা হয় সেগুলো সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহলে আপনার আজকের পোস্টটি ভালই লাগলো আমার কাছে
, ধন্যবাদ আপনাকে।
সন্ধ্যার পরে সব কিছু রাস্তায় বসে কত কিছু যে পাওয়া যায় রাস্তার ধারে তা সন্ধ্যার পরে বের না হলে বোঝাই যায় না ।
আসলে এই খাবারগুলো অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। রান্না করতে গেলে এইগুলো লাগে দারুন ভাবে আপনি আমাদের মাঝে সবগুলো ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন। সাথে কোন খাবারের কি কাজ সেটাও তুলে ধরেছেন। আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
ফটোগুলো তুলেছি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য তাই সুন্দরভাবে আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম।
আপনার তো সুবিধা বাসার নিচে নামলেই সব প্রয়োজনীয় জিনিস পেয়ে যান। আমাদের তো আশেপাশে কোন জিনিসই পাওয়া যায় না। সুপার শপ ছাড়া কোন উপায় নেই। তাছাড়া রাস্তার সাইডে ভ্যানের দোকানগুলো বসলে রাস্তায় প্রচুর জ্যাম বেধে যায়। এজন্য পুলিশ তাদের সরানোর জন্য বাধ্য জিনিস ফেলে দেয়। তা না হলে তো তারা কথা শুনে না। যাইহোক আপনার মশলার ফটোগ্রাফি গুলো খুব সুন্দর হয়েছে। এই মশাগুলো মাংসের মধ্যে দিলে খেতে খুব ভালো লাগে।
ঠিকই বলেছেন এই মসলাগুলো মাংসের ভিতর দিলে খেতে ভালো লাগে । আপনাদের তো কোন কিছু কিনতে সুপারশপে যেতে হয় কিন্তু আমরা তো রাস্তায় নামলেই সব ধরনের জিনিস পেয়ে যাই । মাঝে মাঝে পুলিশরা যা আচরণ করে দেখলেই খারাপ লাগে ।
ওটা আকরোট আপু। আকরোট কে বলা হয় ক্যালসিয়ামের পাওয়ার হাউজ। আমিও এটা প্রতিদিন খাই। ফুটপাত থেকে কেনা সবগুলোই তো মশলা ছিল এবং কিছু ড্রাই ফ্রুট। বেশ ভালো লাগছে দেখে। তবে ঢাকা শহরে এইটা একটা সমস্যা। ফুটপাতে বসা দোকানগুলোর প্রতি মাঝে মাঝে পুলিশদের অভিযান চলে। এটা তো ঠিক না আমিও জানি কিন্তু এখানে অনেক বিবেচনা করার ব্যাপার আছে।
হ্যাঁ এখন মনে পড়েছে এটার নাম আখরোট । আমি একবার খেয়েছিলাম আমার কাছে তেমন ভালো লাগে না । আপনি ভালো পছন্দ করেন আর নিয়মিত খান তাহলে তো ভালোই ।
জিরা আমরাও তাই করি আপু! যে কোন তরকারি তেই জিরা টা প্রয়োজনীয়! তাই সেটার দাম বাড়লেও তো খাওয়া বন্ধ করা সম্ভব না। তাই আমিও আপনার মতো গোটা জিরে কিনে বাসায় ই গুড়া করি। এছাড়াও আপনি বেশ রান্নাঘরের অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান এর ছবি শেয়ার করেছেন। তবে কাঠবাদাম যেটাকে বলছেন, সেটা কাজু বাদাম আপু। আপনাকে ধন্যবাদ।
জিরা নিজেরা ভেজে তরকারির ভিতরে ব্যবহার করলে সেই জিরার টেস্ট একটু বেশি লাগে । কাজু বাদাম পেস্তা বাদাম কাঠ বাদাম এগুলোর নাম আমার কখনোই মনে থাকে না সবসময় এলোমেলো হয়ে যায় । তাই যেটা মনে এসেছে সেটাই লিখে দিয়েছি আপু ।