বাচ্চাদেরকে নিয়ে বাবুল্যান্ডে ঘুরাঘুরি
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে।
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে আবার হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। বাচ্চাদের নিয়ে ঈদের পরের দিন গিয়েছিলাম বাবু ল্যান্ডে। অনেকদিন থেকেই তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বাবু ল্যান্ডে। কিন্তু সময় সুযোগ হচ্ছিলো না। এ জন্য আর যাওয়া হয়নি। ঈদের আগের দিন ঘুরতে গিয়েছিলাম পূর্বাচলের ওই দিকটায় বিকেলবেলায়। ভেবেছিলাম যে বাচ্চাদেরকে নিয়ে জলসিরি সেন্ট্রাল পার্কে যাব। কিন্তু আমরা যখন গিয়েছি তখন দেখি যে পার্ক বন্ধ হওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। মাত্র এক ঘণ্টা সময় আছে। আবার টিকিটের দামও আগের থেকে বাড়িয়ে ফেলেছে। আগে ১০০ টাকা করে ছিল। সেদিন দেখলাম যে ২৬০ টাকা করে টিকিটের দাম করেছে। আমরা চারজন ছিলাম। তাই ভাবলাম যে এই অল্প সময়ের জন্য এত টাকা টিকিট দিয়ে ঢোকার কি দরকার। ঢুকতে ঢুকতেই সময় চলে যাবে। সেন্ট্রাল পার্ক বিশাল বড়। এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ঘুরতে গেলেও অনেক সময় প্রয়োজন হয়। তাই আর সেদিন গিয়েছিলাম না। বাচ্চারা খুব মন খারাপ করেছিল। এর জন্য ঈদের পরের দিন নিয়ে গিয়েছিলাম বাবু ল্যান্ডে।
ঈদের পরদিন মিরপুরে চাচা শ্বশুরের বাসায় ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানকার বাবুল্যান্ডে গিয়েছিলাম। ঈদের পরে ভেবেছিলাম যে কিছুটা ফাঁকা পাব। কিন্তু গিয়ে দেখলাম যে প্রচুর ভিড়। লোকজন টিকিটের জন্য দাঁড়িয়ে আছে। বাচ্চাদের টিকিটের দাম ৪৬০ টাকা করে। সাথে গার্জিয়ানদেরও টিকিট কাটতে হয়। তাছাড়া সবাইকে মোজা পরে ঢুকতে হয়। আমরা কেউই মোজা নিয়ে গিয়ে ছিলাম না। তাই চার জনের আবার চারজোড়া মোজাও কিনতে হয়েছে। সবসহ আমাদের পনেরশো টাকা লেগেছিল টিকিটের দাম। ২ ঘণ্টার সময় ছিল বাচ্চাদের খেলার।
বাচ্চারা ঢুকেই অস্থির হয়ে গিয়েছিল। এত খেলার জায়গা দেখে ছোট ছেলে তো গিয়েই খেলা শুরু করে দিয়েছিল। আমরা আর কি করবো। দাঁড়িয়ে বাচ্চাদের খেলা ইনজয় করছিলাম।
খেলার অনেক কিছু থাকলে বাচ্চাদের বেশি আগ্রহ ছিল এই নিচের জায়গাটির এখানে। কারণ এখানে এত পরিমাণে বল ছিল যে বাচ্চারা সব সেখানে ডুবে যাচ্ছিলো। আমরা প্রায় দেড় ঘন্টার মত ছিলাম। বেশিরভাগ সময় ছেলেরা এখানেই খেলাধুলা করেছে। আমার নিজেরই দেখে মনে হচ্ছিল যে আমিও এখানে নেমে যাই খেলতে।
কিছুক্ষণ পরপর বাচ্চাদের জন্য সো ছিল। সেখানে বাচ্চাদের কে গল্প শুনানো হচ্ছিলো। সেই সাথে ক্যাপ্টেন কাপ্প ছিল। তারা বাচ্চাদেরকে বিভিন্ন জিনিস বলছিল এবং নাচ গান করছিল। বাচ্চারা সবাই সেখানে খুব মনোযোগ দিয়ে বসে ইনজয় করছিল। আমার ছোট ছেলে অবশ্য ক্যাপ্টেন কাপ্প দেখে ভয় পেয়েছিলো। সে ওখানে যেতে চাচ্ছিল না।
এত মানুষের ভিড়ে আর ভালো লাগছিল না। সেজন্য দুই ঘন্টা ছিলাম না। এক ঘন্টা ত্রিশ মিনিট পরেই আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। যদিও ছোট ছেলে কিছুতেই রাজি ছিল না বের হওয়ার জন্য। এত সুন্দর জায়গা রেখে কি আর আসতে ইচ্ছা করে। কিন্তু তারপরও জোর করে নিয়ে চলে এসেছিলাম।
এই ছিল আমার আজকের আয়োজন। সময় নিয়ে আমার পোস্টটি দেখার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। পরবর্তীতে দেখা হবে আবার নতুন কিছু নিয়ে।
ধন্যবাদ
@tania
| Photographer | @tania |
|---|---|
| Phone | i phone 15 pro max |
| আমি তানিয়া তমা। আমি বাংলাদেশে থাকি। ঢাকায় বসবাস করি। আমি অর্থনীতিতে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। আমি বিবাহিত। আমার দুটি ছেলে আছে। আমার শখ রান্না করা, শপিং করা,আর্ট করা, ঘুরে বেড়ানো। আমি বাংলায় কথা বলতে এবং ব্লগিং করতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলাদেশকে ভালবাসি। |
|---|
VOTE @bangla.witness as witness OR SET @rme as your proxy
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
বাবু ল্যান্ড এর ভেতরের সৌন্দর্য নিশ্চয়ই অনেক সুন্দর। তবে টিকিটের দাম এত বেশি ছিল এটা শুনেই তো অনেক বেশি অবাক হলাম। সেই সাথে দেখছি মোজাও কিনতে হয়েছিল আপনাদেরকে। মিলিয়ে অনেক টাকাই লেগে গিয়েছিল শুধু ঢুকতে। তবে যাই হোক ২ ঘন্টা পর্যন্ত বাচ্চারা আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাতে পেরেছি শুনেই খুব ভালো লেগেছে। বাচ্চাদের আনন্দ দেখলে নিজের কাছেই খুব ভালো লাগে। আসলে এরকম সুন্দর জায়গা থেকে কেউই বের হতে চায় না। আর আপনার ছেলেও ঠিক ওই রকমটাই চেয়েছিল। তবে জোর করেই দেখছি তাকে নিয়ে এসেছেন। ভালো লাগলো পুরোটা পড়ে।
এরকম ইনডোর এর জায়গা গুলো টিকিটের দাম অন্যান্য জায়গায় আরো বেশি থাকে। এইখানে তুলনামূলকভাবে কম মনে হয়েছে আমার কাছে। যাই হোক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
বাচ্চারা যখন কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য বের হয় আর সেটা যদি না হয় তাহলে বাচ্চাদের মন ভেঙে যায়। বাচ্চাদের কথা কি বলবো আমি নিজেও যখন কোন সিদ্ধান্ত নেই কোথাও যাব, তখন কোন কারণে যদি সেটা মিস হয় তখন আমার নিজের কাছেই খারাপ লাগে। যাই হোক সেন্ট্রাল পার্কে না যেতে পারলেও ঈদের পরদিন বাচ্চাদেরকে নিয়ে গিয়ে তো খুব ভালো করেছেন। বেশ ভালোই এনজয় করেছে দেখছি।তাছাড়া টিকিটের দাম তো অনেক বেশি। আর ঈদ বাজারে সব সময় কিছু না কিছু বাড়িয়েই দেয়। এক্সট্রা করে আবার চারজনের জন্য মোজাও কিনতে হয়েছে।
আসলে ওখানে ঘুরতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম না। পথে পড়ে গিয়েছিল তাই ভাবছিলাম যে ঘুরে আসি। কিন্তু সময় না থাকার কারণে আর যাওয়া হয়নি।
বাবুল্যান্ডে খুব সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছেন আপু। ঈদের পরের দিন যাওয়ার কারণে হয়তো ভিড় একটু বেশি ছিল। বাচ্চাদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য একদম পারফেক্ট একটা প্লেস। ছোট ছোট এ বলগুলোর মধ্যে আসলেই বাচ্চারা খুব ইনজয় করে। মুহূর্তগুলো দেখে ভীষণ ভালো লাগলো আপু। ছবিগুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছে বাচ্চারা ভীষণ খুশি।
আমারও তাই মনে হয়েছে আপু ঈদের পরের দিন হওয়ার কারণে এত ভিড় ছিল। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
বাচ্চাদের নিয়ে এ সমস্ত জায়গায় গেলে তারা বেশ এনজয় করে। আপনার ছোট জন তো দারুন মজা করেছে দেখেই বুঝতে পারছি ।জায়গাটিও বেশ চমৎকার ।বাচ্চাদের জন্য একদম পারফেক্ট মনে হয়েছে ।মাঝে মাঝে এ ধরনের জায়গায় গেলে বাচ্চাদের বেশ ভালো সময় কাটে। বিভিন্ন রকমের আয়োজন দেখে বেশ ভালো লাগলো ।ধন্যবাদ।
ঠিক বলেছেন আপু বাচ্চারা এখানে গেলে খুবই মজা পায়। ওরাও খুবই ইনজয় করেছিল এই জায়গাতে। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।