হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। আজকে আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি ঢাকা সাভার নিউমার্কেট এরিয়া থেকে চার্জিং ফ্যান কেনার অনুভূতি নিয়ে। আমার এই পোস্ট পড়লে ফ্যান কেনার সম্পর্কে বেশ অনেক কিছু জানার সুযোগ মিলবে। আশা করব সবাই মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

দীর্ঘ এক মাস ঢাকা সাভারে অবস্থান করলাম মায়ের অপারেশনের জন্য। তবে আমি আমার খালাম্মার যে গ্রামটাতে অবস্থান করেছিলাম গ্রামটা মোটামুটি শান্ত সৃষ্ট ও ভালো লাগার মত। তবে গ্রামটায় অবস্থান করে লক্ষ্য করলাম লোডশেডিং এর খুবই সমস্যা। তবে লোডশেডিং এর এতটাই সমস্যা আমাদের গ্রামের চেয়েও বেশি লোডশেডিং সেখানে। এদিকে আম্মার অসুস্থ শরীর, এদিকে প্রচন্ড গরম। খালাম্মাদের বাসায় আইপিএস সিস্টেম ছিল কিন্তু সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বলতে গেলে কারেন্ট চলে গেলে হাত পাখার ব্যবহার। তাই আমি ভেবে দেখলাম এই মুহূর্তে যাই খরচ হয়েছে না কেন কিন্তু আম্মার জন্য একটা চার্জিং ফ্যান একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু প্রচণ্ড গরমের মুহূর্তে চার্জিং ফ্যানের বেশ দাম বেড়ে গেছিল। আমি তো সেটাই মনে করেছিলাম যে চার্জিং ফ্যান কিনতে গেলে হয়তো এক দেড় হাজার টাকা বেশি খরচ লেগে যাবে। তবুও বাজারের দিকে রওনা দিলাম। ঢাকা বিশমাইল থেকে ঢাকা সাভার নিউমার্কেটে উপস্থিত হলাম। আর এ মার্কেটে উপস্থিত হতে হতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলো। আমি বেশ কিছু মার্কেটের মধ্যে প্রবেশ করলাম আর দেখতে থাকলাম। লক্ষ্য করে দেখলাম প্রথম ফটোতে আপনারা যে লোকেশন দেখতে পাচ্ছেন এখানে শুধু ইলেকট্রনিক্সের জিনিসের কালেকশন। অধিকাংশ দোকান গুলোই যেন শুধু ইলেকট্রনিক্সের।




প্রথম একটি দোকানে গেলাম। প্রথম দোকানে দোকানদার ভাই বেশ লিগাল কথা বলল। আমাদের এখানে ১২ ইঞ্চি ৬ ভোল্টের চার্জিং ফ্যানগুলো ৩০০০ টাকা করে নিত। প্রচন্ড গরমের মুহূর্তে সেগুলো ৪ হাজার করে হয়ে গেছে। সেখানেও একই কথা বললেন সেই ভাই। বললেন ভাই এই ফ্যানগুলো কিছুদিন আগে বিক্রয় করেছি ৩৮০০ বা ৪০০০ টাকায় এখন এগুলো ২৬০০ টাকা। আসলে অন্যান্য জিনিস সম্পর্কে আমার ধারণা যা থাকুক না কেন এ বিষয়ে আমার ধারণা বেশ অনেক। কারণ বেশিরভাগ সময় আমি ইলেকট্রন নিচের জিনিস নিয়ে বেশি মাথা ঘামায় এবং বাজার সম্পর্কে ধারণা রাখে। বিভিন্ন কোম্পানির ফ্যান উনি দেখালেন এবং দাম বলতে থাকলেন দাম গুলো বাজার অনুসারে ঠিকই বলছিলেন। অবশ্য এই সমস্ত জিনিসগুলো এত দামের জিনিস না কিন্তু আমাদের দেশের মার্কেট অনুসারে যাহোক প্রথম যে দোকানে গেলাম উনি ঠিক বললেন। তবে আমি একটা ফ্যান খুজছিলাম যেটাতে মোবাইল চার্জ করা যায় ইউএসবি পোর্ট রয়েছে। সেটা অনলাইনে দেখে গেছিলাম সাড়ে চার হাজার টাকা দাম। কিছুদিন আগে ৫২০০ টাকা করেও বিক্রয় করেছে অনেকে। আমার টার্গেট ওই ফ্যানটা কমে পাওয়া যায় কিনা। এরপর আর একটি ঘরে গেলাম সেই ঘরে প্রচন্ড গরমের মুহূর্তে যেমন দামে বিক্রয় করেছিল ঠিক সেই দাম বলছেন। তাই আরো মার্কেটের মধ্যে প্রবেশ করলাম এবং ফ্যান দেখতে থাকলাম। অবশেষে একটা ঘরে আমার পছন্দের সেই ফ্যান টা অনেকগুলো দেখতে পারলাম।



এই ঘরে এসে প্রথমে দাম জিজ্ঞেস করলাম বিভিন্ন কোয়ালিটির মডেলের ফ্যানগুলো দেখাতে থাকলে এবং দাম বলতে থাকলো। সাইজ ভোল্ট অনুসারে দামটা একটু বেশি বলছিলেন। পূর্বে যেই ঘরে একটা ফ্যান ২৬০০ টাকা বলেছিল সে ফ্যানটা এখানে ৩৫০০ বলে বসে আছে। তখন আমি ভেবে দেখলাম ব্যবসিক রা পাবলিকের কাছে কেমন কথা বলে আর কেমন লাভ করার চেষ্টা করে। অতঃপর সেই দোকানে একটা ফ্যান পছন্দ হলো, তিন হাজার টাকার মিটমাট হল। তবে আমি লক্ষ্য করেছিলাম না যে সে ফ্যানটা ইউএসবি পোর্ট আছে কিনা। অতঃপর আমি বললাম ইউএসবি পোর্ট আলা ফ্যান নেবো, ফাস্টে বলেছিলাম আপনারা দাম দর করছেন যে এটাতে তো ইউএসবি পোর্ট নাই। পরবর্তীতে দোকান দার আমাকে বলছেন ইউএসডি পোর্ট আলা ফ্যানটার দাম ৪৫০০ টাকা। ১২ ইঞ্চি ছয় ভোল্ট হবে সেই ফ্যানটা। আমি বললাম ফ্যানটা আগে দেখান। এরপর দামাদামি শুরু হল।


দোকানদার ফ্যানটার দাম ৪৫০০ থেকে ৩৮০০ টাকায় নামালো। আমি এক কথায় বলে বসে থাকলাম ডিফেন্ডার কোম্পানি ভাল কিন্তু তার কোন ফ্যানের কি রেট এগুলো আমার জানা রয়েছে। তিন হাজারের যদি দিতে পারেন নেব, আর যদি না পারেন অন্য ঘরে ইউএসবি পোর্ট বাদে একটা ফ্যান দেখেছি সেটা 2600 টাকা, আপনারা ৩৫০০ বলেছিলেন পরের তিন হাজারে দিতে চেয়েছেন ওই ফ্যানটা। তখন দেখি দোকানদার বলছেন কাস্টমার ঘোরানো তো ঠিক নয়, কাস্টমার দোকানের লক্ষ্মী। বিশেষ করে এখন ফ্যানের কোন বেচাকেনা নেই ঈদের কারণে, আমাদের তো ব্যবসা করতে হবে কি আর করার ৩৫০০ টাকা দিন। আমি বলে বসলাম আমার বাজেট ৩০০০ তার বাইরে এক টাকাও খরচ করার মত অবস্থা আমার নেই। তখন উনি বলে বসলেন আমাদের কিনা তিন হাজারের উপরে কিভাবে আপনাকে ৩০০০ এ দেবো। আমি বললাম আমি তো জোর করে নিয়ে যাচ্ছি না যদি পারেন দেন না পারেন ২৬০০ টাকার সে ফ্যান টা নিয়ে আমি চলে যাব রাত হয়ে গেছে আপনাদের এখানে দামাদামি করা আমার সম্ভব নয়। এই বলে দুই পা ফেলতে দেখি পিছন থেকে দোকানের কর্মচারী আমাকে ভাই ভাই করে ডাকছেন। তারপর ৩০০০ টাকায় আমাকে দিতে রাজি হলেন। তখন বেশ ভালো লাগলো ৩ হাজার টাকায় রাজি হয়েছেন দেখে। উনি বললেন হয়তো এই বাজারে ৩০০০ টাকায় দিলাম কিন্তু ঈদ চলে গেলে এ ফ্যানগুলো আবার ৪ এর উপর চলে যাবে। আমি তখন বিস্তারিত তাকে সব খুলে বললাম। বললাম আমার ফ্যানের বিশেষ কোনো প্রয়োজন নেই আমার বাড়িতে একটা জায়গায় দুইটা করে সৌর ফ্যান রয়েছে। বিস্তারিত বলার পর দেখলাম বেশ অনেক কথাই হয়ে গেল তার সাথে। এই ফ্যানটার বিশেষ সুবিধা এখানে সুইচ সিস্টেম নাই রয়েছে বাটন সিস্টেম। এক কথায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে ওনার কর্মচারী ছেলেটা প্যাকেট করতে থাকলো। তারপর তিন হাজার টাকা পরিশোধ করে ছবি ধারণ করে আমিও রওনা দিলাম আমার গন্তব্যের দিকে।




পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

| বিষয় | কেনাকাটা |
| লোকেশন | Location |
| ফটোগ্রাফি ডিভাইস | Huawei P30 Pro-40mp |
| ফটোগ্রাফার | @sumon09 |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকুন সকলে। আল্লাহ হাফেজ। |

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
এই গরমে চার্জার ফ্যান গুলো বেশ উপকার দেয়।আর যারা একটু গ্রামের দিকে তাদের তো লোডশেডিং ইস্যু রয়েছেই।৩০০০ টাকা দিয়ে অবশেষে ফ্যান টি নিয়েছেন।ভালো লাগলো পোস্টটি।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ গ্রামে বেশি কারেন্ট যায়
অবশেষে অনেক ঘোরাঘুরি করার পরে আপনি ফ্যান নিতে পারলেন। ৩০০০ টাকায় নিতে পারলেন ভালো লাগলো। যেহেতু আপনি অনেকগুলো দোকান ঘুরে ঘুরে দেখলেন আপনার পছন্দের ফ্যান পান কিনা। আসলে চেষ্টা করলে সফল হওয়া যায়। আপনি অনেকগুলো দোকান ঘুরে দেখলেন। অবশেষে আপনার পছন্দের দাম এবং পছন্দের ফ্যান নিতে পারলেন ভালো লাগলো দেখে।
হ্যাঁ আপু এই ফ্যানটায় মোবাইল চার্জ করা যায়।
এই গরমে আপনি আপনার আম্মার জন্য চার্জার ফ্যান কিনেছেন জেনে ভালো লাগলো। এই গরমে চার্জার ফ্যান ছাড়া কোন উপায় নেই। আমাদের এখানে এক ঘন্টা কারেন্ট থাকে আর এক ঘন্টার জন্য চলে যায়। এভাবে চলছে দুদিন হলো। আমাদের একমাত্র রক্ষা হল চার্জার ফ্যান। আপনার আম্মা অসুস্থ তার তো চার্জার ফ্যান জরুরী ছিল। খুব ভালো হয়েছে ভাইয়া আপনার আম্মার জন্য চার্জার ফ্যান কিনেছেন।
আমাদের এখানে কারেন্টে খুব ডিস্টার্ব করে।
লোডশেডিং এর হাত থেকে বাঁচার জন্য চার্জার ফ্যানের কোন বিকল্প নেই। লোডশেডিং এর কারণে চার্জার ফ্যানের দামও অনেকাংশে বেড়ে গেল। ৩০০০ টাকা দিয়ে একটা ফ্যান কিনেছে। আপনার অভিজ্ঞতাটি খুব দারুণভাবে তুলে ধরেছেন আমাদের মাঝে। অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি অনুভূতিমূলক পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমার এই পোস্ট পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
প্রিয় ভাই, আপনার পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। মা'কে আরামে রাখার জন্য আপনার উদ্যোগ এবং পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। ঢাকা সাভার নিউমার্কেট থেকে চার্জিং ফ্যান কেনার অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে শেয়ার করায় আমরা অনেক তথ্য জানতে পারলাম। আপনার এই অভিজ্ঞতা অন্যদেরও সহায়তা করবে। আল্লাহ আপনার মা'কে দ্রুত সুস্থতা দান করুন এবং আপনাদের সবার জীবন সুখী ও শান্তিপূর্ণ রাখুক। ধন্যবাদ এতো সুন্দরভাবে সবকিছু তুলে ধরার জন্য।
[@redwanhossain]
আপনার সুন্দর মন্তব্য দেখে ভালো লাগলো।