স্বল্প টাকার বিরিয়ানি
আমি পরিশ্রমী মানুষদের ভীষণ পছন্দ করি। কেননা বিশ্বাস করি, যারা পরিশ্রম করতে জানে তাদের আর যাইহোক জীবনে ঠেকে থাকতে হয় না। সময় সুযোগ পেলেই, সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করি। এটা এক ধরনের আমার নেশা বলতে পারেন।
করোনা মহামারীতেই, সৈকত ভাইয়ের চাকরি চলে যায়। শুধু সৈকত ভাই না, বলতে গেলে এরকম হাজারো চাকরিজীবী মানুষের চাকরি চলে যায় সেই সময়েই। কত প্রতিষ্ঠান যে, সেই সময়ে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে তার কোন হিসাব নেই।
যে শহরটাতে একটা সময় পুরো পরিবার নিয়ে বুক ফুলিয়ে অনেকটা সচ্ছল ভাবেই থাকত, হঠাৎ করেই করোনা মহামারীতে সেই চিত্র পুরোটাই পাল্টে যায়। সেই সময়টাতেই তিনি ফিরে আসে, এই মফস্বলে। বয়সটাও এখন বেশ বেড়েছে, আর ফিরে যাননি সেই যান্ত্রিক নগরীতে।
মুদ্রার উল্টো পিঠ যেন ঠিক তখন থেকেই দেখতে শুরু করেছিল সে। যে পরিবারকে প্রতিনিয়ত চাকরি করে মাস শেষে কিছুটা পয়সা পাঠাতো, সেই পরিবারের লোকজনই মুহূর্তে তাদের রূপ বদলে ফেলেছিল। বাস্তবতা বড্ড নিষ্ঠুর, মূলধন যা ছিল, বলতে গেলে তা প্রায় শেষই হয়েছিল।
এতকিছুর পরেও অভিমানের খাতা সম্পূর্ণ সে ফাঁকা রেখেছিল। চেষ্টা করছিল নিজের থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তিনি পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি বরং সহযোগিতা পেয়েছেন বাইরের মানুষের কাছ থেকে।
আজ বলা যায়, মোটামুটি দিব্যি সে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বাজারের মসজিদের পাশে, ছোট্ট একটু জায়গার উপরে বিরিয়ানির দোকান খুলেছে। দামেও বেশ সস্তা। বিকেলবেলা যখন বাইরে গিয়েছিলাম, বহুদিন বাদে সৈকত ভাইকে দেখেই চিনতে পেরেছিলাম।
চেহারায় কিছুটা মলিন ভাব এসেছে, তবে তারপরেও সে বেশ পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এতকিছুর পরেও সে যে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছে, এটাই বা কম কিসে। অনেকটা সময় তার সঙ্গে বেশ ভালোই গল্প হলো।
অতঃপর ফেরার পথে বাসার সবার জন্য, বিরিয়ানি পার্সেল করে নিয়ে চলে আসলাম। বিরিয়ানির দাম একদম হাতের নাগালে, খুবই পাতলা সাইজের দুই থেকে তিন পিস খাসির মাংস সঙ্গে সালাদ আর ঝাল ভর্তা। স্বাদের কথা যদি বলতেই হয়, তাহলে একশো টাকায় এমন বিরিয়ানির স্বাদ গ্রহণ করে, আমি মোটামুটি সন্তুষ্ট।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ঠিক বলেছেন ভাইয়া করোনা সময় অনেকের চাকরি চলে গিয়েছে। তবে সৈকত ভাই বেশ ভালো একটা উদ্যোগ নিয়েছে। যাইহোক অনেক স্বপ্ল দামে বেশ ভালো বিরিয়ানি বিক্রি করেছে। আসলে নিজেকে টিকিয়ে রাখাটা অনেক ভালো কাজ।আমার মনে হয় এই যান্ত্রিক শহর থেকে সৈকত ভাই অনেক ভালো আছে। দোয়া করি তার ব্যবসা আরো ভালোর দিকে যাক। ধন্যবাদ ভাইয়া।
পুরুষ মানুষের যখন খারাপ সময় আসে, তখন পরিবারের সদস্যরাও মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর এটাই চরম বাস্তবতা। আর স্বাভাবিকভাবে তখনই মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগে যে, কাদের জন্য এতদিন কষ্ট করলাম। যাইহোক সৈকত ভাই বাহিরের মানুষের কাছ থেকে কঠিন সময়ে সহযোগিতা পেয়েছিলেন, এটা জেনে সত্যিই খুব ভালো লাগলো। সৈকত ভাই যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটা অনেকের দ্বারাই সম্ভব হয় না। এমন সাফল্যের গল্প শুনতে আসলেই খুব ভালো লাগে। যাইহোক এতো অল্প টাকায় বেশ ভালো পরিমাণে বিরিয়ানি দিয়েছে দেখছি। এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
প্রতিটা সফলতার পিছনেই কিছু না কিছু লুকোনো গল্প থাকে, আমি তো গল্পের ফেরিওয়ালা, কান পেতে সেই সব গল্প শোনার চেষ্টা করি।
করোনা মহামারীতে অনেকেই চাকরি হারিয়েছে। কেউ ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে কেউবা জীবনের সাথে লড়াই করে যাচ্ছে। সৈকত ভাইয়া নিজের চেষ্টায় এত দূর এগিয়েছে দেখে সত্যিই ভালো লাগলো। বিপদে পড়লে মাঝে মাঝে আপন মানুষ গুলোও পর হয়ে যায়। অনেক অনেক দোয়া রইলো উনার জন্য এবং উনার পরিবারের জন্য।
একটা সত্য বিপদে পড়লেই কাছের মানুষগুলোকে ভালোভাবে চেনা যায়।
করোনার সময় এইরকম অনেকেই চাকরি হারিয়েছে। কিন্তু সৈকত সাহেবের মতো এইরকম ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে কতজন সেটা দেখার বিষয়। উনি তো জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দিয়েছেন বিরিয়ানির দোকান। অল্প টাকায় উনার বিরিয়ানির রিভিউ আপনার থেকে পেয়ে ভালো লাগল।
জীবনে ঘুরে দাঁড়ানো একটা চ্যালেঞ্জ , অনেকেই পারে আবার অনেকেই হারিয়ে যায়।
সৈকত ভাইয়ের মতো এমন অনেকেই আছে যারা করোনা মহামারীতে সর্বস্ব হারিয়ে গ্রামে চলে এসেছে। তবে সবচেয়ে খারাপ লাগলো যে, সৈকত ভাই পরিবার থেকে কোনো সহায়তা পায়নি! মানুষ রূপ বুঝা বড় দ্বায়। যাদের জন্যই এতোকিছু করেছিল লোকটা, তারাই তার বিপদের সময় পাশে থাকেনি। তবে সৈকত ভাই যে এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে এটা জেনে ভালো লাগলো। ভালো থাকুক সৈকত ভাইয়ের মতো মানুষগুলো। 🌼
পৃথিবীটাই এমন রে ভাই , নিজের কাছে লোকরাই বেশি স্বার্থপর ভূমিকা পালন করে।
করোনা মহামারীর সময়ে অনেকেই চাকরি হারা হয়েছেন এবং অনেকে এখন পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তবে সৈকত ভাইয়ের গল্প পড়ে অনেকটাই শান্তি পেলাম। তিনি যে ঘুরে দাঁড়িয়ে পেরেছেন এবং নিজের পরিবারের কাছ থেকেও মনোবল পেয়েছেন এটাই বা কম কিসের। আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
করোনাকালীন সময়ে চাকরি চলে যাওয়ায়, অনেকেই সেই সময় হঠাৎ করে পথে বসে গেছিল। তবে সেই সময় যারা চেষ্টা করেছে নিজেদেরকে আবার দাঁড় করিয়ে ভালো জায়গায় নেওয়ার জন্য, তারা অনেকেই সফলতা পেয়েছে। যাইহোক, বাড়িতে টাকা পাঠাতে না পারলে কিংবা পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে না পারলে তারা যেরকম মুখ ঘুরিয়ে নেয়, এটাকে আমি একেবারেই সাপোর্ট করিনা দাদা। আমি মনে করি, এই সময়টাতে আরো বেশি করে সাপোর্ট দেয়া উচিত তাকে, যাতে করে সে পুনরায় ভালো জায়গায় দাঁড়াতে পারে। দাদা, এখনতো ১০০ টাকায় বিরিয়ানি পাওয়া যায় না বলতে গেলে, সে ক্ষেত্রে কিন্তু অনেক কম দামেই সবাইকে বিরিয়ানি খাওয়াচ্ছে আপনার সৈকত ভাই।
আমার দাদা বলতেন কাজ নিজের আর পেট পরের। কাজ করতে পারলে খাবারের অভার হয় না। সৈকত ভাইয়া নিজে পরিশ্রম করতে পারে। তাই নিজে কিছু করার চেষ্টা করেছে। আর ব্যবসার সাথে কিছু লাগে না। একশো টাকায় এমন খাঁসির বিরিয়ানি পেলে আর কিছু লাগে না। ধন্যবাদ।
করোনা মহামারীতে পুরো বিশ্বের চিত্রই পালটে গিয়েছিল।আমাদের দেশে কত মানুষ চাকরি হারা হয়ে ঘরে বসেছে। তবে সৈকত সাহেব যে বাইরের মানুষের সহায়তায় বিরিয়ানীর দোকান দিয়ে এই পর্যন্ত চলছেন সেটাই হয়তো ভাগ্যের বিষয়। নয়তো কত মানুষ জীবিকার তাগিদে পথে নেমে গিয়েছে তার হিসেব নেই।