অ্যালার্জি
গতকাল রাতে যখন শো করছিলাম তখনই দেখছিলাম যে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কিছুটা লালচে রং এবং গোলাকার আকার ধারণ করেছে। যেহেতু কাজ করছিলাম এবং হালকা হাত মাঝে মাঝেই সেই জায়গাগুলোতে নিয়ে গিয়ে চুলকানোর চেষ্টা করছিলাম, তাই শুরুতেই খুব একটা আন্দাজ করতে পারিনি। বলতে গেলে ব্যাপারটা তাৎক্ষণিক আমি গুরুত্ব দেইনি।
অতঃপর শো শেষ হয়ে গেল, তারপর তো আবার রাত্রিবেলা খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমোতে যাব, ততক্ষণে প্রায় শারীরিক অবস্থা অনেকটাই করুন বলা যায়। যেহেতু খালি গায়ে ছিলাম, আমার শরীরের অবস্থা দেখে গিন্নির চক্ষু স্থির। সে কিছুটা ভয়ই পেয়ে গিয়েছিল।
এরপর নিজেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভালোভাবে শরীরটা দেখার চেষ্টা করলাম। আমি অবাক হইনি, তবে বিষয়টা এত কিভাবে জটিল হয়ে গেল এবং কিভাবে এর সূত্রপাত হল, সেটাই একটু ভাবার চেষ্টা করছিলাম।
আমি ভীষণ গোছানো মানুষ, বলতে পারেন নিজের ব্যবহার্য জিনিস ছাড়া কখনো অন্যের কোন কিছুই ব্যবহার করার চেষ্টা করি না, হোক সেটা প্রসাধনী নতুবা অন্য কিছু। তবে তারপরেও পরিবেশ পরিস্থিতি মাঝে মাঝে এতটাই বিপরীতে চলে যায় যে, তখন কিছুটা এদিক-সেদিক হয়ে যায়।
যেহেতু গতকাল, দুলাভাই এর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে ফিরেছি। হয়তো ব্যাপারটা সেখান থেকেই সূত্রপাত হয়েছে, ,আমি গভীরভাবে চিন্তা করে দেখলাম, আমি সাধারণত যে শ্যাম্পু ব্যবহার করি, সেই শ্যাম্পুর ছোট মিনি প্যাকটা, সেই এলাকায় পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে অন্য একটা কোম্পানির, শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হয়েছিল গোসল করার সময়।
তাছাড়া যেহেতু সন্ধ্যা বেলা ফিরেছি, ইফতারির সময় ভরপুর খাওয়া দাওয়া হয়েছিল। যেহেতু দাওয়াত বাড়ি, বুঝতেই পারছেন তাহলে কেমন খাবার আয়োজন ছিল। সবমিলিয়ে সময়টা ভালো কাটলেও, জীবনযাত্রায় কিছুটা এদিক সেদিক হয়েছিল।
দেখুন আপনার যদি পূর্ব থেকেই অ্যালার্জি সমস্যা থাকে , তাহলে আপনাকে প্রচুরভাবে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন পালন করতে হবে। নিয়মের সঙ্গে কোনভাবেই আপোষ চলবে না। আর যদি কোন ক্ষেত্রে এদিক সেদিক করে ফেলেন, তাহলে ভাই, শরীর চুলকাতে চুলকাতে জীবন শেষ হয়ে যাবে।
গতরাতে ঘুমানোর আগে যে কি পরিমান কষ্ট পেয়েছি, তা বলে বোঝাতে পারবো না। এমনিতেই অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল, তাই স্থানীয় ফার্মেসির দোকানগুলো সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ব্যাপারটা এতটাই বেগতিক হয়ে গিয়েছিল যে, আমার ওষুধ লাগবেই সেটা যেকোন ভাবেই হোক । তবে আমি নিরুপায় হয়ে গিয়েছিলাম, কেননা আমার পকেটে টাকা ছিল, তবে দোকান সব বন্ধ।
অতঃপর পূর্ব পরিচিত এক কলিগকে ফোন দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম , তার পরামর্শেই মূলত স্থানীয় সরকারি হসপিটালের ইমারজেন্সি তে গিয়ে ওষুধ সংগ্রহ করে নিয়ে, অবশেষে বাসায় ফিরেছিলাম।
শুধু একটা কথাই বলতে চাই, যাদের অ্যালার্জি সমস্যা আছে, তাদের জীবনযাপন আরো গোছানো এবং নিয়ম মাফিক হোক, এমনটাই কামনা করছি।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
স্যার আপনার আলাপটি 100 শতাংশ সঠিক কেন অ্যালার্জি সত্যই একটি খারাপ এবং আঘাতজনিত অসুস্থতা আপনি সত্য লিখেছেন
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
রাতের বেলায় সরকারী হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে গিয়ে আলার্জির ওষুধ আনা লেগেছে মানে বিষয়টা যে খুবই জটিল পর্যায়ে ছিল বোঝা যাচ্ছে। খারাপ লাগলো আপনার ভোগান্তির বিষয়টা জেনে।
আশা করি মেডিসিন খেয়ে এতক্ষণে আলার্জি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
এখন সুস্থ আছি ভাই, তবে বেশ ভালই বিপাকে পড়তে হয়েছিল।
মাঝে মাঝে এলার্জি খুবই বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে, যদি ফুসফুস আক্রান্ত করে কিংবা এনাফাইলেক্টিক রিয়েকশান করে।
শুনে ভাল লাগল যে এখন সুস্থ আছেন।
আপনার এলার্জির উঠার ঘটনাটা পড়ে খারাপ লাগলো ভাইয়া। আশাকরি মেডিসিনে কমেছে।সুস্থতা কামনা করছি আপনার।আমার ও প্রচুর এলার্জি।তবে শরীরে উঠে না।ডাস্ট এলার্জি।আমি খুব সচেতন ভাবেই চলি।কারন এটা খুব বাজে একটি রোগ।
অ্যালার্জির সমস্যা কমবেশি সবারই আছে। তবে অনেক সময় এই সমস্যাটা অনেক বেড়ে যায় এবং খুবই কষ্ট দেয়। নিয়ম তান্ত্রিক জীবন যাপন আমাদেরকে অনেক সময় সুস্থ রাখে। ভাইয়া আপনার সমস্যাটা তো দেখছি বেশ জটিল পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। হসপিটালের এমার্জেন্সিতে দেখিয়ে তৎক্ষণাৎ ট্রিটমেন্ট নিয়ে ভালোই করেছেন ভাইয়া। না হলে তো রাতের মধ্যে আরও বেশি অবস্থা খারাপ হয়ে যেত। আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
সেই মাঝ রাতের দিকে চলে গিয়েছিলাম হসপিটালে, সেই কথা ভাবলেই এখনো খারাপ লাগছে। যাক অবশেষে তাও সুস্থ আছি, এটাই অনেক কিছু।
ভাই আপনার কথা কি বলবো আমি নিজেই ভুক্তভোগি এই অ্যালার্জি তে ৷ এর যন্ত্রণা কেমন সেটা ভালো জানি ৷ মনে হয় জীবনকে বন্দি করেছি ৷ খাওয়া দাওয়া বলতে গেলে সব দিক থেকে প্রতি সময়ে সচেতন ৷ তাই আপনার ব্যাপারটা শুনে সেই অনুভব তা বুঝতেছি ৷ তবে জানি না এর প্রতিকার আছে কি না ৷
আপনার ব্যাপারটা জেনেও বেশ ব্যথিত হলাম ভাই, একমাত্র নিয়মমাফিক জীবনই হতে পারে এর প্রতিকার।
অ্যালার্জি জনিত সমস্যায় যারা ভোগে, তারা হাড়ে হাড়ে টের পায় অ্যালার্জি কি জিনিস। কারণ চুলকাতে-চুলকাতে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায়। যদিও আলহামদুলিল্লাহ আমি কখনো এই সমস্যার মধ্যে পরিনি,তবে অনেকের মুখ থেকেই শুনেছি। যাইহোক আপনার ব্যাপারটা জেনে আসলেই খুব খারাপ লাগলো ভাই। অবশেষে বাধ্য হয়ে এতো রাতে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের ইমারজেন্সি তে গিয়ে ঔষধ সংগ্রহ করতে হয়েছিল। আসলে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদেরকে অনেক কিছুই মেনে চলতে হয়। যাইহোক আপনার জন্য অনেক অনেক দোয়া এবং শুভকামনা রইল ভাই।
এমনটা কারো না হোক, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি ভাই।
আমার তো খুবই এলার্জি প্রবলেম ভাইয়া। মসুরির ডাল, বেগুন, চিংড়ি মাছ এগুলা থেকে আমি সবসময় দশহাত দূরে থাকে। একদিন খেয়ে গেলে দশদিন ভুগতে হয়। তবে এলার্জির ক্ষেত্রে নিজেকে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাটাই ভালো। আপনার এলার্জির সমস্যা হয়েছে জেনে খারাপ লাগলো। আশা করি দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠবেন।
এখন কিছুটা সুস্থ আছি ভাই, তবে গত রাতের কথা চিন্তা করলেই এখনও মাথা ঘুরপাক করে।
আসলে এনার্জি খুবই খারাপ একটা জিনিস। একটু এদিক ওদিক হয়ে গেলেই দেখা যাবে শরীরের অনেক জায়গায় এলার্জিতে ভর্তি হয়ে গিয়েছে। আর চুলকানোর কথা তো বাদই দিলাম। আসলে আপনার চলার রুটিনের একটু এদিক সেদিক হয়েছিল বলেই হয়তো এই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আর শেষে তো এমন পরিস্থিতিতে পরেছিলেন যে পকেটে টাকা আছে কিন্তু ফার্মেসী গুলা বন্ধ। যাক শেষ পর্যন্ত পুরনো কলিগের পরামর্শে স্থানীয় সরকারি হসপিটালের ইমার্জেন্সিতে গিয়ে ওষুধ নিয়ে এনে ছিলেন জেনে ভালো লাগলো। যাই হোক যেহেতু আপনার অ্যালার্জি সমস্যা আছে তাই পরবর্তীতে চেষ্টা করবেন ঘরে অন্তত কিছু এলার্জি জাতীয় ওষুধ রাখার জন্য। ধন্যবাদ
একই রকম বিপদে আমিও একবার পড়েছিলাম দাদা, পুরো শরীর লাল হয়ে গেছিলো এলার্জির কারণে। তবে এমন সময় হয়েছিল যখন ওষুধ কেনার জন্য কোন ফার্মেসি খোলা ছিল না। আমার মনে হয় না যে শ্যাম্পু পরিবর্তনের কারণে এরকম হতে পারে। আমার ধারণা খাওয়া-দাওয়ার কারণে হয়তো হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত যে আপনি ওষুধ কিনতে পেরেছেন ইমারজেন্সি ভাবে , এটা জেনে বেশ ভালো লাগলো।