কিচ্ছা-কাহিনী
ঘটনাটি শহরে থাকার সময়কার, তবে লিখতে অনেকটা দেরি হয়ে গেল। এই যান্ত্রিক শহরে কত মানুষই তো ছোটাছুটি করে ঘুরে বেড়ায়, সবার সঙ্গে তো আর সখ্যতা হয়না, বলতে গেলে যার সঙ্গে যার চিন্তাধারা মিলে যায়, ঠিক তার সঙ্গে তার সখ্যতা তৈরি হয়।
সরকারি অফিস পাড়ার পুকুরের উপর কম্পিউটারের যে ছোট দোকানটা ছিল, সেটা হচ্ছে সুমন ভাইয়ের। প্রায়ই সেখানে বিকেল বেলা করে যেতাম, দুভাই বসে একসঙ্গে চা খেতাম আর টুকটাক গল্প করতাম।
যেহেতু অফিস পাড়ায় তার দোকান ছিল, তাই বিকেল বেলা করে বেশ ভালোই ব্যস্ততা থাকতো তার দোকানে। শুধুমাত্র ফটোকপি সংক্রান্ত কাজ করেই সে কুলিয়ে উঠতে পারত না। সেদিনও বেশ ভালোই কাজের ব্যস্ততা ছিল, মুহূর্তেই এলাকার এক প্রবীণ লোক তার দোকানে এসে অনেকটা তাকে হুকুম করার মতো কিছু কথাবার্তা বলল।
এই সুমন, আমি কিছু প্রশ্ন তৈরি করেছি, সন্ধ্যায় বাসায় গিয়ে দেখে আসবি প্রশ্নগুলোর বানান ঠিকঠাক আছে কিনা, তারপর সেগুলো ফটোকপি করে দিবি। যদিও সুমন ভাই বিনয়ের সঙ্গে তাকে বলল, আমি অবশ্যই সময় পাইলে আপনার বাসায় যাওয়ার চেষ্টা করব, তবে আজকে কাজের ব্যস্ততা অনেক।
সমাজে কিছু মানুষ আছে দেখবেন, এরা নিজের সুযোগ-সুবিধা ছাড়া অন্য কারো কোন কিছু বুঝতে চায় না । সেই প্রবীণ লোকটা এবার সুমন ভাইয়ের কথা শুনে বলল, তোর আবার কিসের ব্যস্ততা, তোকে যেতে বলছি তুই যাবি।
কথাগুলো যেন আমাকেই কাঁটা দিয়ে যাচ্ছিল, মুহূর্তেই আমি তাকে বলে ফেললাম আপনার পকেটে যে বড় মুঠোফোনটা আছে, আপনি কিন্তু চাইলেই সেটা দিয়ে গুগলের সাহায্যে বানানগুলো ঠিকঠাকমতো দেখে নিতে পারেন। তাহলে আর সুমন ভাইকে কষ্ট করতে হতো না।
ভদ্রলোক এবার যেন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছে, সে আমার উপর রাগে গজগজ করছে এবং বলছিল তুমি জানো আমি কে, এই বলে তার পরিচয়ের কিচ্ছা-কাহিনী শুরু করে দিল এবং তুমি আমাকে গুগল শেখাচ্ছ, এসব আমি জানি।
যাইহোক আমি ভদ্রলোকের কথা শুনে তারপরে তাকে বলেই ফেলাম , আপনি যত কিছুই বলুন না কেন, আপনি গুগল সম্পর্কে কোন ধারণাই রাখেন না। রাখলে অন্তত এমনটা আচরণ আপনি করতেই পারতেন না।
সত্যি বলতে গেলে কি প্রবীণ মানুষরা, নিজেরা যেটা বোঝে সেটাকেই ঠিক ভাবে কিন্তু তার বাইরে যে নতুন আরো কোন কিছু থাকতে পারে, সেটাকে তারা কোনভাবেই গ্রহণ করতে চায় না।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
এটা অবশ্য ঠিক বলেছেন ভাইয়া কিছু কিছু মানুষ আছে যারা নিজে যেটা বোঝে সেটাই ঠিক মনে করে। তিনি চাইলেই গুগলের সঠিক ব্যবহার হয়তো আপনার কাছে শিখে নিতে পারতেন। কিন্তু উল্টো আপনার সাথেই রাগ দেখালেন। আর এই মানুষগুলো সুমন ভাইদের মত মানুষদেরকে একদমই মূল্যায়ন করতে চায় না।
এদেরকে এক কথায় গোঁয়ার বলা হয় আপু।
আমাদের সমাজে এমন অনেক লোক আছে যারা অনেক কিছু বোঝেনা তবুও অযথা তর্ক করে। কিংবা নিজেকে অনেক বড় কেউ মনে করে। এই সকল মানুষরা কাউকে মূল্যায়ন করতে জানে না ভাইয়া।
আমাদেরও উচিত এ সকল মানুষকে গুরুত্ব না দেওয়া।
এমন ঘটনাগুলো প্রায়ই দেখা যায়। কিছু কিছু মানুষ আছে যারা নিজের প্রভাব খাটাতে চায় অন্যের উপর।আর তেমনি এই প্রবীণ লোকটা সুমন ভাইয়ের সাথে খারাপভাবে ব্যবহার করেছে।আপনি কথা বলায় আপনার উপরও চড়াও হয়েছে। আসলে এনাদের কিছু বলাও যায় না, সহ্যও করা যায় না।এভাবেই অনেকেই অনেকরকম ভাবে ফোর্স করে সাধারণদের উপর।যারা বেয়াদবি করতে চায় না কারো সাথে।
এদেরকে আসলে যৌক্তিকভাবেই বুঝানো উচিত, যদি না বুঝতে চায় তাও বোঝানো উচিত। কেননা তাদের বোঝা উচিত, কেউ তাদের গোলাম না।
এই ধরনের লোক প্রায় প্রতিটি সমাজেই দেখা যায়। তারা অর্ডার দিয়ে কাজ করাতে পারে বলেই সবসময় এমনটা করে। তাই তাদের মুখের উপর কথা বলে দেওয়াটাই উত্তম। আপনি সেই প্রবীণ লোকের মুখের উপর কথা বলে দিয়েছেন, এটা খুবই ভালো হয়েছে। এতে করে সুমন ভাইও মনে হচ্ছে অনেক খুশি হয়েছিল। কারণ সুমন ভাই হয়তো বিভিন্ন কারণে এভাবে বলতে পারতো না। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
একদম ঠিক বলেছেন ভাই, এদেরকে আমার অনেকটা গোঁয়ার মনে হয়।