অরিগামি পোস্ট -- ❤🧡 " রঙিন কাগজ দিয়ে একটি ড্রেসের অরিগামি "
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগবাসী।
প্রিয় বন্ধুরা,
মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"এর ভারতীয় ও বাংলাদেশী সদস্যগন,কেমন আছেন সবাই?আশাকরি সবাই ভাল আছেন।আমিও আলহামদুলিল্লাহ্ আল্লাহ্র অশেষ রহমতে বেশ ভাল আছি।
বন্ধুরা,আমি @shimulakter"আমার বাংলা ব্লগ" এর আমি একজন নিয়মিত ও অ্যাক্টিভ ইউজার।বাংলায় ব্লগিং করতে পেরে আমার অনেক বেশী ভালো লাগা কাজ করে মনের মাঝে। আর তাইতো প্রতিনিয়ত নানা রকমের অনুভূতি আমি আমার পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের মাঝে শেয়ার করি।আজ রঙিন কাগজ দিয়ে একটি ড্রেসের অরিগামি তৈরি করেছি।সেটাই শেয়ার করবো বলে হাজির হলাম।
রঙিন কাগজ দিয়ে একটি ড্রেসের অরিগামিঃ
গত সাতদিন ঘরে বসে বসে সময় কাটিয়েছি।কিন্তু কোন সৃজনশীল কাজ করা আমার দ্বারা সম্ভব হয়নি।কারন পরিস্থিতি আমাকে সাপোর্ট করেনি কোন সৃজনশীল কাজ করতে।পরিবেশ অনেকটা ই আমাদেরকে চালিত করে।যে সৃজনশীল কাজ আমি সাতদিনে কিছু একটাও করতে পারিনি।অথচ কাল কিভাবে সেটা সম্ভব হলো?? এ প্রশ্ন হয়তো আপনাদের অনেকের মনেই আসতে পারে।আমি চাইলেই এই সাতদিনে অনেক পোস্ট তৈরি করে রাখতে পারতাম।কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমি কোন পোস্ট ই তৈরি করতে পারিনি।তবে কাল আমি খুব সুন্দর মন নিয়ে এই অরিগামিটি তৈরি করে নিলাম।কারনটি হচ্ছে কাল সন্ধ্যায় যখন দাদা আমার কালকের পোস্টটিকে ফিচারড আর্টিকেল হিসেবে মনোনীত করলেন তখন মনটাতে অনেক ভালো লাগা অনুভব করলাম।ঠিক তখনই রঙিন কাগজ নিয়ে বসে গেলাম।আর রঙিন কাগজ দিয়ে খুব চমৎকার একটি ড্রেসের অরিগামি আমি তৈরি করে নিলাম।কথা এটাই - মনে আনন্দ থাকলে যেকোনো কাজ খুব সহজেই আর মন দিয়ে করে নেয়া যায়।যেই আনন্দ আমার মনে গত সাতদিনে ছিল না।আশাকরি আমি আমার অনুভূতি আপনাদেরকে বোঝাতে পেরেছি।তবে আসুন আগে দেখে নেই ড্রেসের অরিগামিটি তৈরি করতে আমার কি কি উপকরন লেগেছিল ---
প্রয়োজনীয় উপকরনঃ
১.রঙিন কাগজ
২. গ্লু
৩. বো একটি
৪.পোস্টার রঙ
কার্য প্রনালীঃ
ধাপ-১
প্রথমে আমি দুটুকরো সমান কাগজ নিয়ে নিয়েছি।এরপর এক টুকরো কাগজ কে কোনাকুনি,লম্বালম্বি ও আড়াআড়ি ভাবে ভাজ করে নিয়েছি।
ধাপ-২
এরপর আমি ছবির মতো করে কাগজটিকে ভাজ করে নিয়েছি।এরপর কাগজ টেনে নিয়ে দুপাশে ই ছবির মতো ভাজ করে নিলাম।
ধাপ-৩
এবার উপরের বাড়তি কাগজটুকু ভাজ করে নিলাম। এরপর অপর পাশে দুপাশ থেকে কাগজ টেনে ভাজ করে নিলাম।
ধাপ-৪
এবার উপরের বাড়তি কাগজটুকু ভাজ করে নিয়ে কাগজের ভাজে দিয়ে দিলাম।এরই মাঝে আমার ড্রেসের উপরের অংশ তৈরি করা শেষ হলো।এবার নীচের অংশ তৈরি করে নিতে হবে।
ধাপ-৫
এবার অন্য আর এক টুকরো কাগজকে নিয়ে মাঝ বরাবর ভাজ করে নিয়ে এবার ভাজ খুলে দুপাশ থেকে কাগজ টেনে ভাজ করে নিলাম।
ধাপ-৬
এরপর ছবির মতো করে কাগজটিকে ভাজ করে নিয়ে এবার মাঝ বরাবর ভাজ করে নিলাম।
ধাপ-৭
এরপর দুপাশের কাগজ টেনে ভাজ করে নিলাম।ঠিক অন্য পাশটাতেও ভাজ করে নিলাম।
ধাপ-৮
এবার আমি কাগজের এক পাশে এভাবে ভাজ করে নিয়েছি।
ধাপ-৯
এবার উপরের অংশে সামান্য গ্লু লাগিয়ে ড্রেসের নীচের অংশ লাগিয়ে নিলাম।কি চমৎকার লাগছে তাই না? কিন্তু আমি ড্রেসটিকে আরো একটু আকর্ষনীয় করতে মাঝে একটি বো লাগিয়ে নিলাম।এখন দেখুন আরো বেশী সুন্দর লাগছে।
ধাপ-১০
মানুষের সৌন্দর্যের যেনো কোন শেষ ই নেই।তাইতো আমি রঙ দিয়ে ড্রেসটিকে আরো একটু সুন্দর করার চেষ্টা করলাম।আশাকরি আপনাদের কাছেও ভালো লাগবে।আর এরই মধ্যে দিয়ে আমার রঙিন কাগজ দিয়ে বানানো ড্রেসের অরিগামিটি করা শেষ হলো।কেমন লাগলো ড্রেস টি অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
উপস্থাপনা
পোস্ট বিবরন
| শ্রেণী | DIY |
|---|---|
| ক্যামেরা | SamsungA20 |
| পোস্ট তৈরি | @shimulakter |
| লোকেশন | ঢাকা, বাংলাদেশ |
আজ আর নয়।আশাকরি আমার বানানো রঙিন কাগজের অরিগামিটি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে।যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তবে আবার নতুন কোন ডাই পোস্ট নিয়ে হাজির হব।এখানেই ইতি টানছি, নতুন কোন ব্লগ নিয়ে হাজির হব। সবাই সুস্থ থাকবেন,ভাল থাকবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে
আমার পরিচয়
আমি শিমুল আক্তার।আমি একজন বাংলাদেশী।আমি বাংলাদেশ ঢাকা থেকে আপনাদের সাথে যুক্ত আছি।আমি এম এস সি (জিওগ্রাফি)কমপ্লিট করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।আমি বিবাহিতা।আমি একজন গৃহিণী।আমি একজন স্বাধীনচেতা মানুষ।ভালোবাসি বই পড়তে,নানা রকমের রান্না করতে,আর সবাইকে নতুন নতুন রান্না করে খাওয়াতে ভীষণ ভালোবাসি।ফটোগ্রাফি করতে আমি ভীষণ পছন্দ করি।বাংলায় লিখতে আর বলতে পারার মধ্যে অনেক বেশী আনন্দ খুঁজে পাই।নিজের মধ্যে থাকা সৃজনশীলতাকে সব সময় প্রকাশ করতে পছন্দ করি।এই বাংলার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছি বলে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করি।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ড্রেসের অরিগামি অসাধারণ হয়েছে ভাইয়া। মনে হচ্ছে সত্যিকারের ড্রেস। আপু আপনার দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। ড্রেসের অরিগামি তৈরির পদ্ধতি তুলে ধরেছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপু।
ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মন্তব্য করার জন্য। ভুল বশত আপুর জায়গায় ভাইয়া লিখে ফেলেছেন।আশাকরি দেখবেন।
খুবই চমৎকার হয়েছে। অরিগামি আমার ভালো লাগে। নিজেরও করতে মন চায়। সে যাইহোক, খুকির ড্রেসটা অনেক সুন্দর হইছে।
সুন্দর মন্তব্য শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
রঙিন কাগজ দিয়ে আপনি অনেক কিউট দেখতে একটা ড্রেসের অরিগ্যামি তৈরি করেছেন, যেটা দেখে তো আমার কাছে অনেক সুন্দর লেগেছে। রঙিন কাগজ দিয়ে এভাবে যে কোনো কিছু তৈরি করলে দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। ফিচারড আর্টিকেলে আপনার পোস্ট দেখে আপনি অনেক বেশি উৎসাহিত হয়েছিলেন। যার কারণে কাজ করার জন্য আরো আগ্রহ জন্মেছে বুঝতেই পারতেছি। অনেক নিখুঁতভাবে আপনি ভাঁজ করে এই ড্রেস তৈরি আপনি সম্পূর্ণ করেছেন। ছোট বাচ্চাদেরকে এটা দিলে তো অনেক খুশি হয়ে যাবে। কারণ বাচ্চারা এগুলো দিয়ে খেলা করতে অনেক পছন্দ করে।
অনেক ধন্যবাদ আপু সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
আসলে দেশের পরিবেশ পরিস্থিতিতে একদমই কোন কাজ করে রাখা সম্ভব হয়নি শুধুই চোখ রেখেছি টেলিভিশনে।দাদা আপনার পোস্ট ফিচার আর্টিকেল করেছেন এবং একজন আপনি অনুপ্রাণিত হয়ে আবারও কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে পেরেছেন জেনে ভালো লাগলো।চমৎকার সুন্দর বানিয়েছেন আপনি রঙ্গিন কাগজের ড্রেস টি।ধাপে ধাপে রঙ্গিন কাগজ দিয়ে ড্রেস বানানো পদ্ধতি সুন্দর করে আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
মতামত প্রকাশ করার জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি দিদি।
X-promotion
আপনি ঠিক বলেছেন আপু মনে আনন্দ থাকলে সব কিছু সম্ভব।সত্যি গত সাতদিনে আমার মনে তেমন ভাবে কেউ পোস্ট রেডি করতে পারেনি। যাইহোক আপু আপনার ড্রেসটি অনেক সুন্দর হয়েছে। আসলে রঙিন কাগজের জিনিস গুলো দেখতে অনেক ভালো লাগে। প্রতিটি ধাপ অনেক সুন্দর করে দেখিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।
সুন্দর মন্তব্য শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু।
রঙিন কাগজের তৈরি জিনিস গুলো দেখতে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে ।আজ আপনার রঙিন কাগজের ড্রেসটি কিন্তু অসম্ভব সুন্দর হয়েছে। দেখতে ভীষণ ভালো লাগছে ।দেখে মনে হচ্ছে যেন সত্যি কারের ড্রেস। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এত চমৎকার একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে আপু।অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
খুবই সুন্দর একটি ড্রেস এর অরিগামি শেয়ার করেছেন আপনি৷ আপনার কাছ থেকে এরকম অসাধারণ একটি অরিগামি দেখে খুবই ভালো লাগলো। খুব সুন্দর ভাবে আপনি এটি তৈরি করেছেন৷ যেভাবে আপনি এই ড্রেস এখানে তৈরি করার ধাপগুলো একের পর শেয়ার করেছেন তা দেখে খুবই ভালো লাগছে৷