পেইন্টিং পোস্টঃ- পাহাড় এবং ঝর্ণা থেকে পানি পড়ার দৃশ্য পেইন্টিং।
আসসালামু আলাইকুম,
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের @amarbanglablog সম্মানিত ব্লগার ভাই ও বোনেরা সবাই কেমন আছেন। আশা করি বন্ধুরা আপনারা সবাই পরিবার পরিজনকে নিয়ে ভালো সময় কাটাচ্ছেন? নিশ্চয়ই আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি পরিবার-পরিজনকে নিয়ে। আলহামদুলিল্লাহ সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতে সুস্থ আছি আপনাদের দোয়ায়। সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানাচ্ছি আমার আজকের নতুন ব্লগে। প্রিয় বন্ধুরা আপনারা অবশ্যই জানেন চেষ্টা করি সব সময় ভিন্ন কিছু শেয়ার করতে প্রতি সপ্তাহে। সেই ধারাবাহিকতায় আমি আজকে আবার উপস্থিত হয়েছি একটি পেইন্টিং শেয়ার করতে। আজকে আমি যে পেইন্টিং শেয়ার করেছি তা হচ্ছে পাহাড় এবং ঝর্ণার একটি দৃশ্য।
পেইন্টিং করতে খুবই ভালো লাগে কিন্তু যথেষ্ট পরিমাণ সময় দিতে হয়। যারা প্রতিনিয়ত করে থাকেন তাদের ইজি হয় কিনা জানিনা। কিন্তু আমরা যখন হঠাৎ করে করতে বসি তখন খুবই অস্থির হয়ে যায় মনে হয় যে অর্ধেকের মধ্যে উঠে যায়। কিন্তু কি আর করার কাজ তো করতে হবে হাল ছাড়া যাবে না। যখন করতে বসি তখন শেষ করেই উঠতে হয়। গতকাল রাতে যখন এই পেইন্টিং করতে বসি আমার তো বেশ সময় লাগলো। বিশেষ করে এতই বিরক্ত লাগছিল কারণ কালার গুলো এডজাস্ট করতে খুবই সময় লাগে। কেন জানিনা হয়তো হঠাৎ করেই পেইন্টিং গুলো করি সেই জন্য। তবে যারা প্রতিনিয়ত করেন হয়তো তাদের জন্য ইজি হবে। কিন্তু প্রতিনিয়ত করার চেষ্টা করব এবার থেকে। আশা করি এভাবে করতে থাকলে খুব সহজেই কালারগুলো ম্যাচিং করে নিতে পারব।
যেভাবা সেই কাজ যেমন চেষ্টা করেছিলাম তেমন একটি পেইন্টিং করতে পেরেছি। এখন বর্ষাকাল। যখন বর্ষাকালে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হয় তখন পাহাড়ের ঝর্ণা দিয়ে পানি গুলো পড়তে খুব সুন্দর দেখা যায়। এমন সুন্দর দৃশ্য পাহাড়ে গেলেই দেখা যায়। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে গেলে পাহাড়ের এমন দৃশ্য আমরা সবাই পর্যবেক্ষণ করতে পারি। সেই চিন্তা ভাবনা করে আজকের পেইন্টিং করা। আশা করি বন্ধুরা আপনাদের সবার কাছে ভালো লাগবে। আমি কিভাবে করেছি সেই পদ্ধতি সমূহ আপনাদের সাথে পর্যায়ক্রমে শেয়ার করে নিয়েছি। আশা করি আপনাদের বুঝতে খুবই সহজ হবে—
পেইন্টিং এর প্রয়োজনীয় উপকরণ সমূহঃ
সাদা খাতা।
এক্রেলিক কালার।
কালার করার জন্য ব্রাশ।
পানি।
টেপ।
পেইন্টিং এর ধাপ সমূহঃ
প্রথম ধাপঃ
আপনাদেরকে প্রথমে উপকরণগুলো নিয়ে দেখিয়েছি। এখন সাদা পেজ কে টেপ দিয়ে সুন্দর করে বাইন্ডিং করে নিলাম। এরপরে হালকা নীল কালার নিয়েছি যা আপনাদেরকে পর্যায়ক্রমে শেয়ার করে নিয়েছি।
দ্বিতীয় ধাপঃ
বন্ধুরা আপনার এখন দেখতে পাচ্ছেন আমি হালকা নীল কালারের সাথে ডিপ নীল কালার এডজাস্ট করলাম। দুইটা মিলিয়ে কালার ম্যাচিং করে পুরো পেজ পেইন্টিং করে নিব।
তৃতীয় ধাপঃ
এখন দেখতে পাচ্ছেন পুরো পেজ কালার করে নিয়েছি। এক পাশে পাহাড়ের দৃশ্য আঁকার জন্য আমি কালো রং দিয়ে ব্রাশ করে নিলাম।
চতুর্থ ধাপঃ
এখন দেখতে পাচ্ছেন ব্রাশের মধ্যে সাদা রং নিলাম। সাদা রং নিয়ে পাহাড়ের উপরে পানির দৃশ্য কালার করে নিব।
পঞ্চম ধাপঃ
এখন সূর্য আঁকার জন্য টেপের গোলাগার জিনিসটা নিয়ে সেখানে সাদা রংদিয়ে কালার করে নিয়েছি। যা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি পর্যায়ক্রমে শেয়ার করে নিচ্ছি ধাপে ধাপে।
ষষ্ঠ ধাপঃ
এরপরের ডিপ নীল কালার দিয়ে ব্রাশ করে নিলাম। আবার সবুজ রং দিয়ে পাহাড়ের সবুজ ঘাসের দৃশ্য পেইন্টিং করে নিলাম। এভাবে ব্রাশ করে দেওয়ার পরেই পুরো পেইন্টিং এর কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যায়।
উপস্থাপনা
যখন পেইন্টিং এর কাজ পুরো শেষ হয়ে যায় তখন আমার একটি সাইন দিয়ে দিলাম পাশে। এভাবে পুরোপুরি কাজ শেষ হয়ে যায়। বন্ধুরা আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে পাহাড়ের ঝর্ণার এমন সুন্দর দৃশ্য। আমি চেষ্টা করেছি পেইন্টিং করে আপনাদের সাথে উপস্থাপন করার। কতটুকু আপনাদের ভালো লাগবে জানিনা। আমার বেশ ভালো লাগলো অনেক সময় দিয়ে কষ্ট করে করলাম। আশা করি এভাবেই প্রতিনিয়ত করতে থাকলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। প্রথম পর্যায়ে হয়তো একটু এদিক ওদিক হতে পারে। যে কোন কাজের ক্ষেত্রে সফলতা এমনিতেই আসে না শত কষ্টের পরে শত প্রচেষ্টার কারণে সফলতা আসে। প্রতিটি ধাপ আপনাদেরকে শেয়ার করে নিলাম কিভাবে তৈরি করেছি। আশা করি বন্ধুরা কেমন লাগলো মতামত দিয়ে জানাতে ভুলবেন না।
| ডিভাইসের নাম | Wiko,T3 |
|---|---|
| মডেল | W-V770 |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | পাহাড় এবং ঝর্ণা থেকে পানি পড়ার দৃশ্য পেইন্টিং |
আজ এখানে আমার লেখা সমাপ্তি করছি। আবার উপস্থিত হব নতুন কোন ব্লগ নিয়ে। সবাই সুস্থ থাকবেন আর ভাল থাকবেন।
💘ধন্যবাদ সবাইকে💘
আমার পরিচয়
আমি সামশুন নাহার হিরা। আমার ইউজার আইডি @samhunnahar। আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে। আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে ভালবাসি। আমি রান্না করতে পছন্দ করি। ভ্রমণ আমার কাছে অনেক ভাল লাগে। আমি সব ধরনের ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি গান গাইতে এবং কবিতা আবৃত্তি করতে ভীষণ ভালবাসি। আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত। তার জন্য আমার প্রাণের কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।
#painting-waterfall #mountain-waterfall #coloringpainging #amarbanglablog #steemexclusive #steemit #shy-fox
আপনার পেইন্টিং গুলো সব সময়ই ভালো লাগে। পাহাড় এবং ঝর্ণা খুব সুন্দর লাগতেছে। বিশেষ করে ঝর্না থেকে পানি পড়ার দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মতামতের মাধ্যমে পাশে থেকে সহযোগিতা করার জন্য।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
দীর্ঘদিনের শখ রয়েছে ঝরনার পানিতে গোসল করার। তাই আপনার এই ঝর্ণার পানি দেখে যেন সেই শখ মনের মধ্যে আবার জেগে উঠলো। বেশ দারুণভাবে আপনি ঝর্ণা আর্ট করে দেখিয়েছেন। অনেক সুন্দর হয়েছে এমন চিত্র।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর উৎসাহ দেওয়ার জন্য।
আপু আপনি পাহাড় এবং ঝর্ণা থেকে পানি পড়ার খুব সুন্দর একটি দৃশ্যের পেইন্টিং শেয়ার করেছেন। আপনার এত সুন্দর পেইন্টিং দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমার তো মনে হচ্ছে বাস্তবের কোনো দৃশ্য দেখছি। পেইন্টিং এর কালার কম্বিনেশন অসাধারণ হয়েছে। পানি গুলো খুব সুন্দর হয়েছে। এই ধরনের দৃশ্য দেখতে সবসময়ই ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি পেইন্টিং আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আপু এমন সুন্দর চিত্র যদি বাস্তবে দেখা যায় অনেক বেশি ভালো লাগে।
পাহাড় এবং ঝর্ণা দুটোই অনেক সুন্দর হয়েছে আপু। এরকম একটি পেইন্টিং অনেকদিন আগে আমিও করেছিলাম। আপনার পেইন্টিংটি খুবই সুন্দর হয়েছে। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে আপু। দারুন হয়েছে দেখতে। রংয়ের ব্যবহারটা সবচেয়ে বেশি সুন্দর হয়েছে।
অনেক ধন্যবাদ আপু আপনাকে আমার পেইন্টিং দেখে প্রশংসা করার জন্য।
আপু, দেখার মত একটা কাজ করেছেন। এটা দেখেই মনে হচ্ছে আসল ঝর্ণাধারা। আর এক্রলিক কালার দিয়ে শুরুতে কাজ করাটা একটু কষ্টকর। কালার মিক্সিংয়ে সমস্যা হয় আপু।আমার মনে হয় আপনি প্রথমে কিছুদিন নরমাল জলরং দিয়ে করলে ভালো হবে আপু।তবে এক্রলিক কালারটা করতে পারলে সুন্দর হয়। যেমনটা আপনি করেছেন।
হ্যাঁ আপু এই ধরনের কাজগুলো প্রথমে করতে বেশ কষ্ট হয় সেটা বুঝতে পারছি।
পাহাড়ের মাঝে ঝর্ণা দিয়ে পানি পড়ার খুব সুন্দর একটি দৃশ্য রং তুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন আপু। যা দেখে আমি জাস্ট মুগ্ধ হয়ে গেছি। আপনার পেইন্টিং জাস্ট অসাধারণ হয়েছে আপু।একদম নিখুঁত হাতে এই পেইন্টিংটি করেছেন এবং আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। এজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এই পেইন্টিং করার সময় যথেষ্ট সময় দিতে হয়েছে ভাইয়া।
আমার মতো অবস্থা আপনার আপু যে আর্ট করতে করতে উঠতে মন চায় আবার কম্পিলিট না করে ওঠাও হয় না।দারুণ পেইন্টার আপনি চমৎকার সুন্দর পেইন্টিং করেছেন। নীল আকাশ এবং মেঘে ঢাকা অর্ধেক চাঁদ ঝড়না হিমালয় সব মিলিয়ে অসাধারণ পেইন্ট।ধাপে ধাপে চমৎকার সুন্দর করে পেইন্টিং পদ্ধতি আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর পেইন্টিং পদ্ধতি আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য।
করতে বসলে অস্থির হয়ে যায় আপু কিন্তু কি আর করার সেটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছাড়ি না।
খুবই সুন্দর একটা পেইন্টিং করেছেন আপনি। এত সুন্দর একটা দৃশ্য আপনি তুলে ধরেছেন দেখে তো দারুন লাগলো। পাহাড় এবং ঝর্ণার দৃশ্যটা একেবারে মনোমুগ্ধকর হয়েছে। পানিগুলো এমন ভাবে অঙ্কন করেছেন আপনি, দেখে তো মনে হচ্ছে যেন বাস্তবিক। এরকম সুন্দর দৃশ্য কিন্তু সরাসরি দেখতেও খুব ভালো লাগে। আপনি যদি এভাবে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেন তাহলে পরবর্তীতে আরো অনেক সুন্দর সুন্দর পেইন্টিং করতে পারবেন। এভাবে আপনি চেষ্টা করে যান।
মতামতের মাধ্যমে দারুন উৎসাহ দিলেন অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু কিভাবে বুঝলেন যে আমার পাহার আর ঝর্নার মাঝে যেতে মন ছুটে যাচ্ছে। আসলে মনের মিল থাকলে এটাই হয়। যাক আজ আপনার পাহাড় ও ঝর্ণার থেকে পানি পড়ার দৃশ্যের পেইন্টিটির মাঝে আমি কিছুক্ষন হারিয়ে গিয়েছিলম। আসলে এমন সুন্দর পেইন্টিং দেখে কার মন না হারায়। খুব সুন্দর করে রংতুলির ক্যানভাসে পাহারের মধ্যে ঝর্না দিয়ে পানি পরার দৃশ্যটি অনেক সুন্দর করে তুলে ধরেছেন।
সত্যি আপু আপনার ইচ্ছের সাথে আমার তৈরি করা আর্টের একদম মিলে গেছে।