মেয়ের জন্য ঈদের শপিং করা।
কয়েকদিন আগে পরিবার নিয়ে গিয়েছিলাম বাইরে ঘুরতে। মূল পরিকল্পনা ছিলো বাইরে কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে তারপর কোন একটি রেস্টুরেন্টে হালকা খাওয়া দাওয়া করবো। তারপর মেয়ের জন্য ঈদের শপিং করতে যাবো। কিন্তু ঘোরাফেরা এবং খাওয়া-দাওয়া করতে করতে আমাদের কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিলো। যাইহোক সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পরে আমরা মার্কেটে পৌঁছলাম। তবে মার্কেটের কাছে পৌঁছানোর সাথে সাথেই মাগরিবের আজান দিয়ে দিলো। আমি তখন আমার স্ত্রী এবং মেয়েকে একটি জায়গায় রেখে নামাজ পড়তে গেলাম। নামাজ পড়ে এসে তাদেরকে নিয়ে গেলাম কেনাকাটা করতে।
আমি গত কয়েক বছর যাবত মেয়ের জন্য একই জায়গা থেকে কেনাকাটা করছি। আমাদের শহরের নিউ মার্কেট বাদে আরো ছোট ছোট দু একটি মার্কেট রয়েছে। তাছাড়া এখন দেশি ফ্যাশন হাউজ গুলোর অনেকগুলো আউটলেট খুলেছে শহরে। আড়ং, ইনফিনিটি, ইজি এগুলো ছাড়াও দেশের নামকরা আরো কিছু ব্র্যান্ডের নিজেদের শোরুম রয়েছে। তবে এই সমস্ত জায়গায় বাচ্চাদের কাপড়চোপড় খুব একটা পাওয়া যায় না। তাছাড়া এবার গরমের কারণে আমরা ঠিক করেছিলাম মেয়ের জন্য সুতি জামাকাপড় কিনবো। কারণ এই গরমে পার্টি ড্রেসগুলো বাচ্চারা পড়তে পারে না।
যাইহোক আমরা মার্কেটে প্রবেশ করে বিভিন্ন দোকানে গিয়ে বাচ্চাদের জামা দেখতে লাগলাম। তবে প্রথম দুটো দোকানে কোন জামা আমাদের পছন্দ হলো না। তারপর তৃতীয় দোকানে গিয়ে দেখতে পেলাম বাচ্চাদের জন্য বেশ কিছু জামা সেখানে রয়েছে। সেখান থেকে আমরা বিভিন্ন রকমের জামা দেখতে লাগলাম। শেষ পর্যন্ত দুটি জামা মেয়ের জন্য পছন্দ করা হলো। সেই সাথে দুটো গেঞ্জিও কেনা হলো। গরমের ভিতর এই গেঞ্জি গুলো পড়লে বাচ্চারা আরাম পায়। জামা কেনা শেষে আমরা বাচ্চার স্যান্ডেল দেখার জন্য সেই মার্কেটের চারতলায় গেলাম। সেখানে আমাদের শহরের নামকরা একটি দোকান রয়েছে। যেখানে সব ধরনের মানুষের কাপড়-চোপড় পাওয়া যায়। সেই সাথে একসময় সেখানে জুতা স্যান্ডেলও পাওয়া যেতো। কিন্তু সেদিন চার তলায় উঠে আমরা খোঁজাখুঁজি করে দেখলাম জুতা স্যান্ডেলের সেকশন আর এখন সেখানে নেই। পরে সেখানকার কর্মরত একজনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানালেন এখন আর এখানে জুতা স্যান্ডেল পাওয়া যায় না।
আমার ওই মার্কেট থেকে কেনাকাটার মূল কারণ হচ্ছে পুরো মার্কেটটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। এই গরমের ভেতর নিউ মার্কেট থেকে কেনাকাটা করা খুবই সমস্যা। তাছাড়া নিউমার্কেটে ভিড় হয় অনেক বেশি। এত ভিড়ের ভেতর কেনাকাটা করতে আমার কাছে একেবারেই ভালো লাগেনা। সেই কারণে আমি সবসময় চেষ্টা করি রায় প্লাজা নামক ওই মার্কেট থেকে কেনাকাটা করতে। আর আমি সবসময় এমন সময় কেনাকাটা করতে যাই যে সময়টাতে মানুষজনের ভিড় থাকে কম। কারণ মানুষজনের ভিড় কম থাকলে ভালোভাবে জামা কাপড় দেখা যায়। যখন দোকানে বেশি মানুষজনের ভীড় থাকে তখন কাপড়-চোপড় ভালো মতো দেখা যায় না। যাই হোক কেনাকাটা শেষ করে আমরা সেদিনের মতো বাড়ি ফিরে গেলাম।
কিন্তু বাড়ি ফিরে খেয়াল করে দেখি মেয়ের জন্য জামা আর গেঞ্জি কিনেছিলাম দুটো ব্যাগে। সেখান থেকে একটি ব্যাগ আমি সাথে করে নিয়ে এসেছি। কিন্তু আরেকটি ব্যাগ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সেই ব্যাগটি আমার স্ত্রীর হাতে ছিলো। সে সিদ্ধান্ত নিল সে তখনই মার্কেটে যাবে ব্যাগটি আনতে। আমি তাকে বললাম এখন আর রাতে যাওয়ার দরকার নেই। কাল সকালে গিয়ে আমি নিয়ে আসবো। কিন্তু সে তার পরেও যাওয়ার জন্য জোড়াজুড়ি করতে লাগলো। এর ভেতরে আমি খেয়াল করে দেখি। আমরা যে দোকান থেকে মেয়ের জন্য জামা কিনেছি সেখানকার শপিং ব্যাগে তাদের মোবাইল নাম্বার দেয়া আছে।
পরে আমি বুদ্ধি করে সেই মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করলাম যে আমরা কোন ব্যাগ রেখে এসেছি কিনা? তারা জানালো আমরা গেঞ্জির ব্যাগটা রেখে এসেছি। আমরা আসার পর নাকি তারা আমাদের খোঁজাখুঁজিও করেছে। যাই হোক শেষ পর্যন্ত মেয়ের কাপড়চোপড়ের ব্যাগের সন্ধান পেয়ে বেশ ভালো লাগলো। আমি দোকানদারকে জানালাম আগামীকাল সকালে এসে আমি ব্যাগটা নিয়ে যাব। আমরা দুজনে চিন্তা করছিলাম হয়তো ব্যাগটি মার্কেটে হারিয়ে গিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাগটির খোঁজ পেয়ে আমরা দুজনেই অনেক খুশি ছিলাম। তাছাড়া আমার মেয়েও ব্যাগটি না পাওয়ায় মন খারাপ করেছিল। কারণ ওই ব্যাগের ভিতর যে গেঞ্জি দুটো ছিল সে দুটো সে নিজে পছন্দ করেছিলো। যাই হোক শেষ পর্যন্ত ব্যস্ত একটা দিনের সমাপ্তি ঘটলো।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | ফরিদপুর |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ভাইয়া এরকম ভুল অনেকেরই কম বেশি হয়ে থাকে। হাতের মধ্যে কোন কিছু থাকলে সেটা কোথাও রাখলে আর নিয়ে আসতে মনে থাকে না। যাই হোক দোকানদার অনেক ভালো মানুষ তারা আপনার মেয়ের গেঞ্জির ব্যাগটি পেয়ে রেখে দিয়েছে।ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমার মনে হয় সব জায়গার নিউমার্কেট গুলোতেই প্রচন্ড ভিড় হয়। ঢাকার নিউমার্কেট এর চিত্র দেখে বরাবরই অবাক হই আর এটা ভাবি যে, পুরো ঢাকা শহরের মানুষ মনে হয় নিউমার্কেটে চলে আসে। তাছাড়া কলকাতার নিউমার্কেটে গিয়েও প্রচুর ভিড় দেখেছিলাম। এই গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেটে গেলে স্বস্তির সাথে কেনাকাটা করা যায়। আপনার মেয়ের জন্য সুতি জামা কিনে খুব ভালো করেছেন ভাই। যাইহোক পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।