হঠাৎ করে পরিবার নিয়ে বাইরে খাওয়া-দাওয়া করতে যাওয়া।
কিছুদিন আগে রমজান মাস শেষ হয়েছে। কিন্তু আমাদের রোজা রাখা এখনো শেষ হয়নি। কারণ আমাদের ধর্ম মতে রমজান মাসের ৩০ টা রোজার পরে পরবর্তী মাসে যদি কেউ আরো ছয়টি নফল রোজা রাখে। তাহলে সে পুরো বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে। আমি বিগত কয়েক বছর ধরে এই ছয়টি রোজা রাখার চেষ্টা করছি। তবে খেয়াল করে দেখেছি এই রোজাগুলি যদি আমি শুরুর দিকে না রাখতে পারি। তাহলে শেষের দিকে গিয়ে খুব সমস্যা হয়। এজন্য এইবার নিয়ত করেছি এখনই টানা তিন চারটা রোজা করবো। আর পরে আর দুটো রোজা করবো। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক আজ আমি প্রথম রোজা ছিলাম।
আমি আরো একটা পরিকল্পনা করেছি। সেটা হচ্ছে আমার ওজন কমানোর। গতকালকে হঠাৎ করে ওজন মাপতে গিয়ে দেখি আমার ওজন অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। আমার ওজন সাধারণত কখনোই ৭৪ কেজি অতিক্রম করে না। তবে গতকালকে ওজন মাপতে গিয়ে দেখি আমার ওজন হয়েছে ৭৭ কেজি। বিষয়টা যে আমার জন্য খুবই খারাপ হয়েছে সেটা বুঝতে পারছিলাম। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন থেকে খাওয়া-দাওয়া কন্ট্রোল করার মাধ্যমে ওজন কমানোর চেষ্টা করব। সে সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজকে ইফতারে তেলে ভাজা কোন খাবার খাইনি। আবার চিনি খাওয়া বাদ দেয়ার কারণে কোন শরবত ও খাইনি। শুধু ঠান্ডা পানি ও ফল খেয়েছি। ইফতারও করেছি পরিমাণে কিছুটা কম। এই কম খাওয়ার কারণে নিজেই শরীরের ইতিবাচক পরিবর্তন টের পাচ্ছিলাম। অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে গেলে তখন নিজের কাছেই খারাপ লাগে। কিন্তু অল্প খেলে শরীরটা বেশ ঝরঝরে মনে হয়।
আমি চিন্তা করেছিলাম আজকে ইফতারের পর এই রাতে আর কিছু খাব না। পরবর্তীতে শেষ রাতে সেহরি করে আবার রোজা রাখব। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক ইফতার করে বসে একটু রেস্ট নিচ্ছিলাম। এর ভেতরে হঠাৎ করে আমার মেয়ে বায়না ধরল সে ফুচকা খেতে যাবে। সারাদিন রোজা থাকার পর এখন সন্ধ্যার পর আর বাইরে যেতে ইচ্ছা করছিল না। তাই তাকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগলাম। কিন্তু সে কিছুতেই কোন কথা শুনছিল না। তার একই কথা সে ফুচকা খেতে বাইরে যাবে। আমি আরো বেশ কিছুক্ষণ তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে দু একদিন পরে তাকে ফুচকা খেতে বাইরে নিয়ে যাবো। কিন্তু সে জিদ ধরে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দিল আজকেই বাইরে যাওয়ার জন্য। যদিও আমার মোটেও ইচ্ছা করছিল না বাইরে যাওয়ার জন্য। তারপরেও শেষ পর্যন্ত তার জিদের কাছে পরাজিত হয়ে বললাম তাহলে তৈরি হয়ে নাও। তোমাকে ফুচকা খেতে নিয়ে যাব।
বাড়িতে আমরা মানুষ থাকি মাত্র তিনজন। যেহেতু আমরা দুজন ফুচকা খেতে যাচ্ছিলাম তাই আমি আমার স্ত্রীকে বললাম তুমি শুধু শুধু একা বাড়িতে বসে থেকে কি করবে? তুমিও চলো আমাদের সাথে। যদিও তার খুব একটা আগ্রহ ছিল না। তারপরেও আমি বলার পরে সে বাইরে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে লাগলো। অল্প কিছুক্ষণের ভেতরেই আমরা বাসা থেকে বের হলাম ফুচকা খাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় আমার স্ত্রী বলতে লাগলো শুধু শুধু ফুচকা খেতে গিয়ে এখন এতগুলো টাকা নষ্ট হবে। ওর থেকে আমরা বাইরে কোথাও খাওয়া-দাওয়া করতে পারতাম। আমি তখন বললাম আমার কোন সমস্যা নেই। তোমরা যদি অন্য কিছু খেতে চাও তাহলে আমাকে বলতে পারো। আমি তোমাদেরকে সেখানে নিয়ে যাব।
শেষ পর্যন্ত চিন্তাভাবনার পর ঠিক করা হলো আমরা অন্য একটি রেস্টুরেন্টে যাব হালকা কিছু খাওয়া-দাওয়া করতে। আমরা রোজার ভেতর একটি রেস্টুরেন্ট থেকে কয়েকবার অর্ডার দিয়ে খাবার হোম ডেলিভারি নিয়েছিলাম। সেই রেস্টুরেন্টের খাবার আমাদের সকলেরই বেশ পছন্দ হয়েছিল। তাই আমরা ঠিক করলাম সেই রেস্টুরেন্টে আমরা খেতে যাবো। পরিকল্পনা মোতাবেক আমরা রিকশায় উঠে সেই রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। কিন্তু সেখানে পৌঁছে যখন রেস্টুরেন্টের ভেতর প্রবেশ করলাম। তখন আমরা সকলে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম সেখানকার অবস্থা দেখে। সেখানে দেখি পুরো রেস্টুরেন্ট লোকে লোকারণ্য। ঈদের পরে হঠাৎ করে রেস্টুরেন্টে এসে এত লোক দেখতে পাবো এটা কখনো চিন্তাই করিনি।
যাই হোক তারপরেও আমরা একটা কোনার টেবিলে বসে পড়লাম। বসে দীর্ঘক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিলাম কিন্তুু কোন ওয়েটারের দেখা পাচ্ছিলাম না। শেষ পর্যন্ত একজন ওয়েটারের কাছে আমরা খাবার অর্ডার করলাম। বারবিকিউ চিকেন রাইস বোল, চিকেন চিলি অনিয়ন, আর ফ্রাইড চিকেন। কিন্তু খাবার অর্ডার দেয়ার পর আমরা চিন্তা করছিলাম খাবার পরিবেশন করতে এরা কত সময় লাগাবে আল্লাহই জানে। কারণ যারা অর্ডার নিতেই এত সময় লাগায় তারা খাবার পরিবেশন করতে যে দেরি করবে। সেটা আমরা সহজেই বুঝতে পারছিলাম। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর দুএকবার ওয়েটারকে তাড়া দিলাম। তারপর এক পর্যায়ে সে এসে আমাদেরকে জানালো আমাদের খাবার প্রায় প্রস্তুত। অল্প সময়ের ভেতর আমাদের টেবিলে খাবার পরিবেশন করা হবে।
তার কথা অনুযায়ী অল্প সময়ের ভিতরেই টেবিলে খাবার দিয়ে গেলো। যদিও তারা খাবার দিতে বেশ খানিকটা দেরি করেছে। কিন্তু তাদের খাবার মুখে দিয়ে সমস্ত অভিযোগ ভুলে গেলাম। কারণ খাবারের স্বাদ ছিল দারুন। প্রত্যেকটা আইটেম বেশ ভালো হয়েছিল। শুধু চিকেন ফ্রাইটা একটু বেশি ভাজা হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া প্রতিটা আইটেম আমরা সকলে বেশ উপভোগ করেছি। যাইহোক ধীরে-সুস্থে আমরা আমাদের খাওয়া-দাওয়া শেষ করলাম। তারপর একজন ওয়েটারকে ডেকে বললাম আমাদের বিল দিতে। কিন্তু সে দীর্ঘক্ষণ কোনো রেসপন্স করলো না। তারপর আমি টেবিল থেকে উঠে গিয়ে কাউন্টারে গিয়ে বিল পরিশোধ করলাম। তারপর দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | পশ্চিম খাবাসপুর |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
You've got a free upvote from witness fuli.
Peace & Love!
ভাইয়া আপনার দেহের ওজন কমানোর বুদ্ধিটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। আর বাচ্চাদের কাজই হল যেকোনো সময় যেকোনো খাবার খাওয়ার জন্য বায়না ধরা। আসলে ভাইয়া খাবার দিতে যতই দেরি হোক না কেন, খাবারটি যদি খেতে সুস্বাদু লাগে তাহলে সমস্ত অভিযোগটা ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। ভাইয়া কাউন্টারে গিয়ে আপনার টাকা পরিশোধ করার বিষয়টি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। যাহোক ভাইয়া, পরিবার নিয়ে খুবই সুস্বাদু খাবার খেয়ে সেটা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনার অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভাইয়া এভাবে বাহিরে খেলে তো আপনার ওজন ৮৭ হয়ে যাবে। তখন আর চিনি বাদ দিয়ে লাভও হবে না। তবে পরিবার পরিজন নিয়ে এ সময়ে বাহিরে একটু না খেলেও কিন্তু হয় না। সবার মনের ই তো একটু ইচেছ থাকে। ঈদের সময় তো রেস্টুরেন্টে একটু ভিড় হবেই । বাপরে বাপ। কি যে ভিড় ভাবলেই মাথা গরম হয়ে যায়। যাক তবুও শেষ মেষ খাবার পেয়েছেন।
আমাদের দেহের ওজনের ব্যাপারে সবারই উচিত সচেতন হওয়া। কারণ ওজন মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের অসুখ বিসুখ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কিছু কিছু খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। যাইহোক মেয়ের জিদের কাছে তো হার মানতে হবে সেটাই স্বাভাবিক। আপনারা রেস্টুরেন্টে গিয়ে বেশ মজাদার কিছু খাবার অর্ডার করেছেন। খাবারের ফটোগ্রাফি গুলো দেখেই বুঝা যাচ্ছে খেতে খুব ইয়াম্মি হয়েছে। খাওয়া দাওয়া শেষ করে বিল দিয়ে বাসায় চলে গিয়েছেন। পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।